আল কুরআনে "উচ্চতায় উঠতে থাকলে বক্ষ গহ্বর সংকুচিত হওয়া" সম্পর্কিত তথ্য

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



নাস্তিক প্রশ্নঃ কুরআনের আয়াত অনুসারে, উচ্চতায় উঠতে থাকলে বক্ষ গহ্বর সংকুচিত হতে থাকে! কিন্তু বাস্তবে বিপরীত ঘটনা ঘটতে দেখা যায় কেন?   

 

উত্তরঃ প্রথমেই দেখে নেয়া যাক আয়াতটিতে আসলে কি বলা হয়েছে-

 

“সুতরাং আল্লাহ্‌ কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন এবং কাউকে বিপথগামী করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ খুব সংকীর্ণ করে দেন; (তার কাছে ইসলামের অনুসরণ) মনে হয় যেন সে কষ্ট করে আকাশে উঠছে। এভাবেই আল্লাহ্‌ শাস্তি দেন তাদেরকে, যারা ঈমান আনে না।”[১]

 

আয়াতের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ‘যাকে আল্লাহ্‌ হিদায়াত দিতে চান, তার বক্ষ প্রশস্ত করে দেন।’ এখানে বক্ষ উন্মুক্ত করে দেয়া অর্থ হল সহজ করে দেয়া। বক্ষ উন্মুক্ত করা সংশ্লিষ্ট আরও একটা আয়াত-

“আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে।”[২]

 

ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, “বক্ষ উন্মুক্ত হওয়ার অর্থ হল তাওহিদ ও ঈমানের জন্য তা প্রশস্ত হওয়া।”

 

এবার আসি, আয়াতের পরবর্তী অংশে। ‘এবং কাউকে বিপথগামী করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ খুব সংকীর্ণ করে দেন; (তার কাছে ইসলামের অনুসরণ) মনে হয় যেন সে কষ্ট করে আকাশে উঠছে।’

 

বক্ষ সংকীর্ণ করার অর্থ কঠিন, দুর্ভেদ্য করে দেয়া। আমরা যখন কোনো পাহাড়-পর্বতের মতো উঁচু কোনো জায়গায় আরোহণ করি, তখন আমাদের স্বাভাবিকভাবেই বেশ কষ্ট হয়। বিষয়টা খুব সহজ। ভূমি থেকে যতো উপরে যাওয়া যায়, বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব তত কমতে থাকে। ফলে উপরের দিকে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়।

 

তবে নাস্তিক-মুক্তমনাদের এই আয়াতের বাকি অংশ নিয়ে ত্যানা প্যাঁচানোর কারণটা হল এখানে নাকি বৈজ্ঞানিক ভুল আছে- কারণ বেশি উচ্চতায় উঠলে অক্সিজেনের যে ঘাটতি হয়, সেটা পূরণের জন্য ফুসফুস এবং দেহের ভেতরে জমা থাকা গ্যাস প্রসারিত হয়। আমি ঠিক এজন্যই এই আয়াতটির দুটি অংশ নিয়েই আলোচনা করেছি- বক্ষ উন্মুক্ত এবং বক্ষ সংকীর্ণ।

 

যদি উপরের আয়াতটিতে বক্ষ সংকীর্ণ করার অর্থ আসলেই ফুসফুস সংকীর্ণ করা বুঝিয়ে থাকতো, তাহলে নিশ্চয় বক্ষ প্রসারিত করা বলতে ফুসফুস বা হৃদপিণ্ড প্রসারিত হওয়াকে বুঝানো হত? সেটা বুঝানো হচ্ছে কি? তারমানে এখানে আল্লাহ্‌ তাআলা literal meaning না করে metaphorical meaning করেছেন।

 

এবার আসি বৈজ্ঞানিক আলোচনায়। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে (প্রায় ২৫০০ মিটারের অধিক) পর্বতারোহীরা প্রায়ই HAPE-এর স্বীকার হন। HAPE (Higher Altitude Pulmonary Edema) হল বিপদজনক non-cardiogenic pulmonary edema. HAPE এর mechanism এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয় নি।[৩] তবে এখন পর্যন্ত ২ টা প্রসেসকে ধরা হয় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্যে প্রথম ধাপ হল Hypoxic Pulmonary Vasoconstriction. সংক্ষেপে HPV.

 

HPV হল এক ধরণের প্রক্রিয়া যখন ছোট পালমোনারি আর্টারিগুলো alveolar hypoxia (low oxygen levels) এর উপস্থিতিতে সঙ্কুচিত হয়ে যায়।[৪][৫] অধিক উচ্চতায় যখন অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যায়, তখন দেহ নির্দিষ্ট অ্যালভিওলিতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দেয় যেটা শ্বসনে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করে না। এখন এই নির্দিষ্ট অ্যালভিওলিতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করতে চাইলে অবশ্যই বাকি আর্টেরিওলস যেগুলো রক্ত সরবরাহ করছে, সেগুলোকে ‘সংকুচিত’ করতে হবে? আপনি কি করে নিশ্চিত হলেন যে আল্লাহ্‌ এখানে HAPE তথা HPV নিয়ে কথা বলছেন না?

 

শেষ করছি, মুসা (আ)-এর একটি প্রার্থনা দিয়ে-

“হে আমার রব! আমার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দিন।”[৬]

 

 

তথ্যসূত্র:

[১] সূরা আল-আন’আম ৬:১২৫

[২] সূরা আয-যুমার ৩৯:২২

[৩] https://en.wikipedia.org/wiki/High-altitude_pulmonary_edema

[৪] https://en.wikipedia.org/wiki/Hypoxic_pulmonary_vasoconstriction

[৫] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3617508/

[৬] সূরা ত্বা-হা ২০:২৫