তা ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আরেকজন প্রথিতযশা বোর্ড সার্টিফাইড আমেরিকান সাইকিয়াট্রিস্ট ও নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রি-এর প্রফেসর এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি হলেন ডা. রিচার্ড গ্যালাঘার। পড়াশোনা করেছেন প্রিন্সটন, ইয়েল এবং কলম্বিয়ায়। তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার সামান্য কিছু অংশ লিখেছেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক দীর্ঘ আর্টিকেলে। তাঁকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দ্য টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, সিএনএন ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

 

নিজেকে গর্বের সাথে ‘বিজ্ঞানের মানুষ’ বলে পরিচয় দেওয়া ডা. রিচার্ড নিজেও শয়তানের অস্তিত্বে সন্দিহান ছিলেন। তিনি শয়তান দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সংক্রান্ত বাইবেলে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনা জানতেন। তবে তিনি মনে করতেন প্রাচীন মানুষ বিভিন্ন রোগের (যেমন : মৃগীরোগ) কারণ বুঝতে না পেরে এগুলোকে শয়তানের আসর মনে করত। কিন্তু বিগত পঁচিশ বছর ধরে অর্জিত তাঁর অভিজ্ঞতা যেন অন্য এক জগতের দিকে ইঙ্গিত করছে! ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে মেডিসিন পড়ার সময় তিনি কস্মিনকালেও ভাবেননি একদিন তাঁকে শয়তানের চ্যালাদের সাথে টক্কর লাগতে হবে!

 

ডা. রিচার্ড এর মতো আরও কতিপয় সাইকিয়াট্রিস্ট নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে শয়তানের আসর সম্ভব মনে করেন। যেমন : ডা. মার্ক আলবানিজ, নিউ ইয়র্ক সাইকিয়াট্রি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও সিজোফ্রেনিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. জেফরি লাইবারম্যান, নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ডা. জোসেফ ইংলিশ প্রমুখ। যেমন – ডা. জোসেফ ইংলিশ বলেন :

 

“(সম্ভাব্য শয়তানের আসরের) এমন ঘটনাগুলোর নজির আজকের আধুনিক দুনিয়াতেও পাওয়া যাচ্ছে, যদিও তা আমাদের প্রচলিত ধ্যানধারণার বিপরীত। এহেন সমস্যাগুলোকে স্রেফ মেডিকেল বা সাইকিয়াট্রিক-ব্যাধি বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে কাঁচকলা দেখিয়ে এমন ঘটনা ঘটেই চলছে ।”

 

নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে ডা. রিচার্ড গ্যালাঘারের অনুধাবন হলো, এই শয়তানেরা খুবই স্মার্ট, মানুষের চেয়ে এদের ঘটে ঘিলু অনেক বেশি। তাই তারা মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করে। মাঝে মাঝে মানুষকে বাঁদর বলে গালি দেয়! মুক্তমণারা (!) শয়তানের অস্তিত্ব মানতে চায় না-জানতে পারলে এদের শয়তানরা কী বলে সম্বোধন করে সেটা ভাবার বিষয়। 

 

          (১) T. P. Hughes, A Dictionary Of Islam; p. 84 (New York : Scribner, Welford, & Co., 1885)
          (২) সম্পাদনা পরিষদ, সংক্ষিপ্ত ইসলামি বিশ্বকোষ; খণ্ড ০২, পৃ. ৩৪২ (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মে ২০০৭)

 

 

লেখকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে লেখাটি পড়তে ক্লিক করুনঃ

https://rafanofficial.wordpress.com/2019/12/06/does-satan-exist/

 

আরো পড়ুনঃ

"আল্লাহ কেন শয়তান সৃষ্টি করলেন?"