ইসলামে পুরুষদের ৪টি পর্যন্ত বিবাহের অনুমতি প্রসঙ্গ

নারী



অভিযোগঃ  ইসলামে পুরুষকে চারটা বিয়ের অনুমতি (Quran 4:3) দেওয়ার মাধ্যমে কি নারীদেরকে যৌন ভোগ্যবস্তু হিসাবে উপস্থাপন করা হয়নি?
 
জবাবঃ  [ লিখেছেন ফরিদ আলম ও মঈনুল আহসান; সদালাপ ব্লগ ]
 
পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। প্রায় শ-খানেক তো হবেই। ইসলাম পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। পৃথিবীর প্রত্যেক চার জন মানুষের একজন মুসলমান। মাত্র সারে চোদ্দশ’ বছরে এই ধর্ম সারা পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে।
 
মিডিয়া ও ইসলামের সমালোচকরা এই বলে অপবাদ দেয় যে, ইসলাম নারীদের অধিকার দেয় না, বহু বিবাহ বৈধ করেছে ইত্যাদি। এই বহু বিবাহ নিয়ে কয়েকটি কথা বলা যাক। আল্লাহ তালা বলেন,
 
"বিবাহ কর নারীদের মধ্য হতে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই ,তিন আথবা চারটি  আর যদি আশঙ্কা কর যে (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে (মাত্র) একটি (বিবাহ কর)…."

(সুরা নিসা ০৩:০৩)
 
এই আয়াতে বোঝা যাচ্ছে যে কোনো মুসলমান ইচ্ছা করলে একের অধিক বিয়ে (চারের বেশি নয়) করতে পারে। কিন্তু তাতে শর্ত হলো তাকে তার স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার অর্থাৎ একাই রকম ভালবাসা, খাদ্য, বস্ত্র দিতে হবে এবং তাদের একের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া চলবে না। আর যে একাধিক বিয়ে করতে ইচ্ছুক কিন্তু তার মনে হচ্ছে তার স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার বা সমতা রাখতে পারবে না তাহলে তাকে একটি বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলা হচ্ছে। স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার করা নিশ্চয় কঠিন কাজ। আল্লহ মানুষকে সাবধান করে বলেছেন,
 
"তোমরা যতই আগ্রহ রাখো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনো সক্ষম হবে না……”

(সুরা নিসা ০৪:১২৭)
 
উপরের দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ইসলামে চারটি বিবাহ করা বৈধ কিন্তু একটি বিবাহ করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বহু বিবাহে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,
 
“….তোমরা এক জনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পর না ও অপরকে (অপর স্ত্রীকে) ঝুলন্ত অবস্তায় রেখে দিও না …”

( সুরা নিসা ০৩:১২৭)
 
এ ব্যপারে নবী মুহাম্মদ (স:) বলেন, 
 
"যে ব্যক্তির দুই জন স্ত্রী আছে, কিন্তু তার মধ্যে এক জনের দিকে ঝুঁকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে।"

(আহমেদ ২/৩৪৭; আসবে সুনান; হাকিম ২/১৮৬) ইবনে হিব্বান ৪১৯)
 
বলা হয়ে থাকে যে, ইসলাম বহু বিবাহ বৈধ করেছে। আসলে ইসলাম বহু বিবাহের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যে কেউ চারটির বেশি বিবাহ করতে পারবে না। কারণ সে যুগে এমনকি আজ থেকে এক দেড়শ বছর আগে এই ভারতেই অনেক মানুষ ৩০-৫০-৮০ এমনকি ১০০ আরো বেশি বিবাহ করত! বিশ্বাস না হলে ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বহু বিবাহ’ ও 'বাল্য বিবাহ’ বই দুটি পড়ে দেখতে পারেন। আপনি যদি রোম সাম্রাজ্যের, গ্রীক সাম্রাজ্যের অথবা পৃথিবীর যে কোনো ইতিহাস পড়েন তাহলে দেখবেন যে সে যুগে মানুষ অনেক স্ত্রী রাখত। সে জন্য ডেভেন্পর্ট বলেছেন যে, “মুহাম্মদ (স) বহু বিবাহকে সীমার বাধনে বেধে ছিলেন।”
 
ইসলাম চারটি বিবাহকে বৈধ বলেছে এবং একটি বিবাহ করতে উপদেশ দিয়েছে। সকল ধর্মেই বহু বিবাহ বৈধ। কিন্তু কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। অর্থাত আপনি যত ইচ্ছা বিয়ে করতে পারেন কোনো আসুবিধা নেই। পাশ্চাত্যের বিখ্যাত দার্শনিক লিটনার তার "মহামেদানিসম” বই-এ লিখেছেন, "অপরিমিত বহু বিবাহ প্রথাকে মুহাম্মদ (স) রুখে দিয়ে ছিলেন।” তিনি আরো লিখছেন, “মুহাম্মদ (স) এর আইনের উত্সাহ কিন্তু স্পষ্টতই একটি বিবাহের পক্ষেই।”
 
স্পষ্ট ভাবে জেনে রাখা উচিত, ইসলাম কিন্তু লাগাম ছাড়া বহু বিবাহ প্রথাকে নিষিদ্ধ করেছে। মধ্য যুগে বল্লাল সেন, কলিন্য সেন কৌলিন্য প্রথার মুখোসে যে বহু বিবাহ প্রথার প্রচলন করেছিলেন, সেই প্রথার সুযোগ নিয়ে কুলীন ব্রাহ্মণ শতাধিক বিবাহে মেতে উঠত। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ধর্মের নামে বহু কিশোরীকে ভোগ করত। নারীত্বের অপমানের কী চরম পদ্ধতিই না চালু ছিল মধ্যযুগের সেই সমাজে।
 
ভা্রতে কোনো হিন্দু কিংবা আমেরিকা বা ইংলান্ডে কোনো খ্রিস্টান বহু বিবাহ করতে পারবে না, সেটা দেশের সংবিধান কোনো ধর্মীয় আইন নয়। ধর্ম অনুযায়ী তারা বহু বিবাহ করতে পারবে। যখন পৃথিবীর সকল ধর্ম বহু বিবাহকে বৈধ করেছে তখন ইসলামকে নিয়ে সমালোচনা কেন?

[ এই অংশের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ ফরিদ আলম, সদালাপ ব্লগ 

মূল লেখার লিঙ্কঃ http://www.shodalap.org/faridsworld07/16799/ ]


 
ইসলামে একজন পুরুষ কর্তৃক একসাথে চার স্ত্রী রাখার যে বিধান রয়েছে (সূরা ৪: আয়াত ৩) সে বিষয়ে শুধু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝেই নয় বরং অনেক মুসলমানদের মধ্যেও বিশেষ উদ্বেগ, বিস্ময় ও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক কালে এ সংক্রান্ত আলোচনা-সমালোচনা ছাড়িয়ে যেতে বসেছে সঠিক তত্ত্ব, তথ্য ও যুক্তির সমস্ত সীমা-পরিসীমা। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে পুরুষদের চার বিয়ের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি আল্লাহ তা’য়ালা যে এক বিয়ের প্রতি কিভাবে জোর দিয়েছেন তা অধিকাংশ আলোচনাতেই থেকে যাচ্ছে উহ্য। আল্লাহ পাক খুব পরিষ্কার করেই বলেছেন, অবস্থার প্রেক্ষিতে চারটা পর্যন্ত বিয়ে করা যেতে পারে তবে তা স্ত্রীদের মধ্যে সমতা বজায়ে রাখার শর্তে, যা কিনা মানুষের জন্য দুরূহ, তাই এক বিয়েই উত্তম ও যথেষ্ট (৪:৩, ১২৯)। এটা সহজেই বোধগম্য যে সমাজে যোগ্য কোন নারী যাতে বিবাহহীন না থাকে এটাই এক জন পুরুষকে চারটি পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অনুমতি দেয়ার মূল লক্ষ্য।
 
উল্লেখ্য বিগত সব কালের মত আমাদের এই যুগেও বিশ্বব্যাপী প্রতিদিনের সংঘর্ষ-সংঘাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দুর্ঘটনা-দুর্বিপাকে নারীর চাইতে পুরুষ মারা যাচ্ছে অধিক হারে। মানব প্রজনন বিজ্ঞানও বলে পুরুষের চাইতে নারী ভ্রূণের জন্মহার, স্থায়িত্ব সবই বেশী। এমনকি মানুষের লিঙ্গ নির্ধারক এক্স ও ওয়াই ক্রোমোজোমের বিবর্তন বিজ্ঞানও বলে যে বিশ্বে এক সময় নারীর জন্মহার বেড়ে যাবে অনেক। বিষয়টার গুরুত্ববহ উল্লেখ দেখা যায় রসুলুল্লাহ (সা:)-এর হাদিসেও। কেয়ামত পূর্ব বিশ্ব পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহর রসুল (সা:) বলেছেন, তখন বিশ্বে নারীর সংখ্যা এত বেড়ে যাবে যে কোন কোন বাড়ীতে একজন পুরুষের তত্ত্বাবধানে দেখা যাবে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন পর্যন্ত নারীকে (বোখারী, মুসলিম)। আপদকালীন ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিতবহ এই হাদিস এবং আল্লাহ কর্তৃক এক বিয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ দ্বারা এটাই প্রমাণ হয় যে একজন যোগ্য পুরুষের চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতিটা শুধুমাত্র সংকটকালীন পরিস্থিতির জন্য। কোন অবস্থাতেই যেনতেন প্রকারে নিজের খায়েস পূরণের জন্য নয়।
 
ঐ ধরনের আপদকালীন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল মদিনায় রসুলুল্লাহ (সা:)-এর সময়। তখন মাত্র দশ বছরের মধ্যে মুসলমানদেরকে লড়তে হয়েছিল ২৭টি যুদ্ধ। তাতে পুরুষেরা শহীদ হয়েছিলেন কাতারে কাতারে। তাদের পরিবার-পরিজনদের সহায়তায় সমাজের সক্ষম পুরুষদের একের অধিক বিয়ে ছিল আবশ্যক। শুধু শহীদ হওয়ার কারণেই নয় বরং যুদ্ধে জয়ী হওয়া বাবদও মুসলমানদের হস্তগত হচ্ছিল পরাজিত পক্ষের নারী ও শিশুরা। এ ধরনের যুদ্ধলব্ধ নারী ও শিশুরা সাধারণত: হয়ে থাকে বিজয়ী বাহিনীর গণভোগের শিকার। কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাসে মুসলিম বাহিনী ছিল এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম। শত্রু পক্ষের অসহায় পরিবারগুলোকে সে সময় জুড়ে দেয়া হতো বিভিন্ন মুসলিম পরিবারে সাথে যাতে নিশ্চিত হতো তাদের নিরাপদ জীবন এবং অবারিত হতো নতুন আলোয় তাদের পথ চলা। এমনকি রসুলুল্লাহ (সা:) নিজেও বিয়ে করে যোগ্য সম্মান প্রদান পূর্বক দায়িত্ব নিয়েছিলেন নিহত শত্রু দলপতিদের স্ত্রী জাওয়ারিয়া বিনতে হারিছ বিন আবি জারার ও সাফিয়া বিনতে হাইয়ে বিন আখতাব-এর (সহি হাদিস গ্রন্থসমূহ এবং উইকিপিডিয়া)।
 
সন্তানের পরিচয় নির্ধারণের প্রয়োজনে নারীদের একত্রে বহু স্বামী গ্রহণ নিষিদ্ধঃ

ইদানীং মেয়ে ভ্রূণ মেরে ফেলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভাবে ধারনা করা হচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে ছেলেরাই হয়তো মেয়ে পাবে না বিয়ে করার জন্য। সেক্ষেত্রে কি একজন নারী একাধিক পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে? উল্লেখ্য বর্তমান এই বিশ্বে এমন জনগোষ্ঠী মোটেই বিরল নয় যেখানে নারীর বহুবিবাহ এখনও আইনসিদ্ধ। কিন্তু ইসলামী আইনে অতীতের মত এখন যেমন, ভবিষ্যতেও তেমন, নারী কর্তৃক এক সংগে একাধিক পুরুষকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ পাকের প্রতিটি আইনের মত মানুষের বিবাহ আইনেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য অগণিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে করণীয় যেমন এখানে আলোচিত হয়েছে তেমনি সেখানে অতীব গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা হয়েছে মানুষের আত্ম পরিচয়ের (self identity) দিক। এই বিশ্বে জন্ম নেয়া প্রতিটি মানব শিশুর নিজস্ব পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কতা লক্ষ্য করা যার ইসলামের বিবাহ আইনে। শুধু বাবা অথবা মা নয় বরং উভয়ের পরিচয়ই যে কোন সন্তানের প্রকৃত পরিচয়। এই সত্যটা অতি কার্যকর ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে ইসলামে। সেজন্যেই এখানে তালাকের পর স্ত্রীদের জন্যে নির্ধারিত রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট ‘ইদ্দতকালীন’ সময় যাতে সম্ভাব্য গর্ভজাত সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ না থাকে (২:২২৮)।
 
বিষয়টা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে একটা বাস্তব উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। একজন সামর্থ্যবান কৃষকের পক্ষে একাধিক জমি চাষাবাদ করা সম্ভব। কিন্তু নিজের শান্তি ও স্বস্তিময় জীবনাচার এবং সব জমির সব ফসলের প্রতি সমান যত্নের স্বার্থে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিমিত জমিতেই পরিকল্পনা করে বছরব্যাপী চাষাবাদের আয়োজন করে থাকে বিশ্বের কৃষক সমাজ। একটা মাত্র জমিতে একাধিক কৃষক মিলে বিভিন্ন ধরণের বীজ কখনই বপন করে না। যদি সেটা করা হয় তাহলে সব ফসলই যেমন বাতিল হতে বাধ্য তেমনি একই নারীতে একই সাথে একাধিক পুরুষের বীজ থেকেও উৎপন্ন হতে বাধ্য বরবাদ প্রজন্ম। আজকের দুনিয়ার অগণিত আত্মপরিচয়হীন বখে যাওয়া তারুণ্যের কথা একটু চিন্তা করলে খুব সহজেই বোঝা যায় ইসলামের এই অতি সতর্ক বিবাহ নীতির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
 
জমি চাষ এবং ফসল উৎপাদনের এই যে ধারা ও পদ্ধতি, যেখানে কর্ষিত মাটিতে বপন করতে হয় বীজ, তা এতটাই সার্বজনীন যে এই বিশ্বজগতের প্রতিটি জীবনকেই তা মেনে চলতে হয়, চাই সেটা তার ভাল লাগুক বা না-ই লাগুক। তাই বিশ্ব জুড়ে আজ এই যে ছয়-সাত শত কোটি আদম সন্তানের ব্যাপক বিস্তার তাকে ব্যাখ্যা করতেও চাষাবাদের এই উপমার চাইতে যথার্থ কোন উপমা আর হতে পারে না। আর ঠিক সেই কাজটাই করা হয়েছে পবিত্র আল-কোরআনে যেখানে নারীদেরকে তুলনা করা হয়েছে ফসলী জমির সাথে যাতে চাষাবাদের মত একই পদ্ধতিতে বপন করতে হয় মানব বীজ (২:২২৩)। অতঃপর তা অন্যসব প্রাণের মতই ধীরে ধীরে সৃষ্টির নির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট স্তরসমূহ একে একে পার করে তবেই হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ এক সৃষ্টি, একেকটা মানব শিশু। 
 
এহেন সহজ, সরল ও অবধারিত সত্য বর্ণনাও আজকের নারীবাদীদের কাছে অপমানজনক হিসেবে বিবেচিত। অথচ ‘জমি চাষাবাদ’-এর সুপ্রতিষ্ঠিত এই পদ্ধতি ছাড়া তাদের নিজেদের জন্মই যে হয়ে পড়ে অসম্ভব সেই চরম সত্যটা কেন যে এদের একবারে জন্যেও মনে পড়ে না তা বোঝা দুষ্কর। আল্লাহ পাক স্বয়ং মানুষকে উপর্যুপরি পরামর্শ দিয়েছেন তর্ক করার আগে নিজের জন্মের বিষয়ে চিন্তা করতে (৩৬:৭৭~৭৮)। বস্তুত: এই একটা বিষয়ে চিন্তার দ্বারাই মানুষ পেতে পারে তার মনের অসংখ্য প্রশ্ন ও অনুসন্ধিৎসার উত্তর। এ প্রসঙ্গে আমাদের আরও মনে রাখা দরকার যে, সব ধরণের চাবি দিয়ে যেসব তালা খোলা যায় সেগুলোকে কেউ তালা বলে না। সেসব কেউ কখনও তালা হিসেবে ব্যবহারও করে না। তাই সন্তান ধারণ ও জন্ম দানের ক্ষেত্রে সব ধরনের ভাবাবেগ বর্জিত বাস্তবমুখী অতিমাত্রিক সতর্কতাই নিজে ভাল থাকার এবং মানুষের আগামী প্রজন্মকে ভালো রাখার একমাত্র উপায়।

[ এই অংশের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ মঈনুল আহসান

মূল লেখার লিঙ্কঃ 

http://www.shodalap.org/mainul-ahsan/11662/ ]