মসজিদে সলাত (নামাজ) পড়তে না আসার জন্য ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেবার ইচ্ছা পোষণ

নৈতিকতা বিষয়ক



 নাস্তিক প্রশ্নঃ  যারা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের না হবে তাদেরকে সেই ঘরেই পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিয়েছেন নবী মুহম্মদ(Sahih Bukhari 1:11:626) এটা কি কোন শান্তির ধর্মের নমুনা হতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
প্রশ্ন ৪৩, পৃ-১৩ঃ ইসলামি সাজা সম্পর্কে আপনি জ্ঞাত আছেন কি? দেখুন তো নিচের বিষয়গুলো আপনার মনমত হয়েছে কিনা?
৬- আল্লাহর প্রার্থনায় শরিক না হলে তাকে পুড়িয়ে মারতে হবে (Sahih Bukhari 1:11:626)
 

উত্তরঃ আসুন প্রথমে হাদিসগুলো দেখে নেওয়া যাক।

রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, তারপর সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই, এরপর সালাতের আযান দেওয়া হোক, তারপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দেই। এরপর আমি লোকদের কাছে যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয় নাই) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশতহীন মোটা হাঁড় বা ছাগলের ভালো দুটি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ইশার জামা’য়াতে হাযির হত।  [1]
Allah's Messenger (sallallahu 'alaihi wa sallam) said, "By Him in Whose Hand my soul is I was about to order for collecting firewood (fuel) and then order Someone to pronounce the Adhan for the prayer and then order someone to lead the prayer then I would go from behind and burn the houses of men who did not present themselves for the (compulsory congregational) prayer. By Him, in Whose Hands my soul is, if anyone of them had known that he would get a bone covered with good meat or two (small) pieces of meat present in between two ribs, he would have turned up for the `Isha' prayer.' [2]
.
সহীহ বুখারী থেকেই হাদিসটির আরেকটি রিওয়ায়েত বা ভার্সনের অনুবাদ তুলে ধরা হলোঃ-


রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ মুনাফিকদের উপস ফজর ও ইশার সালাতের চাইতে অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কি ফযিলত, তা যদি তারা জানত, তা হলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা (জামা’আতে) উপস্থিত হতো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ আমি সংকল্প করছিলাম যে, মুয়াজ্জিন কে ইকামত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামতি করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে এরপর ও যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।
The Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) said, "No prayer is harder for the hypocrites than the Fajr and the `Isha' prayers and if they knew the reward for these prayers at their respective times, they would certainly present themselves (in the mosques) even if they had to c awl." The Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) added, "Certainly I decided to order the Mu'adh-dhin (call-maker) to pronounce Iqama and order a man to lead the prayer and then take a fire flame to burn all those who had not left their houses so far for the prayer along with their houses." [3]
 

তাদের দেওয়া রেফারেন্স মোতাবেক কোথাও তো রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দেননি। তারা কোথায় পেল যে নির্দেশ দিয়েছেন!!!! বিকৃতভাবে হাদিসকে পেশ করা তো তাদের মজ্জাগত স্বভাব!!!
 
এই হাদীসের আরেকটি রিওয়ায়েত সহীহ মুসলিম থেকে উদ্ধৃত হলোঃ
 
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) কোন এক ওয়াক্ত নামায জামায়াতে রাসূলুল্লাহ (সা) কিছু সংখ্যক লোককে না পেয়ে বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছি যে কোন এক ব্যক্তিকে আমি নামাযে ইমামতি করার আদেশ করি এবং যারা নামাযের জামায়াতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং কাঠ-খড় দ্বারা আগুন জ্বালিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দিতে আদেশ করি। তাদের কেউ যদি জানতো যে তারা একখণ্ড মোটা হাড্ডি পাবে তাহলে তারা অবশ্যই হাজির হতো। মোটা হাড্ডির কথা দ্বারা তিনি ইশার নামাযকে বুঝিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম, ইসে, ২/৪৪৬-৪৭, হা-১৩৬৬)
The Messenger of Allah (may peace be upon him) found some people absenting from certain prayers and he said: I intend that I order (a) person to lead people in prayer, and then go to the persons who do not join the (congregational prayer) and then order their houses to be burnt by the bundles of fuel. If one amongst them were to know that he would find a fat fleshy bone he would attend the night prayer. (Sahih Muslim, Darussalam, 2/152, h-1481)
.
হ্যাঁ, এই হাদীসে ঘর পুড়িয়ে নির্দেশ দানের কথা এসেছে তার মানে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি নির্দেশ দিয়েছেন তাই বুঝাচ্ছে???? নাহ, এই হাদীসের বর্ননাভঙ্গি থেকেই এটি স্পষ্ট হয়ে যায় এই হাদীসে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামাআতে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বুঝাতে এবং জামাআত ত্যাগ করার ভয়াবহতার ব্যাপারটির গুরুত্ব বুঝাতে এমন শাস্তির কথা বলেছেন। এটি যেকোনো পাঠকই হাদিসগুলোতে একবার চোখ বুলালেই বুঝে নিবেন যে হাদীসে কি বুঝানো হচ্ছে।
 
তাদের পরের প্রশ্নটির দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে যে তারা বুঝাতে চাচ্ছে যে, ইসলামে কেউ আল্লাহর প্রার্থনায় শরীক না হলে তার শাস্তি তাকে পুড়িয়ে মারা!!!! অদ্ভুত এমন শাস্তি না রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিয়েছেন কখনো না তাঁর সাহাবারা(রা) কখনো দিয়েছেন। ঘর সহকারে পুড়িয়ে দেওয়া কখনোই জামাআতে উপস্থিত না হওয়ার শাস্তি নয় ইসলামে, এটি নির্জলা অপবাদ। তিলকে তালকে উপস্থিত করেছে তারা!!!! যা উপরের হাদিসগুলো পড়লেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আসুন এই হাদীসের দ্বারা মুহাদ্দিসিনরা কি বুঝেছেন তা একটু দেখে নেওয়া যাক।
 
ইমাম বুখারী উপরের হাদিসটির(৬৪৪নং) উপরে বাবের(অধ্যায়) শিরোনাম দিয়েছেন যার অনুবাদ হলো “ জামাআতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব(আবশ্যক)”
 
সহীহ মুসলিমের হাদিসটি(১৩৬৬নং) যেই অধ্যায়ের অধীনে এসেছে তা হলো “ জামাআতে সালাত আদায় করার মর্যাদা। জামাআতে শরীক না হওয়া সম্পর্কে কঠোর উক্তি এবং জামাআতে সালাত আদায় করা ফরযে কিফায়াহ হওয়ার বর্ননা”
 
অর্থাৎ উক্ত হাদিসগুলো জামাআতের সহিত সালাত আদায় করার ব্যাপারে গুরুত্বের মাত্রা বুঝানোর জন্য শাস্তির একটি পর্যায় বর্ননা করা হয়েছে যাতে জামাআতে সালাত আদায় করার আবশ্যিকতা প্রমান আরো জোরদার হয়। উলামারা তাই বুঝেছেন হাদিসগুলো দ্বারা।
 
উল্লেখ্য যে হাদিসগুলো জামাআতে অনুপস্থিত থাকা দ্বারা কোনো যৌক্তিক শারঈ কারন ছাড়া জামাআতে না থাকার কথা বুঝানো হয়েছে।( তাহকীক মিশকাতুল মাসাবীহ, হা.একা ২/৬৮,)। আল্লাহু আলাম।
 
পরিশেষে একটি বিখ্যাত বাংলা প্রবাদ মনে পড়ে এদের কাজ দেখলে “যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা”।

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]  সহীহ বুখারী, ইফা, ২/৫৭-৫৮, হা-৬১৬, তাপা, হা-৬৪৪

[2]  Sahih Bukhari, Darussalam, 1/372, h-644

[3]  Sahih Bukhari, Darussalam, 1/ 376, h-657