কুরআনে কুরবানীর ঘটনায় “ইয়া বুনাইয়া” কথার দ্বারা কি ছোট ছেলে ইসহাক(আ.)কে বোঝানো হয়েছে?

খ্রিষ্টান মিশনারীদের জবাব/বাইবেল ও খ্রিষ্টবাদ সংক্রান্ত



 

খ্রিষ্টান প্রচারকদের দাবিঃ

আল কুরআনে সুরা আস সফফাতে নবী ইব্রাহিমের(আ.) সন্তান কুরবানীর ঘটনায় দেখা যায় তিনি নিজ পুত্রকে  يَا بُنَيَّ (ইয়া বুনাইয়া) বলে সম্বোধণ করছেন। কুরআনের কোনো কোনো অনুবাদে (যেমন তাকি উসমানীর ইংরেজি অনুবাদ) এর অর্থ করা হয়েছে “O my little son”। কারো যদি একই সাথে যদি ২ জন ছেলে থাকে, তাহলে তো “little son” দ্বারা  ছোট ছেলেকেই বোঝাবে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে সে ঘটনায় ইব্রাহিম(আ.) তার বড় ছেলে ইসমাইল(আ.)কে না বরং ছোট ছেলেকে অর্থাৎ ইসহাক(আ.)কে কুরবানী করতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরবি يَا بُنَيَّ দ্বারা কনিষ্ঠ বা ছোট ছেলেকে বোঝানো হয়। এ দিয়ে জ্যেষ্ঠ পুত্র বা বড় ছেলেকে বোঝানো হয় না। মুসলিম সমাজ দীর্ঘকাল ধরে কুরআনের এই শব্দের অর্থ লুকিয়ে রেখে সবাইকে ধোঁকা দিচ্ছে, তারা ইসমাঈল(আ.) কে কুরবানীর পুত্র বানানোর চেষ্টা করছে।

 

জবাবঃ

 

প্রথমতঃ

ইসলামবিরোধীদের (অপ)যুক্তির গোড়াতেই গলদ রয়েছে। আল কুরআনে কুরবানীর ঘটনার সময়ে ইব্রাহিম(আ.) এর ২ জন সন্তান ছিলো না। তখন তাঁর সন্তান ছিলো মাত্র ১ জন। কাজেই বড় ছেলে বা ছোট ছেলের কোনো ব্যাপারই এখানে নেই। আল কুরআনে সুরা আস সফফাতে উল্লেখ আছেঃ ইব্রাহিম(আ.) আল্লাহর নিকট নেককার সন্তান প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা মঞ্জুর করলেন। ইসমাঈল(আ.) যে ইব্রাহিম(আ.) এর ১ম সন্তান সে ব্যাপারে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টান সবাই একমত। সুরা আস সফফাতে আল্লাহ সেই সন্তানকে (১ম সন্তান) কুরবানীর পরীক্ষা নিলে ইব্রাহিম(আ.) তাতে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে গেলেন। পুরো কুরবানীর ঘটনা শেষ হয়ে যাবার পরে ইসহাক(আ.) [২য় সন্তান] এর সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। সুরা আস সফফাত থেকে—

 

১০০) হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।

১০১) সুতরাং আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।

১০২) অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন’

১০৩) যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহীম তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করল,

১০৪) তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম,

১০৫) ‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি

১০৬) অবশ্যই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।

১০৭) আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে পুত্রটিকে ছাড়িয়ে নিলাম।

...

...

১১২) আর আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের, তিনি ছিলেন এক নবী, সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।

[আল কুরআন, আস সফফাত ৩৭ : ১০০-১০৫]

 

আমরা দেখলাম যে আল কুরআনে কুরবানীর সে ঘটনার সময়ে ইব্রাহিম(আ.) এর মাত্র ১ জন পুত্রের উল্লেখ আছে। ইসহাক(আ.) এর সংবাদই দেয়া হয়েছে পুরো কুরবানীর ঘটনা শেষ হয়ে যাবার পরে। কাজেই খ্রিষ্টান প্রচারকরা বড় পুত্র আর ছোট পুত্রের যে যুক্তি আনার চেষ্টা করে তা সম্পূর্ণ অসার। সে সময়ের ইব্রাহিম(আ.) এর পুত্রই ছিলো ১ জন। আর সেই একমাত্র পুত্র ইসমাঈল(আ.)। অভিযোগকারীরা বাইবেলের ঘটনাকে কুরআনের উপর আরোপ করে ইসলামের দাবিকে খণ্ডনের চেষ্টা করেছে। অথচ কুরআনের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের এই ‘যুক্তি’ মূলত কুযুক্তির নামান্তর।

 

কুরআনের অন্য স্থান থেকে এমনকি বাইবেল থেকেও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয় যে এই পুত্র ছিলেন ইসমাঈল(আ.)। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই লেখাটিঃ

"কুরবানীর জন্য কাকে নেওয়া হয়েছিল—ইসমাঈল(আ.) নাকি ইসহাক(আ.)?"

 

দ্বিতীয়তঃ

অভিযোগকারীদের হয়তো খেয়াল নেই আল কুরআন যে ভাষায় নাজিল হয়েছে, সেই আরবি ভাষা এখনো পৃথিবীর জীবন্ত একটি ভাষা যে ভাষায় কোটি কোটি মানুষ কথা বলে। কোটি কোটি অনারব মুসলিমও কুরআন বুঝবার জন্য আরবি ভাষা শেখে। এ থেকেই এটি বোঝা যায় যে, খ্রিষ্টান প্রচারকদের মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে “অনুবাদ গোপন করা”র অভিযোগ আষাঢ়ে গল্পের বেশি কিছু নয়। মুসলিমরা কুরআন পড়ে এর মূল ভাষা আরবিতে। অনুবাদকরা কী অনুবাদ করলেন এ থেকে মুসলিমদের আকিদা কখনোই পরিবর্তন হয় না। অনুবাদকরা সবাই মিলে জীবন্ত একটি ভাষার ২-১ টা শব্দের অনুবাদ যদি ‘গোপন’(!) করেও ফেলেন, আরব মুসলিমদের কি এতে কিছু এসে যাবে? তারা তো নিজ ভাষাতে পড়ে ঠিকই বুঝে যাবেন এর আসল মানে কী। আরবি জানা অনারব মুসলিমদের ক্ষেত্রেও একই কথা। আসলে খ্রিষ্টানদের নিজেদের কিতাবই মূল ভাষায় সংরক্ষিত নেই। তাদের বড় বড় ধর্মীয় পণ্ডিতরা পর্যন্ত বাইবেল বোঝেন অনুবাদের সাহায্যে। তারা নিজেরাই যে বাইবেলের অনুবাদে বহু ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ভুল করে অজস্র জায়গায় আকিদা-বিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন এর বহু প্রমাণ দেখানো যাবে। [1] কাজেই এমন আষাঢ়ে গল্প শ্রেণীর অভিযোগ যে তারা তুলবে এতে অবাক হবার কিছুই নেই। যে যেমন, তার চিন্তাধারাও তেমন। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে যারা নিত্যদিন ঘুমায়, তারা স্বপ্নে ফাইভ স্টার হোটেল দেখলে এর মাঝেও যে ছেঁড়া কাঁথা দেখবে এতে আশ্চর্য হবার কী আছে?

 

তৃতীয়তঃ

খ্রিষ্টান প্রচারকরা এখানে তাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রমাণের জন্য কুরআনের কিছু অনুবাদকে অপব্যবহার করতে চায়। যেমন,

 

Thereafter, when he (the boy) reached an age in which he could work with him, he (Ibrahim) said, “O my little son, I have seen in a dream that I am slaughtering you, so consider, what is your opinion?” He said, “O my dear father, do what you have been ordered to do. You will find me, insha’allah , (if Allah wills) one of those who endure patiently.”

[Taqi Usmani Translation, Surah As Saffat 37 : 102]

 

এখানে মুফতি তাকি উসমানী(হাফি.) يَا بُنَيَّ (ইয়া বুনাইয়া) কথাটিকে “O my little son” বলে অনুবাদ করেছেন। যদিও কুরআনের প্রায় সকল ইংরেজি অনুবাদেই এখানে “little son” অনুবাদ করা হয়নি বরং শুধুমাত্র “O my son” বা “O my dear son” বলে  অনুবাদ করা হয়েছে।

 

 

এতো অনুবাদের বিপরীতে খ্রিষ্টান প্রচারকরা বেছে বেছে ১টি বা ২টি অনুবাদ নিয়ে আসেন যাতে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে নিজস্ব ভ্রান্ত মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করা যায়। ঠিক যেমনটি তারা নিজ কিতাবের মধ্যেই করে থাকেন। আমরা দাবি করছি না যে আলোচ্য আয়াতে “O my little son” ভুল অনুবাদ। বরং এটিও সম্পূর্ণ সঠিক অনুবাদ। “আল মানি” ডিকশনারিতে يَا بُنَيَّ (ইয়া বুনাইয়া) এর অর্থ করা হয়েছেঃ “An affectionate way of calling a child”[2]

 

 

আরবি ভাষায় নিজ পুত্র, যে কোনো ছোট বাচ্চাকে অথবা পুত্রের বয়সী কাউকে আদর করে يَا بُنَيَّ (ইয়া বুনাইয়া) বলে ডাকা হয়। এ দিয়ে জ্যেষ্ঠ বা কনিষ্ঠ যে কোনো পুত্রকেই ডাকা যেতে পারে। অনেকটা বাংলা ভাষায় বাচ্চাদেরকে যেভাবে ‘বাবু’ বলে ডাকা হয় অথবা ছেলের মতো কাউকে ‘বৎস’ বা ‘বাছা’ বলা হয়। জ্যেষ্ঠ পুত্র বা বড় ছেলেও কোনো এক সময় ‘ছোট বাবু’ থাকে। অভিযোগকারীরা কিছু অনুবাদে “Little Son” দেখেই আত্মহারা হয়ে ধরে নিয়েছেন যে এ দ্বারা ছোট ছেলে বা কনিষ্ঠ পুত্রকেই বুঝিয়েছে। অথচ তারা “Little Son” আর “Younger Son” এর পার্থক্য ভুলে গেছেন। তারা ভুলে গেছেন যে ‘Older Son’ও এক সময় ‘Little’ বা ছোট থাকে। ইতিমধ্যেই উল্লেখিত সুরা আস সফফাতের ১০২ নং আয়াত [“যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল...”] থেকে এটা স্পষ্ট যে কুরবানীর সময় সেই পুত্রের খুব বেশি বয়স ছিলো না। মূলত অভিযোগকারীদের আরবি ভাষা বা ইংরেজি ভাষা কোনোটিতেই গভীর জ্ঞান নেই।

 

চতুর্থতঃ

যে সব অনুবাদকরা আলোচ্য আয়াতে “O my little son” অনুবাদ করেছেন, তাঁরা নিজেরাই এ দিয়ে কনিষ্ঠ পুত্র ইসহাক(আ.) বোঝাননি। তাঁদের থেকেও উল্লেখ পাওয়া যায় যে এখানে ইসমাঈল(আ.) এর কথা বোঝানো হয়েছে। খ্রিষ্টান প্রচারকরা প্রতারণামূলকভাবে এসব অনুবাদ থেকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ২-১টি শব্দ টেনে এনে মানুষকে বিভ্রান্ত করবার চেষ্টা করে থাকেন। খ্রিষ্টান প্রচারকরা মুফতি তাকি উসমানী(হাফি.) এর অনুবাদ দেখিয়ে দাবি করতে চায় তিনি নাকি এ দিয়ে ইসহাক(আ.) বুঝিয়েছেন! অথচ স্বয়ং তাকি উসমানী(হাফি.) আলোচ্য আয়াতের তাফসিরে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে  উল্লেখ করেছেন যে এখানে যবিহ ইসমাঈল(আ.)। অন্য কেউ নন। তিনি তাঁর নিজ তাফসিরে বাইবেল থেকেও প্রমাণ করেছেন যে এখানে কুরবানীর সন্তান ইসমাঈল(আ.)। তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা এখানে টেনে-কষে নানাভাবে বিভিন্ন সম্ভাবনা বের করে ভ্রান্ত উপায়ে ইসহাক(আ.)কে কুরবানীর সন্তান বানানোর চেষ্টা করে।

[বিস্তারিত দেখুনঃ তাফসির তাওযীহুল কুরআন – মুফতি তাকি উসমানী, সুরা আস সফফাতের  ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭০-১৭১] [3]

 

 

যে মুফতি তাকি উসমানী(হাফি.) এতো বিস্তারিত ও স্পষ্টভাবে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন যে এখানে কুরবানীর জন্য যাঁকে নেয়া হয়েছিলো তিনি ইসমাঈল(আ.), সেই তাঁরই অনুবাদকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে উদ্ধৃত করে খ্রিষ্টান প্রচারকরা প্রমাণ (!) করতে চায় যে তিনি এখানে বুঝিয়েছেন এই সন্তান ইসহাক(আ.)! ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান প্রচারকদের প্রচারণা ও যুক্তিগুলো যে মূলত মিথ্যাচার ও প্রতারণার উপর প্রতিষ্ঠিত – এর জ্বলন্ত উদাহরণ এটি। 

 

পঞ্চমতঃ

يَا بُنَيَّ (ইয়া বুনাইয়া) দ্বারা যে শুধুমাত্র নিজের ছোট ছেলেকে ডাকা হয় না বরং এটা যে একটা সাধারণ স্নেহসূচক সম্ভাষণ এর উদাহরণ আরবি ভাষায় অনেক জায়গায় দেখা যায়। যেমন, সা’দ ইব্‌ন হিশাম (রা.) আয়িশা(রা.) এর নিজের ছেলে ছিলেন না। কিন্তু আয়িশা(রা.) তাঁকে স্নেহ করে ‘ইয়া বুনাইয়া’ (হে প্রিয় বৎস) বলে ডেকেছেন।

 

فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَيَّ، فَلَمَّا «أَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا سَلَّمَ» فَتِلْكَ تِسْعُ رَكَعَاتٍ يَا بُنَيَّ،

অর্থঃ “... ... ... তাহলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট এগার রাকআত সালাত আদায় করা হত। যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বয়স বেড়ে গেল এবং শরীরে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে গেল তিনি সাত রাকআত বিত‌‌্‌রের সালাত আদায় করতেন। আর সালামের পর বসে থেকে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। তাহলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট ন’রাকআত সালাত আদায় করা হত।   ... ... ...”

[সুনান নাসাঈ, হাদিস নং : ১৬০১ (সহীহ)] [4]

 

ষষ্ঠতঃ

খ্রিষ্টান প্রচারকদের এই ভ্রান্ত দাবির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া যায় খোদ বাইবেল থেকে! বাইবেলে আদিপুস্তক (Genesis) এর ২৭ নং অধ্যায়ের ১ম পদে দেখা যায় নবী ইসহাক তাঁর বড় ছেলে এষৌ (Esau)কে ডাকছেন। বাইবেলের আরবি অনুবাদে দেখা যায় নবী ইসহাক এ সময়ে এষৌকে يَا بُنَيَّ (ইয়া বুনাইয়া) বলে সম্বোধণ করছেন!

 

“When Isaac was old and his eyes were so weak that he could no longer see, he called for Esau his older son and said to him, “My son.

[Bible, Genesis 27 : 1 (New International Version)] [5]

وَلَمَّا شَاخَ إِسْحاقُ وَضَعُفَ بَصَرُهُ اسْتَدْعَى ابْنَهُ الأَكْبَرَ عِيسُو وَقَالَ لَهُ: «يَا بُنَيَّ،

[Bible, Genesis 27 : 1 (Ketab El Hayat Version)] [6]

 

 

খোদ বাইবেল থেকেই খ্রিষ্টান প্রচারকদের অপপ্রচারের কবর রচনা হতে দেখা যাচ্ছে। তারা দাবি করেন যে “ইয়া বুনাইয়া” দ্বারা নাকি বড় ছেলেকে বোঝানো হয় না অতএব সুরা আস সফফাতে উল্লেখিত কুরবানীর সন্তান ইসমাঈল(আ.) হতে পারেন না। অথচ তাদের বাইবেলেরই আরবি অনুবাদে দেখা যাচ্ছে বড় ছেলে এষৌকে “ইয়া বুনাইয়া” বলে ডাকা হচ্ছে! আরো মজার ব্যাপার হলো, অপব্যাখ্যা করে যে ইসহাক(আ.)কে তারা কুরবানীর পুত্র বানাতে চায়, বাইবেলের একটি ঘটনায় সেই ইসহাক(আ.)ই তাঁর বড় ছেলেকে “ইয়া বুনাইয়া” বলে ডাকছেন! সুবহানাল্লাহ। এভাবেই মিথ্যার বিলোপ হয় এবং তা মিথ্যাবাদীদের নিজেদের উপরেই আপতিত হয়।

 

বাইবেলের Book of Genesis এর ঐ অধ্যায়েই দেখা যায় ছোট ছেলে যাকোবকেও তাঁর মা রিবিকা “ইয়া বুনাইয়া” বলে সম্বোধণ করছেন (Genesis 27 : 13)। [7] এ থেকে বোঝা গেলো যে “ইয়া বুনাইয়া” কথাটি বড় ছেলে বা ছোট ছেলে এসব বোঝাতে ব্যবহার হয় না বরং তা একটি সাধারণ স্নেহসূচক সম্ভাষণ। খ্রিষ্টান মিশনারীদের দাবি ভিত্তিহীন ও অসার।

 

এ আলোচনা থেকে আমরা দেখলাম ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টীয় প্রচারকদের অপযুক্তিগুলো কেমন মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে। সত্যের মুখোমুখি হলেই এসব মিথ্যা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। তারা নিজ বাইবেলের নানা শব্দ নিয়ে খেলা করে যেভাবে ত্রিত্ববাদসহ নানা ভ্রান্ত মতবাদ উদ্ভাবন করেছে, একই কাজ তারা ইসলামের সাথেও করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তা’আলার মনোনিত দ্বীন নিয়ে এসব করা এতো সহজ কাজ নয়। এইসব প্রচেষ্টা সর্বদা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়। আমরা খ্রিষ্টান প্রচারকদেরকে মিথ্যার এই পথ ছেড়ে সত্যের দিকে আসবার আহ্বান জানাই। সত্যের মাঝেই নাজাত আছে।

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1] বিস্তারিত প্রমাণ ও উদাহরণের জন্য দেখুনঃ ইযহারুল হক – রহমাতুল্লাহ কিরানবী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫০-৩৯৭

[2] Translation and Meaning of بُنِّيّ In English, English Arabic Dictionary of terms

https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/بُنِّيّ/

[3] https://islamicbookhouse.wordpress.com/tag/তাওযীহুল-কুরআন-pdf/

[4] http://ihadis.com/books/nasayi/hadis/1601

[5] https://www.biblegateway.com/passage/?search=Genesis+27%3A1&version=NIV

[6] https://www.biblegateway.com/passage/?search=Genesis+27%3A1&version=NAV

[7] https://www.biblegateway.com/passage/?search=Genesis+27%3A13&version=NAV