হাদিসে কি নারীদেরকে পুরুষের জন্য বিপর্যয়কর বা ফিতনা বলে হেয় করা হয়েছে?

হাদিসে কি নারীদেরকে পুরুষের জন্য বিপর্যয়কর বা ফিতনা বলে হেয় করা হয়েছে?

31 বার দেখা হয়েছে
শেয়ার করুন:

 

অভিযোগঃ

হাদিসে বলা হয়েছে পুরুষের জন্য সব থেকে বড় ফিতনা বা বিপর্যয়কর জিনিস হল নারী। ইসলাম এভাবেই নারীকে হেয় করেছে, ইসলাম একটি নারীবিদ্বেষী ধর্ম।

 

জবাবঃ

অভিযোগকারীরা তাদের দাবির স্বপক্ষে নিম্নোক্ত হাদিসসমূহ পেশ করেঃ

 

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا أَدَعُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ ‏"‏ ‏‏

অর্থঃ “উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক বিপর্যয়কর আর কিছু রেখে যাবো না।” [1]

 

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ ‏"‏‏.‏

অর্থঃ “উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, পুরুষের ওপরে মেয়েলোকের অপেক্ষা অন্য কোন বড় ফিতনা আমি রেখে গেলাম না।” [2]

 

এই একই হাদিসের ভিন্ন আরেকটি অনুবাদে এভাবে এসেছেঃ “পুরুষের জন্য স্ত্রীজাতি অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর কোন ফিতনা আমি রেখে গেলাম না।” [3]

 

‘ফিতনা’ দ্বারা মূলত কী বোঝানো হয়?

আলোচ্য হাদিসের মূল আরবিতে নারীদের প্রসঙ্গে ‘ফিতনা’ বা ‘ফিতনাহ’ (فِتْنَةً) শব্দটি এসেছে। কোনো কোনো অনুবাদক এই শব্দকেই ‘বিপর্যয়কর’ বলে অর্থ করেছেন যা উপরে হাদিসের অনুবাদে আমরা দেখেছি। আরবিতে ‘ফিতনাহ’ শব্দ দ্বারা মূলত কী বোঝানো হয়? আরবি ভাষার প্রসিদ্ধ অভিধান ‘লিসানুল আরব’ এ উল্লেখ করা হয়েছে–

 

 الأَزْهَرِيُّ وَغَيْرُهُ: جِمَاعُ مَعْنَى الْفِتْنَةِ الِابْتِلَاءُ وَالِامْتِحَانُ وَالِاخْتِبَارُ، وَأَصْلُهَا مَأْخُوذٌ مِنْ قَوْلِكَ فَتَنْتُ الْفِضَّةَ وَالذَّهَبَ إِذَا أَذَبْتَهُمَا بِالنَّارِ لِتُمَيِّزَ الرَّدِيءَ مِنَ الْجَيِّدِ، وَفِي الصِّحَاحِ: إِذَا أَدْخَلْتَهُ النَّارَ لِتَنْظُرَ مَا جَوْدَتُهُ

অর্থঃ "আল আজহারী এবং অন্যান্যরা বলেছেনঃ ফিতনার সামগ্রিক অর্থ হলো পরীক্ষা, যাচাই এবং পরখ করা। এর মূল উৎস হলো আপনার (আরবদের) এই কথাঃ "আমি রূপা ও সোনা আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করেছি", যখন আপনি উভয়টিকে আগুনে গলিয়ে দিলেন, যাতে নিম্নমানেরটিকে উত্তমটি থেকে পৃথক করতে পারেন। 'আস সিহাহ' (অভিধান) এ উল্লেখ আছেঃ “[ফিতনাহ হল] যখন আপনি কোনো বস্তুকে আগুনে প্রবেশ করান, যাতে তার গুণমান কেমন তা যাচাই করতে পারেন।”" [4]

 

‘মিসবাহুল মুনির’ অভিধানেও অনুরূপ কথা বলা হয়েছে –

 

وَأَصْلُ الْفِتْنَةِ مِنْ قَوْلِكَ فَتَنْتُ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ إذَا أَحْرَقْتَهُ بِالنَّارِ لِيَبِينَ الْجَيِّدُ مِنْ الرَّدِيءِ.

অর্থঃ "ফিতনাহ শব্দের মূল উৎস হলো আপনার (আরবদের) এই উক্তিঃ "আমি স্বর্ণ ও রৌপ্যকে দহন করেছি", যখন আপনি সেগুলোকে আগুনের সাহায্যে পুড়িয়েছেন যাতে মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করা যায়।" [5]

 

আবু হিলাল আল আসকারী(র.) তাঁর আরবি ভাষাবিষয়ক গ্রন্থ ‘ফুরুকুল লুগাওয়িয়্যাহ’তে উল্লেখ করেছেন—

 

« أَنَّ الْفِتْنَةَ أَشَدُّ الِاخْتِبَارِ وَأَبْلَغُهُ، وَأَصْلُهُ عَرْضُ الذَّهَبِ عَلَى النَّارِ لِتَبَيُّنِ صَلَاحِهِ مِنْ فَسَادِهِ، وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى: (يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ)، وَيَكُونُ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ، أَلَا تَسْمَعُ قَوْلَهُ تَعَالَى: (إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ)، وَقَالَ تَعَالَى: (لَأَسْقَيْنَاهُمْ مَاءً غَدَقًا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ)، فَجَعَلَ النِّعْمَةَ فِتْنَةً لِأَنَّهُ قَصَدَ بِهَا الْمُبَالَغَةَ فِي اخْتِبَارِ الْمُنْعَمِ عَلَيْهِ بِهَا، كَالذَّهَبِ إِذَا أُرِيدَ الْمُبَالَغَةُ فِي تَعَرُّفِ حَالِهِ أُدْخِلَ النَّارَ، وَاللهُ تَعَالَى لَا يَخْتَبِرُ الْعَبْدَ لِتَغْيِيرِ حَالِهِ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ، وَإِنَّمَا الْمُرَادُ بِذَلِكَ شِدَّةُ التَّكْلِيفِ »

অর্থঃ "ফিতনাহ হলো কঠোরতম ও চূড়ান্ত পরীক্ষা। এর মূল আভিধানিক অর্থ হলো সোনার ভালো-মন্দ যাচাই করার জন্য তা আগুনের উপর উপস্থাপন করা। এ [শব্দ] থেকেই মহান আল্লাহর বাণী এসেছেঃ "সেদিন তাদের আগুনের উপর দগ্ধ করা হবে।" (সুরা যারিয়াত ৫১ : ১৩) এটি কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আপনি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনেননিঃ "তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি ফিতনাহ (পরীক্ষাস্বরূপ) ।" (সুরা তাগাবুন ৬৪ : ১৫) আল্লাহ তা’আলা আরো বলেনঃ "তবে আমি তাদেরকে প্রচুর বৃষ্টিপাত দিতাম, যাতে আমি এর দ্বারা তাদের পরীক্ষা (ফিতনাহ) করতে পারি।“ (সুরা জিন ৭২ : ১৬-১৭) এখানে তিনি নেয়ামত বা অনুগ্রহকে ফিতনা হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ এর মাধ্যমে নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করাই তাঁর উদ্দেশ্য। যেমন সোনার প্রকৃত অবস্থা গভীরভাবে জানার ইচ্ছা করলে তা আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। আর মহান আল্লাহ বান্দাকে ভালো বা মন্দের ক্ষেত্রে তার অবস্থা পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা করেন না, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো দায়িত্ব ও কর্তব্যের কঠোরতা [উক্ত পরিস্থিতিতে বান্দা কেমন আচরণ করে তা প্রকাশ করা]।" [6]

 

অর্থাৎ এই হাদিসের উদ্দেশ্য হল পুরুষের জন্য নারীরা সর্বাপেক্ষা বড় পরীক্ষা। ‘ফিতনাহ’ শব্দের মূল অর্থ পরীক্ষা বিধায় এই হাদিসের ইংরেজি অনুবাদগুলোতে একে ‘Trial’ বলে অর্থ করা হয়েছে।

 

Narrated Usama bin Zaid:  The Prophet (ﷺ) said, "After me I have not left any trial more severe to men than women." [7]

 

আমরা ভাষাগত এই আলোচনা থেকে আরো দেখলাম ‘ফিতনাহ’মাত্রই মন্দ জিনিসকে বোঝায় না বরং এর মূল অর্থ হল পরীক্ষা। আল কুরআনের মাঝে পরিবার ও সন্তান-সন্ততিকে এমনকি আল্লাহর নেয়ামতের ক্ষেত্রেও ‘ফিতনাহ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অথচ এগুলো আদৌ মন্দ কিছু নয়।

 

কিন্তু এই হাদিসে তো নারীদের ফিতনার সাথে ‘ক্ষতিকর’ শব্দটিরও উল্লেখ আছে

আলোচ্য হাদিসে নারীদের ব্যাপারে বলা হয়েছে فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ অর্থাৎ পুরুষদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ফিতনা বা পরীক্ষা। এর দ্বারা কি বোঝা যায় নারীরা সত্তাগতভাবেই ক্ষতিকর বা খারাপ?

এর উত্তর হলঃ না।

নারীজাতি আল্লাহ তা’আলার অসামান্য সুন্দর ও মনোরম সৃষ্টি, সুবহানাল্লাহ। নারীদের সৌন্দর্য ও কোমলতা পুরুষকে অত্যাধিক আকৃষ্ট করে। আর এই আকর্ষণের বশবর্তী হয়ে পুরুষজাতি অনেক সময়ে হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে ভুল কাজ করে বা বড় বড় গুনাহে লিপ্ত হয়। [8] এ কারণেই নারীদেরকে পুরুষের জন্য পরীক্ষা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে—

 

يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ ‏"‏ ‏.‏ ‏"

অর্থঃ “আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অবশ্যই দুনিয়াটা চাকচিক্যময় মিষ্টি ফলের মতো আকর্ষণীয়। আল্লাহ তা’আলা সেখানে তোমাদেরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। তিনি লক্ষ্য করতেছেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করো। তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সতর্ক থেকো। কেননা বনী ইসরাঈলদের মাঝে প্রথম ফিতনাহ নারীকেন্দ্রিক ছিল।” [9]

 

এই পরীক্ষায় অনেক পুরুষই অকৃতকার্য হয় এবং গুনাহে লিপ্ত হয়। এ কারণেই এই পরীক্ষা হল পুরুষদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর পরীক্ষা। এর অর্থ এই না যে নারীরাই এখানে অনিষ্টকর বা পাপী। যে পাপ করবে, পাপী হবে সে। পুরুষ যদি এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, পাপ তার নিজের ঘাড়েই বর্তাবে। নারী যদি পাপে জড়িত না হয়, তার প্রতি কোনো নিন্দা বা পাপ নেই। কোনো প্রশ্নপত্র যদি কঠিন হয় আর পরীক্ষার্থী যদি তাতে অকৃতকার্য হয় এর মানে এই না যে প্রশ্নটাই খারাপ। বরং কোনো পরীক্ষার্থী খারাপ ফলাফল করলে সকল দায়ভার তার নিজের। উত্তম শিক্ষকমাত্রই পরীক্ষার্থীদেরকে কঠিন প্রশ্নের ব্যাপারে সতর্ক করবেন যাতে সে ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হাদিসে যেমন পুরুষদেরকে নারীর ফিতনা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। মুহাদ্দিসগণও আলোচ্য হাদিস থেকে এই ব্যাখ্যাই করেছেন যে এর দ্বারা আদৌ এমনটি বোঝায় না যে নারীরা সত্তাগতভাবে খারাপ বা অশুভ। মুহাদ্দিসদের আলোচনা একটু পরেই উল্লেখ করা হবে, ইন শা আল্লাহ।  

 

আরো একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যেতে পারে। ডায়বেটিস রোগীর জন্য মিষ্টি হল ক্ষতিকর বা বিপর্যয়কর বস্তু। মিষ্টি ডায়বেটিস রোগীদের জন্য সব থেকে বড় পরীক্ষার একটি। অনেক ডায়বেটিস রোগীই লোভ সামলাতে না পেরে সবার চোখের আঁড়ালে রাতের অন্ধকারে নিজের বাড়ির ফ্রিজ থেকে চুরি করে মিষ্টি খান। কিন্তু এর মানে কি এই যে মিষ্টি একটা খারাপ খাবার? উত্তর হল না। এখানে খারাপ হল ডায়বেটিস রোগ, যে কারণে মিষ্টি খেলে এই রোগের রোগীদের ক্ষতি হতে পারে। তাই ডাক্তাররা ডায়বেটিস রোগীদের মিষ্টি থেকে সতর্ক করেন যাতে লোভে পড়ে ডায়বেটিস আক্রান্তরা মিষ্টি খেয়ে নিজেদের ক্ষতি না করেন। এখানে ডাক্তাররা মোটেও ‘মিষ্টিবিদ্বেষী’ না বা মিষ্টিকে তুচ্ছ করেন না। বরং রোগীদের কল্যাণকামী হিসেবে এ থেকে সতর্ক করেন। আলোচ্য হাদিসেও নবী করিম (ﷺ) আদৌ নারীদের হেয় করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে পুরুষের জন্য ফিতনা বলেননি। বরং পুরুষদেরকে গুনাহে জড়িত হওয়া থেকে সতর্ক করতে তিনি এমনটি বলেছেন।

 

উপরে আমরা মিষ্টির উদাহরণ দিয়েছি শুধুমাত্র সহজে বুঝবার জন্য। এর দ্বারা নারীদেরকে খাদ্যবস্তুর সাথে তুলনা দিয়ে তাদেরকে তুচ্ছ করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই, নাউযুবিল্লাহ। নারী ও পুরুষ উভয়ই আল্লাহর মর্যাদাকর সৃষ্টি।

 

এই হাদিসে কি নারীদের খারাপ বলা হয়েছে বা হেয় করা হয়েছে?

আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবন হাজার(র.) তাঁর সুবিখ্যাত ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—

 

قَوْلُهُ (مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ) قَالَ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ السُّبْكِيُّ: فِي إِيرَادِ الْبُخَارِيِّ هَذَا الْحَدِيثَ عَقِبَ حَدِيثَيِ ابْنِ عُمَرَ، وَسَهْلٍ بَعْدَ ذِكْرِ الْآيَةِ فِي التَّرْجَمَةِ إِشَارَةً إِلَى تَخْصِيصِ الشُّؤْمِ بِمَنْ تَحْصُلُ مِنْهَا الْعَدَاوَةُ وَالْفِتْنَةُ، لَا كَمَا يَفْهَمُهُ بَعْضُ النَّاسِ مِنَ التَّشَاؤُمِ بِكَعْبِهَا أَوْ أَنَّ لَهَا تَأْثِيرًا فِي ذَلِكَ، وَهُوَ شَيْءٌ لَا يَقُولُ بِهِ أَحَدٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ، وَمَنْ قَالَ إِنَّهَا سَبَبٌ فِي ذَلِكَ فَهُوَ جَاهِلٌ، وَقَدْ أَطْلَقَ الشَّارِعُ عَلَى مَنْ يَنْسُبُ الْمَطَرَ إِلَى النَّوْءِ الْكُفْرَ فَكَيْفَ بِمَنْ يَنْسُبُ مَا يَقَعُ مِنَ الشَّرِّ إِلَى الْمَرْأَةِ مِمَّا لَيْسَ لَهَا فِيهِ مَدْخَلٌ، وَإِنَّمَا يَتَّفِقُ مُوَافَقَةَ قَضَاءٍ وَقَدَرٍ فَتَنْفِرُ النَّفْسُ مِنْ ذَلِكَ، فَمَنْ وَقَعَ لَهُ ذَلِكَ فَلَا يَضُرُّهُ أَنْ يَتْرُكَهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَعْتَقِدَ نِسْبَةَ الْفِعْلِ إِلَيْهَا. قُلْتُ: وَقَدْ تَقَدَّمَ تَقْرِيرُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ الْجِهَادِ

অর্থঃ “তাঁর [নবী (ﷺ)] উক্তি {আমি আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর আর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি}: শায়খ তাকিউদ্দীন আস সুবকী(র.) বলেনঃ অধ্যায়ের শিরোনামে আয়াতের উল্লেখের পর ইমাম বুখারী(র.) কর্তৃক ইবন উমার(রা.) ও সাহলের(রা.) হাদিসের পরপরই এই হাদিসটি উপস্থাপন করার মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, অশুভ লক্ষণ নির্দিষ্ট করে তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যার থেকে শত্রুতা ও ফিতনা সৃষ্টি হয়। কিছু মানুষ যেমনটা মনে করে যে তার (নারীজাতির) পদক্ষেপের মধ্যেই অশুভ কিছু রয়েছে কিংবা এই অশুভ ঘটনার পেছনে নারীর নিজস্ব কোনো প্রভাব রয়েছে - বিষয়টি আদৌ তেমন নয়। আলেমদের মধ্যে কেউই এমন কথা বলেন না। আর যে ব্যক্তি মনে করে নারী এসবের মূল কারণ, সে একজন মূর্খ। শরিয়ত প্রণেতা তো সেই ব্যক্তির ওপর কুফরীর হুকুম দিয়েছেন যে বৃষ্টির আগমনকে নক্ষত্রের প্রভাবের দিকে সম্পৃক্ত করে (নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্বাস করে)। [10] তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যে কোনো মন্দের সম্পর্ক নারীর দিকে জুড়ে দেয়, অথচ সেই মন্দের পেছনে নারীর কোনো ভূমিকাই নেই? আসলে এটি তাকদির বা আল্লাহর ফয়সালার সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে যায় মাত্র, যার ফলে মানুষের মনে এমন বিরাগ তৈরি হয়। সুতরাং যার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে, তার জন্য উক্ত স্ত্রীকে পরিত্যাগ করা ক্ষতিকর নয়, তবে এ বিশ্বাস রাখা যাবে না যে সেই কার্যাবলি নারীর কারণে ঘটেছে। আমি (গ্রন্থকার) বলছিঃ জিহাদ অধ্যায়ে এ বিষয়ের ব্যাখ্যা ইতিপূর্বেও গত হয়েছে।” [11]

 

এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ কখনোই এমনটি বলেননি নারীর মাঝেই অশুভ কিছু আছে। এই হাদিস থেকে নারীজাতিকে অশুভ বলে মনে করা মূর্খতা ও হাদিসের অপব্যাখ্যা। নক্ষত্রকে বৃষ্টির কারণ মনে করা ব্যক্তি যেমন কুফরী করে, নারীজাতির প্রতি মন্দকে জুড়ে দেয়া ব্যক্তিও তেমনি বিভ্রান্তির মাঝে অবস্থান করে।

 

মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম (হাফি.) অনূদিত রিয়াদুস সলিহীন গ্রন্থে এই হাদিসের ব্যাখ্যা অংশে উল্লেখ করা হয়েছে—

 

“ফিতনামাত্রই মন্দ নয়
সুতরাং সাধারণভাবে 'ফিতনা' শব্দটিকে নেতিবাচক অর্থে নেওয়া ঠিক নয়। অনেকেই এ শব্দটি শুনলেই মন্দ অর্থের দিকে চলে যায়। নারীকে ফিতনা বলা হয়েছে দেখে হয় নারীর প্রতি খারাপ ধারণা করে অথবা আপত্তি করে বসে যে, নারীকে কেন এরূপ বলা হবে। তাদের ধারণা এর দ্বারা নারীকে হেয় করা হয়েছে। এসবই ভুল ধারণা। না নারী আল্লাহর কোনও মন্দ সৃষ্টি, আর না ফিতনা বলে তাকে হেয় করা উদ্দেশ্য। ফিতনা অর্থ যখন পরীক্ষা, তখন নারীকে ফিতনা বললে সে ছোট হয়ে যাবে কেন?


কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলা এমন অনেক কিছুকেই পরীক্ষার বস্তু সাব্যস্ত করেছেন, মৌলিকভাবে যা মন্দ নয় এবং যা অর্জন করাও দূষণীয় নয়; বরং তা অর্জনে উৎসাহই দেওয়া হয়েছে। মন্দ হলে তা অর্জনে উৎসাহ দেওয়া হবে কেন? যেমন ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ (জেনে রেখ, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা)। {সুরা তাগাবুন ৬৪ : ১৫}
অর্থাৎ পরীক্ষা করা হয় যে, বান্দা এ মোহে পড়ে আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যায়,নাকি অন্তরে তাঁর স্মরণ জাগ্রত রেখে তাঁর হুকুম মোতাবেক এতে লিপ্ত হয়?
তো এ আয়াতে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে যেমন ফিতনা বলা হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন আয়াত ও হাদীছে একে নিআমতও সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোনও কোনও আয়াতে অর্থ-সম্পদকে 'আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ' নামে অভিহিত করা হয়েছে। এবং সে অনুগ্রহ অর্জনের জন্য আদেশ ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এমনিভাবে বিবাহকে সুন্নত করা হয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনও বলেছেন যে, সন্তান-সন্ততি বেশি হয় এমন নারীদের বিবাহ করবে।


অতএব ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে ফিতনা বলার দ্বারা যেমন তা মন্দ হয়ে যায়নি, তেমনি নারীদের ফিতনা সাব্যস্ত করার দ্বারাও তারা ছোট হয়নি। মূলকথা হচ্ছে সন্তান-সন্ততি ও অর্থ-সম্পদ দ্বারা যেহেতু মানুষকে পরীক্ষা করা হয়, তাই তাদের ফিতনা তথা পরীক্ষা নামে অভিহিত করা হয়েছে। নারীদের বিষয়টাও এরকমই।

নারীর মধ্যে আকর্ষণের আধিক্য ও তার কারণ
আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার সবকিছু দ্বারাই বান্দাকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করেন বলে তার মধ্যে প্রচণ্ড আকর্ষণও রেখেছেন। সেইসঙ্গে তার প্রতি বান্দার অন্তরেও রেখেছেন ঝোঁক ও আসক্তি। যেমন ইরশাদ হয়েছে 
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ 'মানুষের জন্য ওইসকল বস্তুর আসক্তিকে মনোরম করা হয়েছে, যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা মোতাবেক অর্থাৎ নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত সোনা-রুপা, চিহ্নিত অশ্বরাজি, চতুষ্পদ জন্তু ও ক্ষেত-খামার। {সুরা আলে ইমরান ৩ : ১৪}


যে বস্তুর চাহিদা ও প্রয়োজন যত বেশি, তার প্রতি আসক্তিও তত তীব্র। এ আসক্তির প্রয়োজনও ছিল। অন্যথায় মানবজীবন অচল হয়ে যেত। আসক্তি না থাকলে কে শুধু শুধু এসবের বোঝা বইত? কিংবা কে অহেতুক এসব অর্জনের জন্য কঠিন কঠিন ঝুঁকি গ্রহণ করত? বলাবাহুল্য, এর অর্জন থেকে বিরত থাকা বা এর বোঝা বহন থেকে দূরে থাকার পরিণাম কুমারব্রত পালন ও বৈরাগ্য জীবনযাপন। কুমারব্রত ও বৈরাগ্য জীবনের পরিণাম মানব প্রজন্মের সচলতা থেমে যাওয়া। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা কিয়ামত পর্যন্ত একে অব্যাহত রাখা। সে লক্ষ্যেই ওই আকর্ষণ ও আসক্তি। তবে কোনও কিছুরই সীমালঙ্ঘন কল্যাণকর নয়। আল্লাহ তাআলা পার্থিব সবকিছুর মধ্যে যে আকর্ষণ ও আসক্তি রেখেছেন, তাতেও সীমারক্ষা জরুরি। অন্যথায় লাগামহীন লিপ্ততা মানুষের ইহলোক বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং পরকাল করবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত। সেই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে শরীআতের ব্যবস্থা। যে আকর্ষণ ও আসক্তি শরীআত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সেটাই সীমার মধ্যে থাকে। আর যা শরীআত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় তা সীমা হারায়।
উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা যেসব বস্তুর আসক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তার প্রত্যেকটিই কল্যাণকর, যদি সে আসক্তিকে সীমার মধ্যে রাখা হয় তথা শরীআত দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অন্যথায় এর প্রত্যেকটিই বান্দার পক্ষে ক্ষতিকর।


লক্ষণীয়, এ আয়াতে আকর্ষণ ও আসক্তির তালিকায় সবার আগে রাখা হয়েছে নারীকে। এর কারণ এগুলোর মধ্যে তার প্রয়োজনই সবচেয়ে বেশি। মানব প্রজন্মের সচলতায় তার ভূমিকাই সর্বাধিক। তার মধ্যে যদি আকর্ষণ না রাখা হত, তবে কেউ তার দিকে ঝুঁকত না। পরিণাম হত প্রজন্মের পরিসমাপ্তি।
যেহেতু নারীর প্রয়োজন সর্বাপেক্ষা বেশি আর এ কারণে তার প্রতি আকর্ষণ ও আসক্তিও সবচেয়ে তীব্র, তাই এর পরীক্ষাও সবচেয়ে কঠিন। অনেকেই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। ফলে অশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়, তারা অভাবনীয় কল্যাণের অধিকারী হয়।

নারী-সম্পর্কিত পরীক্ষায় পুরুষদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ
এ ভূমিকাটি যথাভাবে উপলব্ধি করতে পারলে হাদীছটির অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা সহজ হবে। হাদীছটিতে ইরশাদ হয়েছে 
ما تركت بعدي فتنة هي أضر على الرجال من النساء 'আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিকতর ক্ষতিকর পরীক্ষার বিষয় কিছু রেখে যাইনি'। যেহেতু মানবপ্রজন্ম রক্ষার স্বার্থে দুনিয়ায় নারীর প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশি আকর্ষণ ও আসক্তি রাখা হয়েছে, তাই তার দ্বারা বান্দার যে পরীক্ষা নেওয়া হয়, স্বাভাবিকভাবেই অন্যসব পরীক্ষার তুলনায় তা অনেক বেশি কঠিন। বেশিরভাগ মানুষই এতে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। ফলে অধিকতর আসক্তির কারণে এর দ্বারা তারা ক্ষতিগ্রস্তও বেশি হয়।


বলাবাহুল্য, তাদের সে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য দায়ী নারী নয়; বরং যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা নিজেরাই। নারীর প্রতি আসক্তি বেশি রাখা হয়েছে তাদেরই কল্যাণে। কিন্তু তারা শরীআত দ্বারা আসক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই ক্ষতির শিকার হয়েছে। দোষটা তো তারই হল। এ কারণেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদের সাবধান করেছেন তারা যেন আসক্তির বেসামাল ব্যবহার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা যেন ভুলে না যায় যে, তাদের মনে নারীর প্রতি বেশি আসক্তি রাখার দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
” [12]

 

পুরুষরাও নারীদের জন্য ফিতনা

কোনো কোনো মুহাদ্দিস অপরাপর দলিল থেকে এটিও উল্লেখ করেছেন নারীরা যেমন পুরুষদের জন্য ফিতনা, পুরুষরাও নারীদের জন্য ফিতনা।

 

ইমাম ইবন রজব হাম্বলী(র.) উল্লেখ করেছেন,

 

وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْهُ قَالَ: " اتَّقُوا النِّسَاءَ، فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ ". وَفِي التِّرْمِذِيِّ أَنَّهُ قَالَ: " لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةٌ، وَفِتْنَةُ أُمَّتِي الْمَالُ ". وَقَدْ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: (وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا) الفرقان: ٢٠، فَالرَّجُلُ فِتْنَةٌ لِلْمَرْأَةِ، وَالْمَرْأَةُ فِتْنَةٌ لِلرَّجُلِ، وَالْغَنِيُّ فِتْنَةٌ لِلْفَقِيرِ، وَالْفَقِيرُ فِتْنَةٌ لِلْغَنِيِّ، وَالْفَاجِرُ فِتْنَةٌ لِلْبَرِّ 

 অর্থঃ "এবং সহীহ মুসলিমে তাঁর [নবী(ﷺ)] থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ "তোমরা নারীজাতি থেকে সতর্ক থাকো, কেননা বনী ইস্রাঈলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীদের নিয়ে।" আর তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ "নিশ্চয়ই প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটি ফিতনা রয়েছে, আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো সম্পদ।" মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "আর আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য ফিতনা স্বরূপ করেছি; তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে? আর তোমার প্রতিপালক হলেন সর্বদ্রষ্টা।" (সুরা ফুরকান ২৫ : ২০)। সুতরাং পুরুষ নারীর জন্য ফিতনা এবং নারী পুরুষের জন্য ফিতনা, ধনী দরিদ্রের জন্য ফিতনা এবং দরিদ্র ধনীর জন্য ফিতনা, আর পাপাচারী পুণ্যবানের জন্য ফিতনা।" [13]

 

প্রাচীন কিছু তাফসিরের উদ্ধৃতি দিয়ে এ প্রসঙ্গে শায়খ আব্দুর রহিম আত ত্বহহান উল্লেখ করেছেন,

 

فَكَمَا أَنَّ أَعْظَمَ فِتْنَةٍ لِلرَّجُلِ الْمَرْأَةُ، فَأَعْظَمُ فِتْنَةٍ لِلْمَرْأَةِ أَيْضًا الرَّجُلُ. وَالأَمْرُ صَحِيحٌ، وَقَدْ ثَبَتَ مَعْنَى هَذَا فِي تَفْسِيرِ ابْنِ أَبِي حَاتِمٍ وَتَفْسِيرِ ابْنِ الْمُنْذِرِ. وَالأَثَرُ رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الإِيمَانِ» عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ: خُلِقَ الرَّجُلُ مِنَ الأَرْضِ، فَجُعِلَتْ نَهْمَتُهُ فِيهَا، يُحِبُّ أَنْ يَتَمَلَّكَ، وَأَنْ يَبْنِيَ، وَأَنْ يَكُونَ لَهُ الْعَقَارُ وَالْمَزَارِعُ. وَخُلِقَتِ الْمَرْأَةُ مِنَ الرَّجُلِ، فَجُعِلَتْ نَهْمَتُهَا فِيهِ، فَاحْبِسُوا نِسَاءَكُمْ. الْمَرْأَةُ لَا يَهْدَأُ بَالُهَا وَلَا يَقِرُّ قَرَارُهَا إِلَّا إِذَا كَانَتْ فِي كَنَفِ رَجُلٍ وَتَحْتَ رِعَايَتِهِ، وَإِذَا حَصَلَتْ هَذَا الرَّجُلَ حَصَلَتْ وَطَرَهَا مِنَ الْحَيَاةِ، إِذَا حَصَلَتْ هَذَا الرَّجُلَ حَصَلَتْ وَطَرَهَا. أَمَّا الرَّجُلُ حَقِيقَةً مَعَ مَيْلِهِ لِلْمَرْأَةِ يُحِبُّ أَيْضًا أَنْ يَتَمَلَّكَ وَأَنْ يَكُونَ لَهُ كَذَا وَكَذَا مِنَ الْعِمَارَاتِ، الْمَرْأَةُ لَا تَسْأَلُ عَنْ شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ، إِذَا حَصَلَتْ بَعْلًا جَعَلَتْ نَهْمَتُهَا فِي الرَّجُلِ، فَاحْبِسُوا نِسَاءَكُمْ؛ لِأَنَّ الْفِتْنَةَ مُشْتَرَكَةٌ مِنَ الْجَانِبَيْنِ، هُوَ يَمِيلُ إِلَيْهَا فَهِيَ بَعْضٌ مِنْهُ، وَهِيَ تَمِيلُ إِلَيْهِ فَهُوَ أَصْلُهَا، فَاحْبِسُوا نِسَاءَكُمْ. نَعَمْ إِخْوَتِي الْكِرَامُ: إِنَّ الْمَيْلَ كَمَا قُلْتُ بَيْنَهُمَا مُشْتَرَكٌ، فَأَعْظَمُ فِتْنَةٍ عَلَى الرَّجُلِ الْمَرْأَةُ.

অর্থঃ "যেমন পুরুষের জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা নারী, তেমনি নারীর জন্যও সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো পুরুষ। এই কথাটি সত্য এবং এর মর্মার্থ তাফসির ইবন আবি হাতিম ও তাফসির ইবনুল মুনযিরে প্রমাণিত। ইমাম বায়হাকী (র.) 'শুআবুল ঈমান' এ আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ পুরুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তার আকাঙ্ক্ষা মাটির মধ্যেই রাখা হয়েছে। সে মালিকানা লাভ করতে, নির্মাণ কাজ করতে এবং স্থাবর সম্পত্তি ও খামার বা বাগানের অধিকারী হতে ভালোবাসে। আর নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষ থেকে, তাই তার আকাঙ্ক্ষা পুরুষের মধ্যেই রাখা হয়েছে। অতএব, তোমাদের নারীদের আগলে রাখো। একজন নারী ততক্ষণ পর্যন্ত মানসিক প্রশান্তি ও স্থিরতা লাভ করে না, যতক্ষণ না সে কোনো পুরুষের আশ্রয়ে ও তত্ত্বাবধানে থাকে। যখন সে এই পুরুষকে পেয়ে যায়, তখন সে জীবনের চরম লক্ষ্য অর্জন করে। এই পুরুষকে পাওয়ার মাধ্যমেই সে তার কাম্য বস্তু লাভ করে। অথচ পুরুষ প্রকৃতপক্ষেই নারীর প্রতি আসক্ত হওয়া সত্ত্বেও স্থাবর সম্পদের মালিক হতে এবং বিভিন্ন অট্টালিকার অধিকারী হতে ভালোবাসে। নারী এসবের কিছুই চায় না, সে যখন স্বামী পেয়ে যায়, তখন তার সমস্ত আকাঙ্ক্ষা পুরুষের মধ্যেই নিবদ্ধ করে। সুতরাং তোমাদের নারীদের আগলে রাখো, কারণ ফিতনা উভয় পক্ষ থেকেই সমান। পুরুষ নারীর প্রতি ঝুঁকে থাকে কারণ নারী তারই একটি অংশ, আর নারী পুরুষের প্রতি ঝুঁকে থাকে কারণ পুরুষ তার মূল। হ্যাঁ আমার সম্মানিত ভাইয়েরা, আমি যেমনটি বলেছি, পরস্পরের প্রতি এই আকর্ষণ উভয় পক্ষ থেকেই বিদ্যমান। সুতরাং পুরুষের জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো নারী।" [14]

 

হাদিসে উল্লেখিত তথ্যের বাস্তবতা

সৃষ্টিগতভাবেই নারী আর পুরুষ উভয়েই একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু নারীদের প্রতি পুরুষদের যেমন উদগ্র কামনা থাকে, পুরুষদের প্রতি নারীদের কামনার প্রকৃতি সে রকম হয় না। বিখ্যাত Sage Journals-এর Personality and Social Psychology Review জার্নালে ২০০১ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত তিনজন মার্কিন মনোবিজ্ঞানীর একটি যৌথ গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা বা তাড়না অনেক বেশি ঘনঘন ও তীব্র হয়ে থাকে। পুরো বিশ্লেষণে এর বিপরীত কোনো প্রমাণ (যা নির্দেশ করে নারীদের যৌন তাড়না পুরুষদের চেয়ে বেশি) পাওয়া যায়নি। [15]

 

নারীর প্রতি পুরুষের যে উদগ্র কামনা, এর ফলাফল সমাজে অনেকভাবে দেখা যায়। পুরুষরা বাণিজ্যিক ও বিভিন্ন কারণে নারীদেরকে যৌনবস্তু ও পণ্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA) এর 'টাস্ক ফোর্স অন দ্য সেক্সুয়ালাইজেশন অব গার্লস'-এর একটি বিস্তারিত ও প্রামাণিক গবেষণা প্রতিবেদনের শিরোনাম হলো "Report of the APA Task Force on the Sexualization of Girls"। এই প্রতিবেদনে আধুনিক গণমাধ্যম, পপ সংস্কৃতি এবং সামাজিক পরিবেশ কিভাবে নারী ও কিশোরীদের কেবল যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করে এবং তাদের অবমূল্যায়ন করে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। [16] এই বাস্তবতা বুঝবার জন্য আসলে গবেষণাপত্র বা প্রতিবেদনেরও দরকার নেই। চলচ্চিত্র, গানসহ বিভিন্ন বিনোদনের মাধ্যমে নারীকে কতো ব্যাপক পরিসরে যৌন উত্তেজকভাবে ও পণ্যের আকারে তুলে ধরা হয়, এই ব্যাপারে কম-বেশি সকলেরই ধারণা আছে। নারীরাও পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয় ও পুরুষকে কামনা করে কিন্তু পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণের প্রকৃতি ভিন্ন। এ কারণে পুরুষকে বিনোদনের মাধ্যমে সাধারণত এভাবে তুলে ধরা হয় না। এই বিষয়গুলো লক্ষ করলে হাদিসে পুরুষদেরকে কেন নারীর ফিতনা বা পরীক্ষা থেকে সতর্ক করা হয়েছে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। পুরুষরা নারীর পরিত উদগ্র এই আকর্ষণের কারণেই এভাবে গুনাহের পর গুনাহে লিপ্ত হয়ে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

 

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৮৪ জন ছাত্রের ওপর একটি পরীক্ষা চালান। একটি কক্ষে তাদের সাথে একজন সুন্দরী অপরিচিত নারীকে রাখা হয়। পাঁচ মিনিট পর পুরুষদের লালা (Saliva) পরীক্ষা করে তাদের শরীরে 'কর্টিসল' নামক হরমোনের মাত্রা মাপা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, দুজন পুরুষ যখন একসাথে কক্ষে থাকে, তখন তাদের কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একজন পুরুষ যখন কোনো সুন্দরী নারীর সাথে মাত্র পাঁচ মিনিট একা সময় কাটায়, তখন তার শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের মতে, একজন পুরুষ যখন তার চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় কোনো নারীর মন জয় করার চেষ্টা করে, তখন তার মধ্যে যে পরিমাণ মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, তা বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেবার সময়ে যে ধরণের তীব্র মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় এর সমান। [17] [18]

 

কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষক মার্গো উইলসন এবং মার্টিন ডালির ২০০৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আকর্ষণীয় নারীর ছবি দেখার পর পুরুষদের মধ্যে ভবিষ্যতের বড় মাপের লাভের চেয়ে তাৎক্ষণিক ছোট সুবিধার পেছনে ছোটা বা ভবিষ্যৎ অবমূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে পুরুষদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার ক্ষমতা এবং যৌক্তিক চিন্তাধারা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। তারা ভবিষ্যতের কথা কম ভেবে তাৎক্ষণিক বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। তবে আকর্ষণীয় বিপরীত লিঙ্গের ছবি দেখার ফলে নারীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। [19]

 

নেদারল্যান্ডসের রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক যোহান সি. কারেমান্স, থিজ ভেরভেইমেরেন, টিলা এম. প্রংক এবং মেইকে রেইটসমা এর একটি গবেষণাপত্র ২০০৯ সালে Journal of Experimental Social Psychologyতে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে পুরুষরা যখন বিপরীত লিঙ্গের বা আকর্ষণীয় নারীর সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের জ্ঞানগত কার্যক্ষমতা (cognitive functioning), মনোযোগ এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে হ্রাস পায়। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখিয়েছেন, পুরুষরা নারীদের সামনে নিজেদের উপযুক্ত হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে অবচেতনভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যা তাদের মানসিক সক্ষমতাকে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। [20]

 

রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আরো একটি গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে পুরুষদের সাথে নারীর কোনো সরাসরি মেলামেশা বা শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই, কেবল একজন নারীর সাথে যোগাযোগের সম্ভাবনা বা নারীর দ্বারা মূল্যায়িত হওয়ার পূর্বাভাস বা প্রত্যাশামাত্রই পুরুষদের জ্ঞানগত কর্মক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মনোযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যা নারীদের ক্ষেত্রে ঘটে না। অর্থাৎ কেবল নারীর সান্নিধ্যের বা যোগাযোগের প্রত্যাশাই পুরুষদের মানসিক একাগ্রতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করতে পারে। [21]

 

নারীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বা নারীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে পুরুষেরা যেমন মহাকাব্য রচনা করতে পারে, নারীর জন্য পুরুষরা যুদ্ধ করে পৃথিবী ধ্বংস করে দিতেও উদ্যত হতে পারে। মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা পুরুষের এই প্রকৃতির কথা খুব ভালো করেই জানেন। আর এ কারণেই আল্লাহর বার্তাহক মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর উম্মতকে এই মহাফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন। এর মাঝে কোনো নারীবিদ্বেষ নেই বরং পুরুষের প্রকৃতি বিবেচনা করে তার প্রতি সতর্কতা রয়েছে। 

 

উপসংহারঃ

উপরিউক্ত ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, মুহাদ্দিসগণের ব্যাখ্যা এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিষ্কার যে, আলোচ্য হাদিস নিয়ে ইসলামবিরোধীদের দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিপূর্ণ। ইসলামবিদ্বেষীদের এই অভিযোগ মূলত শব্দের প্রাসঙ্গিক অর্থ না জেনে এবং হাদিসের মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে তৈরি করা ভ্রান্ত বয়ানমাত্র। আলোচ্য হাদিস নারীকে অবমূল্যায়ন করে না বরং পুরুষকে তার আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে সংযমী ও নৈতিক জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা দেয়। আমাদের সামগ্রিক আলোচনার উপসংহারে বলা যায় –

 

১। আরবি ভাষায় 'ফিতনাহ' মানেই অশুভ ও নিকৃষ্ট বস্তু নয়, বরং এর মূল অর্থ হলো পরীক্ষা বা যাচাই করা। পবিত্র কুরআনে সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পদ এমনকি আল্লাহর নেয়ামতকেও ফিতনাহ বলা হয়েছে। সুতরাং নারীকে ফিতনাহ বলা তাদের সত্তাগতভাবে হেয় বা ছোট করার কোনো প্রমাণ নয়।

২। হাদিসে নারীর চরিত্র বা সত্তাকে আক্রমণ করা হয়নি বরং পুরুষের সহজাত মনস্তাত্ত্বিক ও জৈবিক দুর্বলতার কারণে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। আকর্ষণের বশবর্তী হয়ে পুরুষ যেন অন্যায় ও পাপে লিপ্ত না হয়, সেজন্যই এই সাবধানবাণী। পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে যেমন প্রশ্নপত্রকে দোষারোপ করা যায় না, তেমনি পুরুষ নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে তার দায় কোনোভাবেই নারীর ওপর বর্তায় না।

৩। আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, বিপরীত লিঙ্গের উপস্থিতিতে পুরুষের যৌন তাড়না, মানসিক চাপ ও তাৎক্ষণিক অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি নারীদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ১৪০০ বছর পূর্বে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পুরুষদের এই মনোদৈহিক দুর্বলতা সম্পর্কেই সতর্ক করেছিলেন।

 

 

তথ্যসূত্রঃ


[1] সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস নং : ৩৯৯৮ (সহীহ)

https://www.hadithbd.com/hadith/ibn-majah/3998

[2] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৪৭২৯ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)

https://www.hadithbd.com/hadith/bukhari-ifa/4729

[3] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৫০৯৬ (তাওহীদ পাবলিকেশন)

https://www.hadithbd.com/hadith/bukhari/5096

[4] লিসানুল আরব - ইবন মানযুর, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৩১৭

https://shamela.ws/book/1687/6878

অথবা https://archive.is/wip/FV9T3 (আর্কাইভকৃত)

[5] আল মিসবাহুল মুনিরু ফি গারিবিশ শারহিল কাবির  - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল ফাইউমী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৬২

https://shamela.ws/book/12145/2264

অথবা https://archive.is/wip/1eAZU (আর্কাইভকৃত)

[6] ফুরুকুল লুগাওয়িয়্যাহ - আবু হিলাল আল আসকারী, পৃষ্ঠা ২১৭

https://shamela.ws/book/10414/198

অথবা https://archive.is/wip/E1C88 (আর্কাইভকৃত)

[7] Sahih al-Bukhari 5096

https://sunnah.com/bukhari:5096

[8] হাদিসে নারীদেরকে পুরুষের জন্য ফিতনা বলে অভিহীত করার কারণ উল্লেখ করে মিরকাতুল মাফাতিহ গ্রন্থে আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—

لِأَنَّ الطِّبَاعَ كَثِيرًا تَمِيلُ إِلَيْهِنَّ وَتَقَعُ فِي الْحَرَامِ لِأَجْلِهِنَّ، وَتَسْعَى لِلْقِتَالِ وَالْعَدَاوَةِ بِسَبَبِهِنَّ، وَأَقَلُّ ذَلِكَ أَنْ تُرَغِّبَهُ فِي الدُّنْيَا وَأَيُّ فَسَادٍ آخَرَ مِنْ هَذَا، وَحُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيئَةٍ،

অর্থঃ "কারণ পুরুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তাদের [নারীদের] প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে এবং তাদের কারণেই সে হারামে লিপ্ত হয়। তাদের কারণেই সে লড়াই ও শত্রুতার পথে ধাবিত হয়। এর সর্বনিম্ন স্তর হলো এই যে, তারা তাকে দুনিয়ার প্রতি প্রলুব্ধ করে; আর এর চেয়ে বড় বিপর্যয় আর কী হতে পারে? কেননা দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা হলো সকল পাপের মূল।"

মিরকাতুল মাফাতিহ - মোল্লা আলি ক্বারী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৪৪

https://shamela.ws/book/8176/4326

অথবা https://archive.is/wip/7RtKw (আর্কাইভকৃত)

[9] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৮৪১

https://www.hadithbd.com/hadith/muslim/6841

[10] এই সংক্রান্ত হাদিস নিম্নরূপঃ

عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ فِي إِثْرِ السَّمَاءِ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ ‏"‏ هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ ‏.‏ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ ‏"

অর্থঃ “যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়াহ্‌ প্রান্তরে (বৃষ্টিপাতের পরে) ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত সম্পন্ন করে তিনি উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি জান তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা উত্তরে বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ)-ই ভাল জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ কতিপয় আমার বান্দা সকালে উঠেছে মু’মিনরূপে এবং কতিপয় বান্দা উঠেছে কাফিররূপে। যারা বলেছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় বৃষ্টিপাত হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী, আর যারা বলেছে যে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, তারা আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী।”

সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৩৪

https://www.hadithbd.com/hadith/muslim/134

[11] ফাতহুল বারী, ইবন হাজার আসকালানী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৩৮

https://shamela.ws/book/1673/5227

অথবা https://archive.is/wip/9jg13 (আর্কাইভকৃত)

[12] ব্যাখ্যা সূত্রঃ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)

https://muslimbangla.com/hadith/4729

অথবা https://archive.is/wip/HClEB (আর্কাইভকৃত)

[13] ইখতিয়ারুল উলা ফি শারহি হাদিসিখতিসামিল মালাইল আ‘লা - ইবন রজব হাম্বলী, পৃষ্ঠা ১২২

https://shamela.ws/book/22720/86

অথবা https://archive.is/wip/Gb0H7 (আর্কাইভকৃত)

[14] খুতাবু ওয়া দুরুসুশ শায়খি আবদির রহিমিত ত্বহহান - আব্দুর রহিম আত ত্বহহান, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৩৫

https://shamela.ws/book/21782/6053

অথবা https://archive.is/wip/AWWby (আর্কাইভকৃত)

[15] “Across many different studies and measures, men have been shown to have more frequent and more intense sexual desires than women, as reflected in spontaneous thoughts about sex, frequency and variety of sexual fantasies, desired frequency of intercourse, desired number of partners, masturbation, liking for various sexual practices, willingness to forego sex, initiating versus refusing sex, making sacrifices for sex, and other measures.”

https://journals.sagepub.com/doi/abs/10.1207/S15327957PSPR0503_5?journalCode=psra

[17] “Contact with attractive women affects the release of cortisol in men”

https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/20427019/

[20] “Interacting with women can impair men’s cognitive functioning”

https://repository.ubn.ru.nl/bitstream/handle/2066/76883/1/76883.pdf

[21] “The Mere Anticipation of an Interaction with a Woman Can Impair Men’s Cognitive Performance”

https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC3394231/

অথবা https://archive.is/VR0rF (আর্কাইভকৃত)

 

সোশ্যাল লিঙ্ক ও অ্যাপ

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ পোস্টসমূহ