সকল কিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি - কুরআনের এই কথা কি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক?

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



নাস্তিক প্রশ্নঃ কুরআন মতে (Quran 13:3, 36:36, 43:12, 51:49) আল্লাহ পৃথিবীতে সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় (male and female), তিনি কি নিচের উল্লিখিত জীবেদের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না? (নাউযুবিল্লাহ)

1. Asexual organisms (e.g. bacteria, protozoans, and unicellular algae and fungi).
2. Hermaphrodites (e.g. sponges, snails, slug-like sea hare, and some kinds of deep-sea arrow worms). 
 
উত্তর: প্রথমে প্রশ্নের উল্লিখিত কুরআনের একটি আয়াতের অনুবাদ লক্ষ্য করুন:-
 
Yusuf Ali: [051:049] And of every thing 'We have created pairs': That ye may receive instruction.:

"আমি সকলকিছুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (৫১:৪৯)
 
এবার Arabic আয়াতের অংশটি দেখুন:(from right to left):

51:49 خلقنا ’زوجين’ ومن كل شئ 
 
কুরআনের এই আয়াতে আল্লাহ বলেছেন তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি জোড়া সৃষ্টি করেছেন অথবা তাদের মধ্যে দুই 'ধরণ' বা 'প্রকার' সৃষ্টি করেছেন। কুরআনে আল্লাহ এখানে শুধু নারী-পুরুষের কথাই বলছেন না বরং পরিষ্কার ও তর্কাতীতভাবে বলেছেন প্রত্যেক সৃষ্টির দুই প্রকার সৃষ্টি/স্পিসিজ রয়েছে।এখানে প্রশ্নকর্তা নারী-পুরুষের কথাই ইন্ডিকেট করেছেন যা সবসময় সঠিক নয়। কারণ আল্লাহ অনেক sexless creation ও আছে, যেমন: উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ফেরেশতাগণ। তাঁদের লিঙ্গ নেই। তাঁরাও আল্লাহর সৃষ্টি। তাহলে আল্লাহর সকল সৃষ্টি কেবল নারী পুরুষের জোড়ার বিষয়ই ধরলে ভুল হবে।
 
এ সূত্রে আল্লাহ বলেন:-যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তারা ফেরেশতাদের নারী নাম দেয় (৫৩:২৭)
সুতরাং এখানে আল্লাহ কোনোভাবেই শুধু 'জোড়া' বলতে নারী পুরুষের জোড়াকে বুঝাচ্ছেন না।
 
এখন প্রশ্নোল্লিখিত আরেকটি আয়াত লক্ষ্য করি।
আল্লাহ বলেছেন: "সকল মহিমা তারঁ যিনি জোড়া সৃষ্টি করেছেন---পৃথিবী যা উৎপন্ন করে তার মধ্য হতে সব কিছুর,আর তাদের নিজেদের মধ্যেও এবং তারা(মানুষ)যার কথা জানে না তাদের মধ্য হতেও।" (৩৬:৩৬)
 
এই প্রশ্নে দেওয়া আয়াতগুলোতে যে আরবি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো أزواج, যার বহুবচন হলো زواج.যার অর্থ:  জোড়া,মিল,সঙ্গী অথবা এ أزواج বলতে দুইটি বস্তুর বৈপরিত্য যেমন: ধণাত্মকতা-ঋণাত্মকতা এবং এক সৃষ্টির বিভিন্নতার বিষয়ও এখানে চলে আসে।

আয়াতের এই أزواج হতে তিনটি বিষয় লক্ষ্যনীয়:
 
১.জোড়া যা পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়।
২.মানব জোড়া এবং মানব চরিত্রের বৈপরিত্য জোড় যেমন:সাহসী-ভীরু,ভালো-মন্দ ইত্যাদি।
৩.এমন অজানা জোড় যা মানুষ জানে না।
 
এবার আবার প্রশ্নে ফিরে যাই। প্রশ্নের ১ নং পয়েন্টে যাদের asexual reproduction হয় তাদের উদাহরণ টানা হয়েছে (ব্যাকটেরিয়া, এককোষী প্রোটেজোয়া, এককোষী শৈবাল, ছত্রাক ইত্যাদি)। প্রশ্নকর্তা বোধহয় জানেনা যে এদেরও যৌনজনন হয়। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবালের অযৌন ও যৌন-দুই ধরনেরই জনন হয়। অযৌন জননে খণ্ডায়ন, বিভাজন, মুকুলোদগম ইত্যাদির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি হয় এবং যৌনজননে শৈবালের নেগেটিভ ও পজেটিভ জিন আদান প্রদানের মাধ্যমে প্রজনন হয় অর্থাৎ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি হয়। ছত্রাকেরও একইভাবে যৌনজনন হয়। প্রোটোজোয়াদের ক্ষেত্রেও একই।
 
তার মানে এখানেও দুই!! যৌন ও অযৌন জননের জোড়া।
 
এবার আসে উভলিঙ্গ প্রাণীর কথা। যাদের দেহে দুই ধরনের reproductive organ থাকে অর্থাৎ male-female দুই ধরনেরই sex organ বিদ্যমান থাকে। এখানেও দুই!! 
'আযওয়াজ'এর ঐ অর্থটাই এখানে ধরা দিচ্ছেন; এক সৃষ্টির বিভিন্নতা।
 
সুতরাং এ বিষয়ে কুরআন খুবই স্পষ্টভাবে একই সাথে male ও female এর জোড়, উভলিঙ্গ প্রাণীর দেহের জনন অঙ্গের জোড় এবং যারা অযৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে তাদের ব্যাপারেও বলেছে।
 
সুতরাং কুরআনে ভুল -- 404 not found.