সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত কীভাবে শয়তানের দুই শিং এর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হতে পারে?

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



 

লিখেছেনঃ আহমাদ আল উবাইদুল্লাহ

 

 নাস্তিক-মুক্তমনা এবং অন্যান্য ধর্মের অনেকে প্রায়ই হাদিসের একটি বক্তব্য নিয়ে হাসাহাসি করে যেখানে বলা হচ্ছে যে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত শয়তানের দুই শিং এর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

 

এ সম্পর্কে অনেকগুলো হাদিসের মধ্য থেকে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া হল:

 

"আমর বিন আবাসাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, ‘‘তুমি ফজরের নামায পড়। তারপর সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কারণ তা শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় (অর্থাৎ, এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং সে সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে। পুনরায় তুমি নামায পড়। কেননা, নামাযে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর নামায থেকে বিরত হও। কেননা, তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়। অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন নামায পড়। কেননা, এ নামাযে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের নামায পড়। অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকো। কেননা, সূর্য শয়তানের দুই শিঙের মধ্যে অস্ত যায় এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদাহ করে।’’ [1]

 

এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে কেননা এই সময়ে কাফের অর্থাৎ 'ইসলামের সত্য' প্রত্যাখানকারীরা শয়তানকে সিজদা করে। একারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সালাতকে মুনাফিকের সালাত বলা হয়েছে।

 

"ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ, কুতায়বা ও ইবনু হুজর (রহঃ) ... আলা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যুহরের সালাত আদায় করে বসরায় আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর গৃহে প্রবেশ করলেন। তার গৃহটি ছিল মসজিদের পাশেই। আমরা তাঁর কাছে গেলে বলেলেন, তোমরা আসরের সালাত আদায় করেছ কি? আমরা তাকে বললাম, আমরা তো এখনই যুহরের সালাত আদায় করলাম। তিনি বললেন, তোমরা এখন আসরের সালাত আদায় কর। আমরা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। সালাত থেকে আমরা যখন ফিরলাম তখন তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, এটা মুনাফিকের সালাত, যে বসে বসে সূর্যের অপেক্ষা করে; এমনকি সূর্যটি শয়তানের দুই শিং এর মাঝামাঝি আসলে সে দাঁড়িয়ে চারটি ঠোকর মারে, আল্লাহকে সে কমই স্মরণ করে।" [2]

 

সুতরাং মোটকথা হল, সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় এর সময়ের সাথে শয়তানের ইবাদত জড়িত (যেমন সূর্যপ্রণাম ও অন্যান্য মুশরিকি ক্রিয়া) এবং তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুই সময়ের পূর্বে ফরজ সালাত আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছেন ও নফল সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

 

তবে হাদিসের বক্তব্যে সূর্যের শয়তানের দুই শিং এর মধ্যে অবস্থান নিয়ে আলিমগণের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। অনেকে এর অর্থ রূপক বলেছেন, অনেকে আবার আক্ষরিক বলে অভিহিত করেছেন।

 

তবে রূপক অর্থটি কেবল অনুমান নির্ভর। তাই হাদিসের বক্তব্যকে আক্ষরিক ধরাই বেশি যুক্তিযুক্ত। কিন্তু তাহলে এখানে অনেকের মনে সন্দেহ জাগে যে, এটা কীভাবে বৈজ্ঞানিক ভাবে শুদ্ধ হয় যে, সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত শয়তানের দুই শিং এর মধ্য দিয়ে ঘটে!

 

এটা বোঝার জন্য প্রথমে আমরা আল-কোরআন এর একটি আয়াত দেখব:

 

حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ ٱلشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِى عَيْنٍ حَمِئَةٍ وَوَجَدَ عِندَهَا قَوْمًاۗ قُلْنَا يَٰذَا ٱلْقَرْنَيْنِ إِمَّآ أَن تُعَذِّبَ وَإِمَّآ أَن تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًا

 "চলতে চলতে যখন সে সূর্যের অস্তগমন স্থলে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে এক কর্দমাক্ত ঝরনায় অস্তগমন করতে দেখল এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল; আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদুপায় অবলম্বন করতে পার।’"  [3]

 

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে আহসানুল বায়ান এর এক স্থানে বলা হচ্ছে: " عَين এর অর্থঃ ঝরনা বা সমুদ্র। حَمِئَة এর অর্থঃ কর্দম, কাদা বা দলদল। وَجَد অর্থঃ পেল, দেখল বা অনুভব করল। অর্থাৎ, যুলক্বারনাইন দেশের পর দেশ জয় করে যখন পশ্চিম প্রান্তে শেষ জনপদে পৌঁছলেন। সেখানে কাদাময় পানির ঝরনা বা সমুদ্র ছিল; যেটা নীচে থেকে কালো মনে হচ্ছিল। তাঁর মনে হল, যেন সূর্য ঐ পানিতে অস্ত যাচ্ছে। সমুদ্র-তীর থেকে বা দূর থেকে সেখানে পানি ব্যতীত আর কিছু দেখা যায় না, সেখানে যারা সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করবে তাদের মনে হবে যেন সূর্য সমুদ্রেই অস্ত যাচ্ছে অথচ সূর্য মহাকাশে স্বস্থানেই অবস্থান করে।" [4]

 

সুতরাং এই আয়াতের ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, যুলকারনাইন সূর্যকে এক কর্দমাক্ত ঝরনায় অস্ত যেতে দেখল; অর্থাৎ তার কাছে মনে হচ্ছিল যে, সূর্য কর্দমাক্ত জলেই অস্ত যাচ্ছে। এখানে কোরআন এর এরূপ প্রকাশভঙ্গি 'আপেক্ষিকতা' বা 'Relativity' এর বিষয়কে তুলে ধরছে।

 

যেমন আমরা অনেক সময় চলন্ত ট্রেন, বাসে চলার ক্ষেত্রে আমাদের পাশের সিটে বসা যাত্রীদের নিজেদের জায়গাতে স্থির অবস্থায় দেখি এবং বাইরের গাছগুলোকে পিছন দিকে গতিশীল হতে দেখি। অথচ যদি সেই ট্রেন বা বাসের বাইরে রাস্তায় কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে বাইরের গাছগুলোকে সে স্থির দেখবে এবং ট্রেন বা বাসের ভিতরের যাত্রীগুলোকে সেই ট্রেন বা বাসের সাথে সাথেই একই গতিতে গতিশীল দেখবে। তাহলে চলন্ত ট্রেনের ভিতরে থাকলে পাশের যাত্রীগুলোকে আপনি আপনার সাপেক্ষে স্থির দেখছেন, অথচ যদি আপনি ট্রেন এর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে আপনার সাপেক্ষে চলন্ত ট্রেনের মধ্যের যাত্রীগুলোকেই আবার ট্রেনের গতিতে গতিশীল বলে আপনার মনে হচ্ছে!

 

তাহলে একই ব্যক্তি একই বিষয়কে দুই অবস্থায় দুইভাবে দেখছে। এটাকেই পদার্থবিজ্ঞানে বলে 'বস্তুর অবস্থান ও গতির আপেক্ষিকতা' (Relative Position and Motion of an object)।

 

এখানে আপনি ঘটনাকে বিবেচনা করছেন কোনো প্রসঙ্গ বস্তু বা Reference Object এর সাপেক্ষে।

 

ট্রেনে থাকা অবস্থায় চলন্ত ট্রেনটি হল আপনার কাছে তখন প্রসঙ্গ বস্তু। একারণে সেই চলন্ত ট্রেনের সাপেক্ষে চারপাশের সিটে থাকা যাত্রীরা তখন আপনার কাছে স্থির বলে মনে হচ্ছে। একইভাবে ট্রেনের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চারপাশের গাছপালাকে আপনি স্থির অবস্থায় থাকা প্রসঙ্গ বস্তু হিসেবে ধরে নিয়েছেন বলে চারপাশের সাপেক্ষে ট্রেনটি তখন আপনার কাছে গতিশীল বলে মনে হচ্ছে।

 

আবার যদি ভালভাবে দেখা যায়, তাহলে আপনি আপনার চারপাশে থাকা যে গাছপালাগুলোকে স্থির ভাবছেন, সেগুলোও গতিশীল হিসেবে আপনি দেখবেন যদি আপনি সূর্যকে প্রসঙ্গ বস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে সক্ষম হন। কারণ যেহেতু পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে গতিশীল, তাই পৃথিবীর উপরে থাকা সকল বস্তুও পৃথিবীর সমান গতিতে সূর্যের সাপেক্ষে গতিশীল।

 

উল্লিখিত আয়াতে যখন যুলকারনাইন কর্দমাক্ত জলের মধ্যে সূর্যকে অস্ত যেতে দেখল, তখন যুলকারনাইন এর কাছে প্রসঙ্গ বস্তু হল তার চারপাশের পরিবেশ, যে পরিবেশকে আল-কোরআন ১৮:৮৬ আয়াতে "সূর্যের অস্তগমন স্থল" বলে অভিহিত করা হয়েছে। সেই স্থানে চারপাশের পরিবেশ ও কর্দমাক্ত ঝরনা জাতীয় প্রসঙ্গ বস্তুর বিবেচনায় যুলকারনাইন এর সাপেক্ষে সূর্যকে সে সেই কর্দমাক্ত জলে অস্ত যেতে দেখেছে।

 

উল্লিখিত হাদিস যেখানে আমরা শয়তানের শিং এর বিবরণ দেখতে পাই, সেটিও এই একই আপেক্ষিকতা বা Relativity এর আরেকটি উদাহরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

হাদিস বিশারদ ইমাম নববী(র)-এর মতে,

 

"দুই শিং এর অর্থ হল মাথার দু' প্রান্ত। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তকালে শায়তান তার মাথা সূর্যের নিকটবর্তী করে দেয় যাতে সূর্য ও মূর্তিপূজারী কাফিরদের সাজদাহগুলো শাইতানের জন্য হয়।" [5]

 

এর অর্থ এটাই যে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় শয়তান অথবা শয়তানের সঙ্গী-জ্বিনেরা এমনভাবে অবস্থান করে, যাতে কোনো একজন ব্যক্তির সাপেক্ষে কোনো একটি শয়তান জ্বিন হয় তখন প্রসঙ্গ বস্তু এবং তার অবস্থান এমনভাবে হয় যেন, কোনো সিজদারত ব্যক্তির কাছে সূর্যের উদয় বা অস্ত যাওয়ার আপেক্ষিক গতিপথ হবে শয়তানের শিং এর মধ্যবর্তী স্থান। [6]

 

যেমনভাবে পাশাপাশি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী নিচু অংশের মধ্য দিয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হতে দেখলে (ওই দুই পাহাড়কে প্রসঙ্গ বস্তু ধরে নিয়ে) সূর্য এর আপেক্ষিক গতিপথ ওই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানের মধ্য দিয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে; ঠিক একইভাবে, শয়তানের আপেক্ষিক অবস্থানের বিবেচনায় শয়তানকে প্রসঙ্গ বস্তু ধরে নিয়ে সূর্যের আপেক্ষিক গতিপথও সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় শয়তানের দুই শিং এর মধ্যবর্তী স্থানের মধ্য দিয়ে হওয়াও অযৌক্তিক কিছু নয়; বরং এটি সৃষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য আপেক্ষিকতা বা Relativity-এরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

নাস্তিক,-মুক্তমনা কিংবা অন্যনায় ধর্মের ইসলামবিরোধীদের চিন্তাধারা এত বেশি ‘বিজ্ঞানমনস্ক’ (?) হয়ে গেছে যে, তাদের হয়ত আপেক্ষিকতার মত বিজ্ঞানের এই ছোটখাট বিষয়গুলো মাথায় আনার মত সময় হয় না!

 

তারা হয়ত অভিযোগ করতে পারে যে, শয়তানকে তারা দেখতে পায় না, তাহলে আপেক্ষিকতার বিষয়টি কেন আসবে?

কিন্তু তাদের জেনে রাখা উচিৎ যে, মহাবিশ্বের সৃষ্টিগত বিষয়ের মধ্যে কেবল পদার্থই তারা চোখে দেখতে পায়, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো শক্তিই তারা চোখ দিয়ে দেখতে পাই নি; কিন্তু তবুও সেগুলোকে তারা বিশ্বাস করে আসছে, কারণ সেগুলোর প্রমাণ নাকি তারা পেয়েছে!

 

তেমনি আমাদের কাছেও মহান আল্লাহর কিতাব আল-কোরআনই প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। তাই শয়তানের আপেক্ষিক অবস্থান নির্ণয় করে আমরা অযথা অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করি না। বরং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল নির্দেশনা ও শিক্ষার অনুসরণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় মুনাফিকের সালাত আদায় না করে মুশরিকদের অনুসরণ হতে আমরা বিরত থাকি।

'বিজ্ঞান' 'বিজ্ঞান' বলে চিৎকার-ধ্বনিতে উন্মত্ত মুক্তমনারাই বরং ইচ্ছে হলে শয়তানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য শয়তানের পিছনে ছুটে বেড়াতে পারেন।

 

"বলো, ‘আমার প্রতিপালক ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন আর তোমরা প্রত্যেক সিজদার সময় তোমাদের চেহারা সোজা রাখবে এবং তাঁরই ইবাদাতের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাক’। যেভাবে তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে তোমরা প্রথমে ফিরে আসবে।

একদলকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করেছেন এবং সঙ্গত কারণেই অপর দলের পথভ্রান্তি নির্ধারিত হয়েছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে নিজেদের অভিভাবক (বা বন্ধু)রূপে গ্রহণ করেছে এবং তারা ধারণা করছে যে, তারাই সৎপথগামী।" [7]

 

আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(কোনোরূপ ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহ তায়ালা মার্জনা করুন এবং আমাদের সকলকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন। আমিন।)

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1] সহিহ মুসলিম/হাদিস নম্বর ১৯৬৭;

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)            

উৎস: http://www.hadithbd.com/share.php?hid=64647

[2] সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৫/মসজিদ ও সালাতের স্থান ( كتاب الْمَسَاجِدِ وَمَوَاضِعِ الصَّلاَة)/হাদিস নম্বরঃ ১২৮৮/হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উৎস - http://www.hadithbd.com/share.php?hid=10220

[3] মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ১৮:৮৬

[4] তাফসিরে আহসানুল বায়ান/আল-কোরআন, ১৮:৮৬ এর তাফসির হতে বিবৃত

[5] মুসলিম শরহে নবাবী-১ম খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা;

উৎস - http://www.hadithbd.com/share.php?hid=48570

[6] স্বাভাবিক হিসাবে পৃথিবীর পশ্চিমভাগে কেউ অবস্থান করলে তার সাপেক্ষে কিবলা পূর্বদিকে হওয়ায় সূর্যোদয়ের সময় সিজদা করলে তার সিজদা সূর্য অভিমুখী হয়। আবার পৃথিবীর পূর্ব ভাগে অবস্থান করলে তার সাপেক্ষে কিবলা পশ্চিম দিকে পড়ে এবং সূর্যাস্তের সময় সিজদা করলে তার সিজদা সূর্য অভিমুখী হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো স্থান অচেনা হলে বা অন্য কোনো কারণে কিবলার অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয় না করতে পারলে যে কেউ সূর্যোদয় অথবা সূর্যাস্তের সময় সূর্য অভিমুখী হয়ে সিজদা দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শয়তানের অবস্থানটি একটি গায়েবের ব্যাপার হওয়ায় শয়তানের আপেক্ষিক অবস্থান কোন্ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে হচ্ছে, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন, কারণ তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের মালিক। একারণে শয়তানের আপেক্ষিক অবস্থানের এরূপ জটিলতা এড়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বসাধারণের জন্য একটি সাধারণ নিয়ম জারি করেছেন যে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় কাযা সালাত ছাড়া অন্য সালাত আদায় করা স্বাভাবিকভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহই ভালো জানেন।

[7] মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, ৭:২৯-৩০