নবী(ﷺ) এর ওপর যাদুর প্রভাব নিয়ে খ্রিস্টান মিশনারীদের অভিযোগ খণ্ডন

খ্রিষ্টান মিশনারীদের জবাব/বাইবেল ও খ্রিষ্টবাদ সংক্রান্ত



 

অভিযোগ:

খ্রিস্টান মিশনারীদের বহুল প্রচারিত একটি অভিযোগ হল, নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে যাদু করা হয়েছিল - যা প্রমাণ করে, মুহাম্মাদ (ﷺ) ছিলেন একজন ভণ্ড নবী - যিনি কিনা শয়তান দ্বারা পরিচালিত হতেন! তাই আল্লাহ, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে যাদুর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারেন নি! (নাউযুবিল্লাহ)


অর্থাৎ এক্ষেত্রে খ্রিস্টান মিশনারীদের তিনটি অভিযোগ আমরা দেখতে পাই:

১) নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে যাদু করা হয়েছিল বলে তিনি একজন ভণ্ড নবী (নাউযুবিল্লাহ)!

২) যাদুর প্রভাব প্রমাণ করে যে, নবী শয়তানি শক্তি দ্বারা পরিচালিত ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)!

৩) আল্লাহ তাঁর নবীকে যাদুর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারেননি (নাউযুবিল্লাহ)!

 

আসুন আমরা এই তিনটি অভিযোগকে ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের তুলনামূলক বিচারে যাচাই করে দেখি।

 

জবাব:

মুহাম্মাদ () এর মানবীয় প্রকৃতিঃ

 

আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে যাদু করা নিয়ে একাধিক হাদিস বিদ্যমান রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আমরা নিম্নের হাদিসটি দিয়ে আমাদের আলোচনা শুরু করব:

 

"‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাদু করা হয়েছিল। ফলে তিনি ধারণা করতেন যে, তিনি এ কাজ করেছেন অথচ তিনি তা করেন নি।"

(সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৫) online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=27514

 

উক্ত হাদিস থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারলাম যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে যাদু করা হয়েছিল।

 

প্রথমেই আমরা বলতে চাই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি) ছিলেন আর পাঁচটা মানুষের মতই একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে বলছেন,

 

﴿ قُلۡ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٞ مِّثۡلُكُمۡ﴾ [الكهف: ١١٠]

"(হে মুহাম্মাদ তুমি) বলে দাও, 'আমিও তোমাদের মতোই একজন মানুষ'..."

 (আল-কুরআন, ১৮:১১০)

 

নবী (ﷺ) নিজেও বলেছেন,

«إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي»

"আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে..."

(সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বরঃ ৪০১) online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=24237

 

সুতরাং, যেহেতু নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) ছিলেন একজন স্বাভাবিক মানুষ, তাই অন্যান্যদের মত তিনিও খাদ্য, বস্ত্র প্রভৃতি বিষয়ের মুখাপেক্ষী ছিলেন। সেক্ষেত্রে একজন স্বাভাবিক মানুষ যেমনভাবে বাহ্যিক কোনো কিছুর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তেমনিভাবে একজন নবী বা রাসূল হওয়ার পরও স্বাভাবিক মানুষ হওয়ার কারণে মুহাম্মাদ (ﷺ) বাহ্যিক বিষয়ের প্রভাবের উর্ধ্বে ছিলেন না। এই প্রসঙ্গে শায়েখ আবু বকর জাকারিয়া বলেন,

 

"...জাদুগ্রস্ত হওয়া নবুওয়তের পরিপন্থী নয়। যারা জাদুর স্বরূপ সম্পর্কে অবগত নয়, তারা বিস্মিত হয় যে, আল্লাহর রাসূলের উপর জাদু কিরূপে ক্রিয়াশীল হতে পারে! এখানে এতটুকু জানা জরুরী যে, জাদুর ক্রিয়াও অগ্নি, পানি ইত্যাদি স্বাভাবিক কারণাদির ক্রিয়ার ন্যায়। অগ্নি দহন করে অথবা উত্তপ্ত করে, পানি ঠাণ্ডা করে এবং কোন কোন কারণের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বর আনে। এগুলো সবই স্বাভাবিক ব্যাপার। রাসূলগণ এগুলোর ঊর্ধ্বে নন। জাদুর প্রতিক্রিয়াও এমনি ধরনের একটি ব্যাপার। কাজেই তাদের জাদুগ্ৰস্ত হওয়া অবাস্তব নয়।"

(তাফসীর আবু বকর জাকারিয়া, আল-কুরআন ১১৩:১ আয়াতের তাফসীর হতে বিবৃত)

 

  • দুনিয়াবী জীবন পরীক্ষাস্বরূপ:

 

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে বলেন,

 

الَّذِیۡ خَلَقَ الۡمَوۡتَ وَ الۡحَیٰوۃَ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفُوۡرُ ۙ﴿۲﴾

"যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য - কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম। তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।"

(আল-কুরআন, ৬৭:২)

 

সুতরাং, এই পার্থিব জীবন, আখিরাত বা পরকালের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। অর্থাৎ এই দুনিয়া হল একটি পরীক্ষাক্ষেত্র।

অতএব, দুনিয়ার এই পরীক্ষায় নবী-রাসূলগণকেও অংশ নিতে হবে। কেউই এই পরীক্ষা হতে মুক্ত নয়। যেমন, মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে শির্ক থেকে দূরে থাকার পরীক্ষা এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, শির্ক করলে নবী-রাসূলদের কর্মও নিষ্ফল হয়ে যাবে!

 

وَ لَقَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ وَ اِلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ لَئِنۡ اَشۡرَکۡتَ لَیَحۡبَطَنَّ عَمَلُکَ وَ لَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۶۵﴾

"আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই। আর অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

(আল-কুরআন, ৩৯:৬৫)

 

সুতরাং, যখন নবী-রাসূলগণও দুনিয়াবী পরীক্ষার আওতাভুক্ত, তখন মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণকেও যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরীক্ষা করতে পারেন। কখনও ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে সন্তান কুরবানীর পরীক্ষায় ফেলতে পারেন, তো কখনও অন্য ব্যক্তিকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর ওপর যাদু করার সুযোগ দান করে পরীক্ষা করতে পারেন! এতে নবুয়তের অসারতা প্রমাণিত হয় না!

 

  • ধৈর্য ও আত্মসংযম এর দৃষ্টান্ত স্থাপন:

 

মহান আল্লাহ বলেন,

 

لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَکَرَ اللّٰہَ کَثِیۡرًا ﴿ؕ۲۱﴾

"অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।"

(আল-কুরআন, ৩৩:২১)

 

অর্থাৎ, মুহাম্মাদ (ﷺ) হলেন বিশ্বাসীগণের জন্য উত্তম আদর্শ। সেক্ষেত্রে যাদুর কবলে পরীক্ষিত হওয়ার মধ্যেও মহান আল্লাহ তাঁর নবীর ধৈর্য ও আত্মসংযমের দৃষ্টান্ত উম্মতের জন্য তুলে ধরেছেন।

 

এই দৃষ্টান্তটি এরূপ যে, ইয়াহুদী যে ব্যক্তিটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওপর যাদু করেছিল, সেই ইয়াহুদীর ওপর আল্লাহর রাসূল ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ বা প্রতিশোধ নেন নি যেমনটা মা আয়েশা (রা) বলেন,

 

"রাসূলুল্লাহ () কোন ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না..."

(সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বরঃ ৬১২৬) online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=30786

 

সেক্ষেত্রে ইয়াহুদী ব্যক্তির ওপর রাসূল (ﷺ) ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ মেটাননি। একারণে তিনি ইয়াহুদী ব্যক্তি কর্তৃক যাদুগ্রস্ত হওয়ার পরও ধৈর্য ও আত্মসংযম এর পরিচয় দিয়েছেন। এ থেকে একজন সাধারণ মুসলিম শিক্ষা পেতে পারে যাদু এবং অন্যান্য বিপদের কবলে পড়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যধারণের জন্য।

 

"‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবনু আসাম নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাদু করে...

...আমি (আয়িশাহ (রাঃ)) বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে..."

(সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী), হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৩) online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=30350

 

  • আরও তিনটি দৃষ্টান্ত:

 

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওপর যাদুর ঘটনা সম্ভাব্য তিনটি দৃষ্টান্তকে আরও তুলে ধরেঃ

 

১) আল্লাহ কর্তৃক আরোগ্য দান,

২) আল্লাহর নিকট দুয়ার শিক্ষা দান,

৩) সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস এর গুরুত্ব।

 

খ্রিস্টান মিশনারীরা মিথ্যাচার করে এই বলে যে, আল্লাহ নাকি তাঁর নবীকে যাদু থেকে বাঁচাতে পারেনি! তাই যাদুর প্রভাব প্রমাণ করে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) নাকি শয়তানি শক্তি দ্বারা পরিচালিত ছিলেন! (নাউযুবিল্লাহ)

 

অথচ রাসূল (ﷺ)-কে আল্লাহ তাআলা যাদুর প্রভাব হতে আরোগ্য দান করেছিলেন। নিম্নের হাদিসটি এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়:

 

"‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যাদু করা হয়। এমনকি তাঁর মনে হত তিনি কাজটি করেছেন অথচ তা তিনি করেননি। শেষে একদিন তিনি যখন আমার নিকট ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট বার বার দুআ করলেন।

তারপর ঘুম থেকে জেগে বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি কি বুঝতে পেরেছ? আমি যে বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি তা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! তা কী? তিনি বললেনঃ আমার নিকট দুজন লোক এলেন। তাঁদের একজন আমার মাথার নিকট এবং আরেকজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। তারপর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটির কী ব্যথা? তিনি উত্তর দিলেনঃ তাঁকে যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বললেনঃ কে তাঁকে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেনঃ যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবনু আসাম নামক ইয়াহূদী..

...আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সেগুলো বের করবেন না? তিনি বললেনঃ না,

**আল্লাহ আমাকে আরোগ্য ও শিফা দান করেছেন,**

মানুষের উপর এ ঘটনা থেকে মন্দ ছড়িয়ে দিতে আমি শঙ্কোচ বোধ করি। এরপর তিনি যাদুর দ্রব্যগুলোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।"

[সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী), অধ্যায়ঃ ৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب), হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৬]

online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=30353

 

ইমাম ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীর ইবনে কাসিরে লিখেছেন,

 

"...জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ ()-এর কাছে এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ () আপনি কি রোগাক্রান্ত?” রাসূলুল্লাহ () উত্তরে বললেন হ্যাঁ

হযরত জিবরাঈল (আঃ) তখন নিম্নের দু'আ দু'টি পাঠ করেনঃ

অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি সেই সব রোগের জন্যে যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট ও কুদৃষ্টি হতে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন।

এই রোগ দ্বারা সম্ভবতঃ ঐ রোগকেই বুঝানো হয়েছে যে রোগে তিনি যাদুকৃত হওয়ার পর আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল () কে সুস্থতা ও আরোগ্য দান করেন। এতে হিংসুটে ইয়াহুদীদের যাদুর প্রভাব নস্যাৎ হয়ে যায়। তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেয়া হয়। তারা চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়। রাসূলুল্লাহ () কে যাদু করা সত্ত্বেও তিনি যাদুকারীদেরকে কোন কটু কথা বলেননি এবং ধমকও দেননি। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী () কে সুস্থতা ও আরোগ্য দান করেন..."

[তাফসীর ইবনে কাসির, আল-কুরআন ১১৩:৫ আয়াতের তাফসীর হতে বিবৃত]

 

এক্ষেত্রে আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, মহান আল্লাহ তাঁর নবীর মাধ্যমে উম্মতের জন্য ব্যবহারিক দৃষ্টান্ত (practical example) দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে যাদুগ্রস্ত হয়েও আল্লাহর নিকট ভরসা রাখতে হয় ও আল্লাহর কাছে দুয়া করতে হয়! আর তাইতো রাসূল (ﷺ) এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মতকে তাঁর (আল্লাহর) নিকট দুয়া করার শিক্ষা দান করলেন যা নিম্নের হাদিসে আরও লক্ষ্যণীয়:

 

"মুহাম্মদ ইবনু মূসা আল বসরী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে,

রাসূল ()যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীরের পর বলতেনঃ

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

হে আল্লাহ, পবিত্রতা এবং প্রশংসা আপনারই; বরকতময় আপনার নাম; অতি উচ্চ আপনার মর্যাদা, আর কোন ইলাহ নেই আপনি ছাড়া। এরপর বলতেনঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا

পরে বলতেনঃ

أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

আমি পানাহ চাই আল্লাহর যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ অভিশপ্ত শয়তান ও তাঁর ওয়াসওয়াসা, দম্ভ ও যাদু টোনা থেকে।"

[সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ২৪২, ইবনু মাজাহ ৮০৪,

হাদিসের মান - সহিহ]

online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=17431

 

উল্লেখ্য যে, যাদুগ্রস্ত অবস্থায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর মাধ্যমে উম্মতের জন্য সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস এর ব্যবহারিক গুরুত্বও পেশ করেছেন। নিম্নের হাদিসটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য:

 

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: أَلَمْ تَرَ اٰيَاتٍ أُنْزِلَتِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾. وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

"‘উকবাহ্ ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ () বলেনঃ আজ রাতে এমন কিছু আশ্চর্যজনক আয়াত নাযিল হয়েছে আগে এ রকম কোন আয়াত (নাযিল) হতে দেখা যায়নি। (আর তা হলো) ‘‘কুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক’’ ‘‘কুল আঊযু বিরাব্বিন্‌না-স’’।"

[মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২১৩১, মুসলিম ৮১৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮৫, নাসায়ী ৯৫৪, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৯৬৮, তিরমিযী ২৯০২, সহীহ আল জামি১৪৯৯]

online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=56691

 

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা আবুল হাসান উবায়দুল্লাহ আল-মুবারকপুরী (রহঃ) লিখেছেন,

 

"...নাবী () জিন্-ইনসানের অনিষ্টতা থেকে বাঁচার জন্য সর্বদাই এ দুটি সূরা পাঠ করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আশ্রয় প্রার্থনার অন্যান্য দুআ যা ইতিপূর্বে পড়তেন তা ছেড়ে দিলেন।

নাবী ()-কে যাদু করলে তিনি এ দুটি সূরার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেন.."

(তথ্যসূত্র - তাহক্বীক্ব মিশকা-তুল মাসা-বীহ (তৃতীয় খণ্ড) [আরবি ও বাংলা], ব্যাখ্যা: মির্'আ-তুল মাফা-তীহ শার্হু মিশকা-তিল মাসা-বীহ,

প্রকাশনায়: হাদীস একাডেমী (বাংলাদেশ), প্রথম প্রকাশঃ মার্চ ২০১৫ ঈসায়ী, হাদিস নম্বর ২১৩১ এর শারাহ) online source - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=56691

 

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, খ্রিস্টান মিশনারী হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ লোকদের ক্রমাগত ধোঁকা দিয়ে চলেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিন। আমিন।

 

  • খ্রিস্টানদের ঈশ্বর যখন শয়তান দ্বারা আক্রান্ত!!!

 

[এখানে এই অংশের উদ্যেশ্য মোটেও কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করা নয় বরং ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণের জবাব প্রদান করা এবং সত্যের প্রচার করা। এখানে এ সংক্রান্ত তথ্যগুলো খ্রিস্ট ধর্মালম্বীদের গ্রন্থ বাইবেল থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। --ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ]

 

আমরা আগেই বলেছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) ছিলেন একজন রক্ত-মাংসের সাধারণ মানুষ। সেক্ষেত্রে তাঁর ওপর যাদুর প্রভাব অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু যখন স্বয়ং ঈশ্বরই শয়তান কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তখন এমন ঈশ্বরের ব্যাপারে আমরা কী বলতে পারি?

 

বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে উল্লেখ করা হয়েছে,

 

"রপর যীশু পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে যর্দন নদী থেকে ফিরে এলেন: আর আত্মার পরিচালনায় প্রান্তরের মধ্যে গেলেন৷  সেখানে চল্লিশ দিন ধরে দিয়াবল তাঁকে প্রলোভনে ফেলতে চাইল৷ সেই সময় তিনি কিছুই খাদ্য গ্রহণ করেন নি৷ ঐ সময় পার হয়ে গেলে যীশুর খিদে পেল৷"

(বাংলা বাইবেল, লূক ৪:১-২)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/42/4.htm#0

 

Jesus, full of the Holy Spirit, left the Jordan and was led by the Spirit into the wilderness,  where for forty days he was tempted by the devil. He ate nothing during those days, and at the end of them he was hungry.

(Bible, Luke 4:1-2)

https://www.biblegateway.com/passage/?search=Luke%204%3A1-2&version=NIV

 

একই ধরণের কথা বাইবেলের অন্যত্রও পাওয়া যায়,

 

"এরপর দিয়াবল যেন যীশুকে পরীক্ষা করতে পারে তাই আত্মা যীশুকে প্রান্তরে নিয়ে গেলেন৷"

(বাংলা বাইবেল, মথি ৪:১)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/40/4.htm#0

 

তাহলে খ্রিস্টানদের ঈশ্বরকে শয়তান ৪০ দিন ধরে উস্কানি দিল! এ কেমন ঈশ্বর যাকে শয়তানও উস্কানি দেওয়ার সুযোগ পায়!

 

 

খ্রিস্টানরা হয়ত জবাবে বলবেন যে, যীশু পূর্ণ মানব আর পূর্ণ ঈশ্বর বিধায় মানব প্রকৃতিতে তিনি সাধারণ মানুষের মত শয়তানের প্রভাবে এসেছেন, কিন্তু ঐশ্বরিক প্রকৃতির কারণে সেই প্রভাব তার কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারেনি!

ভাল কথা। কিন্তু এতে কি ঈশ্বরের মর্যাদা কমল না বাড়ল? শয়তান সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরকে উস্কানি দেওয়ার সুযোগই বা শয়তান কেন পাবে? ঈশ্বরের ক্ষমতা ও মর্যাদা কি এতই মূল্যহীন যে শয়তানের মত তুচ্ছ জীব স্বয়ং ঈশ্বরকে এসে উস্কানি দেবে?

 

তাও তর্কের খাতিরে এটা না হয় মেনে নিলাম যে, শয়তান ঈশ্বরকে উস্কানি দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ঈশ্বরের নিজেরই ইচ্ছা ছিল; সেক্ষেত্রে আমরাও বলব যে, আল্লাহর রাসূলের যাদু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে রাসূল (ﷺ)-কে পরীক্ষা করাও আল্লাহর ইচ্ছা ছিল। যদি শয়তান ঈশ্বরকে উস্কানি দিলে তাতে কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে একজন নবীও যাদু দ্বারা আক্রান্ত হলে এতে কোনো সমস্যা থাকা উচিৎ নয়!

 

দ্বিতীয়ত, শয়তান কেবল উস্কানি দিয়েই থামেনি বরং খ্রিস্টানদের ঈশ্বরকে শয়তান তুলেও নিয়ে গেছে! লূক এর ভাষ্যমতে,

 

"এরপর দিয়াবল তাঁকে একটা উঁচু জায়গায় নিয়ে গেল আর মুহূর্তের মধ্যে জগতের সমস্ত রাজ্য দেখাল৷ দিয়াবল যীশুকে বলল, ‘এই সব রাজ্যের পরাক্রম ও মহিমা আমি তোমায় দেব, কারণ এই সমস্তই আমাকে দেওযা হয়েছে, আর আমি যাকে চাই তাকেই এসব দিতে পারি৷

(বাংলা বাইবেল, লূক ৪:৫-৬)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/42/4.htm#0

 

“The devil led him up to a high place and showed him in an instant all the kingdoms of the world.  And he said to him, “I will give you all their authority and splendor; it has been given to me, and I can give it to anyone I want to.”

(Bible, Luke 4:5-6)

https://www.biblegateway.com/passage/?search=Luke%204%3A5-6&version=NIV

 

একই কথা মথির বিবৃতি থেকেও জানা যায়,

 

"দিয়াবল তখন পবিত্র নগরী জেরুশালেমের মন্দিরের চূড়ায় যীশুকে নিয়ে গেল; আর যীশুকে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে লাফ দিয়ে নীচে পড়, কারণ শাস্ত্রে তো একথা লেখা আছে: তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের তোমার উপর দৃষ্টি রাখতে আদেশ দেবেন আর তারা তোমাকে তুলে ধরবেন, য়েন পাথরের উপর পড়ে তোমার পায়ে আঘাত না লাগে৷'" (বাংলা বাইবেল, মথি ৪:৫-৬)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/40/4.htm#0

 

  • বাইবেলের বেনসন ব্যাখ্যাতে (Benson Commentary) এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

 

"...(এখানে) মূল শব্দ παραλαμβανει থেকে এটা ছাড়া আর কিছু নির্দেশিত হয় না যে, সে (শয়তান) তার সাথে তাকে (যীশুকে) নিয়ে গিয়েছিল এবং মন্দিরের চূড়ায় রেখেছিল..."

 "...the original word, παραλαμβανει, signifying no more than that he took him along with him. And setteth him on a pinnacle of the temple..."

(Benson Commentary on Matthew 4:5-7)

online source - https://biblehub.com/commentaries/matthew/4-5.htm

 

  • Vincent's Word Studies এর ব্যাখ্যাতে এই প্রসঙ্গে শাব্দিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে,

 

"নিয়ে যাওয়া (παραλαμβάνει)

পদান্বয়ী অব্যয় পদ παρά (সাথে, পাশ্ববর্তী) নির্দেশ করে 'তার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া' অথবা 'পরিচালনা'-কে। এটা সেই একই শব্দ যা অন্য তিন সুসমাচার-প্রচারকগণ ব্যবহার করেছেন আমাদের প্রভুর বাছাইকৃত শিষ্যদের রূপান্তর পাহাড় (Mount of Transfiguration)-এ নিয়ে যাওয়ার বর্ণনার ক্ষেত্রে (মথি ১৭:১; মার্ক ৯:৯; লুক ৯:২৮)।"

 "Taketh (παραλαμβάνει)

The preposition παρά (with, by the side of), implies taketh along with himself, or conducteth. It is the same word which all three evangelists use of our Lord's taking his chosen apostles to the Mount of Transfiguration (Matthew 17:1; Mark 9:9; Luke 9:28)."

(Benson Commentary on Matthew 4:5-7)

online source - https://biblehub.com/commentaries/matthew/4-5.htm

 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, শয়তান খ্রিস্টানদের ঈশ্বরকে তুলে নিয়ে নানারকম প্রলোভন দেখাচ্ছিল! বরং এটা শয়তান একবার করেই ক্ষান্ত হয়নি। সে (শয়তান) আরও একবার খ্রিস্টানদের ঈশ্বরকে তুলে নিয়ে গেল!

 

"এরপর দিয়াবল আবার তাঁকে খুব উঁচু একটা পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে জগতের সমস্ত রাজ্য ও তার সম্পদ দেখাল৷ পরে দিয়াবল যীশুকে বলল, ‘তুমি যদি আমার সামনে মাথা নত করে আমার উপাসনা কর, তবে এসবই আমি তোমায় দেব’’

(বাংলা বাইবেল (অনুবাদ: কিতাবুল মোকাদ্দস), মথি ৪:৮-৯)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/40/4.htm#0

 

যদি খ্রিস্টানরা তাদের ঈশ্বরকে ঈশ্বর না মনে করে কেবল একজন সাধারণ মানুষ মনে করে, তবে আমাদের আর কোনো আপত্তি থাকে না। কারণ একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কাল্পনিক 'যীশু' চরিত্র এরকম শয়তান দ্বারা আক্রান্ত হতেই পারে (যেহেতু ইসলামের নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং কাল্পনিক চরিত্র যীশু এর মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান)।

 

সেক্ষেত্রে চিন্তা করুন, ঈশ্বরকে শয়তান তুলে নিয়ে গেলে ঈশ্বরের ঈশ্বরত্ব বিলুপ্ত হয় না, অথচ নবী যদি স্বাভাবিক মানুষ হয়ে যাদুর দ্বারা প্রভাবিত হন, তবে নাকি নবীর নবুয়ত মিথ্যা হয়ে যায়!! এই হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান মিশনারীদের যুক্তির অবস্থা।

 

=> উল্লেখ্য যে, কেউ কেউ আবার বাইবেলের উক্ত বর্ণনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, এখানে আসলে শয়তান আক্ষরিকভাবে যীশুকে তুলে নিয়ে যায় নি! বরং এখানে বর্ণনাগুলো আসলে নির্দেশ করছে যে, শয়তান যীশুর সাথে ছিলেন মাত্র। সেক্ষেত্রেও খ্রিস্টানদের ঈশ্বর আপত্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে,

 

"এর একটি ব্যাখ্যা হল এই যে, "নিয়ে যাওয়া" শব্দটি আসলে দৈহিক স্থানান্তর বোঝায় না, এটা দ্বারা বোঝাতে পারে, নিছকই শয়তান যীশুকে এক দৃশ্যের মধ্যে নিয়ে গেছে। জন ক্যালভিন এই মতকে সমর্থন করেন এবং জেনেভা বাইবেলের ব্যাখ্যায় এই বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে..."

"One explanation for this is that the word taketh does not necessarily refer to a physical transportation, it could mean that Satan merely took Jesus in a vision. John Calvin supported this view, and the Geneva Bible made this interpretation explicit..."

source - Wikipedia, link - https://en.m.wikipedia.org/wiki/Matthew_4:8

 

 

তার মানে শয়তান খ্রিস্টানদের ঈশ্বরকে এটা সেটা দেখাচ্ছে!

 

বাইবেলের গিলস এক্সপোজিশন অব দ্যা এনটায়ার বাইবেল (Gill's Exposition of the Entire Bible) নামক ব্যাখ্যাতে এই সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে,

 

"...এটি ছিল একটি কাল্পনিক, ভ্রান্তিমূলক উপস্থাপনা যা উৎপন্ন করতে শয়তান অনুমতি পেয়েছিল। এটাকে হয়ত মনে হচ্ছিল বাস্তব যখন সে যীশুকে উঁচু একটি পাহাড়ে নিয়ে গেল যেখানে সে এমন বস্তু দেখাতে লাগল যা দৃষ্টিতে বাহ্যিক বলে মনে হয় এবং চিন্তার জগতে অভ্যন্তরীণ বলে প্রতীয়মান হয়। গোটা বিশ্ব এবং তার শোভাকে উপস্থাপন করা হয়েছিল ভ্রমরূপে।"

"...this was a fictitious, delusive representation, which Satan was permitted to make; to cover which, and that it might be thought to be real, he took Christ into an high mountain; where he proposed an object externally to his sight, and internally to his imagination, which represented, in appearance, the whole world, and all its glory."

(Gill's Exposition of the Entire Bible Commentary)

online source - https://biblehub.com/commentaries/gill/matthew/4.htm

 

তাহলে চিন্তা করুন, শয়তান, খ্রিস্টানদের ঈশ্বরের চিন্তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে! এমন সব জিনিস দেখাচ্ছে যেটা আসলে অবাস্তব! এতেও যদি খ্রিস্টানদের ঈশ্বরের ঈশ্বরত্ব বাতিল না হয়, তাহলে একজন স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে মুহাম্মাদ (ﷺ) যাদুর ভ্রমে নিপতিত হলে নবুয়তের সত্যতা বজায় থাকতে সমস্যা কোথায়??

 

শুধু এতটুকু না। আরও বাকি আছে।

 

  • শয়তান কর্তৃক প্ররোচনার এই ঘটনার এক স্থানে আমরা পাই যে, শয়তান বাইবেলের পদ (Biblical Verse) পাঠ করছে।

 

" আর যীশুকে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে লাফ দিয়ে নীচে পড়, কারণ শাস্ত্রে তো একথা লেখা আছে: তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের তোমার উপর দৃষ্টি রাখতে আদেশ দেবেন আর তারা তোমাকে তুলে ধরবেন, য়েন পাথরের উপর পড়ে তোমার পায়ে আঘাত না লাগে৷"

(বাংলা বাইবেল, মথি ৪:৬)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/40/4.htm#0

 

শয়তান এখানে বাইবেলের Book of Psalm এর ৯১ অধ্যায়ের ১১ ও ১২ নং পদ পাঠ করেছে যেখানে বলা হয়েছে,

 

" ঈশ্বর তাঁর দূতদের আজ্ঞা দেবেন এবং তুমি যেখানেই যাবে তারা তোমায় রক্ষা করবে| তোমার পা যাতে পাথরে হোঁচট না খায়, সেই জন্য ওদের হাত তোমায় ধরে থাকবে| "

(বাংলা বাইবেল, গীত সংহিতা/সামসঙ্গীত (Psalms) ৯১:১১-১২)

https://www.wordproject.org/bibles/ben/19/91.htm#0

 

এ থেকে বোঝা যায় যে, বাইবেলের জ্ঞান শয়তানের ছিল এবং একথার পক্ষে রেফারেন্স আমরা ডেভিড গুযিক (David Guzik) এর ব্যাখ্যা থেকে পেশ করলাম:

 

"...আমরা এটা আস্থা রেখে বলতে পারি যে, শয়তান নিজেই বাইবেল মুখস্থ করেছে এবং সে (বাইবেল থেকে) প্রসঙ্গ ছাড়া উদ্ধৃতি দিয়ে বিভ্রান্ত করতে এবং যাদের সে প্ররোচনা দেয়, তাদেরকে পরাস্ত করতে পারদর্শী। এখানে শয়তান উদ্ধৃতি দিয়েছিল গীতসংহিতা (Psalm) এর ৯১:১১-১২ পদগুলোর..."

 "...We can trust that the devil has memorized the Bible himself, and is an expert at quoting it out of its context to confuse and defeat those he tempts. Here the devil quoted Psalm 91:11-12..."

(Commentary of David Guliz on Matthew, Chapter 4)

online source - https://enduringword.com/bible-commentary/matthew-4/amp/

 

খ্রিস্টান মিশনারী ইসলামের সাথে প্যাগানিজমের সম্পর্ক খুঁজে পায়; কুরআনের ওহীর সাথে শয়তানের সংযোগ দেখতে পায় (নাউযুবিল্লাহ)। তো তাদেরই যুক্তিকে যদি আমরা অনুসরণ করি, তবে আমরা কি শয়তানের উক্ত কাজটির দিকে লক্ষ করে বলতে পারি না যে, শয়তান যখন বাইবেলের পদ পাঠ করছে ও শয়তানের কাছে বাইবেলের জ্ঞান আছে, তখন শয়তানের প্ররোচনায় আসলে বাইবেলের সম্পূর্ণ অংশ না হলেও বেশ কিছু অংশ বাইবেলের লেখকদের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয়েছে??? অর্থাৎ বাইবেলের বেশ কিছু অংশ শয়তানের কাছ থেকে আগত?

 

পাঠক একবারও কি এটা কোনোদিন শুনেছেন যে, শয়তান কুরআনের কোনো আয়াত তিলওয়াত করেছে???

বরং কুরআনের আয়াত তিলওয়াত করে শয়তান জ্বিনদের প্রভাব ছাড়ানো হয়। ইসলামিক পরিভাষায় একে "রুকইয়া" বলা হয়ে থাকে।

 

اِنَّہٗ لَقُرۡاٰنٌ کَرِیۡمٌ ﴿ۙ۷۷﴾

فِیۡ کِتٰبٍ مَّکۡنُوۡنٍ ﴿ۙ۷۸﴾

لَّا یَمَسُّہٗۤ اِلَّا الۡمُطَہَّرُوۡنَ ﴿ؕ۷۹﴾

"নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন, যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে, পূত-পবিত্র ছাড়া তা কেউ স্পর্শ করতে পারে না।"

(আল-কুরআন, সূরা ৫৬. আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত ৭৭-৭৯)