কুরআন কি আসলেই পূর্বের কিতাবগুলোকে অনুসরণ করতে বলে?

খ্রিষ্টান মিশনারীদের জবাব/বাইবেল ও খ্রিষ্টবাদ সংক্রান্ত



বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে খ্রিষ্টান মিশনারীরা।  বিশেষত দেশের সীমান্তের কাছাকাছি জেলাগুলোতে তাদের তৎপরতা বেশি। বর্তমানে এরা মুসলিমদেরকে খ্রিষ্টান বানানোর জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে—কুরআনের অপব্যাখ্যা করে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করা এবং কুরআন থেকেই খ্রিষ্টবাদের দলিল দেওয়া। তারা কুরআনের যে সমস্ত আয়াত অপব্যাখ্যা করে তার মধ্যে একটি হচ্ছে সুরা ইউনুসের ৯৪নং আয়াত। খ্রিষ্টান মিশনারীরা মুসলিমদের সুরা ইউনুসের ৯৪নং আয়াত দেখিয়ে বুঝায় যেঃ পবিত্র কুরআন নাকি নির্দেশ দিচ্ছে বাইবেল অনুসরণ করার!! এভাবে বুঝিয়ে কম জানা সরলপ্রাণ মুসলিমদের বিভ্রান্ত করে ও ঈমানহারা করে।

 

প্রথম কথাঃ সমগ্র কুরআনের মধ্যে কোথাও ‘বাইবেল’ শব্দটি নেই। বাইবেলে অনুসরণের নির্দেশ তো অনেক দূরের কথা। এমনকি খোদ বাইবেলের মধ্যেও ‘বাইবেল’ শব্দটি নেই।সেখানে পর্যন্ত বাইবেল অনুসরণের কোন নির্দেশ নেই।

 

দ্বিতীয় কথাঃ খ্রিষ্টানরা কি মুহাম্মাদ(ﷺ)কে আল্লাহর নবী মানে? উত্তর হচ্ছে - না। যাকে তারা নবী হিসাবেই মানে না, তাঁর উপর নাজিলকৃত গ্রন্থ থেকে তারা কেন দলিল দেবে? দলিল দিতে চাইলে আগে তারা মুহাম্মাদ(ﷺ)কে আল্লাহর নবী হিসাবে মানুক। আমরা মুসলিমরা বাইবেল থেকে ইসলামের স্বপক্ষে দলিল দেই কেননা আমরা ঈসা(আ), মুসা(আ) এবং বনী ইস্রাঈলের অন্যান্য নবীদের উপর ঈমান রাখি। বাইবেলের কিছু অংশকে আমরা সঠিক এবং কিছু অংশকে বিকৃত মনে করি।

 

তৃতীয় কথাঃ সুরা ইউনুসের আলোচ্য আয়াতে মোটেও পূর্ববর্তী কোন কিতাব অনুসরণের নির্দেশ আসেনি।

 

প্রসঙ্গসহ সুরা ইউনুস এর ৯৪ নং আয়াতঃ

 

( ৯৩ ) আর আমি বনী ইসরাঈলকে দান করেছি উত্তম স্থান এবং তাদেরকে আহার করার জন্য দিয়েছি পবিত্র-পরিচ্ছন্ন বস্তু-সামগ্রী। বস্তুতঃ তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়নি যতক্ষণ না তাদের কাছে (আহকামের)জ্ঞান এসে পৌঁছেছে। নিঃসন্দেহে তোমার প্রভু তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন কিয়ামতের দিন; যে ব্যাপারে তাদের মাঝে মতবিরোধ হয়েছিল

( ৯৪ ) সুতরাং তুমি যদি সে জিনিস সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাকো যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার প্রভুর নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কখনো সন্দেহকারী হয়ো না।

( ৯৫ ) এবং তাদের অন্তর্ভুক্তও হয়ো না যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আল্লাহর বাণীকে। তাহলে তুমিও অকল্যাণে পতিত হয়ে যাবে।

(আল কুরআন, ইউনুস ১০ : ৯৩-৯৫)

 

----- >>> বাইবেলের গ্রন্থগুলোতে ইহুদিদের প্রতি আল্লাহ যে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছিলেন তার বিস্তারিত কাহিনী আছে। পূর্বেও যে নবী-রাসুল প্রেরণ করা হয়েছিল তার সাক্ষী হচ্ছে ঐ পুস্তকগুলো। আল্লাহ বলছেন যে—সন্দেহ হলে ঐসব কিতাবপাঠকারীর কাছে জানতে চাও যারা আগে কিতাব পড়েছে।

একই সাথে আল্লাহ এমন সন্দেহ করতে নিষেধ করে দিয়েছেন।

 

বাহ্যত ৯৪ নং আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে নবী(ﷺ)কে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ(ﷺ) কখনও সন্দেহে ছিলেন না। কাতাদা(র) বলেন, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বলেছিলেন যে, “আমি সন্দেহ করিনা এবং প্রশ্নও করিনা’ [ইবন কাসীর]

আসলে যারা তাঁর দাওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছিল তাদেরকে শুনানােই মূল উদ্দেশ্য। এ সংগে আহলে কিতাবদের উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে এই যে, আরবের সাধারণ মানুষ যথার্থই আসমানী কিতাবের জ্ঞানের সাথে মোটেই পরিচিত ছিল না । তাদের জন্য এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ নতুন আওয়াজ। কিন্তু আহলে কিতাবের আলেমদের মধ্যে যারা ন্যায়নিষ্ঠ মননশীলতার অধিকারী ছিলেন তারা একথার সত্যতার সাক্ষ্য দিতে পারতেন যে, কুরআন যে জিনিসটির দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে পূর্ববতী যুগের সকল নবী তারই দাওয়াত দিয়ে এসেছেন। তাছাড়া আরও প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ নবীর কথা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যা তাদের কিতাবে লিখা আছে। ইবন কাসীর] তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ পায়”। [সুরা আল-আরাফ: ১৫৭]

[ কুরআনুল কারীম বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির – ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, ১ম খণ্ড, সুরা ইউনুসের ৯৪ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ১১০২ ]

 

৯৫ নং আয়াতে স্পষ্ট বলা হচ্ছে যে যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে [অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিষ্টান] তাদের অন্তর্ভুক্ত না হতে। এতে মোটেও বলা হচ্ছে না বাইবেল অনুসরণ করতে; বরং এ দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীরা[অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিষ্টান] আল্লাহর বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী।