ইসলামী আইনে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে কম উত্তরাধিকার সম্পদ পায়?

ইসলামী আইনে নারীরা কি আসলেই পুরুষের চেয়ে কম উত্তরাধিকার সম্পদ পায়?

29 বার দেখা হয়েছে
শেয়ার করুন:

 

ভূমিকাঃ

ইসলামবিরোধীরা অভিযোগ করে ইসলামী উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টন আইনে নারীরা পুরুষের চেয়ে কম অংশ পায়। তাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এটা ঠিক যে ইসলামী আইনে আসলেই কিছু ক্ষেত্রে নারীর অংশ পুরুষের অংশের অর্ধেক। কিন্তু ইসলামী উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টন আইনের সকল ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের অর্ধেক অংশ পান না। বরং ৫টি ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের অর্ধেক অংশ পায়, ৫টি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান অংশ পেয়ে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে (কমপক্ষে ১০টি) নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি অংশে পেয়ে থাকে এবং ৭টি ক্ষেত্রে নারীরা উত্তরাধিকার সম্পদ পায় কিন্তু পুরুষেরা পায় না। তাহলে নারীর অংশ পুরুষের অংশের চেয়ে কম কী করে হল বা নারীর প্রতি অবিচার কী করে করা হল?! ইসলামবিরোধীরা মূলত বেছে বেছে কুরআন থেকে ঐ আয়াতটি উদ্ধৃত করে যেখানে নারীর অংশ পুরুষের অংশের অর্ধেক হবার ক্ষেত্র উল্লেখ আছে, এবং এভাবে ইসলামকে “নারীর প্রতি বৈষম্যকারী ধর্ম” হিসেবে আখ্যায়িত করে। অথচ তাদের এই অভিযোগ আদৌ সঠিক নয়।

 

আমরা ইসলামবিরোধীদের অভিযোগের খণ্ডনে প্রখ্যাত মিসরীয় আলেম শায়খ আবু আসিম আল বারাকাতী (হাফি.) এর ‘তানফিদুশ শুবুহাতি হাওলা মিরাছিল মারআতি ফিল ইসলাম (ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সন্দেহসমূহের খণ্ডন) গ্রন্থের ৪৮ থেকে ৬০ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত আলোচনা উল্লেখ করে দিচ্ছি।

 

তানফিদুশ শুবুহাতি হাওলা মিরাছিল মারআতি ফিল ইসলাম’ গ্রন্থের পৃষ্ঠা ৪৮ থেকে পৃষ্ঠা ৬০ পর্যন্ত আলোচনাঃ

 

ইসলামে মিরাস বা উত্তরাধিকারের মানদণ্ড পুরুষত্ব বা নারীত্ব নয়, বরং মানদণ্ড হলো মৃতের সাথে আত্মীয়তার নৈকট্যের স্তর। সুতরাং কন্যা ও বোন যখন একত্রে উত্তরাধিকারী হয়, তখন তাদের অংশ সমান হয় না, যদিও উভয়ই নারী। তদ্রূপ, উত্তরাধিকারী প্রজন্মের অবস্থানও বিশেষ বিবেচ্য; ফলে কন্যা ও দৌহিত্রী (মেয়ের মেয়ে) সমান অংশ পায় না, যদিও উভয়ই নারী। ... ...

 

দ্বাদশ (১২তম) পয়েন্ট, এবং এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণঃ

নারী ঢালাওভাবে বা সব ক্ষেত্রে পুরুষের অর্ধেক মিরাস (উত্তরাধিকার) পায় না।
ইসলামের মিরাস বিজ্ঞান বা ফরায়েজশাস্ত্র যিনি অধ্যয়ন করেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে, নারী কেবল পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরুষের অর্ধেক পেয়ে থাকে
আর বাকি সমস্ত ক্ষেত্রে সে পুরুষের সমান পায়, অথবা পুরুষের চেয়েও বেশি পেয়ে থাকে।

সেই পাঁচটি ক্ষেত্র হলোঃ

 

(১) মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে (উভয় প্রকার) সন্তান বিদ্যমান থাকলে।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ"আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকারের) ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান।" [সুরা নিসা ৪ : ১১]

 

(২) স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে; কেননা স্বামী তার স্ত্রীর থেকে যতটুকু মিরাস পায়, স্ত্রী তার স্বামীর থেকে তার অর্ধেক পেয়ে থাকে।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ "আর তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে তোমাদের জন্য চার ভাগের এক ভাগ; তারা যে অসিয়ত করে যাবে তা পূরণ করার এবং ঋণ পরিশোধের পর। আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য চার ভাগের এক ভাগ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে তাদের জন্য আট ভাগের এক ভাগ; তোমরা যে অসিয়ত করে যাবে তা পূরণ করার এবং ঋণ পরিশোধের পর।" [সুরা নিসা ৪ : ১২]

 

এখানে ইসলামের উত্তরাধিকার আইনের ওপর যারা আপত্তি তোলে, তাদের খণ্ডন করার জন্য একটি বিষয় লক্ষ্য করা অত্যন্ত জরুরীআর তা হলো, স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার সময় কখনোই একত্রে উত্তরাধিকারী হিসেবে উপস্থিত থাকে না। (অর্থাৎ একই সময়ে একে অপরের থেকে অংশ পায় না)। কারণ, স্বামী যখন মিরাস পায় তখন মৃত ব্যক্তি হলো স্ত্রী, আর স্ত্রী যখন মিরাস পায় তখন মৃত ব্যক্তি হলো স্বামী। সুতরাং, কীভাবে বলা যায় যে ইসলাম স্ত্রীকে বাদ দিয়ে স্বামীকে প্রাধান্য দিয়েছে, অথচ তারা দুজনে (উত্তরাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে) আদতেই একসাথে উপস্থিত হয় না?!!

 

(৩) সন্তান মারা গেলে এবং তার পিতা-মাতা ছাড়া আর কোনো ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী না থাকলে, পিতা মাতার দ্বিগুণ অংশ পায়।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: আর যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতামাতাই তার উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।” [সুরা নিসা ৪ : ১১]

মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ এবং পিতার জন্য অবশিষ্ট অংশ, যা হলো দুই-তৃতীয়াংশ।

 

(৪) ভাই ও বোনদের তাদের (মৃত) ভাই থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ আর যদি তারা ভাই ও বোন হয় অর্থাৎ পুরুষ ও নারী, তবে এক পুরুষের অংশ হবে দুই নারীর অংশের সমান। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।” [সুরা নিসা ৪ : ১৭৬]

 

(৫) যখন তাদের সন্তান মারা যায় এবং তার একটি মাত্র কন্যা থাকে, তখন পিতা মাতার দ্বিগুণ অংশ উত্তরাধিকার হিসেবে পায়।

কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬), এবং পিতার জন্য অবশিষ্ট অংশঃ যা হলো এক-তৃতীয়াংশ (১/৩)।

এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে নারীর উত্তরাধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি হয়আর তা হয়ে থাকে আত্মীয়তার নৈকট্যের স্তর বিবেচনায়।

 

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান হওয়ার অবস্থাসমূহ (৫টি):

 

(১) বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনদের তাদের বৈপিত্রেয় ভাইয়ের থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার, যখন কোনো বর্জনকারী (হাজিব) উপস্থিত না থাকে।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ "আর যদি কোনো পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকার ‘কালালাহ’ হিসেবে (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন অবস্থায়) নির্ধারিত হয় এবং তার এক (বৈপিত্রেয়) ভাই বা এক (বৈপিত্রেয়) বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। আর যদি তারা এর চেয়ে অধিক হয়, তবে তারা সকলে এক-তৃতীয়াংশের অংশীদার হবে। (এ বণ্টন হবে) তার করা অসিয়ত বা ঋণের পর, যা কারোর ক্ষতিসাধনকারী নয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, অতি সহনশীল।" [সুরা নিসা ৪ : ১২]

 

(২) মৃত ব্যক্তির পুত্র সন্তান থাকলে পিতা ও মাতা (উভয়ের অংশ সমান হয়)।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ "আর তার (মৃতের) পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি তার কোনো সন্তান থাকে।" [সুরা নিসা ৪ : ১১]

 

(৩) একের অধিক কন্যা সন্তান বিদ্যমান থাকাবস্থায় পিতা ও মাতার অবস্থাঃ

কেননা মৃত ব্যক্তির কন্যারা (উত্তরাধিকার হিসেবে) দুই-তৃতীয়াংশ পায়, আর অবশিষ্ট থাকে এক-তৃতীয়াংশ; যা থেকে পিতা ও মাতার প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ নির্ধারিত হয়।

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ "অতঃপর যদি তারা দুইয়ের অধিক নারী হয়, তবে তাদের জন্য ঐ মালের দুই-তৃতীয়াংশ যা সে (মৃত ব্যক্তি) রেখে গেছে। আর যদি সে একজন হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক। আর তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশ, যদি তার সন্তান থাকে।" [সুরা নিসা ৪ : ১১]

 

(৪) যদি ওয়ারিশগণ হয় স্বামী এবং এক সহোদরা বোন, অথবা এক বৈমাত্রেয় বোনঃ

স্বামীর জন্য অর্ধেক এবং বোনের জন্য অর্ধেক।

 

(৫) যদি কেউ দুই কন্যা এবং এক ভাই রেখে মারা যায়ঃ

দুই কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ এবং অবশিষ্ট অংশ, যা এক-তৃতীয়াংশ, তা ভাইয়ের জন্য।

 

এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে নারী পুরুষের তুলনায় বেশি উত্তরাধিকার লাভ করে।
উদাহরণস্বরূপ তার কয়েকটি (১০টি) হলোঃ


(১) যদি কেউ মারা যায় এবং এক কন্যা, মা ও বাবা রেখে যায়; তবে কন্যা অর্ধেক (১/২) সম্পদ পাবে, মায়ের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) এবং বাবার জন্য 'আসাবা' (উত্তরাধিকারের অবশিষ্ট অংশ) হিসেবে অবশিষ্টাংশ থাকবে। এখানে কন্যা বাবার চেয়ে বেশি উত্তরাধিকার লাভ করেছে।


(২) যদি কোনো নারী মারা যায় এবং এক কন্যা, স্বামী ও বাবা রেখে যায়; তবে কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), স্বামীর জন্য চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) এবং অবশিষ্ট অংশ বাবার জন্য। এখানে কন্যা স্বামী ও বাবা উভয়ের চেয়ে বেশি উত্তরাধিকার পেয়েছে, অথচ সে একজন নারী।


(৩) যদি কেউ মারা যায় এবং এক কন্যা, এক নাতনি (ছেলের মেয়ে) ও বাবা রেখে যায়; তবে কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), নাতনির জন্য দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করার নিমিত্তে ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) এবং বাবার জন্য আসাবা হিসেবে অবশিষ্টাংশ থাকবে।

 

(৪) মৃত ব্যক্তি রেখে গেছেনঃ এক মেয়ে, এক পৌত্র (ছেলের ছেলে) এবং মা।
মেয়ের অংশ হবে অর্ধেক (১/২), মায়ের অংশ এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬), এবং অবশিষ্ট অংশ আসাবা হিসেবে পৌত্রের জন্য।

 

(৫) মৃত ব্যক্তি রেখে গেছেনঃ স্ত্রী, মেয়ে ও এক ভাই।
স্ত্রীর অংশ হবে এক-অষ্টমাংশ (১/৮), মেয়ের অংশ অর্ধেক (১/২), এবং অবশিষ্ট অংশ ভাইয়ের জন্য।

 

(৬) মৃত নারী রেখে গেছেনঃ স্বামী, মা, দাদা, বৈপিত্রেয় ভাইবোন ও বৈমাত্রেয় ভাইবোন।
স্বামীর অংশ হবে অর্ধেক (১/২), মা এবং দাদা প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) করে। অবশিষ্ট অংশ বৈমাত্রেয় ভাইবোনদের জন্য, আর বৈপিত্রেয় ভাইবোনরা বঞ্চিত হবে।
এখানে মা বৈমাত্রেয় ভাইবোনদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত অংশের চেয়ে বেশি উত্তরাধিকার লাভ করেছেন।

 

(৭) মৃত ব্যক্তি রেখে গেছেনঃ এক বোন, মা ও দাদা।
বোনের অংশ হবে অর্ধেক (১/২), মায়ের অংশ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) এবং অবশিষ্ট এক-ষষ্ঠাংশ অংশ দাদার জন্য। সুতরাং দাদা এমন একজন পুরুষ যিনি মা এবং বোনের চেয়েও কম উত্তরাধিকার লাভ করেছেন।

 

(৮) যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে যানঃ স্ত্রী, কন্যা, মা, দুই বৈপিত্রেয় বোন এবং একজন সহোদর ভাই।
স্ত্রীর জন্য (সম্পত্তির) অষ্টমংশ (১/৮), কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), মায়ের জন্য ষষ্ঠাংশ (১/৬), এবং অবশিষ্টাংশ সহোদর ভাইয়ের জন্য। বৈপিত্রেয় দুই বোনের জন্য কিছুই নেই, কারণ তারা কন্যার কারণে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে কন্যা সহোদর ভাইয়ের চেয়ে বেশি অংশ লাভ করল।

 

(৯) আর যদি কোনো নারী মারা যান এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে যানঃ স্বামী, কন্যা, সহোদর বোন এবং বৈমাত্রেয় বোন।
স্বামীর জন্য চতুর্থাংশ (১/৪), কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), এবং অবশিষ্টাংশ সহোদর বোনের জন্য। আর বৈমাত্রেয় বোন সহোদর বোনের উপস্থিতির কারণে বঞ্চিত হয়েছে।

সুতরাং কন্যা স্বামী অপেক্ষা অধিক অংশ লাভ করল এবং সহোদরা বোন স্বামীর সমান অংশ পেল।

 

(১০) এক নারী মৃত্যুবরণ করলেন এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে গেলেনঃ স্বামী, দুই পৌত্রী (ছেলের মেয়ে), এবং একজন প্রপৌত্র (ছেলের ছেলের ছেলে)।
স্বামীর প্রাপ্য এক-চতুর্থাংশ (১/৪), দুই পৌত্রীর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩), এবং অবশিষ্ট অংশ প্রপৌত্রের জন্য। এখানে দুই পৌত্রীর প্রত্যেকে স্বামী এবং প্রপৌত্র অপেক্ষা অধিক উত্তরাধিকার লাভ করল।

 

এমন কিছু অবস্থাও রয়েছে যেখানে নারী উত্তরাধিকার পায় অথচ পুরুষ পায় না। (৭টি)

 

(১) এক ব্যক্তি মারা গেলেন এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে গেলেন এক কন্যা, এক সহোদরা বোন এবং এক বৈমাত্রেয় ভাই।
কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), এবং সহোদরা বোনের জন্য অবশিষ্ট অর্ধেক (১/২) অংশ; আর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রইল না।
কেননা কন্যাদের সাথে বোনেরা 'আসাবা' (অবশিষ্টাংশ ভোগী) হিসেবে গণ্য হয়।

 

(২) কোনো ব্যক্তি দুই কন্যা, কয়েকজন সহোদরা বোন এবং কয়েকজন বৈমাত্রেয় ভাই রেখে মৃত্যুবরণ করলেন।
দুই কন্যার জন্য হবে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩), আর অবশিষ্ট অংশ সহোদরা বোনরা ‘আসাবা’ হিসেবে পাবেন যা তাদের মধ্যে সমহারে বণ্টিত হবে। বৈমাত্রেয় ভাইদের জন্য কোনো অংশ নেই।

 

(৩) কোনো ব্যক্তি এক কন্যা, কয়েকজন সহোদরা বোন এবং একজন চাচা রেখে মৃত্যুবরণ করলেন।
কন্যার জন্য অর্ধেক (১/২), আর অবশিষ্ট অংশ সহোদরা বোনদের জন্য। চাচার জন্য কোনো অংশ নেই।

 

(৪) কোনো ব্যক্তি এক পৌত্রী (ছেলের মেয়ে), এক সহোদরা বোন, এক বৈমাত্রেয় ভাই এবং এক বৈপিত্রীয় ভাই রেখে মৃত্যুবরণ করলেন।
পৌত্রীর জন্য অর্ধেক (১/২), আর অবশিষ্ট অংশ সহোদরা বোনের জন্য। বৈমাত্রেয় ভাই এবং বৈপিত্রীয় ভাই কারও জন্য কোনো অংশ নেই।

 

(৫) কোনো নারী স্বামী, মা, বাবা, এক কন্যা এবং পৌত্র-পৌত্রী (ছেলের ছেলে ও মেয়ে সন্তান) রেখে মৃত্যুবরণ করলেন।

স্বামীর জন্য এক-চতুর্থাংশ, মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ, পিতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ এবং কন্যার জন্য অর্ধাংশএমতাবস্থায় পৌত্র-পৌত্রীদের (পুত্রের সন্তানদের) জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আর এই অবস্থায় আওল ঘটেছে।

 

(৬) এক ব্যক্তি মারা গেল এবং রেখে গেলঃ মা, দুই কন্যা, দুই বৈমাত্রেয় বোন এবং এক বৈপিত্রেয় ভাই।
মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ, দুই কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ এবং অবশিষ্ট অংশ দুই বৈমাত্রেয় বোনের জন্য। আর বৈপিত্রেয় ভাই দুই কন্যার কারণে বঞ্চিত হবে।

 

(৭) যদি কোনো নারী মারা যায় এবং রেখে যায়ঃ স্বামী, এক কন্যা, এক পৌত্র (ছেলের ছেলে), এক পৌত্রী (ছেলের মেয়ে), পিতা ও মাতা।
স্বামীর জন্য এক-চতুর্থাংশ, কন্যার জন্য অর্ধাংশ এবং পিতা ও মাতা প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ বরাদ্দ হবে। আর অবশিষ্টাংশ পৌত্র ও পৌত্রীর জন্য 'এক জন পুরুষ দুই জন নারীর সমান অংশ পাবে' - এই নীতিতে বন্টিত হওয়ার কথাকিন্তু এক্ষেত্রে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, কারণ এই মাসআলাটিতে আওল ঘটেছে।

 

'তানফিদুশ শুবুহাতি হাওলা মিরাছিল মারআতি ফিল ইসলাম’ গ্রন্থের আলচনা সমাপ্ত।

এ প্রসঙ্গে জানতে আরো পড়ুন, সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ নারী আলেম, শায়খা নাওয়াল বিনত আব্দুল আযিয আল ঈদ (হাফি.) রচিত ‘হুকুকুল মারআতি ফি দ্বাউইস্ সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ্’ গ্রন্থের ৬৮৪ - ৬৯১ পৃষ্ঠা।

 

সোশ্যাল লিঙ্ক ও অ্যাপ

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ পোস্টসমূহ