সব নারীকেই কি তাদের স্বামীর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে?

বিবিধ



 

প্রশ্নঃ  আমরা জানি, নারীদের তাদের স্বামীদের বাম পাঁজরের হাড় থেকে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অনেক নারী রয়েছেন যাদের একাধিক বিয়ে হয়েছে অর্থাৎ একবার বিধবা হওয়া বা তালাকপ্রাপ্তির পর আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই কথার ব্যাখ্যা কী?
আবার যারা চিরকুমারী থাকে, তাদের ক্ষেত্রেই বা এর ব্যাখ্যা কী?


উত্তরঃ  আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, "রাসুল(ﷺ) বলেছেনঃ ‘আমার কাছ থেকে মেয়েদের প্রতি সদাচারণ করার শিক্ষা গ্রহণ করো। কেননা, নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে ওপরের হাড়টাই সবচেয়ে বাঁকা। অতএব, তুমি যদি তা সোজা করতে চাও, তবে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাই রয়েছে। আর যদি ফেলে রাখো, তবে বাঁকা হতেই থাকবে। কাজেই মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।" [1]
 
বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছেঃ "মেয়েরা পাঁজরের বাঁকা হাড়ের মতো। তুমি তা সোজা করতে গেলে ভেঙে ফেলবে। অতএব, তুমি তার কাছ থেকে কাজ করতে চাইলে এ বাঁকা অবস্থায়ই করবে।"


মুসলিমের অপর এক বর্ণনা এরূপঃ "মেয়েদের পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বার সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনোই এবং কিছুতেই তোমার জন্য সোজা হবে না। তুমি যদি তার কাছ থেকে কাজ নিতে চাও, তবে এ অবস্থায়ই তা নিয়ে নাও। যদি তাকে সোজা করতে করতে যাও, তবে ভেঙে ফেলবে। আর এ ভাঙার অর্থ দাঁড়াবে বিচ্ছিন্ন হওয়া। অর্থ্যাৎ তালাক দেয়।"

 

হাদিসের ব্যাখ্যায় সানআনী(র.) বলেনঃ “এই বক্তব্যের মর্মার্থ হল, হাওয়া(আ.)কে আদম(আ.) এর পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছিল।” [2]

 

আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ

 

তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তাঁর থেকে বানিয়েছেন তাঁর সঙ্গিনীকে, যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে। ...” [3]

 

 
প্রসঙ্গসহ পড়লেই বোঝা যায় যে, উপরের হাদিসগুলোতে নারীদের প্রকৃতির কথা আলোচনা করা হয়েছে। পাঁজরের হাড়ের গঠন বাঁকা ও অসমান প্রকৃতির। নারীজাতির চিন্তা ভাবনাও পুরুষদের মত নয় বরং কিছুটা ভিন্ন ধরণের। কাজেই তাদের সাথে মতপার্থক্য হতেই পারে, তাদের বৈশিষ্ট্য এমন। নারীজাতি নরম প্রকৃতির, তারা অত্যন্ত আবেগপ্রবন, কখনো অনেক কষ্ট পায়, আবার কখনো অনেক রাগ করে। স্বামীদের উচিত নয় স্ত্রীর নিকট থেকে সব কিছুই নিঁখুত আশা করা বরং উচিত তাদের ভুল ও সীমাবদ্ধতাগুলোকে না ধরা। তাদের সাথে ভালো ও সহনশীল আচরণ করা। হাদিসের শিক্ষা এই। [4] শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ(র.) এই হাদিস প্রসঙ্গে বলেছেনঃ "এটি স্বামী, বাবা, ভাই এবং অন্য পুরুষদের প্রতি নারীদের সাথে সদয় আচরণ করার, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করার, তাদের প্রতি ন্যায়পরায়ন হবার, নারীদেরকে তাদের অধিকার প্রদান করার এবং তাদেরকে উত্তমের দিকে পরিচালিত করার নির্দেশ।" [5] এই হাদিসগুলোর কোথাও এ কথা বলা হয়নি যে সব নারীই তাদের স্বামীদের পাঁজরের হাড় দ্বারা তৈরি।

 

অনেক ইসলামবিরোধী এক্টিভিস্ট অপব্যাখ্যা করে বলতে চায় যে - হাদিসে বলা হয়েছে সব নারীকেই তাদের স্বামীর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এবং এই কথা বলে তারা নবী(ﷺ) এর বহুবিবাহ, পাঁজরের হাড়সংখ্যা ও স্ত্রীদের নিয়ে অসার কথা বলে। আবার কেউ কেউ অবিবাহিত নারী, তালাকপ্রাপ্ত নারী, একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহ হওয়া নারীর উদাহরণ দেখিয়ে হাদিসকে ভুল বলতে চায়। কিন্তু তাদের এইসব অভিযোগের মূলেই আছে অসত্য ও অপব্যাখ্যা।

 

[[ রাসুল(ﷺ)-এর বৈবাহিক জীবন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের অপনোদন দেখুন এখান থেকে  ]]

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]. বুখারী, মুসলিম, রিয়াদুস সলিহীন :: বই ১ :: হাদিস ২৭৩

[2]. বিস্তারিত দেখুন এখানেঃ  “Woman not created from her husbands rib - Islam web - English”

http://www.islamweb.net/emainpage/index.php?page=showfatwa&Option=FatwaId&Id=261376

[3]. আল কুরআন, আ’রাফ ৭ : ১৮৯

[4]. "Meaning of woman being created from crooked rib - Islam web"

[5]. "Fatwas of Ibn Baz", Portal of The General Presidency of Scholarly Research & Ifta, Kingdom of Saudi Arabia