কুরআন যদি অসামঞ্জস্যতামুক্তই হয়ে থাকে, তাহলে একই কথার পুনরাবৃত্তি কেন?

কুরআন সম্পর্কিত অভিযোগের জবাব



আল্লাহ কু’রআনে যেই আয়াতগুলোকেই একবারের বেশি বলেন, সেই আয়াতগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো এমন সব আয়াত, যেগুলো আমরা সহজে বুঝতে পারি না। সহজে উপলব্ধি করি না। একবার দুইবার সেই আয়াতগুলো পড়লে আমাদের ভেতরে কোনো বড় পরিবর্তন আসে না। একারণেই এই আয়াতগুলো বার বার পড়ে খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করা দরকার।

 

কিছু ব্যাপার রয়েছে যেগুলো মানুষকে একবার, দুইবার বললে তার মাথায় ঢোকে না। তাকে বহুবার বলতে হয়। যেমন, পুরো কু’রআনে রোজা রাখার নির্দেশ এসেছে মাত্র একবার, কিন্তু নামাজ পড়ার নির্দেশ এসেছে ৮১ বার। অথচ রমজানে মাসে ঠিকই দেখা যায়: যেই বান্দা কোনোদিন নামাজ পড়ে না, সারাদিন মিউজিকে বুঁদ হয়ে থাকে, প্রতিদিন একটা মুভি বা হিন্দি সিরিয়াল না দেখলে ডিপ্রেশনে চলে যায় —সেই একই বান্দা রমজান মাস আসলে এগুলো সব বাদ দিয়ে ৩০টা রোজাই রাখে। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোঁদে সারাদিন না খেয়ে, এক ফোঁটা পানিও পান না করে, তার বদভ্যাসগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখে, রোজা রাখার মত এত কঠিন কাজটা সে ঠিকই করতে পারে। এর জন্য তাকে কু’রআনে ৮১ বার রোজা রাখার নির্দেশ দিতে হয় না।

 

অথচ এই ধরনের বান্দাদেরকে কোনোদিন নামাজ পড়তে দেখা যায় না। তারা তো দূরের কথা, একজন মোটামুটি সিরিয়াস ধরনের মুসলিম, যে সিগারেট টানে না, প্রতিদিন মিউজিকে বুঁদ হয়ে থাকে না, কখনো হিন্দি সিরিয়াল দেখে না, ফেইসবুকে নিয়মিত ইসলামের আর্টিকেল লাইক/শেয়ার করে, ইসলাম নিয়ে কেউ খারাপ কিছু বললে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসলামের মানসন্মান রক্ষা করতে—এই ধরনের মুসলিমদেরকেও প্রতিদিন তিন ওয়াক্ত নামাজও পড়তে দেখা যায় না। এদেরকে একবার, দুইবার, দশ বার, বিশ বার নামাজ পড়তে বলেও লাভ হয় না। এদেরকে বার বার, দিনের পর দিন মনে করিয়ে দিতে হয়। 

 

আর সামঞ্জস্যতার সাথে পুনরাবৃত্তির কি সম্পর্ক? বরং পুনরাবৃত্তিতে যদি কোন পার্থক্য না থাকে, তাহলে তো সেটা আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের এই দাবিতেই তো দেখি কোন সামঞ্জস্য নেই!