ইসলাম কি সব ধরনের হিজড়াদেরকে দেশান্তর বা ঘর থেকে বের করে দিতে আদেশ করেছে?

নৈতিকতা বিষয়ক



 

নাস্তিকদের অভিযোগঃ

সহীহ বুখারীর হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, হিজড়াদেরকে নির্বাসিত করতে হবে। নবী নিজেই তাদের ঘর থেকে বের করে দিতেন। শুধুমাত্র তারা হিজড়া হয়ে জন্ম নিয়েছে, এই কারণে।

হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, নবী মুহাম্মদ হিজড়াদের আসলে হত্যাই করতেন, শুধুমাত্র মুসলিম নামাজি হিজড়ারা নামাজ পড়ার কারণে তাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ তারা আসলে হত্যারই যোগ্য, শুধুমাত্র নামাজ আদায়কারীদের আল্লাহ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন বলে নবী তাদের হত্যা করেন নি।

 

জবাবঃ

হাদিসে এসেছে,


باب نفي أهل المعاصي والمخنثين
ابن عباس قال: "لعن النبي صلى الله عليه وسلم المخنثين من الرجال والمترجلات من النساء، وقال: «(أخرجوهم من بيوتكم)» فأخرج النبي صلى الله عليه وسلم فلاناً وأخرج عمر فلانة"

অর্থ:

অধ্যায়ঃ কবিরাহ গুনাহগার ও হিজড়াদেরকে দেশান্তর করা।
ইবন আব্বাস(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ() পুরুষ হিজড়া ও ... লানত (অভিশাপ) করেছেন। এবং বলেছেন, তাদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও। নবী() অমুক (হিজড়াকে) বের করে দেন ও উমার(রা.) তমুক (হিজড়াকে) বের করে দেন।

[সহীহ বুখারী: ৫৮৮৬ নং হাদিস]

 

عن أبي هريرة : أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أتي بمخنث قد خضب يديه ورجليه فقالوا : ما بال هذا؟ قيل يتشبه بالنساء ، فأمر به فنفي إلى النقيع

অর্থ: আবু হুরায়রা(রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ() এর নিকট এক হিজড়াকে আনা হল, যে তার হাত-পায়ে মেহেদী লাগিয়ে ছিল। তারা বলল, এ কী অবস্থা?! বলা হল, সে মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বন করেছে। অতপর তার ব্যাপারে দেশান্তরের আদেশ দেওয়া হল। তাকে 'নাকী' নামক স্থানে দেশান্তর করা হয়।

[ফাতহুল বারী – ইমাম ইবন হাজার আসকালানী, ১৩/১৩৫]

 

এখন প্রশ্ন হল - সব ধরণের হিজড়াদেরকে কি দেশান্তর বা ঘরে থেকে বের করে দেওয়া হবে? শুধুমাত্র হিজড়া হবার জন্যই কি তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করা হবে?

উত্তর হলঃ  না।

 

আল্লামা তিবী(র.) বলেছেন,


المخنث ضربان احدهما من خلق كذلك و لم يتكلف التخلق باخلاق النساء و زيهن و كلامهن و حركاتهن هذا لا ذم عليه و لا اثم و لا عيب و لا عقوبة لانه معذور
الثاني من تكلف اخلاق النساء و حركاتهن و هياتهن و كلامهن و زيهن فهذا هو المذموم الذي جاء في الحديث لعنه

অর্থ: হিজড়া দুই ধরনের।

এক প্রকার হল, যারা সেভাবেই জন্মেছে। তারা মহিলাদের মতো চরিত্র, সাজগোজ, কথা বলার ধরণ বা চালচলন নকল করার ক্ষেত্রে কোনরূপ চেষ্টা করে না (স্বাভাবিকভাবে আচরণ করে)। এসব হিজড়াদের কোনো ভৎর্সনা, পাপ, দোষ কিংবা শাস্তি নেই। কেননা তারা তো মাজুর।

দ্বিতীয় প্রকার হল, যারা মহিলাদের আখলাক, তাদের চালচলন, তাদের হাবভাব, তাদের মতো কথা বলার ধরণ ও তাদের মতো সাজসজ্জা গ্রহণের চেষ্টা করে। হাদিসে বর্ণিত লানতপ্রাপ্ত ব্যক্তি এরা।

[শারহ তিবী: ৮/২৬৭, সুবুলুস সালাম: ২/১৯]

 

রাসুলুল্লাহ() কি শুধুমাত্র হিজড়া হয়ে জন্ম নেবার জন্য কাউকে লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন?

 

আল্লামা ইবন হাজার আসকালানী(র.) হিজড়াদের বিধান সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় লিখেছেন,


فمختص بمن تعمد ذلك وأما من كان ذلك من أصل خلقته فإنما يؤمر بتكلف تركه والإدمان على ذلك بالتدريج فإن لم يفعل وتمادى دخله الذم ولا سيما أن بدا منه ما يدل على الرضا به
অর্থ: এই লানতের ব্যাপারটি ইচ্ছাকৃত মহিলাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট। যারা সৃষ্টিগতভাবেই এমন, তাদেরকে মহিলাদের মতো আখলাক ইত্যাদি গ্রহণ না করতে আদেশ দেওয়া হবে। এবং যেটুকু মাঝে মাঝে এসে যায় তা থেকে আস্তে আস্তে প্রতিনিয়ত বিরত থাকার চেষ্টা করবে। তবে যদি সে মহিলাদের মতো সাদৃশ্য অবলম্বন করতে থাকে, তাহলে সেও নিন্দার মধ্যে পড়ে যাবে। বিশেষ করে এ কাজের প্রতি খুশী থাকার কোনো আলামত যদি তার থেকে প্রকাশিত হয়।

[ফাতহুল বারী: ১০/৩৩২]

 

যদি দেশান্তর করলে ক্ষতি বা ঝামেলা হবার ভয় থাকে, তবে তাদেরকে কিছু দিন নিরিবিলি কোনো এলাকায় রাখবে। এবং তাঁর এই অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করবে।

 

প্রশ্ন হতে পারে, কিছু হিজড়া থেকে দূরত্ব অবলম্বন বা তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেবার কারণ কি?

 

হাদিসে এসেছে:
عن أم سلمة رضي الله عنها : دخل النبي صلى الله عليه و سلم وعندي مخنث فسمعه يقول لعبد الله بن أمية يا عبد الله أرأيت إن فتح الله عليكم الطائف غدا فعليك بابنة غيلان فإنها تقبل بأربع وتدبر بثمان وقال النبي صلى الله عليه و سلم ( لا يدخلن هؤلاء عليكن

অর্থ: উম্মে সালামা(রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী() ঘরে প্রবেশ করলেন যখন আমার কাছে এক হিজড়া বসা ছিল। তিনি সেই হিজড়াকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইয়াকে বলতে শুনলেন, সে বলল, আব্দুল্লাহ! আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের বিজয় দান করে, তবে তুমি গায়লানের কন্যাকে অবশ্যই অর্জন করবে। তার তো সামনে চার ভাজ পড়ে ও পেছনে আট ভাজ পড়ে! (সেই নারীর দেহের চর্বির দিকে ইঙ্গিত করে। সে যুগে আরবরা মোটা নারীদেরকে পরম আকাঙ্খিত বলে মনে করতো)।
নবী
() (তার থেকে নিজের ঘরবাসীর ফিতনার আশংকা করে বললেন,) এরা যেন তোমাদের কাছে প্রবেশ না করে।

[ফাতহুল বারী: ৯/৩৩৩]

 

আল্লামা মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ(হাফি.) এ বিধানের কারণ উল্লেখ করে বলেন,


“আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি এসব মানুষদের পাশে থাকার কারণে অনেকে পুরুষ প্রভাবিত হয়ে মেয়েদের বেশভূষা ও সাদৃশ্য গ্রহণের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। যা একটি সভ্য সমাজ ও জাতিকে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুরুষরা নারীদের কাপড় পড়ছে, তাদের মতো চলন-বলন নকল করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এর থেকে যদি এখনিই সতর্কতা অবলম্বন করা না হয়, তবে সামনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।”

[ http://tiny.cc/51zgrz ]

 

কিছু হিজড়াকে বহিষ্কার করা বা তাদের থেকে দূরত্ব অবলম্বনের আদেশের কারণ তাদের থেকে সৃষ্ট ফিতনা। আর যেসব হিজড়ার ক্ষেত্রে এই কারণ বিদ্যমান নেই, অর্থাৎ যারা প্রকৃত হিজড়া, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে হিজড়া হয়নি এবং মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বনের জন্য চেষ্টা করে না – তাদের থেকে নিশ্চিতভাবে কোনো ফিতনার আশংকা না হলে তাদের থেকে দূরত্ব অবলম্বন করা লাগে না। সামনে এ ব্যাপারে আমরা আরো আলোচনা করবো।

 

হিজড়াদেরকে কি হত্যা করার আদেশ দেয়া হয়েছে?

 

গ্রন্থের নামঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)

অধ্যায়ঃ ৩৬/ শিষ্টাচার

পরিচ্ছেদঃ ৬১. হিজড়া সম্পর্কে বিধান

৪৯২৮। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কোনো একদিন এক হিজড়াকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলো। তার হাত-পা মেহেদী দ্বারা রাঙ্গানো ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর এ অবস্থা কেন? বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে নারীর বেশ ধরেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আন-নকী নামক স্থানে নির্বাসন দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাকে হত্যা করবো না? তিনি বললেনঃ সালাত আদায়কারীকে হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আবূ উসামাহ (রহঃ) বলেন, আন-নাফী‘ হলো মদীনার প্রান্তবর্তী একটি জনপদ, এটা বাকী নয়।[1]

সহীহ।

[1]. দারাকুতনী।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

 

এই হাদিসটি দেখিয়ে নাস্তিক-মুক্তমনারা দাবি করতে চায় ইসলাম ধর্মে হিজড়াদেরকে নাকি হত্যা করার আদেশ দেয়া হয়েছে, শুধু নামাজী হিজড়াদেরকে নাকি হত্যা করা যাবে না। 

এটি মূলত একটি ভিত্তিহীন দাবি। এমন দাবি করতে হলে তাদেরকে অন্ততপক্ষে এমন হাদিস দেখাতে হবে যেখানে বলা হয়েছে “হিজড়াদেরকে হত্যা করো”। এরপর কোন কারণ বা প্রেক্ষাপটে তা বলা হয়েছে সেটি দেখাতে হবে। প্রমাণ করতে হবে অন্য কোনো কারণ বাদে, শুধুমাত্র হিজড়া হয়ে জন্মাবার জন্য কাউকে হত্যা করতে আদেশ করা হয়েছে। শুধুমাত্র “সালাত আদায়কারীকে হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে” এই কথার দ্বারা মোটেও এটি প্রমাণ হয় না যে হিজড়াদেরকে সাধারণভাবে হত্যার আদেশ দেয়া হয়েছে! কোনো ফিকহের গ্রন্থে এ হাদিস থেকে এমন বিধান পাওয়া যাবে না। নবী(ﷺ) ও সাহাবীদের থেকে এমন কোনো আমল দেখান যাবে না।

 

হাদিসে “সালাত আদায়কারীকে হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে”  এই কথা বলার কারণ হলো, সাহাবীগণ জানতে চাচ্ছিলেন যে সেই হিজড়া ব্যক্তিটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কোনো অপরাধী কিনা। নবী(ﷺ) সাহাবীদেরকে সাধারণভাবে জানিয়েছেন যে এই হিজড়া ব্যক্তিটি নামাজী। এটি মুমিন হবার আলামত। এমন ব্যক্তির রক্তপাত সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। এর অর্থ মোটেও এই নয় যে হিজড়াদেরকে সাধারণ হত্যার বিধান দেয়া হয়েছে! আমরা ইতিপূর্বেই দেখেছি যে যেসব হিজড়া থেকে ফিতনার আশঙ্কা আছে, তাদের ক্ষেত্রে বিধান হলো দূরত্ব অবলম্বন বা বহিষ্কার। হত্যা নয়। শুধু হিজড়া হওয়ার জন্য কাউকে হত্যা করা হয় না। তবে সে যদি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অন্য কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়।

 

নাস্তিক-মুক্তমনারা সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাসরুল বারীর নিম্নোক্ত অংশ দেখিয়ে দাবি করতে চায় যে, ইসলামে শুধুমাত্র হিজড়া হবার জন্য কাউকে নির্বাসনের বিধান দেয়া হয়—

সহজ নাসরুল বারী, শরহে সহীহ বুখারী (আল কাউসার প্রকাশনী), ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭৪

 

এর জবাবে আমরা বলবোঃ এটি নাস্তিক-মুক্তমনারাদের মারাত্মক ধরণের ভুল অনুধাবন। যেহেতু ফিতনার আশঙ্কায় কিছু বিশেষ ধরনের হিজড়াকে নির্বাসন দেবার বিধান দেয়া হয়েছে, এ জন্য সাধারণভাবে নাসরুল বারীর ঐ অধ্যায়ে “গুনাহগার ও হিজড়াদের নির্বাসিত করা” এই কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যায়ের শিরোনামের মাঝে যেহেতু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না, কাজেই সাধারণভাবে ঐ কথাটি লেখা হয়েছে। স্ক্রিনশটে এটিও দেখা যাচ্ছে যে, মুখান্নাছ বা হিজড়াদের বিশ্লেষণ নাসরুল বারীর ৮/৩৯৩তে আছে। অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত বিধান সেখানে উল্লেখ পাওয়া যাবে।

 

আমরা নাসরুল বারী গ্রন্থেরই ৮ম অধ্যায়ে হিজড়া সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধানের মাঝে উল্লেখ পাই যে –

 

মুখান্নাস বলে যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রমণীদের সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন- নম্রতা-নমনীয়তা পাওয়া যায়। আর এ সাদৃশ্য অর্থাৎ, নম্রতা নমনীয়তা কখনও সৃজনগত ও স্বভাবগতই হয়ে থাকে। এটা নিন্দনীয় নয়। কারণ, তার ওজর রয়েছে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে শুরুর দিকে এর নিষেধও হয়নি

কখনও কখনও এই সাদৃশ্য লৌকিকতার মাধ্যমে হয়। এটা নিন্দনীয়। যেমন- আজকাল হিজড়া বানানো হয়। জননেন্দ্রীয় কেটে অথবা যৌনরগ পিষে কাপুরুষ হিজড়া বানায়। কোন কোন রেওয়ায়াতে এরূপ লোকের উপর। লা'নত এসেছে । অতএব, মালউন বা অভিশপ্ত দ্বারা উদ্দেশ্য এই হিজড়া যে, লৌকিকতা করে কৃত্রিমভাবে হিজড়ায়  পরিণত হয়। 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন, এতো যৌন সম্পর্ক ও খাহেশাত সম্পর্কে বুঝে, তখন তিনি তাকে ঘরে ঢুকতে নিষেধ করে দেন এবং পর্দার হুকুম করেন।

[নাসরুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী (আনোয়ার লাইব্রেরী), ৮ম খণ্ড পৃষ্ঠা ৪২৭]

 

 

নাসরুল বারী গ্রন্থে সহীহ বুখারীর হাদিসের এই বিস্তারিত ব্যাখ্যা থেকে একদম স্পষ্ট হলো যে জন্মগতভাবে যারা হিজড়া, তারা মোটেও অপরাধী নয়, তারা নিন্দনীয় নয় এবং তাদের কোনো শাস্তি নেই। নাসরুল বারীর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যারা কৃত্রিমভাবে জননাঙ্গ বিকৃত করে হিজড়া হয়, তারা নিন্দনীয়; এদের ব্যাপারে অভিশাপের কথা বলা হয়েছে। আর যে হাদিসে রাসুল(ﷺ) একজন হিজড়াকে ঘরে ঢুকতে দিতে বারণ করেছেন, এর কারণ ছিলো পর্দা। কেননা সেই হিজড়া ব্যক্তিটি নারীদের রূপ-সৌন্দর্যের ব্যাপারে পুরুষদের ন্যায় যৌন খাহেশাত বুঝতো। এখানে কোথাও বলা হয়নি শুধুমাত্র হিজড়া হবার জন্য কাউকে হত্যা করতে হবে।

 

প্রিয় পাঠক, লক্ষ করুন। যে নাসরুল বারী গ্রন্থে হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যে জন্মগত হিজড়া হওয়া কোনো অপরাধ নয়, সেই নাসরুল বারী গ্রন্থের একাংশ থেকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে কিছু কথা উল্লেখ করে নাস্তিক-মুক্তমনারা প্রমাণ করতে চায় যে ইসলামে নাকি শুধুমাত্র হিজড়া হয়ে জন্ম নেবার জন্য ঘর থেকে বের করে দেয়া ও নির্বাসনের আদেশ দেয়া হয়েছে! প্রকৃত সত্যের সঙ্গে তাদের উপস্থাপিত তত্ত্বের পার্থক্য লক্ষ করুন।

 

নাসরুল বারীর এই ব্যাখ্যা থেকে এটিও পরিষ্কার হলো যে শুধুমাত্র হিজড়া হয়ে জন্ম নেবার জন্য ইসলাম কাউকে হত্যার আদেশ দেয় না। কাজেই ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিক-মুক্তমনাদের দাবিগুলো নিদারুন ভুল প্রমাণিত হলো।

 

হিজড়াদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান নিয়ে শায়খ ড. সাইফুল্লাহর আলোচনাঃ

https://youtu.be/LD7cre1DCWg

 

ইসলামে হিজড়াদের অধিকার প্রসঙ্গে শায়খ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর(র.) এর আলোচনাঃ

https://youtu.be/_mf5jmScR9k