সুরা নাহল ১৬:৬৬ এবং সুরা মুমিনুন ২৩:২১ এ কি আসলেই ব্যাকরণগত ভু্ল আছে?

কুরআন/হাদিসের (তথাকথিত) অসঙ্গতি সংক্রান্ত



 

প্রশ্নঃ

সুরা নাহল ১৬:৬৬ এ আনআম (الْأَنْعَامِ) শব্দের ক্ষেত্রে بُطُونِهِ আছে, যা পুরুষবাচক। যেটা আবার সূরা মুমিনুনের একুশ নম্বর আয়াতে 'আনআম' এর পরে আছে بُطُونِهَا যেটি স্ত্রীবাচক। এই ভিন্নতার কারণ কী? কোনটি সঠিক?
 

উত্তরঃ

 
وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِي بُطُونِهِ مِن بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِّلشَّارِبِينَ
অর্থঃ "তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমুহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্যে উপাদেয়।"
[আল কুরআন, নাহল ১৬ : ৬৬]
 
وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِي بُطُونِهَا وَلَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ
অর্থঃ "এবং তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে তাদের উদরস্থিত বস্তু থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্যে তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে। তোমরা তাদের কতককে ভক্ষণ কর।"
[আল কুরআন, মু'মিনুন ২৩ : ২১]
 

প্রথমতঃ

এটি শুধুমাত্র পুং লিঙ্গ ও স্ত্রী-লিঙ্গের বিষয় নয়। এখানে একবচন ও বহুবচনের একটি ব্যাপার রয়েছে।
 
'আনআম' (الْأَنْعَامِ - চতুষ্পদ জন্তু) শব্দটিকে যদি ‘জাতি’ বা ইসমে জিনস ধরা হয় তাহলে সেটাকে একবচন ধরা যাবে। আর একবচন হলে মুযাক্কার যমীর (পুরুষবাচক সর্বনাম) 'হু' আসবে।
আর যদি আনআমকে বহুবচন হিসেবে ধরা হয় তাহলে মুয়ান্নাস যমীর (স্ত্রীবাচক সর্বনাম) 'হা' আসবে। তাই এক্ষেত্রে হু/হা উভয়টিই বলা যায়।
 
অর্থাৎ শব্দটি মুযাক্কার এবং মুয়ান্নাস উভয়টিই হতে পারে। এমন আরো আরবি শব্দ আছে যেগুলো একই সাথে মুযাক্কার (পুংবাচক), আবার মুয়ান্নাস (স্ত্রীবাচক)। যেমন: طريق ।
 

দ্বিতীয়তঃ

ব্যাকরণগত দিক থেকে সঠিক হবার প্রশ্ন তুলে কেউ বলতে পারেঃ তাহলে কেন সুরা নাহল ১৬:৬৬ এবং সুরা মুমিনুন ২৩:২১ এ বুতুনিহি একবার, বুতুনিহা আরেকবার?
 
এর উত্তর হচ্ছে, সূরা নাহলে বুহুনিহি (بُطُونِهِ) বলার কারণ সেখানে আনআমের মাঝে কেবল স্ত্রী-জাতিকে বোঝানো হয়েছে। পুরুষ জাতিকে বোঝানো হয় নি। কেননা পরে এসেছে من بين فرث ودم لبنا [বস্তুসমুহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ] যেটা কেবল স্ত্রী পশুর থেকেই আসে। এখন আনআম শব্দটি যেহেতু পুরুষ+স্ত্রী উভয় জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেনি সেহেতু এখানে 'বুতুনিহি' (এক বচন) বলা হয়েছে। অর্থাৎ আনআমের (চতুষ্পদ জন্তু) মধ্যে সকলে অন্তর্ভুক্ত না।
 
আর সূরা মুমিনূনে আনআমের মধ্যে পুরুষ/স্ত্রীকে আলাদা করা হয় নি। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার দলীল হলো ولكم فيها منافع كثيرة [ এবং তোমাদের জন্যে তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে] অংশটি। এখানে বোঝা যাচ্ছে যে খাসভাবে পুরুষ/স্ত্রী কেউ উদ্দেশ্য না। আনআমের সকল জাতিই উদ্দেশ্য। কাজেই এখানে বহুবচন 'বুতুনিহা' এসেছে।
আর এ কারণেই সূরা নাহলে 'বুতুনিহি' (بُطُونِهِ) হলেও সূরা মুমিনুনে 'বুতুনিহা' (بُطُونِهَا) হয়েছে।
 
ব্যাকরণগত ভুল তো দূরের বিষয়, বরং এটি আল কুরআনের অতি সূক্ষ্ম ব্যাকরণগত সঠিকত্ব এবং ভাষাগত নৈপুণ্যের উদাহরণ। আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার তাওফিক দিন।
 
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا
অর্থঃ "তবে কি তারা কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত, তবে তারা এতে অনেক অসঙ্গতি পেত।"
[আল কুরআন, নিসা ৪ : ৮২]
 
 
[কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ ফাদেল আস-সামুরাঈ]