জাহান্নামে নারীর আধিক্য ও নারীদের স্বল্পবুদ্ধি নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীদের অভিযোগের জবাব

নারী



 

ইসলাম অনুযায়ী অধিকাংশ নারী কেন জাহান্নামি??

নারী হয়ে জন্মানোর অর্থ কী স্বল্প বুদ্ধির অধিকারী হওয়া???

 

ইসলামবিদ্বেষীদের ওয়েবসাইটে প্রায়ই এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয় যেখানে তারা দাবি করে যে, ইসলাম অনুযায়ী নারীরা কম বুদ্ধির অধিকারী বা নারী হয়ে জন্মানোর অর্থ হল স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া। চলুন এই বিষয়ে রেফারেন্সগুলো দেখি।

 

"আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহ্‌র রাসূল ()ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ

 হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক।

 

তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও।

বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি।

 

তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহ্‌র রাসূল?

তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।" [1]

 

হাদিসটির একই রকম আরো বেশ কয়েকটি রেওয়ায়েত এসেছে। [2]

 

হাদিসগুলো হঠাৎ করে দেখলে অনেক মুসলিম হয়তো ঘাবড়ে যেতে পারেন। এর ওপর ইসলামবিদ্বেষীদের মন্তব্য আর মনগড়া ব্যাখ্যা দেখলে হয়তো অনেক বেশি বিচলিতও হয়ে যেতে পারেন কেউ কেউ। কিন্তু একটু ভালোভাবে সহিহ আকিদার বড় বড় আলেমদের ফতোয়াগুলো দেখলে বোঝা যাবে যে, এখানে মোটেও সমগ্র নারী জাতিকে ছোট করা হয়নি।

 

উপরিউক্ত হাদিসে বলা হচ্ছে:

 

///আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহ্‌র রাসূল ()ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক।///

 

এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করুন:

 

১)

এটা ছিল আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর জীবনকালের এক সময়ের ঘটনা যখন তৎকালীন আরবের নারীরা গৃহের কাজেই অভ্যস্ত ছিল এবং তারা গৃহে থেকেই সংসারের কাজ করত আর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করত। তাই গৃহের বাইরে ব্যবসা বা অন্য কাজ করে অর্থ উপার্জনে অভ্যস্ত ছিল না বা এসকল কাজে তাদের অভিজ্ঞতাও ছিল না।

 

২)

এটা সেই সময় যখন আরবে ঈদের সময় এসেছিল এবং তাই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছিলেন যাতে তারা সদাক্বাহ বা দান খয়রাত করে সওয়াব বা পুণ্য অর্জন করতে পারে।

 

চলুন দেখি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবার সেই সব মহিলাদের কী বললেন...

 

///তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও....একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি।///

 

এখানে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। রাসূল (ﷺ) সেই সকল মহিলাদের সদাক্বাহ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন। আর ঠিক তার পর পরই আরেকটি মন্তব্য করছেন যে, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হবে নারী। এখানে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী কেন? তার উত্তরে আল্লাহর রাসূল বলছেন যে, "তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও।"

 

এবার আপনি হাদিসটির কথা প্রথমে ভুলে যান। বর্তমান বিশ্বের কথা চিন্তা করুন। কী দেখতে পাবেন?  নারীরা আজ নিজেদের পরিবারের থেকে নিজেদের ক্যারিয়ার আর চাকরি নিয়ে বেশি ব্যস্ত। বাড়িতে মা এর সন্তানকে সময় দেওয়ার মত অবকাশ নেই, কারণ তাকে তার অফিসের কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয় অধিকাংশ সময়। সন্তান বাড়িতে বড় হচ্ছে কাজের লোকের কাছে। যত পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকাবেন, এই বিষয়টি ততই বেশি করে দেখতে পাবেন। আরও দেখতে পাবেন, মা এর সাহচর্যের অভাবে কীভাবে সন্তানেরা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগছে। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে একাকীত্ব বোধ, অপরাধ প্রবণতা। ফলে তারা নিজেদের এই অভাব মেটাতে ছুটে চলেছে ব্যভিচারের দিকে, পতিতালয়ে। ছুটে চলেছে নেশা, ড্রাগ আর চোরা-কারবারির জগতে। এগুলো কোথা থেকে শুরু হয়েছিল?? পরিবার থেকেই। গবেষণা বলছে, পতিতালয়ে জন্মানো শিশুরা মনস্তত্ত্বিক সমস্যায় ভোগে। আর এখন সেই সকল মায়েরা যারা নিজেদের ক্যারিয়ার আর চাকরি বাঁচাতে নিজেদের সন্তানের প্রতি উদাসীন, তাদের সন্তানদের পরিণতি কী হচ্ছে তা আমরা আজ স্বচক্ষেই দেখতে পাচ্ছি!

 

উপরন্তু শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি খুব ভালোভাবেই দেখতে পাবেন, আজ সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শান্তি নেই। ডিভোর্সের হার বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে যখন কোনো নারী কর্মক্ষেত্রে একই সাথে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে, সেখানে প্রণয়জাত সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে অফিসের স্টাফদের মধ্যে। কোনো নারী যখন তার অফিসের বসের প্রেমে জড়িয়ে পড়ছে আর তার সাথেই নিজের শারীরিক আর মানসিক চাহিদা মিটিয়ে চলেছে, তখন একই সাথে সেই নারীর যেমন তার বাড়িতে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক একই ভাবে সেই নারীর অফিসের বসও তার বাড়িতে স্ত্রীর থেকে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে অফিসের মহিলা স্টাফের প্রেমে পড়ার জন্য। এখন স্বাভাবিকই এখানে দোষটা যেমন সেই নারীর আছে, তেমনি তার বসেরও আছে। কিন্তু এর সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল??? এর সূত্রপাত হয়েছিল যখন সেই নারী অফিসে তার বসের কাছে নিজে থেকে গিয়েছিল। তাহলে এখানে কার ভূমিকা বেশি? অবশ্যই সেই নারীর। আপনার কাছে দিয়াশলাই আছে, আবার কাগজও আছে। এখন আপনি দিয়াশলাই থেকে আগুন জ্বালালেন আর সেই আগুন কাগজের কাছে নিয়ে গেলেন। এবার যদি কাগজ জ্বলে ওঠে, এর জন্য আপনি কি কাগজকে বেশি দায়ী করবেন? কখনই না। কারণ জ্বলার জন্য আগে দরকার আগুন যেটা দিয়াশলাই থেকে এসেছে। আর তাই কাগজ যদি নাও থাকত, তাহলে সেই আগুন দিয়ে অন্য কিছুও জ্বালানো যেত। ঠিক একইভাবে এখানে আমরা দেখতে পাই, যখন সমাজে নারীরা তাদের পরিবার আর স্বামী-সন্তানের প্রতি অবহেলা করে দুনিয়ার মোহের দিকে ছুটে যায়, তখন সমাজের ধ্বংস এগিয়ে আসে। এই কারণেই উক্ত হাদিসের এক জায়গায় আল্লাহর রাসূল বলেছেন,

 

///একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি।///

 

এর অর্থ এটা নয় যে, এখানে পুরুষের কোনো দোষই নেই কারণ পুরুষও ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। কিন্তু এখানে এই হাদিসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সমাজে নারীর ভূমিকা যে প্রবল সেটাই বুঝাতে চেয়েছেন, যেখানে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলছেন:

 

///তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও///

 

এর থেকে দুটি বিষয় বলা যেতে পারে:

 

১)

সেই সময়ের আরবের মেয়েরা হয়ত তাদের স্বামীকে অনেক সময়ই অভিশাপ দিত আর স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হত, যেটা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদেরকে সতর্ক করছিলেন।

 

২)

বর্তমানের পরিস্থিতির দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাব, অধিকাংশ নারীই আজ ইসলামের বিধান ছেড়ে দিয়ে পরিবারে স্বামী-সন্তানকে অবহেলা করে নিজের ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছে; আর বাইরে পর-পুরুষের সাথে অবাধে মেলামেশা করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলছে এবং তখন পরিণামে নিজের প্রবৃত্তির পিছনে দৌড়ানোর কারণে বিকৃত চিত্ত আর শয়তানের প্ররোচনায় স্বামীর প্রতি কটূক্তি করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না।

 

এই ধরণের নারীর সংখ্যা বরাবরই বেশি। এটা নারী হয়ে জন্মানোর কারণে নয়, বরং নারীদের নিজেদের কর্মের কারণে যখন তারা ইসলামের বিধান ছেড়ে দিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশি অনুযায়ী চলা শুরু করে। আর এই ধরণের নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকই জাহান্নামে নারীদের সংখ্যা বেশি হবে।

 

এ সকল নারীর সংখ্যা কেবল পশ্চিমা সমাজেই বেশি তা নয়। ভারতবর্ষের তথা প্রাচ্যের নারীদের মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যেটা ভারতীয় বৈষ্ণব গুরু স্বামী প্রভুপাদ এর মন্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়:

 

"....একজন নারী তার স্বামীর কেবল সামান্যতম অন্যায়ের জবাবে দরকার পড়লে তাকে হত্যা করতেও ছাড়ে না। এমনকি তার ভাইও যেন তার স্বামীর নামে কিছু না বলে, সেজন্য তার ভাইকে পর্যন্তও সে হত্যা করতে পারে। এটাই হল নারীর প্রকৃতি। অতএব বস্তুজগতে যদি নারীরা পবিত্রতা এবং স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত হওয়ার শিক্ষা না পায়, তবে সমাজে শান্তি এবং উন্নতি বজায় থাকবে না।" [3]

 

তবে আবারও লক্ষ্যণীয় যে, এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে সেই সকল নারীদের বৈশিষ্ট্য যারা ইসলামের বিধান ছেড়ে দিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশি মত চলা শুরু করেছে। তাই একজন মুমিন নারীর জন্য এটা কেবলই একটা সতর্কবাণী মাত্র, কারণ ইসলামের বিধান মান্যকারী প্রকৃত মুমিন নারীগণ এইসকল নারীদের মধ্যে পড়বেন না ইন-শা-আল্লাহ যারা নিজেরাই নিজেদের খেয়াল-খুশি মত চলে জাহান্নামের পথকে বেছে নিচ্ছে। তাই মুমিন বোনদের অনুরোধ করব, আপনারা ইসলামের বিধানগুলো পুরোপুরি মেনে চলুন যাতে আল্লাহ তায়ালার রহমতে আপনারা সেই সকল জাহান্নামি নারীদের অন্তর্ভুক্ত না হন।

 

উপরন্তু জাহান্নামে সব সময়ই নারীরা সংখ্যায় বেশি থাকবে না। হাদিস বিশারদ ইমাম নববী(র.) বলেন:

 

"এই হাদিসগুলো থেকে এটা পরিষ্কার যে, জান্নাত আর জাহান্নামে (দুই জায়গাতেই) নারীরা পুরুষের তুলনায় অধিক সংখ্যায় থাকবে"  [4]

 

ইবনে কাসির(র.) বলছেন:

 

"প্রথম দিকে জাহান্নামে নারীরা অধিক সংখ্যায় এবং জান্নাতে স্বল্প সংখ্যায় থাকবে। পরবর্তীতে যখন তাদের গুনাহ বা পাপসমূহ পরিষ্কার হয়ে যাবে অথবা যখন তাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, তখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অধিক হবে।" [5]

 

এখন চলুন এবার দেখি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেই সকল আরবের নারীদের এরপর কী বললেন:

 

///বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি।///

 

এখানে একটি জিনিস লক্ষ্যণীয়। এই হাদিসের প্রথমে প্রসঙ্গতে আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আরবের সেই নারীদের আসলে দান খয়রাত বা সদাক্বাহ করার কথা বলছিলেন আর সেটাই আসল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তাহলে বাকি কথাগুলো বলে এভাবে তাদের বিব্রত করার কী মানে ছিল???

 

এটা থেকে যে বিষয়টি উঠে আসে সেটি হল, বাকি কথাগুলো ছিল আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) মন্তব্য বা কমেন্ট। এই মন্তব্য বা কমেন্টগুলো তিনি ঠিক এমনভাবে করেছিলেন, যাতে তৎকালীন আরবের সেই মেয়েরা সদাক্বাহ এর গুরুত্ব বুঝতে পারে বা সদাক্বাহ এর প্রতি ঝুঁকে পড়ে যার মাধ্যমে তারা সওয়াব অর্জন করতে পারে আর আখিরাতের আযাব থেকেও মুক্ত হওয়ার পথ পায়। আর ঠিক একারণেই আল্লাহর রাসূল প্রথমে জাহান্নামে নারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বললেন আর তারপর এর সাথে অতিরিক্ত জুড়ে দিলেন যে, তাদের বুদ্ধি আর ধর্মের ব্যাপারে ত্রুটি বা কমতি রয়েছে। তাহলে চলুন এবার দেখি আল্লাহর রাসূল সেই ত্রুটি বা কমতিকে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন:

 

///তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয(মাসিক ঋতুস্রাবজনিত) অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।///

 

এখন প্রথম পয়েন্টটি লক্ষ্য করুন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলছেন:

 

"একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি।"

 

এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়:

 

১)

আমরা প্রথমেই দেখেছি এই কথাগুলো আল্লাহর রাসূল সেই সকল আরবের নারীদের বলছিলেন, যারা কেবল গৃহের কাজে অভ্যস্ত ছিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে খুব বেশি জ্ঞান ছিল না। বর্তমানেও আমরা দেখে থাকব যে, যদিও নারীরা আজ বাইরে কাজ করছে, কিন্তু তারপরও বিশ্বের অনেক জায়গাতেই নারীরা কেবল গৃহের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আর তাদের তুলনায় তাদের স্বামীদের গৃহের বাইরের কাজের অভিজ্ঞতা বেশি। আর তাই এখানে আমাদের বক্তব্য হল, আল্লাহর রাসূল এখানে নারীজাতির মধ্যে এক বিশেষ গোষ্ঠীর কথা বলেছেন যারা ঘরের বাইরের কাজে পুরুষের তুলনায় কম অভিজ্ঞ।

 

২)

হাদিসের বক্তব্য সেই সকল নারী যারা গৃহের বাইরের কাজে অভ্যস্ত তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এটা বুঝতে হলে কোরআন এর একটি আয়াত প্রথমে আমাদের দেখতে হবে। আল্লাহ তায়ালা এক্ষেত্রে নারীদের উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ নিয়ম জারি করেছেন যে, ব্যবসা-বাণিজ্য আর লেনদেনের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ যদি সাক্ষ্য দিতে না পারে, তবে তার পরিবর্তে দু'জন নারী সাক্ষ্য দেবে, যাতে একজন নারী ভুলে গেলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।

 

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَٱكْتُبُوهُۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِٱلْعَدْلِۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْـًٔاۚ فَإِن كَانَ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُۥ بِٱلْعَدْلِۚ وَٱسْتَشْهِدُوا۟ شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَٱمْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ ٱلشُّهَدَآءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَىٰهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَىٰهُمَا ٱلْأُخْرَىٰۚ وَلَا يَأْبَ ٱلشُّهَدَآءُ إِذَا مَا دُعُوا۟ۚ وَلَا تَسْـَٔمُوٓا۟ أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰٓ أَجَلِهِۦۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَٰدَةِ وَأَدْنَىٰٓ أَلَّا تَرْتَابُوٓا۟ۖ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَاۗ وَأَشْهِدُوٓا۟ إِذَا تَبَايَعْتُمْۚ وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌۚ وَإِن تَفْعَلُوا۟ فَإِنَّهُۥ فُسُوقٌۢ بِكُمْۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَۖ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱللَّهُۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ 

অর্থঃ  "হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পর ঋণ দেওয়া-নেওয়া কর, তখন তা লিখে নাও। আর তোমাদের মধ্যে কোন লেখক যেন ন্যায়ভাবে তা লিখে দেয় এবং আল্লাহ যেরূপ শিক্ষা দিয়েছেন --সেইরূপ লিখতে কোন লেখক যেন অস্বীকার না করে। অতএব তার লিখে দেওয়াই উচিত। আর ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দিয়ে  লিখিয়ে  নেয় এবং সে যেন স্বীয় প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্র কম-বেশী না করে। অনন্তর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দুর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তাহলে তার অভিভাবক যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লেখায়।

আর তোমাদের মধ্যে দু’জন পুরুষকে (এই আদান-প্রদানের) সাক্ষী কর।

যদি দু’জন পুরুষ না পাও, তাহলে সাক্ষীদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর তাদের মধ্য হতে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলাকে সাক্ষী কর; যাতে মহিলাদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে যেন অন্য জন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

আর যখন (সাক্ষ্য দিতে) ডাকা হয়, তখন যেন সাক্ষীরা অস্বীকার না করে। (ঋণ) ছোট হোক, বড় হোক, তোমরা মেয়াদসহ লিখতে কোনরূপ অলসতা করো না। এ লেখা আল্লাহর নিকট ন্যায্যতর ও সাক্ষ্য (প্রমাণের) জন্য দৃঢ়তর এবং তোমাদের মধ্যে সন্দেহ উদ্রেক না হওয়ার অধিক নিকটতর। কিন্তু তোমরা পরস্পরে ব্যবসায় যে নগদ আদান-প্রদান কর, তা না লিখলে কোন দোষ নেই। তোমরা যখন পরস্পর বেচা-কেনা কর, তখন সাক্ষী রাখ। আর কোন লেখক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং না কোন সাক্ষী। যদি তোমরা তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত কর, তাহলে তা হবে তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী।" [6]

 

 

তাহলে দেখুন এখানে উক্ত আয়াত অনুযায়ী, একজন পুরুষের পরিবর্তে দুজন নারীকে সাক্ষী নেওয়ার কারণ হল এই, যাতে নারীদের একজন কিছু ভুলে গেলে অন্যজন তাকে সেই বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে পারে।

 

ইসলাম বিদ্বেষী তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক নাস্তিক আর মুক্তিমনারা এবার হয়তো বলতে শুরু করবে যে, এটা অন্যায়, অবিচার!  কিন্তু তারা যে কতটা বিজ্ঞানমনস্ক, তা তাদের অজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায় কারণ বিভিন্ন সায়েন্টিফিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নারীরা প্রায় সময়ই ক্ষণস্থায়ীভাবে সৃত্মিভ্রংশ(memory loss) হতে পারেন তাদের শারীরবৃত্তীয় নানারূপ জটিলতা যেমন গর্ভাবস্থার প্রভাব, মেনোপজ বা রজ:বন্ধ এর প্রভাব, বন্ধ্যাত্ব জনিত প্রভাব ইত্যাদির কারণে। নিচে এমন কিছু রিপোর্টের রেফারেন্স দেওয়া হল:

 

■ ৪০% নারী মাসিক পূর্ব উপসর্গে ভুগে থাকেন:

 

Psychiatry in Practice, April 1983 issue states: "Forty percent of women suffer from pre-menstrual syndrome in some form and some have their lives severely disrupted by it. Dr Jill Williams, general practitioner from Bury, gives guidelines on how to recognise patients at risk and suggests a suitable treatment." [7]

 

■ মাত্র ১০% মহিলাই কেবল এই ধরণের উপসর্গের কথা ডাক্তারকে সাহস করে বলতে পারেন, বাকিরা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ও অন্যান্য কারণে ডাক্তারের শরণাপন্নই হন না:

 

George Beaumont reporting on the workshop held at the Royal College of Obstreticians and Gynaecologists in London on pre-menstrual syndrome, says: "Some authorities would argue that eighty percent of women have some degree of breast and abdominal discomfort which is pre-menstrual but that only about 10 percent complain to their doctors** - and then only because of severe tenderness of the breasts and mental depression**... Other authorities have suggested that pre-menstrual syndrome is a new problem, regular ovulation for twenty years or more being a phenomenon caused by 'civilisation', 'medical progress', and an altered concept of the role of women." [8]

 

■ এই ধরণের মাসিক পূর্ববর্তী অবস্থায় নারীদের বিভিন্ন মানসিক জটিলতা সৃষ্টি হয়:

 

"Many studies have reported an increased likelihood of various negative affects during the pre-menstrual period. In this affective category are many emotional designations including irritability, depression, tension, anxiety, sadness, insecurity, lethargy, loneliness, tearfulness, fatigue, restlessness and changes of mood. In the majority of studies, investigators have found it difficult to distinguish between various negative affects, and only a few have allowed themselves to be excessively concerned with the differences which might or might not exist between affective symptoms." [9]

 

■ মাসিক পূর্ব উপসর্গ মনোযোগ(concentration) এবং স্মৃতি(memory) এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:

 

"Reduced powers of concentration and memory are familiar aspects of the pre-menstrual syndrome and can only be remedied by treating the underlying complaint.... As many as 80 percent of women are aware of some degree of pre-menstrual changes, 40 percent are substantially disturbed by them, and between 10 and 20 percent are seriously disabled as a result of the syndrome." [10]

 

 ■ মাসিক পূর্বাবস্থায় নারীদের আচরণে অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়:

 

"A significant relationship between the pre-menstrual phase of the cycle and a variety of specific and defined forms of behaviour has been reported in a number of studies. For the purpose of their review, these forms of behaviour have been grouped under the headings of aggressive behaviour, illness behaviour and accidents, performance on examination and other tests and sporting performance." [11]

 

■ গর্ভাবস্থায় নারীরা বহুবিধ মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভোগেন:

 

Psychiatry in Practice, October-November 1986, we learn that: "In an experiment 'Cox' found that 16 percent of a sample of 263 pregnant women were suffering from clinically significant psychiatric problems. Eight percent had a depressive neurosis and 1.9 percent had phobic neurosis. This study showed that the proportion of pregnant women with psychiatric problems was greater than that found in the control group but the difference only tended towards significance." [12]

 

■ গর্ভাবস্থার পরও নারীরা নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন যা তারা অনেক সময় নিজেরাও ধরতে পারেন না:

 

Dr. Ruth Sagovsky writes: "The third category of puerperal psychiatric problems is post-natal depression. It is generally agreed that between 10 to 15 percent of women become clinically depressed after childbirth. These mothers experience a variety of symptoms but anxiety, especially over the baby, irritability, and excessive fatigue are common. Appetite is usually decreased and often there are considerable sleep difficulties. The mothers lose interest in the things they enjoyed prior to the baby's birth, and find that their concentration is impaired. They often feel irrational guilt, and blame themselves for being 'bad' wives and mothers. Fifty percent of these women are not identified as having a depressive illness. Unfortunately, many of them do not understand what ails them and blame their husbands, their babies or themselves until the relationships are strained to an alarming degree." [13]

 

■ নারীরা যে সকল সমস্যায় ভোগেন তা তারা নিজেরাও সঠিকভাবে জানেন না:

 

"...Women never know what their body is doing to them... some reporting debilitating symptoms from hot flashes to night sweat, sleeplessness, irritability, mood swings, short term memory loss, migraine, headaches, urinary inconsistence and weight gain. Most such problems can be traced to the drop-off in the female hormones oestrogen and progesterone, both of which govern the ovarian cycle. But every woman starts with a different level of hormones and loses them at different rates. The unpredictability is one of the most upsetting aspects. Women never know what their body is going to do to them..." [14]

 

[ রিপোর্টগুলো নেয়া হয়েছে এখান থেকে ]

 

তাহলে এবার কেউ আমায় বলুন যখন আল্লাহ বলছেন - "একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলাকে সাক্ষী কর; যাতে মহিলাদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে যেন অন্য জন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়" - তখন এটা অবিচার না আরও অধিক সুবিচার???

 

সুবহানআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সমস্যাগুলো ভালভাবেই জানেন, আর সেভাবেই তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন!!

 

তবে ব্যবসায়িক ক্ষেত্র বাদে এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রও আছে যেখানে দু'জন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান নয়। মুক্তমনারা কখনই কিন্তু আপনাকে সেই সকল আয়াতের কথা বলবে না!

 

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ شَهَٰدَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ ٱلْمَوْتُ حِينَ ٱلْوَصِيَّةِ ٱثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ أَوْ ءَاخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنتُمْ ضَرَبْتُمْ فِى ٱلْأَرْضِ فَأَصَٰبَتْكُم مُّصِيبَةُ ٱلْمَوْتِۚ تَحْبِسُونَهُمَا مِنۢ بَعْدِ ٱلصَّلَوٰةِ فَيُقْسِمَانِ بِٱللَّهِ إِنِ ٱرْتَبْتُمْ لَا نَشْتَرِى بِهِۦ ثَمَنًا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰۙ وَلَا نَكْتُمُ شَهَٰدَةَ ٱللَّهِ إِنَّآ إِذًا لَّمِنَ ٱلْءَاثِمِينَ

অর্থঃ "হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যুসময় উপস্থিত হয়, তখন অসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে, তোমরা সফরে থাকলে এবং তোমাদের মৃত্যুরূপ বিপদ উপস্থিত হলে ***তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী মনোনীত করবে।*** তোমাদের সন্দেহ হলে নামাযের পর তাদেরকে অপেক্ষমাণ রাখবে। অতঃপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘আমরা ওর বিনিময়ে কোন মূল্য গ্রহণ করব না; যদি সে আত্মীয়ও হয় এবং আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করব না, করলে আমরা নিশ্চয় পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব।’" [15]

 

তাফসিরে আহসানুল বায়ানে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:

 

"'তোমাদের মধ্য হতে' এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেন, 'মুসলমানদের মধ্য হতে', আবার কেউ বলেন, অসিয়তকারীর গোত্রের মধ্য হতে। অনুরূপ 'তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য হতে' এরও দুটি ভাবার্থ হতে পারে, অর্থাৎ অমুসলিম (আহলে কিতাব) হতে পারে অথবা অসিয়তকারীর গোত্র ব্যতীত অন্য গোত্রের লোক উদ্দেশ্য হতে পারে।" [16]

 

অর্থাৎ এখানে নারী বা পুরুষ কারও কথা উল্লেখ করা হয়নি যার অর্থ এক্ষেত্রে দুজন পুরুষের সাক্ষ্য দুজন নারীর সাক্ষ্যের সমান।

 

আবার লক্ষ্য করুন:

 

فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا۟ ذَوَىْ عَدْلٍ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلشَّهَٰدَةَ لِلَّهِۚ ذَٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًا

অর্থঃ "তাদের ইদ্দত পূরণের কাল আসন্ন হলে তোমরা হয় যথাবিধি তাদেরকে রেখে নাও, না হয় তোমরা তাদেরকে যথাবিধি পরিত্যাগ কর এবং ***তোমাদের মধ্য হতে দুই জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখ;*** তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দাও। এটা দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, তাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন।"  [17]

 

তাহলে এখানে তালাকের ক্ষেত্রেও দুজন সাক্ষী (নারী বা পুরুষ) নিতে বলা হয়েছে।

 

আরো দেখুন:

 

"আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।"  [18]  

 

"তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত করা হবে; যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী।"  [19]

 

এখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, পুরুষ হিসেবে স্বামীর সাক্ষ্য এবং স্ত্রী হিসেবে নারীর সাক্ষ্য পরস্পর সমতুল্য। তাহলে এবার ভাবুন মুক্তমনারা কতটা মিথ্যাবাদী!!!

 

এবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর শেষ কথাটুকু দেখুন:

///আর হায়েয(মাসিক ঋতুস্রাবজনিত) অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।///

 

প্রথমত, এখানে বলা হয়নি যে, তারা মাসিক ঋতুস্রাবজনিত অবস্থার কারণে সালাত আর সিয়ামের মত ধর্মীয় কার্যাবলী সম্পাদন করতে পারে না বলে তারা গুনাহ এর সম্মুখীন হবে বা জাহান্নামে যাবে। বরং এখানে কেবল এটা নির্দেশ করা হয়েছে যে, পুরুষের তুলনায় নারীদের ধর্মীয় কার্যাবলির দায়ভার তুলনামূলক কম তাদের শারীরিক আর মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে। এটার অর্থ এই নয় যে, এর জন্য তাদের দোষারোপ করা হবে, কেননা আল্লাহ তায়ালা কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।

 

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

অর্থঃ "আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না। যে ভাল উপার্জন করবে সে তার (প্রতিদান পাবে) এবং যে মন্দ উপার্জন করবে সে তার (প্রতিফল পাবে)। (হে মুমিনগণ তোমরা এভাবে দুয়া কর), "হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তাহলে তুমি আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের পাপ মোচন কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমি আমাদের অভিভাবক। অতএব সত্য প্রত্যাখ্যানকারী (কাফের) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে (সাহায্য ও) জয়যুক্ত কর।"" [20]

 

শাইখ মুহাম্মাদ আলি আল-হানোতি তাঁর ফতোয়ায় বলছেন:

 

"...প্রশ্নোক্ত হাদিসে একজন নারীকে আদৌ ছোট করা হচ্ছে না! ইসলাম নারীকে সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করেছে এবং কোরআনের বহু আয়াত এবং প্রথম যুগের মুসলিমদের অভ্যাস, রীতি-নীতি এই বাস্তব বিষয়টিকে সাক্ষ্য দেয় যে, নারী কমপক্ষে হলেও জীবনের ভূমিকায় পুরুষের মতই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই সে কখনই পুরুষের চেয়ে ছোট নয়(ধর্মীয় বিষয় অথবা বুদ্ধিতে)। ইসলাম কখনই সমাজে নারীর ভূমিকাকে ছোট করে দেখে নি। আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ কোরআনে তুলনামূলক বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদের কিছু উজ্জ্বলতর দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে মহাগ্রন্থ কোরআনে বলা হয়েছে,

 

"আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য উপস্থিত করেছেন ফিরআউন পত্নীর দৃষ্টান্ত, যে (প্রার্থনা করে) বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তোমার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরআউন ও তার দুষ্কর্ম হতে এবং আমাকে উদ্ধার কর যালেম সম্প্রদায় হতে।’

আর (তিনি আরো দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন) ইমরান তনয়া মারয়্যাম, যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে আমার (সৃষ্ট) রূহ হতে ফুঁকে দিয়েছিলাম। সে তার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁর কিতাবসমূহ সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল; আর সে ছিল অনুগতদের একজন।" (আত-তাহরীম, ১১-১২)

 

সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও নবী মুহাম্মাদ() উত্তম নারীদের প্রশংসা করেছেন। চলুন আমরা আমাদের ইসলামিক উৎসগুলো থেকে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিগুলো দেখি:

 

"নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) নারী, বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী,  ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী --এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।" (মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ৩৩:৩৫)

 

"বিশ্বাসী পুরুষরা ও বিশ্বাসী নারীরা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, নামায ক্বায়িম করে, যাকাত দেয়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। তাদের প্রতিই আল্লাহ করুণা প্রদর্শন করবেন। আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাবান।" (আল-কোরআন, ৯:৭১)

 

ইসলামে পুরুষদের খারাপ কাজে নিষেধ করার জন্য নারীদের পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, নারীরা পুরুষের থেকে ধর্মীয় বিষয় ও বুদ্ধিতে ছোট নয়, কারণ আল্লাহ সুবহান-ওয়া-তায়ালা পুরুষরা ভুল করলে তাদেরকে সংশোধনের এবং খারাপ কাজে নিষেধ করার অধিকার নারীদের দিয়েছেন।

 

৩. এই হাদিসটি বিশুদ্ধ বা নির্ভরযোগ্য। নবী () এখানে নারীদের সম্বন্ধে লিঙ্গ বা জাতিগত বিষয়ের ভিত্তিতে কিছু বলেন নি। তিনি এখানে সেই সকল গুনাহগার বা পাপী লোকদের কথা বলেছেন যারা তাদের ভবিষ্যতে যা যা করবে তার জন্য দায়ী হবে। যদি কোনো পুরুষ সেই একই কাজ করে, তবে সেও সেই একই জাহান্নামে যাবে। এটাই একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে আপনি হাদিসটিকে ব্যাখ্যা করতে পারেন।

 

৪. নবী () ব্যাখ্যা করেছেন ধর্মীয় বিষয়ের কমতির ব্যাপারটি, যেটি খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্মীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা বা অনুবাদ থেকে আলাদা। তিনি বলেছেন, মাসিক ঋতুস্রাবের কারণে ধর্মীয় বিষয় পালনের জন্য তোমাদেরকে তুলনামূলক কম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যখন তিনি বুদ্ধির কমতি নিয়ে বললেন, তখন তিনি মস্তিষ্কের ক্ষমতা বা মেধাজাত ধারণক্ষমতা বা দক্ষতা নিয়ে কিছু বলেন নি। একজন নারীকে মা হিসেবে বা সন্তান পালনকারিণী হিসেবে অথবা গর্ভবতী হিসেবে অনেক বোঝা বহন করতে হয়। এগুলো নিয়ে সে যেন একটা ঘড়ির চারপাশে ঘুরতে থাকে; আর একারণেই কোনো নারীর এমনতর পরিস্থিতির জন্য কোনো একজন পুরুষ অপেক্ষা তার(নারীর) অধিক পরিমাণে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে (যে পুরুষ কেবল একটি পেশার সাথেই যুক্ত)। আল্লাহ পরম করুণাময়, তাই তিনি নারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তার পথ সহজ করে দিয়েছেন যাতে করে সে কোনো সাক্ষ্য দেওয়ার সময় পুরোপুরি দায়ী না হয়। কোনো ভাবেই এখানে নারীকে অবমাননা করা হচ্ছে না; আর এমন কোনো বিধানও দেওয়া হচ্ছে না যা বৈষম্যমূলক ভাবে নারীকে ছোট করবে।" [21]

 

উপসংহার:

সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, নারীরা পুরুষের থেকে শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে ভিন্ন। তাই ইসলামে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য এবং অধিকারও তাদের প্রকৃতির সাথেই সামাঞ্জস্যপূর্ণ। উক্ত হাদিসগুলোতে আল্লাহর রাসূল নারীদেরকে ছোট করেন নি। বরং তিনি কতগুলো প্রাকৃতিক ও বাস্তব সত্যকে তুলে ধরেছেন এবং সেগুলোকে তৎকালীন আরবের নারীদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যাতে তারা সদাক্বাহ বা দান খয়রাতের এর মত ধর্মীয় কার্যে উৎসাহিত হয় এবং দ্বীন ইসলামের ব্যাপারে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। মুক্তমনা আর ইসলাম বিদ্বেষীদের জন্য আমি তাই কেবল একটি আয়াতের রেফারেন্স দিয়েই এই লেখাটি শেষ করবো যেখানে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, সম্মান ও মর্যাদার মানদণ্ড লিঙ্গ, জাতিভেদ, পেশা, বর্ণ ইত্যাদি কিছুই না, বরং যেটা সেটা হল তাকওয়া (আল্লাহর প্রতি সচেতনতা, ন্যায়পরায়ণতা, ধার্মিকতা ইত্যাদি)।

 

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَٰكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَٰكُمْ شُعُوبًا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓا۟ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ ٱللَّهِ أَتْقَىٰكُمْۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

অর্থঃ "হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।" [22]

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1] সহীহ বুখারী ৩০৪, ১৪৬২, ১৯৫১, ২৬৫৮; মুসলিম ১/৩৪, হাঃ ৭৯, ৮০ আহমাদ ৫৪৪৩) (আ.প্র. ২৯৩, ই.ফা. ২৯৮)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

source - http://www.hadithbd.com/share.php?hid=24140

[2] এই লিঙ্কগুলো থেকে হাদিসগুলো দেখা যেতে পারেঃ

১। http://www.hadithbd.com/share.php?hid=25393

২। http://www.hadithbd.com/share.php?hid=7936

৩। http://www.hadithbd.com/share.php?hid=41220

[3] "....a woman can respond to even a slight offense from her husband by not only leaving him but even killing him if required. To say nothing of her husband, she can even kill her brother. That is a woman’s nature. Therefore, in the material world, unless women are trained to be chaste and faithful to their husbands, there cannot be peace or prosperity in society."

 (Purport of Srimad-Bhagavatam 9.14.37 by the founder of ISKCON, A.C Bhakti Vedanta Swami Prabhupada)

[source - https://prabhupadabooks.com/sb/9/14/37 ]

[4] "These Ahaadith are clear that females in Jannah and Jahannum will outnumber males by a great margin."

(Sharh al-Nawawiy vol.9 pg.170;

source - http://tiny.cc/7ddrjz )

[5] "The women could be more in Jahannam and less in Jannah at the beginning. Thereafter, when they are cleansed of their sins or when intercession on their behalf is accepted, they would be entered into Jannah and they would outnumber the men there too."

(Fath al-Baari vol.6 pg.401; Hadith 3246 – Sifatul Jannah of Hafiz ibn Katheer pg.130;

source - http://tiny.cc/7ddrjz )

[6] আল-কোরআন, ২:২৮২

[7] Psychiatry in Practice, April 1993, p.14.

[8] Psychiatry in Practice, April 1993, p.18

[9] Psychological Medicine, Monograph Supplement 4, 1983, Cambridge University Press, p.6

[10] 'The Pre-menstrual Syndrome' by C. Shreeves

[11] Psychological Medicine, Monograph Supplement 4, 1983, Cambridge University Press, p.7

[12] Psychiatry in Practice, October-November, 1986, p.6

[13] Psychiatry in Practice, May, 1987, p.18

[14] Dr. Jennifer al-Knopf, Director of the Sex and Marital Therapy Programme of Northwestern University on the phenomenon of menopause in an article in Newsweek International, May 25th 1992

[15] আল-কোরআন, ৫:১০৬

[16] তাফসিরে আহসানুল বায়ান

[17] আল-কোরআন, ৬৫:২

[18] আল-কোরআন, ২৪:৬

[19] আল-কোরআন, ২৪:৮

[20] আল-কোরআন, ২:২৮৬

[21] "....The Hadith in question does not depict a woman as inferior; not at all!  Islam honours women very high and many verses of the Qur'an and practices of the early Muslims bear witness to the fact that woman is, at least, as vital to life as man is, and that she is not inferior to man in any way (in neither religion or intelligence). Islam never belittles woman or underestimates her role in the society. Allah has made this clear in the Glorious Qur’an, by stating shining examples of some women for the believers– male and female- to emulate. In this context, the Glorious Qur’an says,

 

“And Allah citeth an example for those who believe: the wife of Pharaoh when she said: My Lord! Build for me a home with thee in the Garden, and deliver me from Pharaoh and his work, and deliver me from evil doing folk; and Mary, daughter of Imran, whose body was chaste, therefor We breathed therein something of Our Spirit. And she put faith in the words of her Lord and His Scriptures, and was of the obedient.” (At-Tahrim: 11-12)

 

Allah Almighty and prophet Muhammad praised the good women, let us look at the following quotes from our Islamic sources:

 

"For Muslim men and women,- for believing men and women, for devout men and women, for true men and women, for men and women who are patient and constant, for men and women who humble themselves, for men and women who give in Charity, for men and women who fast (and deny themselves), for men and women who guard their chastity, and for men and women who engage much in God's praise,- for them has God prepared forgiveness and great reward. (The Noble Quran, 33:35)"

 

"The Believers, men and women, are protectors one of another: they enjoin what is just, and forbid what is evil: they observe regular prayers, practise regular charity, and obey God and His Apostle. On them will God pour His mercy: for God is Exalted in power, Wise.  (The Noble Quran, 9:71)"

 

In islam women clearly have the right to forbid men what is evil, so this proofs women aren’t  inferior to men in religion or intelligence, since Allah swt gives women the right to correct men when they are wrong, and to forbid them the evil.

  1. The Hadith is authentic, the Prophet (SAAWS) talks about women not as a gender or a race or ethnic. He talks about sinful people who deserve what they will have of destiny. If a man does the same, he will have the same Hell. This is the only way you can interpret the Hadith.
  2. The Prophet (SAAWS) has explained what he says of shortage of deen which is different from the chrisitian missionaries interpretation or translation of deen. He says, you are less commended to practice the deen, because of menstruation. When he talks about lack of intellect, he does not talk about potential of brain or capacity of talent or skill. A woman is overloaded by being a mother or a babysitter or pregnant. All these carriers are around the clock, because of what she is, she is always likely to forget more than a man who is devoted to one career only. Allah is merciful, he forgives her and makes it easy for her when she is not fully responsible to give a full testimony as a witness. Nothing of that is defaming a woman, there is not a law that discriminates a woman to put her down."

 

[Fatwa of Sheikh Muhammad Ali Al-Hanooti; source - http://tiny.cc/jddrjz ]

[22] মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ৪৯:১৩