স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ

নাস্তিক্যবাদের অসারতা



 

মূলঃ শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ

অনুবাদঃ মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার

 

অনুবাদকের ভূমিকাঃ এই সুবিশাল পৃথিবী ও সমগ্র বিশ্বচরাচরের উৎপত্তি কিভাবে হলো? আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি এই সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা। অনেক সময় সংশয়বাদী আর অবিশ্বাসীরা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় – স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ কী? দ্বীনদার মুসলিমরাও কখনো কখনো এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে ভেবে পান না কিভাবে এর উত্তর দেয়া যেতে পারে। এমন একটি প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এই প্রবন্ধটি।

 

ফতোয়া নং ২৬৭৪৫: আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ এবং তাঁর সৃষ্টিকর্মের পেছনে হিকমত

 

প্রশ্নঃ

আমার একজন অমুসলিম বন্ধু জিজ্ঞেস করেছে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ কী। আর কেনই বা তিনি আমাদের এই জীবন দিয়েছেন, এসবের পেছনে উদ্যেশ্য আসলে কী। আমার উত্তরে সে সন্তুষ্ট হয়নি। আমি জানতে চাচ্ছি কিভাবে তাকে উত্তর দেয়া যেতে পারে।

 

উত্তরঃ

আলহামদুলিল্লাহ্‌।

প্রিয় মুসলিম ভাই, মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াহ দেয়া এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার অস্তিত্বের সত্যতার ব্যাপারটি বোঝানোর জন্য আপনি যে চেষ্টা চালাচ্ছেন এটি অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার। আল্লাহকে জানার প্রচেষ্টা এমন এক জিনিস যা সঠিক ফিতরাত এবং সরল আকলের মধ্যে লুকিয়ে আছে। এমন বহু মানুষ আছে যাদের সামনে একবার যদি সত্য পরিষ্কার হয়, সাথে সাথে তারা আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ করে)। আমরা প্রত্যেকেই যদি দ্বীনের জন্য নিজ নিজ দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করতাম তাহলে বহু কল্যাণ অর্জন সম্ভব হতো। আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি হে মুসলিম ভাই, আপনি তো সেই মিশন পালন করছেন যা নবী-রাসুলণ (আলাইহিমুস সালাম) পালন করতেন। আর আমরা আপনাকে ওয়াদাকৃত সেই মহাপুরষ্কারের সুসংবাদ দিচ্ছি যে ব্যাপারে নবী(ﷺ) বলে গেছেনঃ

 

لأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ

অর্থঃ “তোমাদের দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়, তা হবে তোমার জন্য লাল রঙের উট প্রাপ্তির চেয়েও অধিক উত্তম।”

[ইমাম বুখারী(র.) ৩/১৩৪ ও ইমাম মুসলিম(র.) ৪/১৮৭২ বর্ণনা করেছেন]।

এখানে حُمْرُ النَّعَمِ দ্বারা লাল রঙের উটকে বোঝানো হয়েছে আর তা হল সব থেকে সেরা উট।

 

দ্বিতীয়তঃ

আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণের ব্যাপারে আমরা বলবো, যারা এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে তাদের কাছে এটি একদম পরিষ্কার। এ ব্যাপারে দীর্ঘ গবেষণা বা অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন তাদের নেই। আমরা যদি চিন্তা-ভাবনা করি তাহলে দেখতে পাই এ ব্যাপারে প্রমাণগুলো তিন শ্রেণীতে বিভক্তঃ ফিতরাতি বা সহজাত প্রমাণ, অনুধাবনযোগ্য প্রমাণ এবং শারঈ প্রমাণ। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা এখন আপনার নিকট এই প্রমাণগুলো ব্যাখ্যা করবো।   

 

১। ফিতরাতি বা সহজাত প্রমাণঃ

শায়খ ইবন উসাঈমিন(র.) বলেছেন,

“শয়তানের দ্বারা যারা বিপথগামী হয়নি, তাদের জন্য আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সব থেকে বড় প্রমাণ হলো ফিতরাতি বা সহজাত প্রমাণ। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا ۚ فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ۚ

অর্থঃ “তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মে প্রতিষ্ঠিত রাখো আল্লাহর সেই ফিতরাতের (প্রকৃতি) অনুসরণ কর; যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।”

[আল কুরআন, রুম ৩০ : ৩০]

 

মানুষের সঠিক ফিতরাত (প্রকৃতি) আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় এবং এ থেকে বিচ্যুত হয় না; যদি না শয়তান তাকে বিপথগামী করে। শয়তানের দ্বারা যে বিপথগামী হয়েছে, সে এই প্রমাণকে না-ও অনুধাবন করতে পারে।

বক্তব্য সমাপ্ত। শারহ সাফারিনিয়্যাহ থেকে।

 

প্রত্যেক ব্যক্তি তার ভেতর থেকেই অনুভব করতে পারেন যে তার একজন প্রতিপালক এবং সৃষ্টিকর্তা আছেন। তিনি মন থেকেই এই স্রষ্টার প্রয়োজন অনুভব করেন। যখন তার উপর খুব বড় কোনো বিপদ নেমে আসে – সে তার হাত, চোখ এবং অন্তরকে আকাশের দিকে নিবদ্ধ করেন। আর কাতরভাবে প্রতিপালকের কাছে সাহায্য চাইতে থাকেন। 

 

২। অনুধাবনযোগ্য প্রমাণ

মহাবিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাক্রমের উপস্থিতি। আমাদের চারপাশে যে পৃথিবী আমরা দেখতে পাই, অবশ্যই এর কোনো ঘটনাক্রম রয়েছে। আর এগুলোর প্রথমটি ছিলো সৃষ্টির সূচনা। সব কিছু সৃষ্টির সূচনা। সব কিছু – যেমনঃ বৃক্ষরাজি, পাথর, মানব জাতি, পৃথিবী, আকাশ, সমুদ্র, নদী, ইত্যাদি।

যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ কে এই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন এবং লালন-পালন করলেন?

 

উত্তর হবেঃ এই সমস্ত কিছু যদি পর্যায়ক্রমিক দুর্ঘটনার দ্বারা কোনো কারণ ছাড়াই এসে থাকে, তাহলে কেউই জানে না কিভাবে এগুলো সৃষ্টি হয়েছে। এটি হচ্ছে একটি সম্ভাব্যতা। এমন আরো সম্ভাব্যতা রয়েছে, যেমনঃ এই সমস্ত কিছু নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টি করেছে এবং লালন-পালন করছে। তৃতীয় আরেকটা সম্ভাব্যতা রয়েছে আর তা হলোঃ এমন একজন রয়েছেন যিনি এই সকল কিছুর স্রষ্টা। আমরা যদি এই তিনটি সম্ভাব্যতার দিকে ভালো করে লক্ষ করি তাহলে দেখবো প্রথমটি এবং দ্বিতীয়টি অসম্ভব। আমরা যদি প্রথম দুইটি সম্ভাব্যতাকে নাকচ করি, তাহলে অবশ্যই তৃতীয়টিই সঠিক হবেঃ এই সব কিছুর একজন স্রষ্টা আছেন যিনি এদের সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি হচ্ছেন আল্লাহ। এই কথাটিই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনুল কারিমে এভাবে বলেছেন,

 

أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۚ بَل لَّا يُوقِنُونَ . أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ

অর্থঃ “তারা কি স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না কি তারা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা তো অবিশ্বাসী।”

[আল কুরআন, তুর ৫২ : ৩৫-৩৬]

 

এই সুবিশাল সৃষ্টিজগতের উৎপত্তি হয়েছে কবে? এতোগুলো বছর ধরে এদেরকে পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে রাখলেন এবং তাদের টিকে থাকার সব উপকরণ সরবরাহ করলেন কে?

 

এর উত্তর হচ্ছেঃ তিনি আল্লাহ। তিনি প্রত্যেকের জন্য উপযোগী সমস্ত কিছু সরবরাহ করেছেন এবং এদের টিকে থাকা নিশ্চিত করেছেন। ভেবে দেখুন, পৃথিবীর মনোরম সবুজ গাছপালার কথা। আল্লাহ যদি এদের পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেন, এরা কি বেঁচে থাকতে পারবে? না, বরং এমনটি হলে এরা শুকনো খড়কুটোয় পরিনত হবে। যদি গভীরভাবে বিষয়টি ভেবে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন এরা আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ না থাকলে এরা কেউই থাকতো না।

 

যে যেই কাজের উপযোগী, আল্লাহ তাকে ঠিক সেভাবেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন, উটকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাহন হিসেবে। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ . أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُم مِّمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُونَ

অর্থঃ “তারা কি দেখে না যে আমার হাতে তৈরি জিনিসগুলোর মধ্যে আমি তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি গৃহপালিত পশু আর এখন তারা এগুলোর মালিক! এবং আমি এগুলিকে ওদের বশীভূত করে দিয়েছি। এগুলোর কিছু ওদের সওয়ারী এবং কিছু ওদের খাদ্য।”

[আল কুরআন, ইয়াসিন ৩৬ : ৭১-৭২]

 

উটের দিকে লক্ষ করুন, আল্লাহ কেমন শক্তিশালী করে একে সৃষ্টি করেছেন। এর পিঠকে এমনভাবে সমান করেছেন যাতে একে বাহন হিসাবে ব্যবহার করা যায়। আল্লাহ উটকে এমন উপায়ে সৃষ্টি করেছেন যে এই পশু অত্যন্ত কঠিন পরিবেশের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। অন্য অনেক পশু যা পারে না। যদি সৃষ্টিকূলের অন্যান্যদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তাহলে অনুধাবন করতে পারবেন তাদেরকে যে উদ্যেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, এর জন্য কী সুন্দরভাবেই না তারা উপযোগী, সুবহানাল্লাহি তা’আলা!

 

অনুবাধনযোগ্য প্রমাণের আরো উদাহরণ হিসাবে আমরা উল্লেখ করতে পারিঃ

মানুষের উপর যে নানা বিপদাপদ নেমে আসে, এটাই একজন স্রষ্টার অস্ত্বিত্বের ইঙ্গিত দেয়। যেমন ধরুন, মানুষ যখন আল্লাহকে ডাকে আর আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দেন – এটা আল্লাহর অস্তিত্বের একটি প্রমাণ। শায়খ ইবন উসাঈমিন(র.) বলেছেন, “নবী(ﷺ) যখন বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন, তিনি বলছিলেনঃ “اَللَّهُمَّ أَغِثْنَا, اَللَّهُمَّ أَغِثْنَا.‏.‏.‏” (হে আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টি দিন)। তখন আকাশে মেঘ করলো এবং তিনি মিম্বার থেকে নামবার আগেই বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। এটা স্রষ্টার অস্তিত্ত্বের পক্ষে একটি দলিল।”

বক্তব্য সমাপ্ত। শারহ সাফারিনিয়্যাহ থেকে।

 

৩। শারঈ প্রমাণঃ

এর দ্বারা বিভিন্ন শরিয়তের অস্তিত্বের কথা বোঝানো হচ্ছে। শায়খ ইবন উসাঈমিন(র.) বলেছেন, “যতোগুলো (পূর্বে নাজিলকৃত) শরিয়ত রয়েছে, এর সবগুলোই একজন স্রষ্টার অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। এই শরিয়তগুলো তাঁর পরিপূর্ণ জ্ঞান, হিকমত এবং রহমতের সাক্ষ্য দেয়। [1] এই শারঈ আইনগুলোর অবশ্যই একজন প্রণেতা রয়েছেন। আর এই শরিয়তের প্রণেতা হচ্ছেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল।”

বক্তব্য সমাপ্ত। শারহ সাফারিনিয়্যাহ থেকে।

 

“আল্লাহ কেন আমাদেরকে সৃষ্ট করেছেন?” – আপনার এই প্রশ্নের উত্তরে বলবোঃ

- যাতে আমরা তাঁর ইবাদত করতে পারি। তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে পারি, তাঁকে স্মরণ করতে পারি। তিনি আমাদেরকে যা যা আদেশ করেছেন তা পালন করতে পারি। মানুষের মধ্যে বহু লোক মুসলিম আবার বহু লোক কাফির। কারণ আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে তারা তাঁর ইবাদত করে নাকি অন্য কারো ইবাদত করে। আর এই পরীক্ষা হয় আল্লাহ সবার নিকট সঠিক পথ পরিষ্কার করে দেবার (অর্থাৎ তার নিকট ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছাবার) পরে।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

 

الَّذِیۡ خَلَقَ الۡمَوۡتَ وَ الۡحَیٰوۃَ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفُوۡرُ

অর্থঃ “যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য—কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম? তিনি পর্যক্রমশালী, ক্ষমাশীল।”

[আল কুরআন, মুলক ৬৭ : ২]

 

আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন,

 

وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ

অর্থঃ “আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।”

[আল কুরআন, যারিয়াত ৫১ : ৫৬]

 

আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করছি তিনি যেন আমাদেরকে ও আপনাকে এমন কাজ করবার তাওফিক দেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যার উপর তিনি সন্তুষ্ট। তিনি আমাদেরকে আরো বেশি করে দাওয়াহ এবং তাঁর দ্বীনের জন্য কাজ করবার তাওফিক দিন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর উপর সলাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

এবং আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন।

 

মূল ফতোয়ার লিঙ্কঃ

আরবিঃ https://islamqa.info/ar/26745/

ইংরেজিঃ  https://islamqa.info/en/26745/

 

 

অনুবাদকের টিকা

[1] যদিও পূর্বে নাজিলকৃত আসমানী কিতাবগুলো বিকৃত হয়ে গেছে, কিন্তু এগুলোর একটা সত্য ভিত্তি রয়েছে। ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কিতাবগুলো বিকৃত হলেও এর সকল তথ্য মিথ্যা নয়। পূর্বের শরিয়তের কিছু সত্য তথ্য এখনো এগুলোতে অবশিষ্ট আছে। এগুলোতে অজস্র বৈপরিত্য থাকলেও এই কিতাবগুলো এক-অদ্বিতীয় একজন স্রষ্টার অস্থিত্বের সাক্ষ্য দেয়। এই তথ্যকে আল কুরআন সত্যায়ন করে।