ইসলাম কি অন্য মুসলিমের দোষ গোপন রাখতে বলে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয়?

ইসলাম কি অন্য মুসলিমের দোষ গোপন রাখতে বলে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয়?

62 বার দেখা হয়েছে
শেয়ার করুন:

 

অভিযোগঃ

ইসলামে অন্য মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখতে বলা হয়েছে। ইসলামের এই বিধানের জন্য একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে অপরাধ করতে দেখলেও সেটা গোপন রাখতে বাধ্য এবং কাউকে জানাতে পারবে না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছেও সেই মুসলিমের অপরাধ অবহিত করতে পারবে না। ফলে অপরাধীর আর বিচার হওয়া সম্ভব না। এভাবে ইসলাম অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয়।

 

জবাবঃ

এই অভিযোগের দলিল হিসেবে যেই হাদিস উদ্ধৃত করা হয়— 

 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ‏"

অর্থঃ “আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন[1] 

 

আলোচ্য হাদিসে কি আসলেই অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করা হয়েছে বা সমাজে সংঘটিত অপরাধ ধামাচাপা দেবার আদেশ করা হয়েছে?

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী(র.) এর প্রসিদ্ধ ছাত্র শায়খ হুসাইন আল আওয়াইশাহ (হাফি.) সংকলিত ফিকহ বিশ্বকোষে উল্লেখ করা হয়েছে—

 

التَّسَتُّرُ فِي الْحُدُودِ:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ- عَنِ النَّبِيِّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَالَ: "مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ".

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- عَنِ النَّبِيِّ قَالَ: "مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَشَفَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ؛ كَشَفَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ؛ حَتَّىٰ يَفْضَحَهُ بِهَا فِي بَيْتِهِ".

وَفِي هَٰذَا السَّتْرِ تَفْصِيلٌ لَا بُدَّ مِنْ بَيَانِهِ، فَإِنْ كَانَ الذَّنْبُ يُضَيِّعُ حُقُوقَ الْآخَرِينَ؛ كَجَرِيمَةِ الْقَتْلِ أَوِ الِاغْتِصَابِ وَنَحْوِهِمَا؛ فَإِنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُسْتَرَ عَلَيْهِ، بَلِ الْوَاجِبُ كَشْفُ ذَٰلِكَ؛ إِحْقَاقًا لِلْحَقِّ وَإِبْطَالًا لِلْبَاطِلِ.

وَإِنْ كَانَ الْأَمْرُ لَا يَضُرُّ بِالْآخَرِينَ؛ فَهُنَا مَحَلُّ السَّتْرِ، وَمِثْلُ ذَٰلِكَ أَنْ يَرَىٰ أَحَدُهُمْ رَجُلًا وَامْرَأَةً عَلَىٰ حَالٍ شَنِيعٍ ثُمَّ يَلْمَسُ النَّدَمَ مِنْهُمَا، وَأَنَّهُمَا يَعْزِمَانِ عَلَى التَّوْبَةِ، وَالْإِقْبَالِ عَلَى اللَّهِ -تَعَالَىٰ- وَانْظُرْ مَا جَاءَ مِنْ فَوَائِدَ فِي "الصَّحِيحَةِ" تَحْتَ الْحَدِيثِ (٣٤٦٠).

অর্থঃহদ বা দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে দোষ গোপন রাখাঃ

আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী () বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।" ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী () বলেছেনঃ " যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন (অপরাধের) বিষয় গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার গুপ্ত (অপরাধের) বিষয় গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন বিষয় ফাঁস করে দিবে, আল্লাহ তার গোপন বিষয় ফাঁস করে দিবেন, এমনকি এই কারণে তাকে তার ঘরে পর্যন্ত অপদস্থ করবেন। "

 

এই গোপন রাখার বিষয়ে এমন কিছু বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা স্পষ্ট করা আবশ্যক। যদি গুনাহটি অন্যের অধিকার নষ্ট করে যেমন হত্যা বা ধর্ষণ ও এই জাতীয় অপরাধ - তবে তা গোপন রাখা বৈধ নয়। বরং সত্য প্রতিষ্ঠা এবং মিথ্যাকে বিলুপ্ত করার জন্য তা প্রকাশ করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে, বিষয়টি যদি অন্য মানুষের কোনো ক্ষতি না করে, তবে সেটাই হবে দোষ গোপন রাখার উপযুক্ত ক্ষেত্র। এর উদাহরণ হলো, কেউ যদি কোনো পুরুষ ও নারীকে আপত্তিকর বা অশ্লীল অবস্থায় দেখে ফেলে এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে অনুশোচনা লক্ষ্য করে যে তারা তওবা করার এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প করেছে [এক্ষেত্রে তাদের এই দোষ গোপন রাখা যেতে পারে]। এ বিষয়ে 'সহীহাহ' গ্রন্থের ৩৪৬০ নম্বর হাদিসের অধীনে বর্ণিত উপকারিতাগুলো দেখুন।[2]

 

হাদিসের ব্যাখ্যা থেকে এটি স্পষ্ট যে এটি আদৌ অন্যের অধিকার নষ্ট হয় এমন অপরাধ বা দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে দোষ গোপন করা প্রসঙ্গে নয়। বরং এটি অন্যের অধিকার নষ্ট হয় না এমন ব্যক্তিগত অপরাধ প্রসঙ্গে। কিন্তু অন্যের অধিকার নষ্ট করে এমন অপরাধীর অপরাধকে প্রকাশ করা ওয়াজিব পর্যায়ে।

 

এই সংক্রান্ত এক জিজ্ঞাসার জবাবে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ এবং ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য শায়খ আব্দুল্লাহ ইবন জিবরিন (র.) বলেছেন,

 

أَمَّا إِنْ كَانَتِ الْمَعْصِيَةُ فِي حَقٍّ لِآدَمِيٍّ كَأَنْ يَرَاهُ يَسْرِقُ مِنْ بَيْتٍ أَوْ دُكَّانٍ أَوْ رَآهُ يَزْنِي بِامْرَأَةِ فُلَانٍ فَلَا يَجُوزُ السَّتْرُ عَلَيْهِ ، لِمَا فِيهِ مِنْ إِهْدَارِ حَقِّ الْآدَمِيِّ ، وَإِفْسَادِ فِرَاشِهِ ، وَخِيَانَةِ الْمُسْلِمِ . وَكَذَا لَوْ عَلِمَ أَنَّهُ الْقَاتِلُ أَوْ الْجَارِحُ لِمُسْلِمٍ فَلَا يُسْتَرُ وَيَضِيعُ حَقُّ مُسْلِمٍ ، بَلْ يَشْهَدُ عَلَيْهِ عِنْدَ الْجِهَاتِ بِأَخْذِ الْحُقُوقِ ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ"

অর্থঃ "তবে যদি পাপাচারটি কোনো মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন তাকে কোনো ঘর বা দোকান থেকে চুরি করতে দেখা যায়, অথবা তাকে অমুকের স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করতে দেখা যায়, তবে তা গোপন রাখা বৈধ নয়। কারণ এর ফলে মানুষের অধিকার নষ্ট হওয়া, তার বিছানা কলুষিত হওয়া এবং মুসলিমের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়। অনুরূপভাবে, যদি জানা যায় যে সে কোনো মুসলিমের হত্যাকারী বা আঘাতকারী, তবে তা গোপন করা যাবে না এবং কোনো মুসলিমের অধিকার নষ্ট করা যাবে না। বরং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।" [3]

 

শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ (হাফি.) পরিচালিত সুবিখ্যাত ফতোয়ার ওয়েবসাইট islamqaতে এক ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে কোনো মুসলিম যদি আরেকজন মুসলিমকে একজন অমুসলিমের অধিকার নষ্ট করতে দেখে, তাহলে সে ঐ মুসলিমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। [4] মুফতি ইব্রাহিম দেসাই(র.) এক ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন ইসলামী রাষ্ট্রে কোনো মুসলিমের অপরাধের বিরুদ্ধে অমুসলিমের সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য হবে। [5] ইসলামে কোনো প্রকার জুলুম ও বেইনসাফীর স্থান নেই।

 

যে হাদিসে মুসলিমের দোষ গোপন করার কথা বলা হয়েছে, সেটি বুঝবার মূলনীতি আল কুরআন থেকেই পাওয়া যায়। আল কুরআনে বলা হয়েছে—

 

لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ ۚ

অর্থঃ “মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর যুলম করা হলে ভিন্ন কথা।[6]

 

অর্থাৎ আল্লাহর বিধানের উদ্দেশ্য হল মন্দ কথার প্রচার না হওয়া। কিন্তু কারো উপর জুলুম হলে তা গোপন করার কোনো ব্যাপার নেই বরং তা প্রকাশ করতে হবে। মুমিনের দোষ গোপন সংক্রান্ত হাদিসকে আল কুরআনে মানদণ্ডে বুঝতে হবে। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসির আহসানুল বায়ানে বলা হয়েছে

 

কারো মধ্যে যদি কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তাহলে তার প্রকাশ্যে সমালোচনা না করার প্রতি শরীয়তে খুবই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, বরং তাকে নির্জনে বুঝাতে বলা হয়েছে। কিন্তু যদি ধর্মীয় কোন কল্যাণ থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় কোন অসুবিধা নেই। এমনিভাবেই জনসমক্ষে প্রকাশ্যে কোন কুকর্ম করা নিতান্ত অপছন্দনীয়। একে তো কুকর্মে লিপ্ত হওয়াটাই নিষিদ্ধ, যদিও তা পর্দার অন্তরালে হয়, তার উপর সেটা জনসমক্ষে প্রকাশ্যে করা অতিরিক্ত আর একটি অপরাধ। আর তার জন্য ঐ কুকর্মের অপরাধ দ্বিগুণ হতে পারে। উক্ত দুই ধরনের অপরাধের কথা এই আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে। আর তাতে এটাও বলা হয়েছে যে, কারো কৃত বা অকৃত অপরাধের কারণে তাকে প্রকাশ্যে ভৎর্সনা করো না। অবশ্য যালেমের যুলুমের কথা জনসমক্ষে বর্ণনা করার ব্যাপারটা ব্যতিক্রম। যালেমের যুলুমের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করার মাঝে কয়েকটি মঙ্গল নিহিত আছে। যেমন, সম্ভবতঃ সে যুলুম করা থেকে বিরত হতে পারে অথবা সে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করবে। দ্বিতীয়তঃ লোকে তার ব্যাপারে সাবধান ও সতর্ক থাকবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, একজন লোক রসূল (সাঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, ‘আমার প্রতিবেশী আমাকে কষ্ট দেয়।’ রসূল (সাঃ) তাকে বললেন, ‘‘তুমি তোমার ঘরের জিনিসপত্র বের করে রাস্তার উপর রেখে দাও।’’ লোকটি তাই করল। তারপর যেই রাস্তা দিয়ে পার হয়ে যায়, সেই তার কারণ জিজ্ঞাসা করে। আর সে প্রতিবেশীর অত্যাচারের কথা বলতেই প্রত্যেকেই তাকে অভিশাপ করে। প্রতিবেশী এই পরিস্থিতি দেখে নিজের ভুল স্বীকার করল এবং ‘ভবিষ্যতে আর কোনদিন কষ্ট দেবে না’ বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হল। আর প্রতিবেশীকে নিজ জিনিসপত্রগুলিকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। (আবু দাউদ, আদব অধ্যায়)[7]

 

রিয়াদুস সলিহীনগ্রন্থে মুমিনের দোষ গোপন সংক্রান্ত হাদিস উদ্ধৃত করার [8] পূর্বে আল কুরআনের এই আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে—

 

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ ٱلۡفَٰحِشَةُ فِي ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۚ

অর্থঃ “যারা মু’মিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।[9]

 

ইমাম বায়হাকী(র.) এর 'শু'আবুল ঈমান' গ্রন্থেও [10] এই সংক্রান্ত হাদিস উদ্ধৃত করার পূর্বে একই আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াত থেকেই বোঝা গেল এই হাদিসের সঙ্গে সমাজে অশ্লীলতার প্রসার তথা অপরাধের বিস্তার না হবার বিষয়টি জড়িত আছে। কোনো ব্যক্তির এমন পাপ থাকতে পারে যা বাহিরে প্রকাশ পেলে তা আরো অনেক মানুষকে সেই পাপের ব্যাপারে ধারণা দিতে পারে এবং পরোক্ষভাবে সেই পাপে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। কেননা নিষিদ্ধ অশ্লীল বিষয়ের প্রতি মানুষের এক ধরণের আকর্ষণ কাজ করে। যদি ঐ ব্যক্তির এই ধরণের দোষ বা পাপগুলো গোপন করা হয় তাহলে সমাজে অশ্লীলতা ও অন্যায় বিস্তার রোধে তা ভূমিকা রাখতে পারে। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী(র.) উল্লেখ করেছেন—

 

هٰذَا حَضٌّ عَلَى سَتْرِ مَنْ سَتَرَ نَفْسَهُ، وَلَمْ تَدْعُ الْحَاجَةُ الدِّينِيَّةُ إِلَى كَشْفِهِ، فَأَمَّا مَنِ اشْتَهَرَ بِالْمَعَاصِي، وَلَمْ يُبَالِ بِفِعْلِهَا، وَلَمْ يَنْتَهِ عَمَّا نُهِيَ عَنْهُ، فَوَاجِبٌ رَفْعُهُ لِلْإِمَامِ، وَتَنْكِيلُهُ، وَإِشْهَارُهُ لِلْأَنَامِ لِيَرْتَدِعَ بِذٰلِكَ أَمْثَالُهُ، وَكَذٰلِكَ مَنْ تَدْعُو الْحَاجَةُ إِلَى كَشْفِ حَالِهِمْ مِنَ الشُّهُودِ وَالْمُجَرَّحِينَ، فَيَجِبُ أَنْ يُكْشَفَ مِنْهُمْ مَا يَقْتَضِي تَجْرِيحَهُمْ، وَيَحْرُمُ سَتْرُهُمْ مَخَافَةَ تَغْيِيرِ الشَّرْعِ، وَإِبْطَالِ الْحُقُوقِ.

অর্থঃ "এখানে সেই ব্যক্তির দোষ গোপন করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে যে নিজের দোষ নিজেই গোপন রাখে এবং যার বিষয়টি প্রকাশ করার কোনো দ্বীনি প্রয়োজন দেখা দেয় না।

কিন্তু যে ব্যক্তি পাপাচারের জন্য কুখ্যাত, পাপে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করে না এবং নিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে বিরত হয় না, তাকে শাসকের (বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ) নিকট সোপর্দ করা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক; যাতে তার মতো অন্যরাও তা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে ও বিরত থাকে।

একইভাবে, সাক্ষ্য প্রদানকারী বা (হাদিস শাস্ত্রের) জারাহবিদদের জন্য প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের প্রয়োজনে যাদের স্বরূপ উন্মোচন করা জরুরী, তাদের মধ্যে যে বিষয়গুলো তাদের অযোগ্যতা প্রমাণ করে সেগুলো প্রকাশ করা ওয়াজিব এবং তাদের গোপন রাখা হারাম কারণ এতে শরীয়ত বিকৃত হওয়ার এবং মানুষের অধিকার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।" [11]

 

আমরা দেখলাম অপরাধীকে বাঁচানো তো দূরের কথা, পাপাচারী অপরাধীকে শাসকের নিকট সোপর্দ করা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক।

 

আলোচ্য হাদিস শর্তহীনভাবে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বরং তা কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্যঃ

আমরা যদি মুমিনের দোষ গোপন সংক্রান্ত হাদিসের দীর্ঘ বর্ণনাটি দেখি, তাহলে এটি পরিষ্কার হয়ে যাবে আলোচ্য হাদিসটি এক মুসলিমের প্রতি অন্য মুসলিমের সহানুভূতি ও ভ্রাতৃবোধ সম্পর্কে। ঢালাওভাবে তার অপরাধ ঢাকার কোনো ব্যাপার সেখানে নেই।

 

عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"

অর্থঃসালিম তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না, তাকে ধ্বংসের জন্য সমর্পণ করবে না যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে ব্যস্ত থাকেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দুঃখ দুর করে দেয়, আল্লাহ তা’আলা তার কিয়ামতের দিনের কষ্ট দুর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।[12]

 

রিয়াদুস সলিহীনে ব্যাখ্যায় আলোচ্য হাদিস প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(.) উল্লেখ করেছেন

 

مَنْ سَتَرَ يَعْنِي: غَطَّى عَيْبَهُ وَلَمْ يُبَيِّنْهُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَسْتُرُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَهٰذَا لَيْسَ عَلَى إِطْلَاقِهِ، فَهُنَاكَ نُصُوصٌ تَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ غَيْرُ مُطْلَقٍ، فَالسَّتْرُ قَدْ يَكُونُ مَأْمُورًا بِهِ مَحْمُودًا، وَقَدْ يَكُونُ حَرَامًا، فَإِذَا رَأَيْنَا شَخْصًا عَلَى مَعْصِيَةٍ، وَهُوَ رَجُلٌ شِرِّيرٌ مُنْهَمِكٌ فِي الْمَعَاصِي، لَا يَزِيدُهُ السَّتْرُ إِلَّا طُغْيَانًا؛ فَإِنَّنَا لَا نَسْتُرُهُ، بَلْ نُبَلِّغُ عَنْهُ حَتَّى يُرْدَعَ رَدْعًا يَحْصُلُ بِهِ الْمَقْصُودُ.

أَمَّا إِذَا لَمْ تَبْدُرْ مِنْهُ بَوَادِرُ سَيِّئَةٌ، وَلٰكِنْ حَصَلَتْ مِنْهُ هَفْوَةٌ، فَإِنَّ مِنَ الْمُسْتَحَبِّ أَنْ تَسْتُرَهُ وَلَا تُبَيِّنَهُ لِأَحَدٍ، لَا لِلْجِهَاتِ الْمَسْؤُولَةِ وَلَا لِغَيْرِهَا، فَإِذَا سَتَرْتَهُ سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.

وَمِنْ ذٰلِكَ أَيْضًا أَنْ تَسْتُرَ عَنْهُ الْعَيْبَ الْخِلْقِيَّ، إِذَا كَانَ فِيهِ عَيْبٌ فِي خِلْقَتِهِ كَجُرُوحٍ مُؤَثِّرَةٍ فِي جِلْدِهِ أَوْ بَرَصٍ أَوْ بَهَقٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذٰلِكَ، وَهُوَ يَتَسَتَّرُ وَيُحِبُّ أَلَّا يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ فَإِنَّكَ تَسْتُرُهُ، إِذَا سَتَرْتَهُ سَتَرَكَ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.

অর্থঃ “এখানে “গোপন রাখা” বলতে বোঝায় তার দোষ ঢেকে দেওয়া এবং প্রকাশ না করা। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। তবে এটি সর্বতোভাবে প্রযোজ্য নয়; এমন কিছু দলিল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে বিষয়টি একেবারে শর্তহীন নয়। দোষ গোপন করা কখনো আদেশকৃত ও প্রশংসনীয় হতে পারে, আবার কখনো হারামও হতে পারে।

যদি আমরা কাউকে গুনাহ করতে দেখি, আর সে এমন এক দুষ্ট ব্যক্তি যে পাপে ডুবে আছে এবং তাকে আঁড়াল করলে তার অবাধ্যতাই বাড়বে - তাহলে আমরা তার দোষ গোপন করব না; বরং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানাবো, যাতে তাকে এমনভাবে নিবৃত্ত করা যায় যা দ্বারা [তাকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার] উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

 

কিন্তু যদি তার পক্ষ থেকে খারাপ লক্ষণ প্রকাশ না পায়, বরং তার দ্বারা কেবল একবার ভুল হয়ে যায়, তাহলে তার দোষ গোপন রাখা মুস্তাহাব, এবং কাউকে তা জানানো উচিত নয়; না কর্তৃপক্ষকে, না অন্য কাউকে। যদি আপনি তার দোষ গোপন রাখেন, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার দোষ গোপন রাখবেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো শারীরিক ত্রুটি গোপন রাখা। যদি কারো দেহে এমন কোনো ত্রুটি থাকে যেমন ত্বকে গুরুতর ক্ষত, শ্বেতী, চর্মরোগ বা এ ধরনের কিছু আর সে নিজেই তা লুকিয়ে রাখতে চায় এবং চায় না মানুষ তা দেখুক, তাহলে আপনিও তা গোপন রাখবেন। আপনি যদি তা গোপন রাখেন, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে আপনাকে [আপনার ত্রুটি] গোপন রাখবেন।[13]

 

আমরা দেখলাম কারো শারিরীক ত্রুটি বা লজ্জাস্কর রোগ থাকলে সেগুলোর ব্যাপার গোপন রেখে ঐ ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করাও ‘দোষ’ গোপনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এমন মানবিক এক বিধানও এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। অথচ ইসলামবিরোধীরা এই সংক্রান্ত হাদিস দেখিয়ে দাবি করে ইসলামে নাকি অপরাধীর অপরাধ চেপে গিয়ে অপরাধীকে বাঁচানোর বিধান দেয়া হয়েছে!

 

আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবন হাজার আসকালানী(র.) তাঁর সুবিখ্যাত ‘ফাতহুল বারীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—

 

قَوْلُهُ: (وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا) أَيْ رَآهُ عَلَى قَبِيحٍ فَلَمْ يُظْهِرْهُ أَيْ لِلنَّاسِ، وَلَيْسَ فِي هَذَا مَا يَقْتَضِي تَرْكَ الْإِنْكَارِ عَلَيْهِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ، وَيُحْمَلُ الْأَمْرُ فِي جَوَازِ الشَّهَادَةِ عَلَيْهِ بِذَلِكَ عَلَى مَا إِذَا أَنْكَرَ عَلَيْهِ وَنَصَحَهُ فَلَمْ يَنْتَهِ عَنْ قَبِيحِ فِعْلِهِ ثُمَّ جَاهَرَ بِهِ، كَمَا أَنَّهُ مَأْمُورٌ بِأَنْ يَسْتَتِرَ إِذَا وَقَعَ مِنْهُ شَيْءٌ، فَلَوْ تَوَجَّهَ إِلَى الْحَاكِمِ وَأَقَرَّ لَمْ يَمْتَنِعْ ذَلِكَ،

অর্থঃ "তাঁর [নবী ] বাণীঃ 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখল' - এর অর্থ হলো, সে তাকে কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত দেখল কিন্তু তা মানুষের কাছে প্রকাশ করল না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, নিজেদের একান্ত সাক্ষাতে তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে বাধা দেওয়া ত্যাগ করতে হবে। আর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ হওয়ার বিষয়টি তখন প্রযোজ্য হবে, যখন তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং নসিহত করা হয়েছে, কিন্তু সে তার মন্দ কাজ থেকে ফিরে আসেনি বরং তা প্রকাশ্যভাবে করতে শুরু করেছে। ঠিক একইভাবে, কোনো ব্যক্তি নিজে কোনো পাপে লিপ্ত হলে তাকেও তা গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সে যদি বিচারকের কাছে গিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়, তবে তাতে কোনো বাধা নেই " [14]

 

আমরা আরো দেখলাম কারো দোষ গোপন রাখা হলেও তার অর্থ এই না যে সেই দোষটিকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেয়া হবে বরং একান্ত সাক্ষাতে সেই দোষের বিরুদ্ধে ঐ ব্যক্তিকে বলতে হবে। নিজের দোষ বিচারকের কাছে গিয়ে স্বীকার করাও নিষিদ্ধ কিছু নয়।

 

ইসলামে সাক্ষ্য গোপন করা হারামঃ

অনেক সময়ে ইসলামবিরোধীরা দাবি করে এই হাদিস অনুসারে মুসলিমদের জন্য অন্য মুসলিম অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়া বৈধ নয়। অথচ এই দাবি যে নির্জলা মিথ্যা, আশা করা যায় তা উপরের আলোচনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইসলামবিরোধীদের এই জাতীয় দাবি মূলত ইসলামের বিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত। আল কুরআনের আয়াত দ্বারা মুসলিমদের জন্য সাক্ষ্য গোপন করা হারাম করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

 

وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ ۚ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ ۗ

অর্থঃ “আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী।[15]

 

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় কুরআনের অন্যতম প্রাচীন তাফসির গ্রন্থতাফসির তাবারীতে উল্লেখ করা হয়েছে –

 

ثُمَّ أَخْبَرَ الشَّاهِدَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ مَا عَلَيْهِ فِي كِتْمَانِ شَهَادَتِهِ، وَإِبَائِهِ مِنْ أَدَائِهَا وَالْقِيَامِ بِهَا عِنْدَ حَاجَةِ الْمُسْتَشْهِدِ إِلَى قِيَامِهِ بِهَا عِنْدَ حَاكِمٍ أَوْ ذِي سُلْطَانٍ، فَقَالَ: "وَمَنْ يَكْتُمْهَا". يَعْنِي: وَمَنْ يَكْتُمْ شَهَادَتَهُ "فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ"، يَقُولُ: فَاجِرٌ قَلْبُهُ، مُكْتَسِبٌ بِكِتْمَانِهِ إِيَّاهَا مَعْصِيَةَ اللَّهِ، كَمَا:-

٦٤٤٥ - حَدَّثَنِي الْمُثَنَّى قَالَ، أَخْبَرَنا إِسْحَاقُ قَالَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الرَّبِيعِ فِي قَوْلِهِ: "وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ"، فَلَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَكْتُمَ شَهَادَةً هِيَ عِنْدَهُ، وَإِنْ كَانَتْ عَلَى نَفْسِهِ وَالْوَالِدَيْنِ، وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَقَدْ رَكِبَ إِثْمًا عَظِيمًا.

٦٤٤٦ - حَدَّثَنِي مُوسَى قَالَ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو قَالَ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ قَوْلَهُ: "وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ"، يَقُولُ: فَاجِرٌ قَلْبُهُ.

অর্থঃ “অতঃপর যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত [আল্লাহ], তিনি সাক্ষীকে অবহিত করেছেন যে, সাক্ষ্য গোপন করা এবং বিচারক বা কোনো শাসকের কাছে যখন কোনো সাহায্যপ্রার্থী (যার অধিকার নষ্ট হচ্ছে) তার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মুখাপেক্ষী হয়, তখন তা দিতে ও প্রতিষ্ঠা করতে অস্বীকার করার পরিণাম কী। অতঃপর আল্লাহ বলেনঃ 'আর যে কেউ তা গোপন করে', অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তার সাক্ষ্য গোপন করে - (তবে অবশ্যই তার অন্তর পাপী)। তিনি [ইমাম তাবারী] বলেনঃ (এর অর্থ) তার অন্তর পাপাচারী এবং সাক্ষ্য গোপন করার কারণে সে আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপ অর্জনকারী। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে –

 

৬৪৪৫ - মুসান্না আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ ইবনে আবি জাফর তার পিতার সূত্রে রাবি' থেকে আল্লাহর এই বাণী "আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যেঃ কারো নিকট কোনো সাক্ষ্য থাকলে তা গোপন করা তার জন্য বৈধ নয়, যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে কিংবা পিতামাতার বিরুদ্ধে হয়। আর যে ব্যক্তি তা গোপন করল, সে এক মহাপাপে লিপ্ত হলো।

 

৬৪৪৬ - মুসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আসবাত সুদ্দি থেকে "আর যে তা গোপন করবে অবশ্যই তার অন্তর পাপী" এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ তার অন্তর পাপাচারী।[16]

 

আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসির কুরতুবীতে উল্লেখ করা হয়েছে—

 

التَّاسِعَةَ عَشْرَةَ- قَوْلُهُ تَعَالَى: (وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ) أَيْ فِي أَلَّا يَكْتُمَ مِنَ الحق شيئا. وقوله: (وَلا تَكْتُمُوا الشَّهادَةَ) تَفْسِيرٌ لِقَوْلِهِ:" وَلَا يُضَارِرَ" بِكَسْرِ الْعَيْنِ. نَهَى الشَّاهِدَ عَنْ أَنْ يَضُرَّ بِكِتْمَانِ الشَّهَادَةِ، وَهُوَ نَهْيٌ عَلَى الْوُجُوبِ بِعِدَّةِ قَرَائِنَ مِنْهَا الْوَعِيدُ. وَمَوْضِعُ النَّهْيِ هُوَ حَيْثُ يَخَافُ الشَّاهِدُ ضَيَاعَ حَقٍّ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: عَلَى الشَّاهِدِ أَنْ يَشْهَدَ حَيْثُمَا اسْتُشْهِدَ، وَيُخْبِرَ حَيْثُمَا اسْتُخْبِرَ، قَالَ: وَلَا تَقُلْ أُخْبِرُ بِهَا عِنْدَ الْأَمِيرِ بَلْ أَخْبِرْهُ بِهَا لَعَلَّهُ يَرْجِعُ وَيَرْعَوِي. وَقَرَأَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَلَا يَكْتُمُوا" بِالْيَاءِ، جَعَلَهُ نَهْيًا لِلْغَائِبِ. الْمُوفِيَةُ عِشْرِينَ- إِذَا كَانَ عَلَى الْحَقِّ شُهُودٌ تَعَيَّنَ عَلَيْهِمْ أَدَاؤُهَا عَلَى الْكِفَايَةِ، فَإِنْ أَدَّاهَا اثْنَانِ وَاجْتَزَأَ الْحَاكِمُ بِهِمَا سَقَطَ الْفَرْضُ عَنِ الْبَاقِينَ، وَإِنْ لَمْ يُجْتَزَأْ بِهَا تَعَيَّنَ الْمَشْيُ إِلَيْهِ حَتَّى يَقَعَ الْإِثْبَاتُ.

অর্থঃ “ঊনবিংশতম (মাসআলা): আল্লাহ তাআলার বাণীঃ (এবং সে যেন তার রব আল্লাহকে ভয় করে) অর্থাৎ সে যেন সত্যের কোনো কিছুই গোপন না করে। আর তাঁর বাণীঃ (এবং তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না) এটি মূলত (পূর্ববর্তী আয়াত) "তাঁকে যেন ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়" বাণীরই ব্যাখ্যা। এখানে সাক্ষীকে সাক্ষ্য গোপন করার মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এই নিষেধাজ্ঞাটি ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক পর্যায়ের, যা বেশ কিছু আলামত বা প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট, যার মধ্যে একটি হলো (পরবর্তী অংশে উল্লিখিত) কঠোর হুঁশিয়ারি বা শাস্তি। আর এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রটি তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন সাক্ষী কোনো অধিকার বা হক নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে। ইবন আব্বাস (রা.) বলেছেননঃ "সাক্ষীর দায়িত্ব হলো যেখানেই তাকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে, সেখানেই সে সাক্ষ্য দেবে এবং যেখানেই তার কাছে জানতে চাওয়া হবে, সে তা অবহিত করবে।" তিনি আরও বলেনঃ "তুমি এমনটি বোলো না যে, আমি কেবল আমিরের (নেতা বা বিচারক) কাছেই তা প্রকাশ করব বরং তুমি তাকে (অপরাধী বা অন্যায়কারীকে) আগেই তা জানিয়ে দাও, যেন সে (অন্যায় থেকে) ফিরে আসে এবং লজ্জিত হয়।" আর আবু আব্দুর রহমান (এই অংশটি) ইয়া (ي) যোগে "وَلَا يَكْتُمُوا" (এবং তারা যেন গোপন না করে) পড়েছেন, যা পরোক্ষ বা অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গণ্য।

বিংশতম (মাসআলা): কোনো অধিকার বা হকের ব্যাপারে যদি একাধিক সাক্ষী থাকে, তবে সেই সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করা তাদের ওপর 'ফরজে কিফায়া' (যৌথ দায়িত্ব) হিসেবে আবশ্যক হয়ে যায়। অতএব, যদি দুজন ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে এবং বিচারক তাদের সাক্ষ্য দ্বারা সন্তুষ্ট বা পর্যাপ্ত মনে করেন, তবে অবশিষ্টদের ওপর থেকে এই দায়িত্ব বা ফরজ স্থগিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সেই সাক্ষ্য পর্যাপ্ত না হয়, তবে মামলার নিষ্পত্তি বা সত্য প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকের কাছে যাওয়া (অবশিষ্ট সাক্ষীদের জন্য) বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।[17]

 

ইসলামের বিধান হল একজন মুসলিম কর্তৃক অন্যকে অত্যাচার ও অন্যায় থেকে বিরত রাখাঃ

দ্বীন ইসলামে অন্য মুসলিমের অপরাধে সাহায্য করার কোনো বিধান নেই বরং এর উল্টোটাই আছে। হাদিসে বলা হয়েছে—

 

عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَنْصُرُهُ إِذَا كَانَ مَظْلُومًا أَفَرَأَيْتَ إِذَا كَانَ ظَالِمًا كَيْفَ أَنْصُرُهُ قَالَ تَحْجُزُهُ أَوْ تَمْنَعُهُ مِنْ الظُّلْمِ فَإِنَّ ذَلِكَ نَصْرُهُ

অর্থঃ “আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ তোমার ভাইকে সাহায্য কর। সে জালিম হোক অথবা মজলুম হোক। এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মজলুম হলে তাকে সাহায্য করব তা তো বুঝলাম। কিন্তু জালিম হলে তাকে কিভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেনঃ তাকে অত্যাচার থেকে বিরত রাখবে। আর এটাই হল তার সাহায্য।[18]

 

مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ

অর্থঃ “তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় দেখবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে বাধা দেয় আর যদি হাত দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন মুখ দিয়ে বাধা দেয়, আর যদি মুখ দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন অন্তর দিয়ে বাধা দেয়, আর এটি হলো দুর্বল ঈমানের পরিচয়।[19]

 

কুয়েতের ফিকহ বিষয় বিশ্বকোষ ‘মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ’’তে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে,

 

অসৎ কাজে বাধা দেয়ার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্রমধারা অবলম্বন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাবধান করা, (হুকুম) স্মরণ করিয়ে দেয়া। এরপর জান্নাতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও জাহান্নাম থেকে সাবধান করা। তারপর ধমকি দেয়া ও তিরস্কার করা। এরপর হাত দিয়ে প্রতিরোধ করা। অতঃপর বেত্রাঘাত ও শাস্তির ব্যবস্থা করা। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা ও বিচারের সম্মুখীন করা।[20]

 

ইমাম বায়হাকী(র.) এর 'শু'আবুল ঈমান' গ্রন্থে ঈমানের শাখা হিসেবে সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায়ের নিষেধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। [21] 


উপসংহারঃ

উপসংহারে আমরা বলতে পারি -

 

১। অন্য মুসলিমের দোষ গোপন রাখা সংক্রান্ত হাদিস দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে বা অন্যের অধিকার নষ্ট হয় এমন অপরাধ গোপন রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই অপরাধকে প্রকাশ করতে হবে যাতে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পায়।

২। এই হাদিস ব্যক্তিগত দোষের ক্ষেত্রে বা অশালীন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা প্রকাশ পেলে সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে যেতে পারে।

৩। আল কুরআনপ্রদত্ত মূলনীতি হল, মন্দ কথার প্রচার অপছন্দনীয়, কিন্তু কারো উপর জুলুম হলে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তা প্রকাশ করতে হবে।

৪। এমনকি একজন মুসলিম যদি কোনো অমুসলিমের সাথে অন্যায় করে, এমন ক্ষেত্রেও অন্য মুসলিম সেই মুসলিমের অপরাধের বিপক্ষে সাক্ষী দেবে।

৫। পাপাচারী ব্যক্তিকে বিচারকের নিকট সোপর্দ করা ইসলামে আদৌ নিষিদ্ধ কিছু নয়।

৬। কোনো মুসলিম ব্যক্তির লজ্জাজনক শারিরীক ত্রুটি অন্যের নিকট গোপন করাও আলোচ্য হাদিসের হুকুমের মাঝে শামিল।

৭। নিজের অপরাধের কথা বিচারকের কাছে স্বীকার করা ইসলামে নিষিদ্ধ কিছু নয়।

৮। ইসলামে সাক্ষ্য গোপন করে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা মহাপাপ। একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হল সাক্ষ্য প্রদান করে অপরাধীকে বিচারের সম্মুখীন করা।

৯। কেউ একান্তে অন্যায় কাজ করতে চাইলে তাকে বাধা দিতে হবে। একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে অন্যায় কাজে কোনোভাবেই সাহায্য করবে না। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হল সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।

 

 

তথ্যসূত্রঃ


[1] সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস নং : ২৫৪৪ (সহীহ)

https://www.hadithbd.com/hadith/ibn-majah/2544 

[2] আল-মাওসু’আতুল ফিকহিয়্যাতুল মুয়্যাসসারাতু ফি ফিকহিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাতিল মুত্বহহারাহ্ - হুসাইন বিন আওদাহ আল আওয়াইশাহ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৫-১৬

https://shamela.ws/book/35096/2080

https://shamela.ws/book/35096/2081

অথবা (আর্কাইভকৃত)

https://archive.is/wip/QRjL2

https://archive.is/wip/HaDBr

[3] ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম, পৃষ্ঠা ৩৪৪

https://islamqa.info/ar/answers/111911/

https://islamqa.info/en/answers/111911/

অথবা (আর্কাইভকৃত)

https://web.archive.org/web/20260906073306/https://islamqa.info/ar/answers/111911

https://web.archive.org/web/20260906073314/https://islamqa.info/en/answers/111911

[4] “Should he give testimony against a Muslim who wronged a Christian and took his wealth unlawfully, or should he conceal his wrongdoing_ - Islam Question & Answer”

https://islamqa.info/en/209220/

অথবা https://web.archive.org/web/20260906074158/https://islamqa.info/en/answers/209220 (আর্কাইভকৃত)

[6] আল কুরআন, নিসা ৪ : ১৪৮

[7] তাফসির আহসানুল বায়ান, সুরা নিসার ১৪৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা

https://www.hadithbd.com/quran/an-nisa/148

[8] দেখুনঃ রিয়াদুস সলিহীন, হাদিস নং : ২৪৫

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=22583   

[9] আল কুরআন, নুর ২৪ : ১৯

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=18682

[10] দেখুনঃ শু'আবুল ঈমান - ইমাম বায়হাকী, শাখা-৬৯. দোষ গোপন রাখা

https://www.hadithbd.com/books/detail/?book=147&chapter=12367

[11] আল মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিছ কিতাব মুসলিম – আবুল আব্বাস আল কুরতুবী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫৫৮

https://shamela.ws/book/132524/3847

অথবা https://archive.is/wip/uK4fN (আর্কাইভকৃত)

[12] সুনান তিরমিযি, হাদিস নং : ১৪৩২ (সহীহ)

https://www.hadithbd.com/hadith/tirmidhi-ifa/1432

[13] শারহু রিয়াদিস সলিহীন - মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৬৮

https://shamela.ws/book/9260/1150

অথবা https://archive.is/wip/JwzGe (আর্কাইভকৃত)

[14] ফাতহুল বারী – ইবন হাজার আসকালানী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৯৭

https://shamela.ws/book/1673/2879

[15] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৮৩

[16] তাফসির তাবারী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৯৯-১০০, সুরা বাকারাহর ২৮৩ নং আয়াতের তাফসির

https://shamela.ws/book/43/3000

https://shamela.ws/book/43/3001

অথবা (আর্কাইভকৃত)

https://archive.is/u20kZ

https://archive.is/HRFxF

[17] তাফসির কুরতুবী, সুরা বাকারাহর ২৮৩ নং আয়াতের তাফসির, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪১৫

https://shamela.ws/book/20855/1323

অথবা https://archive.is/wip/BhVLA (আর্কাইভকৃত)

[18] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৬৯৫২

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=31765 

[19] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৪৯

https://www.hadithbd.com/books/link/?id=10461

[20] আল-মাওসুআহ আল-ফিকহিয়্যা, খণ্ড- ৩৯, পৃষ্ঠা- ১২৭

http://islamqa.info/bn/10522

https://www.hadithbd.com/books/detail/?book=16&chapter=2201

[21] দেখুনঃ শু'আবুল ঈমান - ইমাম বায়হাকী, শাখা- -৫২. সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায়ের নিষেধ

https://www.hadithbd.net/books/link/?id=12350   

 

সোশ্যাল লিঙ্ক ও অ্যাপ

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ পোস্টসমূহ