গর্ভের সন্তান কী হবে তা কি একমাত্র আল্লাহই জানেন?

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



 

নাস্তিক প্রশ্নঃ একমাত্র আল্লাহ জানেন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে(Quran 31:34), যা অন্য কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয় (Sahih Bukhari 2:17:149) ! তিনি কি জানতেন না (নাউযুবিল্লাহ) ভবিষ্যতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি আবিষ্কৃত হবে?

 

উত্তরঃ  কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে—

 

إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُ ۥ عِلۡمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلۡغَيۡثَ وَيَعۡلَمُ مَا فِى ٱلۡأَرۡحَامِ‌ۖ وَمَا تَدۡرِى نَفۡسٌ۬ مَّاذَا تَڪۡسِبُ غَدً۬ا‌ۖ وَمَا تَدۡرِى نَفۡسُۢ بِأَىِّ أَرۡضٍ۬ تَمُوتُ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرُۢ 

অর্থঃ "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাতৃগর্ভে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে, এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।" [1]

 

রাসুলুল্লাহ () বলেছেনঃ “গায়েবের কুঞ্জি হল পাঁচটি, যা আল্লাহ ব্যতিত কেউ জানে না। কেউ জানে না যে আগামীকাল কী ঘটবে। কেউ জানে না যে মায়ের গর্ভে কী আছে।  কেউ জানে না যে, আগামীকাল সে কী অর্জন করবে।  কেউ জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে। কেউ জানে না যে, কখন বৃষ্টি হবে।” [2]

 

এখানে আলোচ্য আয়াত বা হাদিসে কোথাও এটা বলা হয়নি যে—“একমাত্র আল্লাহ জানেন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে।” ছেলে বা মেয়ের কথাই আলোচ্য আয়াত বা হাদিসে আসেনি। এখানে কোথাও লিঙ্গের কথা বলা হয়নি। এটি অভিযোগকারীরা নিজে থেকে যোগ করেছে কুরআন ও হাদিসের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার জন্য। লিঙ্গ[جنس] শদটি পুরো কুরআনেও কোথাও আসেনি। আলোচ্য আয়াত ও হাদিসে বলা হয়েছে যে—মাতৃগর্ভে যা থাকে, আল্লাহই তা জানেন এবং তিনি ছাড়া কেউ জানে না। এখানে  এখানে “মায়ের গর্ভে কী আছে” বলতে শুধুমাত্র ছেলে সন্তান বা মেয়ে সন্তানই বোঝায় না বরং এর সাথে সাথে কী রকম হায়াতপ্রাপ্ত সন্তান, নেক সন্তান নাকি পাপী সন্তান, কীরকম রিযিকপ্রাপ্ত সন্তান, কেমন স্বভাবের সন্তান—এই সব কিছুকেই বোঝায়। [3] এ ছাড়া সন্তানটি সুস্থ সন্তান নাকি বিকলাঙ্গ সন্তান, দেখতে কেমন হবে এগুলোও এ সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। “মায়ের গর্ভে কী আছে” বলতে এর সবগুলোকেই বোঝায় এবং এই সমস্ত তথ্য সম্পর্কেই আল্লাহ তা’আলা অধিক জ্ঞাত। কী রকম হায়াতপ্রাপ্ত সন্তান, নেক সন্তান নাকি পাপী সন্তান, কী রকম রিযিকপ্রাপ্ত সন্তান—আল্লাহ ব্যতিত আর কারো পক্ষে এইসব তথ্য জানা সম্ভব নয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা অন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগুলো জানা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি দ্বারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর সন্তানের লিঙ্গ জানা যায়। গর্ভধারণের ১১ সপ্তাহের আগে কোনক্রমেই জানা সম্ভব না সন্তানটির লিঙ্গ কী হবে। [4]

 

এগুলো হচ্ছে গায়েবের সংবাদ যা কোন মানুষের পক্ষে জানা অসম্ভব; যেমনভাবে কেউ জানে না পরদিন সে কী উপার্জন করবে বা কোন দেশে সে মারা যাবে। এমনকি ১০০% নিখুঁতভাবে এটাও বলা সম্ভব না যে কখন বৃষ্টি হবে। বাতাসের আর্দ্রতা, মেঘের অবস্থান এসব জিনিস দেখে আবহাওয়াবিদগণ বৃষ্টির পূর্বাভাষ দেন। কিন্তু কখন কোথায় মেঘ জমবে এটা নিশ্চিতভাবে তারা বলতে পারেন না। আবহাওয়াবিদগণ শুধুমাত্র একটা সম্ভাব্যতা বলতে পারেন, কিন্তু তা কখনো শতভাগ নির্ভুল হয় না।

 

কাজেই আলোচ্য আয়াত ও হাদিসে যথার্থরূপেই বলা হয়েছে যে—একমাত্র আল্লাহই জানেন মায়ের গর্ভে কী আছে।

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]  আল কুরআন, লুকমান ৩১:৩৪

[2]  সহীহ বুখারী; খণ্ড ২, অধ্যায় ১৭, হাদিস নং : ১৪৯

[3]  দেখুনঃ তাফসির ইবন কাসির, সুরা লুকমানের ৩৪ নং আয়াতের তাফসির;

‘কুরআনুল কারিম বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির’ (ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া), ২য় খণ্ড, সুরা লুকমানের ৩৪ নং আয়াতের তাফসির

[4] “When will I be able to find out my baby's gender on a scan?” (Baby Center)

https://www.babycenter.com.au/x2200/when-will-i-be-able-to-find-out-my-babys-gender-on-a-scan