অভিযোগঃ কুরআন বলে মহাকাশে কোন ফাঁটল নেই অথচ মহাকাশে ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব রয়েছে

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



াস্তিক প্রশ্নঃ কুরআন অনুসারে আল্লাহ এই মহাবিশ্ব তৈরি করেছেন কোন ধরণের অসঙ্গতি বা ফাঁটল ব্যতিত(Quran 67:3)! তিনি কি ব্ল্যাক হোলের(Black Hole) ব্যাপারে কিছু জানতেন না?
 
উত্তরঃ আল কুরআনে বলা হয়েছেঃ

 

الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ
অর্থঃ যিনি স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান।রহমানের{দয়াময় আল্লাহ} সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না।তুমি আবার তাঁকিয়ে দেখ, কোন খুঁত দেখতে পাও কি?
(আল কুরআন, মুলক ৬৭:৩)

কোন কোন অনুবাদক فُطُورٍ শব্দকে ‘ফাঁটল’ অনুবাদ করেছেন। আবার কেউ কেউ ‘ত্রুটি’, ‘অসামঞ্জস্যতা’ অনুবাদ করেছেন।
 
ব্ল্যাক হোল কি ত্রুটি, বা ফাঁটলজাতীয় কিছু? মোটেও না। 
 
১৯৬৯ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী জন হুইলার(John Wheeler) সর্বপ্রথম Black Hole(কৃষ্ণবিবর) কথাটি ব্যবহার করেন। এ জিনিসটি সম্পর্কে এরও পূর্বে, ১৮৮৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিচেল(John Mitchell) ধারণা প্রদান করেন। তিনি বলেন, একটি নক্ষত্র বা তারকায়(Star) যদি যথেষ্ট ভর ও ঘনত্ব থাকে, তাহলে তার মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র এত শক্তিশালী হবে যে, আলো সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে না।সেই তারকার পৃষ্ঠ থেকে নির্গত আলো বেশি দূর যাওয়ার আগেই তারকাটির প্রবল মহাকর্ষীয় আকর্ষণ তাকে পেছনে টেনে নিয়ে আসবে।এরকম বহুসংখ্যক তারকা রয়েছে বলে মিচেল ধারণা করেছিলেন।ঐ সব তারকা থেকে আলো আসতে পারে না বলে আমরা এদের দেখতে পাই না।তবে এদের মহাকর্ষ আকর্ষণ আমাদের বোধগম্য হয়। এই সমস্ত বস্তুপিণ্ডকে বলা হয় ব্ল্যাক হোল।
 
কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ব্ল্যাক হোল হচ্ছে নক্ষত্র বা তারকার একটি অবস্থা বা পর্যায় যে পর্যায়ে এ থেকে আলো নির্গত হতে পারে না। কুরআনের সুরা মুলকের ৬৭নং আয়াতে বলা হচ্ছে—“...রহমানের{দয়াময় আল্লাহ} সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না।তুমি আবার তাঁকিয়ে দেখ, কোন খুঁত/ফাঁটল দেখতে পাও কি?” প্রসঙ্গসহ পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এখানে নিখুঁতভাবে সৃষ্ট আকাশমণ্ডলীর কথা বলা হচ্ছে এবং এই সৃষ্টিতে যে কোন খুঁত নেই সে কথা বলা হচ্ছে।
ব্ল্যাক হোল কোন ফাঁটল নয়, কিংবা এটি আল্লাহর সৃষ্টির কোন ত্রুটি নয়। বরং এটি আল্লাহর সৃষ্টিকুলেরই একটি উপাদান।
 
‘বিজ্ঞানমনস্ক’(!) হবার দাবিদার যেসব মানুষ এই আয়াত থেকে বৈজ্ঞানিক ভুল খুঁজতে যায়, তারা যে আসলে বিজ্ঞান সম্পর্কে কতটা অজ্ঞ, তাদের দাবি থেকেই সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়।