অভিযোগঃ
ইসলামে মাত্র ৩-৪টি খেলা বাদে সকল প্রকার খেলাধুলা নিষিদ্ধ। ইসলামে চিত্ত-বিনোদনের কোনো স্থান নেই।
জবাবঃ
অভিযোগকারীরা তাদের দাবির স্বপক্ষে নিম্নের হাদিসগুলো পেশ করে—
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ الله وَ جَابِرِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كُلُّ شَيْءٍ لَيْسَ مِنْ ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ لَهُوٌ أَوْ سَهْوٌ إِلا أَرْبَعَ خِصَالٍ : مَشْيُ الرَّجُلِ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ ومُلاعَبَةُ أَهْلِهِ وَتَعَلُّمُ السِّبَاحَةِ
অর্থঃ “জাবের বিন আব্দুল্লাহ ও জাবের বিন উমাইর (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তাঁদের একজন অপরজনকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক সেই জিনিস (খেলা) যা আল্লাহর স্মরণের পর্যায়ভুক্ত নয়, তা অসার ভ্রান্তি ও বাতিল। অবশ্য চারটি কর্ম এরূপ নয়; হাতের নিশানা ঠিক করার উদ্দেশ্যে তীর খেলা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিজ স্ত্রীর সাথে প্রেমকেলি করা এবং সাঁতার শিক্ষা করা।” [1]
وَقَالَ كُلُّ شَيْءٍ يَلْهُو بِهِ الرَّجُلُ بَاطِلٌ إِلَّا رَمْيَ الرَّجُلِ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبَهُ فَرَسَهُ وَمُلَاعَبَتَهُ أَهْلَهُ فَإِنَّهُنَّ مِنْ الْحَقِّ
অর্থঃ “… তিনি আরও বলেন: “কোনো মুসলিম ব্যক্তির সকল ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তার ধনুক দ্বারা তীর নিক্ষেপ, তার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দান এবং তার স্ত্রীর সাথে তার ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। কারণ এগুলো উপকারী ও বিধিসম্মত। …” [2]
হাদিসে কি আসলেই খেলাধুলাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
হাদিসগুলোর মূল আরবিতে سهو (অসার), باطل (বাতিল) ইত্যাদি শব্দ রয়েছে যার ফলে আপাতদৃষ্টিতে সরল অনুবাদ দেখে কেউ কেউ মনে করে অল্প কয়েকটি বাদে অন্য সব খেলাধুলাকে বুঝি নিষিদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসদের আলোচনা দেখলে এই ভুল ভাঙে। এখানে এই শব্দগুলো দ্বারা নিষেধাজ্ঞা বোঝানো হয়নি বরং এর দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে যে এগুলো সওয়াব বা পুণ্যের কাজ নয় (সাধারণ কাজ)। অর্থাৎ শরিয়তে এটি মুবাহ। হারাম নয়। আর অল্প কিছু খেলাধুলা (তীর খেলা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিজ স্ত্রীর সাথে প্রেমকেলি করা, সাঁতার শিক্ষা করা) সওয়াবের কারণ হতে পারে।
আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলি ক্বারী(র.) উল্লেখ করেছেন –
(كُلُّ شَيْءٍ يَلْهُو بِهِ الرَّجُلُ) : أَيْ: يَشْتَغِلُ وَيَلْعَبُ، (بَاطِلٌ) : لَا ثَوَابَ لَهُ
অর্থঃ “(মানুষ যে জিনিস নিয়েই বিনোদন বা খেলাধুলা করে) : অর্থাৎ: মগ্ন বা ব্যাস্ত থাকে ও খেলা করে, (তা বাতিল) : তার কোনো সওয়াব বা পুণ্য নেই।” [3]
আব্দুর রহমান আল মুবারকপুরী(র.) তাঁর 'তুহফাতুল আহওয়াযী' গ্রন্থে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হুবহু একই কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ এখানে ‘বাতিল’ এর অর্থ হল এর মাঝে সওয়াব বা পুণ্য নেই ( لَا ثَوَابَ لَهُ)। [4]
আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম গাজালী(র.) এর অভিমতসহ ইমাম শাওকানী(র.) বলেছেন,
قَالَ الْغَزَالِيُّ: قُلْنَا قَوْلَهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - " فَهُوَ بَاطِلٌ " لَا يَدُلُّ عَلَى التَّحْرِيمِ، بَلْ يَدُلُّ عَلَى عَدَمِ فَائِدَةٍ انْتَهَى.
وَهُوَ جَوَابٌ صَحِيحٌ لِأَنَّ مَا لَا فَائِدَةَ فِيهِ مِنْ قِسْمِ الْمُبَاحِ. عَلَى أَنَّ التَّلَهِّيَ بِالنَّظَرِ إلَى الْحَبَشَةِ وَهُمْ يَرْقُصُونَ فِي مَسْجِدِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَمَا ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ خَارِجٌ عَنْ تِلْكَ الْأُمُورِ الثَّلَاثَةِ. وَأَجَابَ الْمُجَوِّزُونَ عَنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ الْمُتَقَدِّمِ فِي زَمَّارَةِ الرَّاعِي بِمَا تَقَدَّمَ مِنْ أَنَّهُ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ. وَأَيْضًا لَوْ كَانَ سَمَاعُهُ حَرَامًا لَمَا أَبَاحَهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - لِابْنِ عُمَرَ وَلَا ابْنُ عُمَرَ لِنَافِعٍ وَلَنَهَى عَنْهُ وَأَمَرَهُ بِكَسْرِ الْآلَةِ؛ لِأَنَّ تَأْخِيرَ الْبَيَانِ عَنْ وَقْتِ الْحَاجَةِ لَا يَجُوزُ.
وَأَمَّا سَدُّهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - لِسَمْعِهِ فَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ تَجَنَّبَهُ كَمَا كَانَ يَتَجَنَّبُ كَثِيرًا مِنْ الْمُبَاحَاتِ كَمَا تَجَنَّبَ أَنْ يَبِيتَ فِي بَيْتِهِ دِرْهَمٌ أَوْ دِينَارٌ وَأَمْثَالُ ذَلِكَ. لَا يُقَالُ يُحْتَمَلُ أَنَّ تَرْكَهُ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - لِلْإِنْكَارِ عَلَى الرَّاعِي إنَّمَا كَانَ لِعَدَمِ الْقُدْرَةِ عَلَى التَّغْيِيرِ.
অর্থঃ “ইমাম গাজালী (র.) বলেছেনঃ ‘আমরা বলি, রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর উক্তি "তা বাতিল" - এটি হারামের দলিল নয়, বরং এটি কোনো উপকারিতা না থাকার দলিল।’ (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর এটিই সঠিক উত্তর। কারণ যে বিষয়ে কোনো উপকার বা অপকার নেই, তা মুবাহ (অনুমোদিত) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া, সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, হাবশীদের (আবিসিনিয়ার মানুষ) খেলাধুলা বা নাচ দেখার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর তাঁর নিজের মসজিদে [মসজিদে নববী] বিনোদন লাভ করার বিষয়টিও এই তিনটি বিষয়ের বাইরে ছিল। আর (গান-বাজনা) বৈধতাদানকারী উলামাগণ মেষপালকের বাঁশি সম্পর্কিত ইবন উমারের(রা.) পূর্বোক্ত হাদিসের উত্তরে বলেছেন যে, সেটি একটি 'মুনকার' (দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য) হাদিস। তাছাড়া, সেই শব্দ শোনা যদি হারামই হতো, তবে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইবন উমার(রা.)কে এবং ইবন উমার(রা.) [তাঁর ছাত্র] নাফিকে তা শোনার অনুমতি দিতেন না, বরং তিনি অবশ্যই তা নিষেধ করতেন এবং সেই বাদ্যযন্ত্রটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতেন। কারণ, প্রয়োজনের সময় শরিয়তের বিধান স্পষ্ট করতে দেরি করা জায়েজ নয়। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিজের কান বন্ধ করার যে বিষয়টি এসেছে, তার কারণ হতে পারে তিনি এটিকে সেভাবেই এড়িয়ে চলেছেন যেভাবে তিনি অনেক মুবাহ (অনুমোদিত) বিষয়কেও এড়িয়ে চলতেন। যেমন, তিনি তাঁর ঘরে একটি দিরহাম বা দিনার রেখে রাত পার করা এড়িয়ে চলতেন এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এমনটি বলা যাবে না যে মেষপালককে নিষেধ না করার পেছনে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর হয়তো পরিস্থিতি পরিবর্তন করার মতো সামর্থ্য ছিল না।” [5] [6]
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়া(র.) আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন—
قَوْلُهُ: " مِنْ الْبَاطِلِ " أَيْ مِمَّا لَا يَنْفَعُ، فَإِنَّ الْبَاطِلَ ضِدُّ الْحَقِّ: وَالْحَقُّ يُرَادُ بِهِ الْحَقُّ الْمَوْجُودُ اعْتِقَادُهُ وَالْخَبَرُ عَنْهُ، وَيُرَادُ بِهِ الْحَقُّ الْمَقْصُودُ الَّذِي يَنْبَغِي أَنْ يُقْصَدَ، وَهُوَ الْأَمْرُ النَّافِعُ، فَمَا لَيْسَ مِنْ هَذَا فَهُوَ بَاطِلٌ لَيْسَ بِنَافِعٍ. وَقَدْ يُرَخَّصُ فِي بَعْضِ ذَلِكَ إذَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ مَضَرَّةٌ رَاجِحَةٌ لَكِنْ لَا يُؤْكَلُ بِهِ الْمَالُ، وَلِهَذَا جَازَ السِّبَاقُ بِالْأَقْدَامِ، وَالْمُصَارَعَةُ، وَغَيْرُ ذَلِكَ، وَإِنْ نُهِيَ عَنْ أَكْلِ الْمَالِ بِهِ.
وَكَذَلِكَ رُخِّصَ فِي الضَّرْبِ بِالدُّفِّ فِي الْأَفْرَاحِ، وَإِنْ نُهِيَ عَنْ أَكْلِ الْمَالِ بِهِ،
অর্থঃ “তাঁর উক্তিঃ "বাতিল (বা অসার) থেকে" এর অর্থ হলো এমন বিষয় থেকে যা কোনো উপকারে আসে না। কারণ ‘বাতিল’ হলো ‘হক’ (সত্য বা যথার্থ)-এর বিপরীত। আর ‘হক’ বলতে (দুটি বিষয়) বোঝানো হয় –
১. বিদ্যমান সত্য, যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং সেই সম্পর্কিত সংবাদ দেওয়া আবশ্যক।
২. কাঙ্ক্ষিত সত্য, যা উদ্দেশ্য করা বা পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত, আর তা হলো কল্যাণকর বা উপকারী বিষয়।
সুতরাং, যা এই বলয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা-ই বাতিল এবং তা উপকারী নয়। তবে এর কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হতে পারে, যদি তাতে প্রবল ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে। কিন্তু এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যাবে না। আর এই কারণেই পায়ের দৌঁড় প্রতিযোগিতা, কুস্তি এবং এই জাতীয় অন্যান্য খেলা বৈধ করা হয়েছে, যদিও এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা নিষিদ্ধ। ঠিক একইভাবে বিয়ের মতো আনন্দের অনুষ্ঠানে দফ (একমুখী ঢোল) বাজানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদিও এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা নিষিদ্ধ।” [7]
এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু কুদামা মাকদিসি(র.) উল্লেখ করেছেন –
(٨٣٦٤) فَصْلٌ: فَأَمَّا الْمُسَابَقَةُ الْمَشْرُوعَةُ، بِالْخَيْلِ وَغَيْرِهَا مِنْ الْحَيَوَانَاتِ، أَوْ عَلَى الْأَقْدَامِ، فَمُبَاحَةٌ لَا دَنَاءَةَ فِيهَا، وَلَا تُرَدُّ بِهِ الشَّهَادَةُ، وَقَدْ ذَكَرْنَا مَشْرُوعِيَّةَ ذَلِكَ فِي بَابِ الْمُسَابَقَةِ. وَكَذَلِكَ مَا فِي مَعْنَاهُ مِنْ الثِّقَافِ، وَاللَّعِبِ بِالْحِرَابِ. وَقَدْ لَعِبَ الْحَبَشَةُ بِالْحِرَابِ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَقَامَتْ عَائِشَةُ خَلْفَهُ تَنْظُرُ إلَيْهِمْ، وَتَسْتَتِرُ بِهِ، حَتَّى مَلَّتْ. وَلِأَنَّ فِي هَذَا تَعَلُّمًا لِلْحَرْبِ، فَإِنَّهُ مِنْ آلَاتِهِ، فَأَشْبَهَ الْمُسَابَقَةَ بِالْخَيْلِ وَالْمُنَاضَلَةَ، وَسَائِرَ اللَّعِبِ، إذَا لَمْ يَتَضَمَّنْ ضَرَرًا، وَلَا شَغْلًا عَنْ فَرْضٍ، فَالْأَصْلُ إبَاحَتُهُ،
অর্থঃ “(৮৩৬৪) পরিচ্ছেদঃ ঘোড়া ও অন্যান্য পশুর মাধ্যমে কিংবা পদব্রজে (পায়ে হেঁটে) যে শরিয়তসম্মত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, তা সম্পূর্ণ বৈধ (মুবাহ)। এতে কোনো হীনতা বা নিচতা নেই এবং এর কারণে (আদালতে সাক্ষীর) সাক্ষ্য বাতিল বলে গণ্য হবে না। আমরা 'প্রতিযোগিতা' অধ্যায়ে এর শরিয়তসম্মত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। একইভাবে তলোয়ার বা অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ এবং বর্শা খেলার বিষয়টিও একই অর্থ বা হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আবিসিনিয়রা রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর সামনে বর্শা নিয়ে খেলা করেছিলেন, আর আয়িশা(রা.) তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আঁড়াল করে তাদের খেলা দেখছিলেন, যতক্ষণ না তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাছাড়া এর মধ্যে যুদ্ধ শেখার বিষয় রয়েছে, কারণ এটি যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার; ফলে এটি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য খেলার মতোই। যতক্ষণ না এর মধ্যে কোনো ক্ষতি বা কোনো ফরয কাজ থেকে উদাসীন হওয়ার বিষয় না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর মূল বিধান হলো এটি বৈধ।” [8]
খেলাধুলা বৈধ কিনা এ প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র.) বলেছেন,
مُمَارَسَةُ الرِّيَاضَةِ جَائِزَةٌ إِذَا لَمْ تُلْهِ عَنْ شَيْءٍ وَاجِبٍ، فَإِنْ أَلْهَتْ عَنْ شَيْءٍ وَاجِبٍ فَإِنَّهَا تَكُونُ حَرَاماً، وَإِنْ كَانَتْ دَيْدَنَ الْإِنْسَانِ بِحَيْثُ تَكُونُ غَالِبَ وَقْتِهِ فَإِنَّهَا مَضْيَعَةٌ لِلْوَقْتِ وَأَقَلُّ أَحْوَالِهَا فِي هَذِهِ الْحَالِ الْكَرَاهَةُ. أَمَّا إِذَا كَانَ الْمُمَارِسُ لِلرِّيَاضَةِ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا سِرْوَالٌ قَصِيرٌ يَبْدُو مِنْهُ فَخِذُهُ أَوْ أَكْثَرُهُ فَإِنَّهُ لَا يَجُوزُ، فَإِنَّ الصَّحِيحَ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى الشَّبَابِ سَتْرُ أَفْخَاذِهِمْ وَأَنَّهُ لَا يَجُوزُ مُشَاهَدَةُ اللَّاعِبِينَ وَهُمْ بِهَذِهِ الْحَالَةِ مِنَ الْكَشْفِ عَنْ أَفْخَاذِهِمْ.
অর্থঃ "খেলাধুলা করা বৈধ, যদি তা কোনো ব্যক্তিকে তার অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত না করে। কিন্তু এটি যদি কোনো অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা হারাম হবে। আর এটি যদি কোনো ব্যক্তির জীবনযাত্রার প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে তার অধিকাংশ সময় এর পেছনেই ব্যয় হয়, তবে তা সময়ের অপচয়; আর এই পরিস্থিতিতে এটি কমপক্ষে মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হিসেবে গণ্য হবে।
আর কেবল হাফপ্যান্ট (শর্টস) পরে খেলাধুলা করা, যার ফলে উরু বা উরুর অধিকাংশ অংশ দৃশ্যমান হয় - তা কোনোভাবেই জায়েজ বা অনুমোদিত নয়। সঠিক মতানুযায়ী, যুবকদের জন্য তাদের উরু ঢেকে রাখা আবশ্যক; এবং খেলোয়াড়দের উরু এভাবে উন্মুক্ত থাকা অবস্থায় তাদের খেলা দেখাও (অন্যদের জন্য) বৈধ নয়।" [9] [10]
দারুল উলুম দেওবন্দের অফিসিয়াল ফতোয়ার ওয়েবসাইটে ক্রিকেট খেলাসংক্রান্ত এক ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে—
“Sports played for health and exercise are allowed provided they do not cause uncovering or slackness in religious duties. But, if sport is turned into objective of life leading to laziness in performing religious matters then it is unlawful. Cricket also has the same ruling.”
অর্থঃ “স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে খেলাধুলা করা জায়েজ, যদি তা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে কোনো শিথিলতা বা সতর উন্মুক্ত হওয়ার কারণ না হয়। কিন্তু খেলাধুলা যদি জীবনের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয় এবং ধর্মীয় কার্যাবলী পালনে অলসতা তৈরি করে, তবে তা নাজায়েজ। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।” [11]
আমরা দেখলাম আলোচ্য হাদিসসমূহ থেকে কেউ এ কথা বলেননি যে খেলাধুলামাত্রই ইসলামে হারাম। বরং সাধারণভাবে খেলাধুলা মুবাহ এর অন্তর্ভুক্ত এবং হারাম উপাদান না থাকলে সকল উলামা খেলাধুলাকে জায়েজ বলেছেন। [12] হাদিসে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র পাশা খেলাকে নিষেধ করা হয়েছে। [13] ইসলামবিরোধীরা স্রেফ অনুবাদের উপর ভিত্তি করে এর সঙ্গে অপব্যাখ্যা যুক্ত করে “ইসলামে খেলাধুলা হারাম, ইসলামে চিত্তবিনোদন নিষিদ্ধ” এমন দাবি করে থাকে।
নবী(ﷺ) এর জীবদ্দশায় খেলাধুলা
আমরা যদি নবী(ﷺ) এর জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে পাই তিনি নিজে জায়েজের সীমার মধ্যে খেলাধুলা করেছেন, সাহাবী(রা.)দেরকেও জায়েজের সীমার মধ্যে বিভিন্ন খেলাধুলার অনুমতি দিয়েছেন। হাদিস ও সিরাত গ্রন্থগুলোতে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। যেমন,
قَالَتْ وَكَانَ يَوْمُ عِيدٍ يَلْعَبُ السُّودَانُ بِالدَّرَقِ وَالْحِرَابِ، فَإِمَّا سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا قَالَ " تَشْتَهِينَ تَنْظُرِينَ ". فَقَالَتْ نَعَمْ. فَأَقَامَنِي وَرَاءَهُ خَدِّي عَلَى خَدِّهِ وَيَقُولُ " دُونَكُمْ بَنِي أَرْفِدَةَ ". حَتَّى إِذَا مَلِلْتُ قَالَ " حَسْبُكِ ". قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ " فَاذْهَبِي ". قَالَ أَحْمَدُ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، فَلَمَّا غَفَلَ
অর্থঃ “… আয়িশা (রাঃ) বলেন, ঈদের দিনে হাবশী লোকেরা ঢাল ও বর্শা নিয়ে খেলা করত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ(ﷺ)কে বলেছিলাম কিংবা তিনিই আমাকে বলেছিলেন, তুমি কি দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। আমার গাল তাঁর গালের উপর ছিল। তিনি বলছিলেন, হে বানূ আরফিদা, চালিয়ে যাও। যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তিনি আমাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে? বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এখন যাও। আহমদ (রহঃ) ইবনু ওয়াহব (রহঃ) সূত্রে বলেন, তিনি যখন অন্য মনস্ক হলেন।” [14]
عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ: فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
অর্থঃ “’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এক সফরে নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারো দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন বিজয়ী হলেন। তিনি বলেনঃ এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা।” [15]
وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ لاَ يُسْبَقُ شَدًّا - قَالَ - فَجَعَلَ يَقُولُ أَلاَ مُسَابِقٌ إِلَى الْمَدِينَةِ هَلْ مِنْ مُسَابِقٍ فَجَعَلَ يُعِيدُ ذَلِكَ - قَالَ - فَلَمَّا سَمِعْتُ كَلاَمَهُ قُلْتُ أَمَا تُكْرِمُ كَرِيمًا وَلاَ تَهَابُ شَرِيفًا قَالَ لاَ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي وَأُمِّي ذَرْنِي فَلأُسَابِقَ الرَّجُلَ قَالَ " إِنْ شِئْتَ " . قَالَ قُلْتُ اذْهَبْ إِلَيْكَ وَثَنَيْتُ رِجْلَىَّ فَطَفَرْتُ فَعَدَوْتُ - قَالَ - فَرَبَطْتُ عَلَيْهِ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ أَسْتَبْقِي نَفَسِي ثُمَّ عَدَوْتُ فِي إِثْرِهِ فَرَبَطْتُ عَلَيْهِ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ ثُمَّ إِنِّي رَفَعْتُ حَتَّى أَلْحَقَهُ - قَالَ - فَأَصُكُّهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ - قَالَ - قُلْتُ قَدْ سُبِقْتَ وَاللَّهِ قَالَ أَنَا أَظُنُّ . قَالَ فَسَبَقْتُهُ إِلَى الْمَدِينَةِ
অর্থঃ “… যখন আমরা পথ অতিক্রম করছিলাম, এমন সময় আনসারের এমন এক ব্যাক্তি যাকে দৌড়ে কেউ পরাজিত করতে পারতো না, সে বলতে লাগলোঃ কেউ কি আছে যে, মদিনায় সর্বপ্রথম পৌছার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করবে? এ কথাটি সে বারবার বলছিল। তিনি বলেন, যখন আমি তাঁর এ (চ্যালেঞ্জমূলক) কথাটি শুনলাম, তখন বললাম, তুমি কি কোন সম্মানিত লোককে সম্মান দিতে জানো না বা কোন ভদ্রলোককেই পরোয়া করবে না? সে বলল রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ব্যাতিত অন্য কাউকে নয়। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা মাতা আপনার উপর কোরবান, আপনি আমায় ঐ ব্যাক্তির সাথে প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দিন। তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ তোমার ইচ্ছা হলে। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, চল! ধর। তারপর আমি লাফ দিয়ে নিচে দৌড় দিলাম। তারপর এক বা দুই টিলা অতিক্রম করার দূরত্বে রইলাম তখন পর্যন্ত আমার দম নিয়ন্ত্রনে রেখে তাঁর পিছু পিছু দৌড় দিলাম। আরও দুই এক টিলা পর্যন্ত ধীরগতিতে চলার পর সাজোরে দৌড় দিয়ে তাঁর নিকট পৌঁছে গেলাম এবং তাঁর কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঘুষি মেরে বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! তুমি হেরে গেছ। তখন সে বলল, আমিও তাই মনে করছি। তিনি বলেন, অতএব আমি তাঁর পূর্বেই মদিনায় পৌঁছে গেলাম। …” [16]
ইসলামবিরোধীরা কিছু হাদিস দেখিয়ে দাবি করে তীর খেলা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিজ স্ত্রীর সাথে প্রেমকেলি করা, সাঁতার শিক্ষা করা – এগুলো বাদে ইসলামে নাকি আর কোনো খেলা জায়েজ না। অথচ উপরে হাদিসগুলোতে আমরা এই খেলাগুলোর বাইরে কিছু খেলা যেমনঃ ঢাল ও বর্শার খেলা, দৌঁড় প্রতিযোগিতা, উটের দৌঁড় প্রতিযোগিতা (Camel Race) ইত্যাদির উদাহরণ পাই যেগুলোতে হয় নবী(ﷺ) নিজে অংশ নিয়েছেন, অথবা তাঁর সামনে অন্যরা অংশ নিয়েছে এবং তিনি তা অনুমোদন করেছেন। এ থেকে স্পষ্ট হল ইসলামবিরোধীরা কিছু হাদিস দেখিয়ে ইসলামে ঢালাওভাবে খেলাধুলা নাজায়েজ হবার যে দাবি করে তা অপব্যাখ্যা এবং মিথ্যা।
বর্তমানে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পেশাদারভাবে অংশ নেয়া
উপরে যে আলোচনা করা হয়েছে তা সাধারণভাবে খেলাধুলা প্রসঙ্গে। নিঃসন্দেহে মৌলিকভাবে খেলাধুলা জায়েজ। চিত্ত বিনোদন, শারিরীক সুস্থতা ইত্যাদির জন্য মুসলিমরা অবশ্যই খেলাধুলা করতে পারে বা তা দেখে উপভোগ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে পৃথিবীতে যেসব আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা খেলা অনুষ্ঠিত হয়, এগুলোর মাঝে প্রচুর হারাম উপাদান মিশ্রিত থাকে। তাই আলেমগণ সাধারণভাবে খেলাধুলাকে জায়েজ উল্লেখ করে পেশা হিসেবে এসব খেলাকে গ্রহণ করতে নিষেধ করেন।
বর্তমানে প্রচলিত আন্তর্জাতিক পেশাদার বিভিন্ন খেলার মাঝে জুয়ার বিভিন্ন উপাদান থাকে, কিছু খেলায় বেপর্দা নারীদের উপস্থিতি থাকে, তাছাড়া এসব ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অর্থ ও পুরস্কার প্রদানের বিষয় থাকে। শরিয়ত এই বিষয়গুলো অনুমোদন করে না। খেলাধুলায় অর্থ বা পুরস্কারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কিছু হাদিস রয়েছে। যেমনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ سَبَقَ إِلاَّ فِي خُفٍّ أَوْ حَافِرٍ "
অর্থঃ “আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলে (মাল অথবা অর্থ গ্রহণ করা বৈধ নয়), উট ও ঘোড়া ব্যতীত।”
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said: “There should be no prizes for racing except races with camels and horses.” [17]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا سَبَقَ إِلَّا فِي خُفٍّ أَوْ فِي حَافِرٍ أَوْ نَصْلٍ
অর্থঃ “আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহন(ﷺ) বলেছেনঃ উটের দৌড়, ঘোড়ার দৌড় অথবা তীরের ফলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় বাজি ধরা জায়িয নয়।” [18]
এই হাদিসগুলোতে سَبَقَ (সাবাক) এর উল্লেখ আছে। যা দ্বারা সেই ধন-সম্পদ বা পুরস্কারকে বোঝায় যা বিজয়ীর জন্য শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। আর এর বিশ্লেষণে মুহাদ্দিসগণের আলোচনা রয়েছে। [19] আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এই নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থাকে বিধায় এসবে অংশ নেয়া বা পেশা হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয় বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন। [20] [21]
তবে কোনো কোনো আলেমের মতে কিছু শর্তে তা বৈধ গণ্য হতে পারে। পাকিস্তানের সুবিখ্যাত জামিয়া বিন্নুরীয়ার ফতোয়া বিভাগের এই সংক্রান্ত একটি ফতোয়া সম্পূর্ণ উল্লেখ করা হল –
“What is the Fatwa on playing Games? Can Muslims Play football, Rugby, Cricket in International Level? In football and Rugby, We can wear Socks up till our Knees and cover our Islamic Satar. But My question is this that can we play these games in district or international level? please note that in district and international level, the players play for the cup and money? Is this Jaiz in Islaam?
الجوابُ حامِدا ًو مُصلیِّا ً
In the name of Allah, the Most Beneficent and the Most Merciful
Let it be known that in competition of games and sports if the condition of prize money or trophy is put forward by both the participant sides then it is impermissible and Haram indeed. If the condition is put forward from one of the participating side or, any third party has promised the prize money or trophy for the winner then there is no harm in it. If sports such as Soccer, Rugby and Cricket etc are played with the intention of exercise, training for Jihad or to maintain the physical fitness while taking care of Shar’i Satr (portion of the body that is necessary to be covered) and other Shar’i limits and also not engaged to the extent that other Shar’i matters get disturbed, then it would be permissible to play them. As for playing for the national side or districts side, it is better to avoid it since the person would be totally engrossed in it’s occupation.
Allah knows best.”
অর্থঃ “প্রশ্নঃ খেলাধুলা করার ব্যাপারে ফতোয়া কী? মুসলিমরা কি আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবল, রাগবি বা ক্রিকেট খেলতে পারে? ফুটবল ও রাগবিতে আমরা হাঁটু পর্যন্ত মোজা পরে আমাদের ইসলামী বিধান অনুসারে সতর ঢেকে রাখতে পারি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, আমরা কি জেলা বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই খেলাগুলো খেলতে পারি? দয়া করে বিবেচনায় রাখবেন যে, জেলা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়রা কাপ এবং টাকার জন্য খেলে থাকেন। ইসলামে কি এটি জায়েজ নাকি হারাম?
উত্তরঃ আল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ পাঠের পর
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
জেনে রাখা উচিত যে, খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় যদি পুরস্কারের টাকা বা ট্রফির শর্ত উভয় অংশগ্রহণকারী পক্ষ (দল) থেকে দেওয়া হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে নাজায়েজ এবং হারাম। তবে শর্তটি যদি কেবল একটি পক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় (যেমনঃ এক পক্ষ বলল, তোমরা জিতলে আমরা দেব, কিন্তু আমরা জিতলে তোমরা কিছু দেবে না - অনুবাদক), অথবা কোনো তৃতীয় পক্ষ (যেমনঃ স্পন্সর বা আয়োজক - অনুবাদক) বিজয়ীর জন্য পুরস্কারের টাকা বা ট্রফির ঘোষণা দেয়, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই (তা জায়েজ)।
যদি ফুটবল, রাগবি এবং ক্রিকেট ইত্যাদি খেলাগুলো ব্যায়াম, জিহাদের প্রস্তুতি বা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার নিয়তে খেলা হয়, পাশাপাশি শরয়ী সতর (শরীরের যে অংশ ঢেকে রাখা ফরজ) এবং অন্যান্য শরয়ী সীমানা মেনে চলা হয়, এবং খেলাটি এমন পর্যায়ে না পৌঁছায় যা অন্য কোনো শরয়ী দায়িত্বে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তা খেলা জায়েজ হবে। আর জাতীয় বা জেলা দলের পক্ষে খেলার ব্যাপারে বলতে গেলে, এটি বর্জন করাই উত্তম। কারণ এতে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে এই পেশার মধ্যেই মশগুল হয়ে যায়।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।” [22]
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা খেলাধুলা দেখা
বর্তমানে প্রচলিত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা টিভিতে বা মাঠে গিয়ে দেখা জায়েজ কিনা এই প্রসঙ্গে আলেমদের মধ্যে একাধিক অভিমত রয়েছে। অনেকে আলেমের মতে প্রচলিত আন্তর্জাতিক খেলাধুলাগুলোতে অর্থের বিনিময় ও পুরস্কার থাকে বিধায় এগুলোতে অংশ নেবার পাশাপাশি দেখাও হারাম। তবে অর্থের বিনিময় ও অন্য হারাম উপাদান না থাকলে এগুলোতে অংশ নেয়া বা দেখা সবই বৈধ। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের এ সংক্রান্ত ফতোয়াঃ
مُبَارَيَاتُ كُرَةِ الْقَدَمِ الَّتِي عَلَى مَالٍ أَوْ نَحْوِهِ مِنْ جَوَائِزَ حَرَامٌ؛ لِكَوْنِ ذَلِكَ قِمَارًا؛ لِأَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَخْذُ السَّبَقِ وَهُوَ الْعِوَضُ إِلَّا فِيمَا أَذِنَ فِيهِ الشَّرْعُ، وَهُوَ الْمُسَابَقَةُ عَلَى الْخَيْلِ وَالْإِبِلِ وَالرِّمَايَةِ، وَعَلَى هَذَا فَحُضُورُ الْمُبَارَيَاتِ حَرَامٌ وَمُشَاهَدَتُهَا كَذَلِكَ، لِمَنْ عَلِمَ أَنَّهَا عَلَى عِوَضٍ؛ لِأَنَّ فِي حُضُورِهِ لَهَا إِقْرَارًا لَهَا، أَمَّا إِذَا كَانَتِ الْمُبَارَاةُ عَلَى غَيْرِ عِوَضٍ وَلَمْ تَشْغَلْ عَمَّا أَوْجَبَ اللَّهُ مِنَ الصَّلَاةِ وَغَيْرِهَا، وَلَمْ تَشْتَمِلْ عَلَى مَحْظُورٍ: كَكَشْفِ الْعَوْرَاتِ، أَوِ اخْتِلَاطِ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ، أَوْ وُجُودِ آلَاتِ لَهْوٍ - فَلَا حَرَجَ فِيهَا وَلَا فِي مُشَاهَدَتِهَا. وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.
اللَّجْنَةُ الدَّائِمَةُ لِلْبُحُوثِ الْعِلْمِيَّةِ وَالْإِفْتَاءِ
عُضْوٌ ... عُضْوٌ ... نَائِبُ الرَّئِيسِ ... الرَّئِيسُ
بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو زَيْدٍ ... صَالِحُ بْنُ فَوْزَانَ الْفَوْزَانُ ... عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ آلُ الشَّيْخِ ... عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَازٍ
অর্থঃ “যেসব ফুটবল ম্যাচে অর্থ বা এ জাতীয় পুরস্কার থাকে, তা হারাম। কেননা তা জুয়া হিসেবে গণ্য। কারণ শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত ক্ষেত্র ব্যতিত কোনো প্রতিযোগিতায় বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ নয়। আর সেই অনুমোদিত ক্ষেত্রগুলো হলোঃ ঘোড়দৌঁড়, উটদৌঁড় এবং তিরন্দাজি। এই ভিত্তিতে, যারা অবগত আছেন যে প্রতিযোগিতাটি বিনিময়ের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাদের জন্য সেখানে উপস্থিত হওয়া এবং তা দেখা হারাম। কারণ উপস্থিত হওয়া মানেই তা মেনে নেওয়া বা সমর্থন করা। তবে যদি খেলাটি কোনো প্রকার বিনিময় ছাড়া হয় এবং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ করা সালাত বা অন্যান্য ইবাদত থেকে বিমুখ না করে, আর এতে কোনো নিষিদ্ধ বিষয় যেমনঃ সতর উন্মুক্ত হওয়া, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অথবা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার না থাকে, তবে এই খেলা এবং তা দেখায় কোনো বাধা নেই। আর আল্লাহর তাওফিকেই সব কিছু সম্পন্ন হয়। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ)
সদস্যঃ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
সদস্যঃ সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান
সহ-সভাপতিঃ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আলুশ শায়খ
সভাপতিঃ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায [23]
কোনো কোনো আলেমের মতে অর্থের বিনিময়ে হওয়া এসব আন্তর্জাতিক খেলাধুলা দেখাও জায়েজ, যদি ফরয দায়িত্বসমূহ ঠিকভাবে পালন করা হয়, সময় নষ্ট না করা হয় এবং হারাম কোনো কিছু না দেখা হয়। শায়খ উসমান আল খামিস (হাফি.), শায়খ ড. মুহাম্মাদ হিশাম তাহিরি (হাফি.), শায়খ আযিয আল-আনযি (হাফি.) প্রমুখ আলেম থেকে এই অভিমত বর্ণিত হয়েছে। কুয়েতের বিখ্যাত ফকিহ শায়খ ড. উসমান আল খামিস (হাফি.) অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে, ফরয কাজসমূহ যথাযথভাবে পালন করে এবং ক্যামেরায় বেপর্দা নারী এলে তা থেকে দৃষ্টি হেফাজত করে খেলা দেখা বৈধ হবার কথা উল্লেখ করেছেন। [24]
Ruling on Watching Football Matches | Shaykh Uthman Al-Khamees (AI Dubbed)
ফুটবলসহ অনেক খেলায় খেলোয়ারদের উরু উন্মুক্ত হয়। আবার ক্রিকেটসহ অনেক খেলায় খেলোয়ারদের উরু উন্মুক্ত হয় না। অধিকাংশ আলেমের মতে উরু আওরাহ বা লজ্জাস্থানের অন্তর্ভুক্ত এবং তা উন্মুক্ত করা ও দেখা হারাম। তবে আলেমদের একটি দল যাঁদের মধ্যে আতা(র.), দাউদ(র.), মুহাম্মদ ইবন জারির(র.) এবং শাফিঈ মাযহাবের আবু সাইদ আল-ইস্তাখরি(র.) রয়েছেন এবং এটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(র.) এরও একটি বর্ণনা যে - উরু আওরাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। [25] যেসব আলেম উরুকে আওরাহ মনে করেন, তাঁরা ফুটবলসহ উরু উন্মুক্তকারী খেলা দেখা নাজায়েজ বলেছেন। আর যেসব আলেম উরুকে আওরাহ মনে করেন না, তারা এই কারণটির জন্য একে নাজায়েজ বলেননি।
উপসংহারঃ
উপরের আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি—
১। ইসলামে চিত্তবিনোদনের স্থান নেই এবং ৩-৪টি বাদে সকল খেলা ইসলামে হারাম – ইসলামবিরোধীদের এহেন দাবি সম্পূর্ণ ভুল।
২। ফরয দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, সময় নষ্ট না করে এবং সকল হারাম জিনিস বর্জন করে খেলাধুলা করা ও তা দেখা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।
তথ্যসূত্রঃ
[1] নাসাঈর কুবরা ৮৯৩৮-৮৯৪০, ত্বাবারানীর কাবীর ১৭৬০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩১৫, হাদীস সম্ভার ২৩৩০ (সহীহ)
[2] সুনান আদ-দারেমী, হাদিস নং : ২৪৪৪ (জাইয়্যেদ বা উত্তম সনদে)
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=82727
একই হাদিস মিশকাতেও রয়েছে। দেখুনঃ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস নং : ৩৮৭২
[3] মিরকাতুল মাফাতিহ – মোল্লা আলি ক্বারী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৫০২
https://shamela.ws/book/8176/5371
অথবা https://archive.is/wip/W8Xic (আর্কাইভকৃত)
[4] তুহফাতুল আহওয়াযী – আব্দুর রহমান আল মুবারকপুরী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৯
https://shamela.ws/book/21662/2446
অথবা https://archive.is/wip/4SNe2 (আর্কাইভকৃত)
[5] নাইলুল আওত্বারি শারহু মুনতাক্বাল আখবার - মুহাম্মাদ বিন আলি আশ-শাওকানী, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১১৮
https://shamela.ws/book/9242/2836
অথবা https://archive.is/wip/xIHZ3 (আর্কাইভকৃত)
[6] তবে ইমাম শাওকানী(র.) এখানে বাদ্যযন্ত্রের বৈধতা উল্লেখ করে যা আলোচনা করেছেন, অধিকাংশ আলেম এর সঙ্গে দ্বিমত করে বাধ্যযন্ত্র সহকারে গান শোনাকে হারাম বলে উল্লেখ করেছেন। বিস্তারিতঃ "Is Music Haram?" (IslamQA - Shaykh Muhammad Saalih Al-Munajjid)
অথবা https://archive.is/m6Ty4 (আর্কাইভকৃত)
[7] আল ফাতাওয়া আল কুবরা – ইবন তাইমিয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৬১
https://shamela.ws/book/9690/1897
অথবা https://archive.is/wip/bXiy7 (আর্কাইভকৃত)
[8] আল মুগনী - ইবনু কুদামা মাকদিসি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৫৩
https://shamela.ws/book/8463/4676
অথবা https://archive.is/wip/20ykR (আর্কাইভকৃত)
[9]'ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ' - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল মুসনিদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৩১
https://shamela.ws/book/1708/1710
অথবা https://archive.is/wip/0eOTz (আর্কাইভকৃত)
[10] ইংরেজি অনুবাদঃ https://www.assimalhakeem.net/what-is-the-ruling-of-watching-football-games-in-islam/
অথবা (আর্কাইভকৃত)
[11] “Is cricket is forbidden in islam and also tell the condition for why it is forbidden?” (Darul Ifta Deoband, India)
https://www.darulifta-deoband.com/home/en/Halal--Haram/4035
অথবা https://web.archive.org/web/20221014093528/https://www.darulifta-deoband.com/home/en/Halal--Haram/4035 (আর্কাইভকৃত)
[12] এ সংক্রান্ত বিস্তারিত শরয়ী নীতিমালা জন্য দেখুনঃ "Which Games Are Haram in Islam?" (IslamQA - Shaykh Muhammad Saalih Al-Munajjid)
https://islamqa.info/en/22305/
অথবা https://archive.is/wip/Pu9eg (আর্কাইভকৃত)
[13] عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ
অর্থঃ “আবূ মূসা আল-আশ’আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাশা খেললো সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করলো।”
- সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং : ৪৯৩৮ (হাসান)
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=62306
দাবা খেলা সম্পর্কিত হুকুমঃ
Ruling on playing Chess in Islam - Assim al hakeem (YouTube)
[14] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ২৭০৬
[15] সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং : ২৫৭৮
[16] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৪৫২৭
[17] সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস নং : ২৮৭৮ (সহীহ)
[18] সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং : ২৫৭৪ (সহীহ)
[19] ইমাম নাসিরুদ্দিন বাইদাওয়ী(র.) এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন –
(السَّبَقُ) بِالتَّحْرِيكِ: الْمَالُ الَّذِي يُشْتَرَطُ لِلسَّابِقِ، وَبِالسُّكُونِ: مَصْدَرُ (سَبَقْتُ) وَالْمَعْنَى: لَا يَجُوزُ الْمُسَابَقَةُ بِالْمَالِ وَلَا يَحِلُّ أَخْذُهُ بِالسَّبَقِ إِلَّا فِي هَذِهِ الْأَجْنَاسِ الثَّلَاثِ.وَالْمُرَادُ بِـ (النَّصْلِ): السَّهْمُ وَمَا فِي مَعْنَاهُ: وَبِـ (الْخُفِّ وَالْحَافِرِ) الْإِبِلُ وَالْفَرَسُ، أَيْ: ذِي خُفٍّ وَذِي حَافِرٍ.
অর্থঃ (السَّبَق - আস-সাবাক) হরকত বা জবর দিয়ে উচ্চারিত হলে এর অর্থঃ সেই ধন-সম্পদ বা পুরস্কার যা বিজয়ীর জন্য শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। আর (السَّبْق - আস-সাবক) সুকুন দিয়ে উচ্চারিত হলে তা (سَبَقْتُ - সাবাকতু) ক্রিয়ামূলের উৎস বা মাসদার (যার অর্থ প্রতিযোগিতা করা)। অতএব (হাদিসের) অর্থ দাঁড়ায়ঃ অর্থ বা পুরস্কারের বিনিময়ে প্রতিযোগিতা করা এবং বিজয়ীর জন্য সেই অর্থ বা পুরস্কার গ্রহণ করা বৈধ নয়, কেবল এই তিনটি মাধ্যম (বা ক্ষেত্র) ছাড়া। এখানে (النصل - আন-নাসল) বলতে বোঝানো হয়েছেঃ তীর এবং এই জাতীয় সমগোত্রীয় সকল (অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম)। আর (الخف والحافر - আল-খুফ ও আল-হাফির) বলতে বোঝানো হয়েছেঃ উট এবং ঘোড়া; অর্থাৎ ক্ষুরবিশিষ্ট ও খুরবিশিষ্ট প্রাণী।
[তুহফাতুল আবরারি শারহু মাসাবিহিস সুন্নাহ - নাসিরুদ্দিন আল বাইদাওয়ী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬০৫
https://shamela.ws/book/13614/1116
অথবা https://archive.is/wip/FH1th (আর্কাইভকৃত)]
মোল্লা আলি ক্বারী(র.) বলেছেন,
٣٨٧٤ - (وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: لَا سَبَقَ) : بِفَتْحَتَيْنِ وَفِي نُسْخَةٍ بِسُكُونِ الْمُوَحَّدَةِ فَفِي النِّهَايَةِ: هُوَ بِفَتْحِ الْبَاءِ مَا يُجْعَلُ مِنَ الْمَالِ رَهْنًا عَلَى الْمُسَابَقَةِ، وَبِالسُّكُونِ مَصْدَرُ سَبَقْتُ أَسْبِقُ. وَقَالَ الْخَطَّابِيُّ: الرِّوَايَةُ الْفَصِيحَةُ بِفَتْحِ الْبَاءِ، وَالْمَعْنَى لَا يَحِلُّ أَخْذُ الْمَالِ بِالْمُسَابَقَةِ
অর্থঃ “৩৮৭৪ - (এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘লা সাবাকা’): এখানে (সাবাকা) শব্দটি দুই জবর (সীন ও বা-এর ওপর জবর) দিয়ে উচ্চারিত। তবে কোনো কোনো অনুলিপিতে বা-এর ওপর সুকুন দিয়ে (সাব্ক) এসেছে। ‘আন্-নিহায়াহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছেঃ বা-এর ওপর জবর দিয়ে পড়লে এর অর্থ হয় - সেই ধন-সম্পদ যা প্রতিযোগিতার জন্য বাজি বা পুরস্কার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। আর সুকুন দিয়ে পড়লে এটি ‘সাবাকতু আসবিকু’ (আমি প্রতিযোগিতা করছি/করব) ক্রিয়াপদের উৎস বা মাসদার। আর ইমাম খাত্তাবী(র.) বলেছেনঃ সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল বর্ণনাটি হলো বা-এর ওপর জবর (সাবাক) দিয়ে পড়া। আর এর অর্থ হলো - প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অর্থ বা পুরস্কার গ্রহণ করা হালাল বা বৈধ নয়।”
[মিরকাতুল মাফাতিহ – মোল্লা আলি ক্বারী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৫০৪
https://shamela.ws/book/8176/5375
অথবা https://archive.is/wip/gjTb5 (আর্কাইভকৃত)]
আমরা হাদিসে উল্লেখিত سَبَقَ (সাবাক) শব্দের বিশ্লেষণ দেখলাম। তবে এই সংক্রান্ত হাদিসগুলোতে কিছু বাংলা অনুবাদে খেলাধুলায় অর্থ নিষিদ্ধ হবার পরিবর্তে এই খেলাগুলো বাদে অন্য সব খেলাকে ঢালাওভাবে হারাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা সঠিক নয়। এমন কিছু ভুল অনুবাদের উদাহরণঃ
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=34674
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=69201
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=71127
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=77618
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=22215
এই হাদিসগুলোর ইংরেজি অনুবাদ যাচাই করলেও বোঝা যাবে যে বাংলায় ভুল অনুবাদ করা হয়েছে।
[20] দেখুনঃ Taking sports as a career (IslamQA Hanafi)
অথবা https://archive.is/FbWxz (আর্কাইভকৃত)
[21] দেখুনঃ What is the ruling on professional pursuit of football (soccer)? (IslamQA - Shaykh Muhammad Saalih Al-Munajjid)
https://islamqa.info/en/75644/
অথবা https://archive.is/wip/pbLmC (আর্কাইভকৃত)
[22] What is the Fatwa on playing Games? (Darulifta Jamia Binoria Aalamia, Pakistan)
https://www.onlinefatawa.com/view_fatwa_english/4718/What-is-the-Fatwa-on-playing-Games
অথবা https://archive.is/wip/R1HRs (আর্কাইভকৃত)
[23] ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ – আল মাজমু’আতুল উলা (সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, ১ম সংগ্রহ), খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২৩৯
https://shamela.ws/book/8381/11219
অথবা https://archive.is/wip/RJIiC (আর্কাইভকৃত)
[24] দেখুনঃ
[25] দেখুনঃ আল-মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ, খণ্ড ৫৫, পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬
https://shamela.ws/book/11430/20194
https://shamela.ws/book/11430/20195
অথবা (আর্কাইভকৃত)