পর্বতরাজি কি আসলেই পৃথিবীকে কম্পন থেকে রক্ষা করে? পর্বতরাজিকে কি আসলেই পেরেকের মত গুজে দেয়া যেমনটি কুরআন বলছে?

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



নাস্তিক প্রশ্নঃ পর্বতরাজি কি আসলেই ভুমিকম্প প্রতিরোধ করে বা পৃথিবীকে কম্পন থেকে রক্ষা করে (Quran 16:15, 21:31, 31:10, 79: 32-33) ? তবে বিজ্ঞান কেন ভিন্ন কথা বলে(They could form a barrier to a giant earthquake—

and they could also easily trigger a giant earthquake) ?

http://www.ouramazingplanet.com/2464-diving-mountains-stop-start-earthquakes-subductionseamounts.

html

http://earthquake.usgs.gov/earthquakes/recenteqsww/

 

এবং

 

কুরআন অনুসারে, আল্লাহ পৃথিবীর ওপর পর্বতরাজিকে স্থাপন করেছেন বা পেরেকের মত গুজে দিয়েছেন (Quran 16:15, 15:19, 41:10, 50:7, 78:6-7) ! কিন্তু বিজ্ঞান কেন বলে পর্বত তৈরি হয় lithospheric plate এর গতির ফলে (either oregonic movement or epeirogenic movement) ?

 

উত্তরঃ  একটি বই, নাম তার Earth (পৃথিবী)। বইটি পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক রেফারেন্স হিসেবে স্বীকৃত। “প্রফেসর ফ্রাঙ্ক প্রেস” বইটির রচয়িতাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বিজ্ঞান-বিষয়ক উপদেষ্টা। পরবর্তীতে ১২ বছর তিনি ছিলেন ওয়াশিংটনের জাতীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি প্রধানের দায়িত্বে। এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাহাড়ের নিচে শিকড় রয়েছে। [1]

 

আর শিকড়গুলো মাটির অত্যন্ত গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শিকড়গুলো দেখতে অনেকটা পেরেকের মতই।

দেখুন: ১,২,৩ নং চিত্র।

 

এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে পাহাড়ের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ বলেন:

 

﴿أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهَادًا (6) وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا (7)﴾

অর্থাৎ “আমি কি জমিনকে বিছানা এবং পাহাড়কে পেরেকের মত করি নি?” [2]

 

চিত্র-১ : এখানে চিত্রে দেখা যাচ্ছে মাটির নিচে পাহাড়ের গভীর শিকড় বিদ্যমান। (Earth, প্রেস ও সিফার:৪১৩ পৃষ্ঠা)

 

চিত্র-২: চিত্রে পাহাড়কে পেরেকের মত দেখা যাচ্ছে মাটির গভীরে যার রয়েছে প্রোথিত শিকড়। (Anatomy of the Earth, ২২০ পৃষ্ঠা)

 

চিত্র-৩: মাটির ভিতর গভীর শিকড় থাকার কারণে পাহাড় কিভাবে পেরেকের মত রূপ নিয়েছে চিত্রটি তা ব্যাখ্যা করছে। (Earth Science, Tarbuck and Lutgens)

 

আধুনিক ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, জমিনের নিচে পাহাড়ের রয়েছে গভীর শিকড়। (৩ নং চিত্র দেখুন) সে শিকড়গুলো সমতল ভূমি থেকে পাহাড়ের যে উচ্চতা তার কয়েকগুণ পর্যন্ত হতে পারে। [3]

 

তাই, পাহাড়ের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে “পেরেক” শব্দ ব্যবহার করাই উত্তম। কারণ, পেরেকের প্রায় সবটুকুই জমিনের ভিতর লুকিয়ে থাকে। বিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, পাহাড়ের এ পেরেক সংক্রান্ত তথ্যগুলো ১৮৬৫ সালে জ্যোতির্বিদ “স্যার জর্জ আইরি” র মাধ্যমে সর্বপ্রথম জানা গেছে। [4]

 

 

ভূ-পৃষ্ঠকে স্থির রাখার পিছনে পাহাড়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। পাহাড় ভূ-কম্পন রোধে ভূমিকা রাখে। [5]

 

 

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (15)﴾

অর্থাৎ “আর তিনি পৃথিবীর উপর সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যেন কখনো তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রদর্শিত হতে পার।” [6]

 

সম্প্রতি টেকটোনিক প্লেট (Tectonic plate) গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পাহাড় পৃথিবীকে স্থির রাখার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধারণাটা মাত্রই বিংশ শতাব্দীর ৬০-এর দশকে টেকটোনিক প্লেটের (Tectonic plate) উপর গবেষণার আগে জানা যায় নি। [7]

 

মুহাম্মদ() এর যুগে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কি সম্ভব ছিল পাহাড়ের গঠন সম্বন্ধে জানার?! কারও পক্ষে কি এটা কল্পনা করা সম্ভব ছিল যে, তাদের চোখের সম্মুখস্থ সুদৃঢ় এ পাহাড় মাটির গভীর পর্যন্ত তার শিকড় বিস্তৃত করে রেখেছে? পাহাড়ের গভীর শিকড় রয়েছে তা আজকের বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছে। আজকের ভূ-তত্ত্ব প্রমাণ করেছে যে, কুরআনে বর্ণিত উক্ত বিষয় সত্য।

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]  Earth, Press and Siever, পৃ. ৪৩৫. আরও দেখুন, Earth Science, Tarbuck, and Lutgens, পৃ. ১৫৭।

[2]  আল কুরআন, আন-নাবা ৭৮ : ৬-৭

[3]  The Geological Concept of Mountains in the Qur’an, আল-নাজ্জার, পৃষ্ঠা-৫।

[4]  Earth, Press and Siever, p. 435. আরও দেখুন, The Geological Concept of Mountains in the Qur’an, p. 5.

[5]  The Geological Concept of Mountains in the Qur’an, p. 44-45.

[6]  আল কুরআন, নাহল ১৬ : ১৫

[7]  The Geological Concept of Mountains in the Qur’an, p. 5.

 

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ

'ইসলামের সচিত্র গাইড'

মূলঃ আই. এ. ইবরাহীম

বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ ইসমাইল জাবীহুল্লাহ

ডাউনলোড লিঙ্কঃ https://islamhouse.com/bn/books/338947/