কিয়ামতের পূর্বে শেষ যুগে কি ঘোড়া ও তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ হবে?

কিয়ামতের পূর্বে শেষ যুগে কি ঘোড়া ও তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ হবে?

13 বার দেখা হয়েছে
শেয়ার করুন:

 

অভিযোগঃ

বাংলাদেশি নাস্তিকদের একটি ব্লগে বলা হয়েছেঃ “আমরা যারা নিয়মিত চলচ্চিত্র দেখি, তারা সবাই বুঝি যে, ভবিষ্যতের পৃথিবী এবং যুদ্ধবিগ্রহগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র, রোবট, বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বারা। মজার বিষয় হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ কিয়ামতের পূর্বে যেই যুদ্ধ হবে তার ভবিষ্যতবাণী করতে গিয়ে বহুস্থানেই ঘোড়ায় চড়ে, বর্শা এবং তরবারীর সাহায্যে যুদ্ধের কথা বলা আছে। অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ কখনো ভাবতেও পারেনি, পৃথিবী এতদিন পর্যন্ত টিকবে, জ্ঞান বিজ্ঞানের এত প্রসার ঘটবে এবং মানুষ এত এত আবিষ্কার করবে। নইলে ঘোড়ায় চড়ে, বর্শা ঢাল আর তরবারী নিয়ে যুদ্ধের কথা বলতেন না।

 

জবাবঃ

অভিযোগকারীদের ভাষা থেকে যা বোঝা যায় - তারা সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র দিয়ে বাস্তবতাকে যাচাই করে। যদিও বাস্তব আর সায়েন্স ফিকশন সব সময়ে এক হয় না।

দেশি-বিদেশি ইসলামবিরোধীরা তাদের এই জাতীয় অভিযোগের স্বপক্ষে যেসব হাদিস দেখায়ঃ

 

১।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: يَكُونُ عَلَى الرُّومِ مَلِكٌ لَا يَعْصُونَه، أَوْ لَا يَكَادُونَ يَعْصُونَه، فَيَجِيءُ حَتَّى يَنْزِلَ بِأَرْضِ كَذَا وَكَذَا، قَالَ عَبْدُ اللهِ: أَنَا مَا نَسِيتُهَا، قَالَ: وَيَسْتَمِدُّ الْمُؤْمِنُونَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، حَتَّى يَمُدَّهُمْ أَهْلُ عَدَنِ أَبْيَنَ عَلَى قَلَصَاتِهِمْ، قَالَ عَبْدُ اللهِ: إِنَّهُ لَفِي الْكِتَابِ مَكْتُوبٌ،

অর্থঃ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবন আল-আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ "রোমকদের (খ্রিষ্টান শক্তি) ওপর এমন এক রাজা আসবে যাকে তারা অমান্য করবে না, অথবা তারা তাকে অমান্য করার উপক্রমও করবে না। সে অগ্রসর হয়ে অমুক অমুক স্থানে অবতরণ করবে। আবদুল্লাহ (রা.) বলেনঃ আমি সেই স্থানটির নাম ভুলে যাইনি। তিনি আরও বলেনঃ এরপর মুমিনগণ একে অপরের কাছে সাহায্য চাইবে, এমনকি 'আদন আবইয়ান' (এডেন, ইয়েমেনের একটি অঞ্চল) এর অধিবাসীরা তাদের দ্রুতগামী উটসমূহে চড়ে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। আবদুল্লাহ (রা.) বলেনঃ এটি (পূর্ববর্তীদের) কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।" [1]

 

২।

عَنْ يُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ هَاجَتْ رِيحٌ حَمْرَاءُ بِالْكُوفَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ لَهُ هِجِّيرَى إِلاَّ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ جَاءَتِ السَّاعَةُ ‏.‏ قَالَ فَقَعَدَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ إِنَّ السَّاعَةَ لاَ تَقُومُ حَتَّى لاَ يُقْسَمَ مِيرَاثٌ وَلاَ يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا - وَنَحَّاهَا نَحْوَ الشَّأْمِ - فَقَالَ عَدُوٌّ يَجْمَعُونَ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الإِسْلاَمِ ‏.‏ قُلْتُ الرُّومَ تَعْنِي قَالَ نَعَمْ وَتَكُونُ عِنْدَ ذَاكُمُ الْقِتَالِ رَدَّةٌ شَدِيدَةٌ فَيَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجُزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجُزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الرَّابِعِ نَهَدَ إِلَيْهِمْ بَقِيَّةُ أَهْلِ الإِسْلاَمِ فَيَجْعَلُ اللَّهُ الدَّبْرَةَ عَلَيْهِمْ فَيَقْتُلُونَ مَقْتَلَةً - إِمَّا قَالَ لاَ يُرَى مِثْلُهَا وَإِمَّا قَالَ لَمْ يُرَ مِثْلُهَا - حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ لَيَمُرُّ بِجَنَبَاتِهِمْ فَمَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيْتًا فَيَتَعَادُّ بَنُو الأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلاَ يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلاَّ الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَىِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أَىُّ مِيرَاثٍ يُقَاسَمُ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِبَأْسٍ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمُ الصَّرِيخُ إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَهُمْ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشَرَةَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنِّي لأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ ‏.‏

অর্থঃ "উসায়র ইবনু জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কুফা নগরীতে লাল (উত্তপ্ত) ঝঞ্ঝা বায়ু প্রবাহিত হল। এ সময় এক ব্যক্তি কুফায় আসল। তার কথার ’মুদ্রাদোষ’ ছিল ’আলা’ হে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ! কিয়ামত এসে গেছে। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) যেভাবে বসে ছিলেন সেভাবেই বসে রইলেন এবং বললেন কিয়ামত কায়িম হবে না, যতক্ষন না উত্তরাধিকার সম্পদ অবণ্টিত থাকবে এবং যতক্ষন না লোক গনীমতে আনন্দিত হবে না। অতঃপর তিনি তার হস্ত দ্বারা সিরিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, আল্লাহর শত্রুরা সমবেত হবে মুসলিমদের সাথে লড়াই করার জন্য এবং মুসলিমগণও তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হবে।

 

(এ কথা শুনে) আমি বললাম, আল্লাহর শত্রু বলে আপনাদের উদ্দেশ্য হল রোমীয় খ্রীষ্টান সম্প্রদায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তখন ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তখন মুসলিম সম্প্রদায় একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে, তারা মৃত্যুর জন্য সামনে অগ্রসর হবে। জয়লাভ করা ব্যতিরেকে তারা পেছনে ফিরবে না। এরপর পরস্পর তাদের মাঝে যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত হয়ে যাবে। অতঃপর উভয় পক্ষের সৈন্য জয়লাভ করা ব্যতিরেকেই ফিরে চলে যাবে। যুদ্ধের জন্য মুসলিমদের যে দলটি অগ্রে এগিয়ে গিয়েছিল তারা সকলেই মরে যাবে। অতঃপর পূর্ববর্তী দিন মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে। তারা বিজয়ী না হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে না। এদিনও পরস্পরের মাঝে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। অবশেষে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। উভয় বাহিনী জয়লাভ করা ব্যতীতই নিজ নিজ শিবিরে ফিরে আসবে। দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অতঃপর তৃতীয় দিন পুনঃরায় মুসলিমগণ মৃত্যুর জন্য একটি বাহিনী পাঠাবে। যারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। সে দিন পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দলের অন্তর্ভুক্ত হবে তারা।

 

এ যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকবে। অবশেষে জয়লাভ করা ব্যতিরেকেই এ দল ও ঐ দল ফিরে যাবে। (তবে মুসলিম বাহিনীর সামনের) সেনাদলটি শেষ হয়ে যাবে। এরপর যুদ্ধের চতুর্থ দিবসে অবশিষ্ট মুসলিমগণ সকলেই যুদ্ধের জন্য সম্মুখ পানে এগিয়ে যাবে। সেদিন কাফিরদের উপর আল্লাহ তায়ালা অমঙ্গল চক্র চাপিয়ে দিবেন। অতঃপর এমন যুদ্ধ হবে যা জীবনে কেউ দেখবেনা অথবা যা জীবনে কেউ দেখেনি। অবশেষে তাদের শরীরের উপর পাখী উড়তে থাকবে। পাখী তাদেরকে অতিক্রম করবে না; এমতাবস্থায় তা মাটিতে পড়ে মরে যাবে। একশ মানুষ বিশিষ্ট পূর্ন পুরুষদের একটি গোত্র, এদের থেকে মাত্র এক ব্যক্তি বেঁচে থাকবে। এমতাবস্থায় কেমন করে গনীমতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দ উৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ বন্টন করা হবে।

 

মুসলিমগণ এ সময় আরেকটি ভয়াবহ বিপদের সংবাদ শুনতে পাবে এবং এ মর্মে একটি আওয়াজ তাদের নিকট পৌছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওয়ানা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসাবে প্রেরণ করবে। রাসুলুল্লাহ ()-বলেনঃ দাজ্জালের সংবাদ সংগ্রাহক দলের প্রতিটি ব্যক্তির নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম এবং তাদের অশ্বের রং সম্পর্কেও আমি অবগত আছি। এ পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দল সেদিন তারাই হবে। অথবা (বলেছেন) ইবন আবু শায়বা (তার) রিওয়ায়াতের মধ্যে يُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ এর পরিবর্তে أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ বর্ণনা করে ছেন।" [2]  

 

৩।

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالْأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ: خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ: لَا وَاللَّهِ لَا نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لَا يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لَا يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قسطنطينية فَبينا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ: إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جاؤوا الشامَ خرجَ فَبينا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلَاة فَينزل عِيسَى بن مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لَانْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فيريهم دَمه فِي حربته

অর্থঃ "আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না রূমকগণ (রোমানগন) (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) আ’মাক অথবা দাবিক নামক স্থানে অবতরণ করবে এবং মদীনার তৎকালীন উত্তম লোকদের একটি সেনাদল তাদের মোকাবিলায় বের হবে। যুদ্ধের জন্য যখন মুসলিমগণ সারিবদ্ধ হবে, তখন রূমকগণ বলবে, তোমাদের যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের কিছু সংখ্যক লোকজনকে বন্দি করে নিয়ে এসেছ। তাদের সাথে আমরা যুদ্ধ করব। মুসলিমগণ বলবেন, আল্লাহর শপথ! এটা কখনো হতে পারে না। আমরা আমাদের সেই সকল মুসলিম ভাইদেরকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য ছেড়ে দিতে পারি না। এরপর মুসলিমগণ রূমক কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, কিন্তু মুসলিমদের এক-তৃতীয়াংশ রূমকদের মোকাবিলা থেকে পলায়ন করবে। আল্লাহ তা’আলা এই পলায়নকারীদের তাওবাহ্ কখনো গ্রহণ করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে, তারা আল্লাহ তা’আলার নিকট উত্তম শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। আর এক-তৃতীয়াংশ রূমকদের ওপর বিজয়ী হবে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে কখনো ফিতনায় ফেলবেন না। অবশেষে তারাই কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। অতঃপর যখন তারা গনীমতের মাল-সম্পদ ভাগ করণে ব্যস্ত হবে এবং তাদের তরবারীসমূহ যায়তুন গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখবে, ঠিক এ সময় হঠাৎ শয়তান এ ঘোষণা দেবে যে, তোমাদের অনুপস্থিতিতে মাসীহে দাজ্জাল তোমাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। এতদশ্রবণে মদীনার সেই সেনাদল সেদিকে বের হয়ে পড়বে। অথচ সেই ঘোষণাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যখন মুসলিমগণ কনস্টান্টিনোপল ছেড়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করবে তখনই দাজ্জালের আগমন ঘটবে। এ সময় মুসলিমগণ দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুতি নিতে থাকবে এবং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবে, তৎক্ষণাৎ সালাতের উদ্দেশে (মুয়াযযিন কর্তৃক) ইকামত দেয়া হবে এবং এ মূহুর্তে ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) আকাশ থেকে (দামিশকের জামে মসজিদের মিনারায়) অবতরণ করবেন এবং মুসলিমদের ইমামতি করে সলাত আদায় করাবেন। অতঃপর যখন আল্লাহর শত্রু (দাজ্জাল) তাঁকে দেখতে পাবে, তখন সে এমনিভাবে গলে যেতে থাকবে যেমনিভাবে লবণ পানিতে গলে যায়। আর যদি ঈসা (আঃ) তাকে এমনিতেই ছেড়ে দিতেন, তবুও সে এমনিতেই গলে ধ্বংস হয়ে যেত, কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাকে ’ঈসা (আঃ) যে বর্শা দিয়ে তাকে হত্যা করবেন, রক্তমাখা সে বর্শাটি তিনি লোকেদের সকলকেই দেখাবেন।" [3]  

 

১ম হাদিসের পর্যালোচনাঃ

এই প্রবন্ধে উল্লেখিত ১ম হাদিস কোনো মারফু [নবী() থেকে বর্ণিত] হাদিস না বরং মাওকুফ হাদিস অর্থাৎ এটি সাহাবীর উক্তি। সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবন আল-আস (রা.) এই উক্তি করেছেন। সেই উক্তির মধ্যে এটিও উল্লেখ আছে যেঃ  إِنَّهُ لَفِي الْكِتَابِ مَكْتُوبٌ، {এটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে}। এখানে ‘কিতাব’ দ্বারা আহলে কিতাবদের ধর্মগ্রন্থ উদ্দেশ্য। ইমাম ইবন কাসির(র.)সহ অনেক উলামা উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবন আল-আস (রা.) ইয়ারমুকের যুদ্ধের পরে আহলে কিতাবদের [ইহুদি-খ্রিষ্টানদের] বিপুল পরিমাণ ধর্মগ্রন্থ লাভ করেছিলেন এবং সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করতেন। এই প্রসঙ্গে ইবন কাসির(র.) এর ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে—

 

عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ، وَهُوَ مِنْ أَئِمَّةِ أَهْلِ الْكِتَابِ مِمَّنْ آمَنَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَقَدْ كَانَ لَهُ اطِّلَاعٌ عَلَى ذَلِكَ مِنْ جِهَةِ زَامِلَتَيْنِ كَانَ أَصَابَهُمَا يَوْمَ الْيَرْمُوكِ، فَكَانَ يُحَدِّثُ مِنْهُمَا عَنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَعَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، وَكَانَ بَصِيرًا بِأَقْوَالِ الْمُتَقَدِّمِينَ عَلَى مَا فِيهَا مِنْ خَلْطٍ وَغَلَطٍ، وَتَحْرِيفٍ وَتَبْدِيلٍ، فَكَانَ يَقُولُهَا بِمَا فِيهَا مِنْ غَيْرِ نَقْدٍ، وَرُبَّمَا أَحْسَنَ بَعْضُ السَّلَفِ بِهَا الظَّنَّ فَنَقَلَهَا عَنْهُ مُسَلَّمَةً، وَفِي ذَلِكَ مِنَ الْمُخَالَفَةِ لِبَعْضِ مَا بِأَيْدِينَا مِنَ الْحَقِّ جُمْلَةٌ كَثِيرَةٌ، لَكِنْ لَا يَتَفَطَّنُ لَهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ.

অর্থঃ "আবদুল্লাহ ইবন সালাম - যিনি আহলে কিতাবের সেই ইমামদের একজন ছিলেন যারা ঈমান এনেছিলেন। এবং আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আল-আস; তাঁর কাছে এসব বিষয়ের জ্ঞান এসেছিল এই সূত্রে যে, ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি দুই উট বোঝাই (আহলে কিতাবদের) গ্রন্থ লাভ করেছিলেন। সেখান থেকে তিনি আহলে কিতাবের [গ্রন্থের তথ্য] বর্ণনা করতেন। তিনি কা‘ব আল-আহবারের [ইহুদি পণ্ডিত যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাবিঈ] সূত্রেও বর্ণনা করতেন। তিনি পূর্ববর্তী উম্মতের বক্তব্য সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন যদিও তাতে ছিল গোলমাল, ভুল, বিকৃতি ও পরিবর্তন। তিনি সেগুলো যেমন ছিল তেমনই সমালোচনা ছাড়াই বর্ণনা করতেন। আর কখনো কখনো সালাফদের কেউ কেউ সেগুলোর প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করে মুসলিমদের মধ্যে সেগুলো তাঁর থেকে বর্ণনা করতেন। অথচ সেগুলোর মধ্যে আমাদের হাতে থাকা সত্যের [কুরআন-সুন্নাহ] সাথে বিরোধপূর্ণ বহু বিষয় রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা বুঝতে পারে না।" [4]

 

অর্থাৎ আমরা দেখলাম যে, ১ম যে বর্ণনায় ইয়েমেনের আদনবাসী কর্তৃক উটের পিঠে করে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার তথ্য আছে, তা কুরআন বা নবী() এর সহীহ হাদিসে নেই। বরং তা একজন সাহাবীর উক্তি থেকে এসেছে, যেটির উৎস আহলে কিতাবদের গ্রন্থ বা ইস্রাঈলিয়্যাহ। [5] কুরআন বা নবী() এর সহীহ হাদিস ব্যতিত আর কোনো কিছু থেকে ইসলামী বিশ্বাস সাব্যস্ত হয় না। কাজেই ১ম বর্ণনা থেকে ইসলামী বিশ্বাস সাব্যস্ত হবে না। যদিও এই তথ্য কুরআন বা সহীহ হাদিসে থাকলেও তা আদৌ সমস্যাজনক ছিল না, বরং সেক্ষেত্রেও ব্যাখ্যার অবকাশ ছিল (যা সামনে আলোচিত হবে)। কিন্তু যেহেতু এই তথ্য কুরআন বা সহীহ হাদিসে নেই, কাজেই এই প্রসঙ্গে আর ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন।

 

২য় ও ৩য় হাদিসের পর্যালোচনাঃ

এই প্রবন্ধে উল্লেখিত ২য় ৩য় হাদিস নবী() থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিস। এই হাদিসগুলোর একটিতে উল্লেখ আছে শেষ যুগের যুদ্ধের সময়ে অশ্বারোহী ব্যক্তিদেরকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসাবে প্রেরণ করার কথা। অন্যটিতে উল্লেখ আছে যায়তুন গাছে তলোয়ার ঝুলিয়ে রাখার কথা। এই হাদিসগুলো প্রসঙ্গে উলামায়ে কিরামের মাঝে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। এ প্রসঙ্গে ‘ফিকহু আশরাতিস সা’আহ’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে—

 

وَقَدْ حَاوَلَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ الْإِجَابَةَ عَنْ هَذَا؛ فَقَالُوا: "إِنَّ هَذِهِ الْأَحَادِيثَ، وَأَحَادِيثَ مُشَابِهَةً كَثِيرَةً تَدُلُّ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْحَضَارَةَ الْهَائِلَةَ الَّتِي اخْتَرَعَتْ هَذِهِ الْقُوَّةَ الْهَائِلَةَ مِنَ الْقَنَابِلِ، وَالصَّوَارِيخِ؛ سَتَتَلَاشَى، وَتَزُولُ، وَأَغْلَبُ الظَّنِّ أَنَّهَا سَتُدَمِّرُ نَفْسَهَا بِنَفْسِهَا، وَأَنَّ الْبَشَرِيَّةَ سَتَعُودُ مَرَّةً أُخْرَى إِلَى الْقِتَالِ عَلَى الْخُيُولِ، وَاسْتِعْمَالِ الرِّمَاحِ، وَالْقِسِيِّ، وَنَحْوِ ذَلِكَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ".

فِي حِينِ يَرَى الْبَعْضُ الْآخَرُ أَنَّ هَذَا لَا يَعْنِي أَنَّ الْحَرْبَ سَتَدُورُ بِالْخُيُولِ وَالسُّيُوفِ؛ لِأَنَّ الْخُيُولَ رَمْزُ الْمُعَدَّاتِ الْحَرْبِيَّةِ أَيًّا كَانَ نَوْعُهَا؛ وَلِأَنَّ النَّبِيَّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- كَانَ يُخَاطِبُ أَهْلَ زَمَانِهِ عَلَى قَدْرِ عُقُولِهِمْ وَعِلْمِهِمْ.

অর্থঃ “কিছু আলেম এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা বলেছেনঃ "এই হাদিসগুলো এবং এ জাতীয় আরও অনেক হাদিস প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের যে বিশাল শক্তি ও এই যে বিশাল সভ্যতা আমরা দেখছি, তা একদিন বিলুপ্ত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। প্রবল ধারণা এই যে, এই সভ্যতা নিজেকে নিজেই ধ্বংস করে ফেলবে এবং মানবজাতি আবারও ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করা এবং বল্লম, ধনুক ও এই জাতীয় অস্ত্র ব্যবহারের যুগে ফিরে যাবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"

অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ কেবল ঘোড়া ও তলোয়ার দিয়েই হবে। বরং (তাদের মতে) 'ঘোড়া' হলো যুদ্ধ সরঞ্জামের একটি প্রতীক, তা যে ধরনেরই হোক না কেন। কারণ নবী করীম () তৎকালীন সময়ের মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধির পরিধি অনুযায়ী তাদের পরিচিত জিনিসের মাধ্যমে সম্বোধন করেছিলেন।[6]

 

অর্থাৎ কোনো কোনো আলেমের মতে এই হাদিসগুলোর দ্বারা বোঝা যায় কিয়ামতের পূর্বে মানবসভ্যতা ধ্বংসের সম্মুখীন হবে এবং মানবজাতি পুনরায় ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করবে। আবার কোনো কোনো আলেমের মতে এখানে ‘ঘোড়া’ বা এই জাতীয় শব্দগুলো প্রতীকি বা রূপক অর্থে এসেছে, নবী () তাঁর সময়ের মানুষের পরিচিত জিনিসের মাধ্যমে শেষ যুগের যুদ্ধের বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন, তা না হলে মানুষ তা সহজে বুঝতে সক্ষম হতো না।

 

রূপক অর্থের অভিমতঃ

এ প্রসঙ্গে Ask Imam এর হাদিসে বিশেষায়ন অনুষদ থেকে এক ফতোয়ায় মাওলানা মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আবাসোমার উল্লেখ করেছেন—

 

"Although the Hadith makes mention of swords, it could be that it refers to weaponry, in general. Obviously, if the sophisticated weaponry of today were to be mentioned, the Sahaaba (Radhiallaahu Anhum) would have not been able to understand and fathom its meaning. And it is also possible that the weapons used in that war would be actual swords. Nothing is difficult on Almighty Allah.

and Allah Ta'ala Knows Best"

 

Moulana Muhammad ibn Moulana Haroon Abassommar

FACULTY OF SPECIALTY IN HADITH

CHECKED AND APPROVED: Mufti Ebrahim Desai

অর্থঃ “যদিও হাদিসে তলোয়ারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে হতে পারে এর দ্বারা সাধারণভাবে অস্ত্রশস্ত্র বোঝানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, যদি আজকের যুগের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হতো, তবে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর অর্থ বুঝতে বা অনুধাবন করতে সক্ষম হতেন না। আবার এটাও সম্ভব যে, সেই যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো প্রকৃতপক্ষেই তলোয়ার হবে। মহান আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই কঠিন নয়।

আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

মাওলানা মুহাম্মাদ ইবনে মাওলানা হারুন আবাসোমার

হাদিসে বিশেষায়ন অনুষদ

যাচাই ও অনুমোদন করেছেনঃ মুফতি ইবরাহিম দেসাই [7]  

 

এ প্রসঙ্গে SeekersGuidance এর এক ফতোয়ায় মাওলানা ইলিয়াস প্যাটেল উল্লেখ করেছেন—

 

“Obviously, in the Prophet’s (Allah bless him and give him peace) time, there was no word for a tank, drone, machine gun, etc. So, it may be that the Prophet was using the language he and his companions would understand about weaponry and transportation.

 

So, the use of the word “sword” or “horses” may be symbolic and used in place of the weapons and means of transport that we know today or will know at the end of times.

 

The lesson we should be taking from these kinds of hadith is that we must be prepared and follow the messenger now while we still have a chance to earn good actions and seek forgiveness while we still have the opportunity.

… … …

[Mawlana] Ilyas Patel

Checked and Approved by Shaykh Faraz Rabbani”

অর্থঃ "স্বাভাবিকভাবেই, রাসুলুল্লাহ ()-এর যুগে ট্যাংক, ড্রোন কিংবা মেশিনগানের মতো কোনো শব্দ ছিল না। তাই সম্ভবত রাসুলুল্লাহ () এমন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন যা তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ সমরাস্ত্র ও যানবাহনের ক্ষেত্রে বুঝতে সক্ষম ছিলেন।

 

সুতরাং, 'তরবারী' বা 'ঘোড়া' শব্দগুলোর ব্যবহার প্রতীকী হতে পারে এবং এগুলো আজকের যুগে আমরা যা চিনি কিংবা শেষ জামানায় যা আসবে, সেই সব অস্ত্র ও যানবাহনের স্থলে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

 

এই ধরণের হাদিস থেকে আমাদের যে শিক্ষা নেওয়া উচিত তা হলো—আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে এবং রাসুলকে অনুসরণ করতে হবে এখনই, যতক্ষণ আমাদের কাছে নেক আমল করার সুযোগ আছে এবং ক্ষমা প্রার্থনার অবকাশ রয়েছে।"

... ... ...

[মাওলানা] ইলিয়াস প্যাটেল

যাচাই ও অনুমোদন করেছেনঃ শায়খ ফারাজ রাব্বানী [8]  

 

মানবসভ্যতা ধ্বংস হয়ে ঘোড়া ও তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধের যুগে ফিরে যাওয়া সংক্রান্ত অভিমতঃ

শায়খ উমার আল আশকার(র.) এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন—

 

وَهَذِهِ الْأَحَادِيثُ وَأَحَادِيثُ مُشَابِهَةٌ كَثِيرَةٌ تَدُلُّ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْحَضَارَةَ الْهَائِلَةَ الَّتِي اخْتَرَعَتْ هَذِهِ الْقُوَّةَ الْهَائِلَةَ مِنَ الْقَنَابِلِ وَالصَّوَارِيخِ سَتَتَلَاشَى وَتَزُولُ، وَأَغْلَبُ الظَّنِّ أَنَّهَا سَتُدَمِّرُ نَفْسَهَا بِنَفْسِهَا، وَأَنَّ الْبَشَرِيَّةَ سَتَعُودُ مَرَّةً أُخْرَى إِلَى الْقِتَالِ عَلَى الْخُيُولِ وَاسْتِعْمَالِ الرِّمَاحِ وَالْقِسِيِّ وَنَحْوِ ذَلِكَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

অর্থঃ “এই হাদিসগুলো এবং এর সদৃশ আরও অনেক হাদিস প্রমাণ করে যে, এই বিশাল সভ্যতা, যা বোমা ও মিসাইলের মতো এক প্রচণ্ড শক্তি উদ্ভাবন করেছে - তা একদিন বিলীন ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। প্রবল ধারণা এই যে, এটি নিজেকে নিজেই ধ্বংস করে ফেলবে এবং মানবজাতি আবারও ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করা এবং বল্লম, ধনুক ও এই জাতীয় সরঞ্জামের ব্যবহারের যুগে ফিরে যাবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।[9]  

 

শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র.), শায়খ আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ(হাফি.) সহ সমকালীন আরো অনেক আলেম অনুরূপ অভিমত পোষণ করেছেন। [10]  

 

হাদিসগুলোকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করা ও অন্য ব্যাপারে নিরব থাকাঃ

আমরা যদি আলোচ্য হাদিসগুলোকে সূক্ষ্মভাবে লক্ষ করি, তাহলে খেয়াল করব এই হাদিসগুলোতে কিয়ামতের পূর্বে কিভাবে বা কোন অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ হবে এর সরাসরি উল্লেখ নেই। প্রবন্ধের শুরুতে উল্লেখিত ২য় হাদিসে উল্লেখ আছেঃ “... এবং এ মর্মে একটি আওয়াজ তাদের নিকট পৌছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওয়ানা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসাবে প্রেরণ করবে।

এখানে শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রাহক ব্যক্তিদের ঘোড়ায় চড়বার উল্লেখ আছে। গোটা যুদ্ধই যে ঘোড়ার পিঠে চড়ে হবে এর সরাসরি উল্লেখ নেই!

আবার, শুরুতে উল্লেখিত ৩য় হাদিসে উল্লেখ আছেঃ “অতঃপর যখন তারা গনীমতের মাল-সম্পদ ভাগ করণে ব্যস্ত হবে এবং তাদের তরবারীসমূহ যায়তুন গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখবে, ঠিক এ সময় হঠাৎ শয়তান এ ঘোষণা দেবে যে, তোমাদের অনুপস্থিতিতে মাসীহে দাজ্জাল তোমাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে।

এখানে কিছু তলোয়ার যায়তুন গাছে ঝুলিয়ে রাখার উল্লেখ আছে। গোটা যুদ্ধই যে তলোয়ারের দ্বারা হবে এর সরাসরি উল্লেখ নেই!

 

আমরা জানি যে, বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও কোনো কোনো বাহিনী ঘোড়া ব্যবহার করে। এর মানে এই না যে গোটা বাহিনীই ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ঘোড়া এবং গাধা ব্যবহার করেছে। মূলত যান্ত্রিক যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং দুর্গম কর্দমাক্ত এলাকায় রসদ (যেমন গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম) পরিবহনের সুবিধার্থে তারা এই প্রাচীন পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। [11]  ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ান সেনাবাহিনীকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। [12]  রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনকে ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন স্থানে হামলাও করেছে। [13]  

এই সংক্রন্ত বহু ভিডিও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। [14]  

 

“Russian soldiers switch to HORSEBACK after equipment wiped out in 'meat assaults', Ukraine claims” (YouTube)

https://youtu.be/WN_gKca5DGw

 

“Ukrainian UAVs disrupted Russian horseback attack in Oleskiivka; horses escaped, Russians didn't” (YouTube)
https://youtu.be/PJtWMhNT5BU

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সেস (Green Berets) ২০০১ সালে আফগানিস্তান অভিযানের শুরুতে ব্যাপকভাবে ঘোড়া ব্যবহার করেছিল। উত্তর আফগানিস্তানের পাহাড়ী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়াতের জন্য তারা স্থানীয় ঘোড়া ব্যবহার করে তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই সৈন্যদের স্মরণে আমেরিকায় ভাস্কর্যও স্থাপন করা হয়েছে। [15]  

অক্টোবর ২০০১-এ উত্তর আফগানিস্তানে ঘোড়ার পিঠে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্যরা (সূত্রঃ সিএনএন)

 

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) মঙ্গোলিয়া, কিরগিজস্তান এবং কাজাখস্তান সীমান্তের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য নিয়মিত ঘোড়া ব্যবহার করে। [16]

 

ভারতীয় সেনাবাহিনীর '৬১তম ক্যাভালরি রেজিমেন্ট' বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ঘোড়সওয়ার ইউনিট। তারা মূলত মরুভূমি এলাকায় টহল দেওয়ার কাজে ঘোড়া ব্যবহার করে, যেখানে যান্ত্রিক যানবাহন বালিতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। [17]

 

বর্তমান পৃথিবীর সব থেকে সামরিক শক্তিধর ৪টি দেশ হল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারত। আমরা বর্তমান বিশ্বের সামরিক পরাশক্তিগুলোর সামরিক বাহিনী থেকেও ঘোড়া ব্যবহারের উদাহরণ প্রদর্শন করলাম। বিশেষ ধরণের নানা কাজের জন্য বর্তমান বিশ্বের সামরিক পরাশক্তিগুলো যদি ঘোড়া ব্যবহার করতে পারে, তাহলে হাদিসে উল্লেখিত যুদ্ধের বর্ণনায় সংবাদ সংগ্রাহক ব্যক্তিদের ঘোড়ায় চড়বার বর্ণনা কি আদৌ অবাস্তব? সেখানে কিন্তু পূর্ণ যুদ্ধও ঘোড়ায় চড়ে হবার উল্লেখ নেই। কোনো আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর সামরিক যানের জ্বালানী ফুরিয়ে যেতে পারে, বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলার অনুপযুক্ত যেতে পারে, পাহাড়ী বা দুর্গম পথ সামরিক যান চলার উপযুক্ত না-ও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘোড়ায় করে সংবাদ প্রেরণ অবাস্তব কিছুই না। আধুনিক অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করা বাহিনীরও কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ঘোড়া ব্যবহার করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত স্বাভাবিক এক ঘটনা, ভবিষ্যতেও এমনটাই হবার কথা, আল্লাহু আ’লাম।

 

আবার আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর মাঝেও কিছু কিছু কাজের জন্য তলোয়ার বা ছুরি জাতীয় অস্ত্রের ব্যবহার বর্তমানেও আছে। বর্তমান বিশ্বে পৃথিবীর সামরিক বাহিনীগুলো কুজকাওয়াজসহ বিভিন্ন কাজে তলোয়ার ব্যবহার করে। আধুনিক অনেক কমান্ডো বাহিনী তলোয়ারজাতীয় বিভিন্ন অস্ত্র যেমন 'টমাহক' (Tomahawk) এবং বড় আকৃতির 'ট্যাকটিক্যাল নাইফ' (যেমনঃ KA-BAR বা খিলান আকৃতির কারাম্বিট) ব্যবহার করে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন রেঞ্জারদের অনেক সময় এই বিশেষ ছুরিগুলো ব্যবহার করতে দেখা গেছে। [18] আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কোনো বাহিনীও যদি গাছের সাথে তলোয়ারজাতীয় কোনো কিছু ঝুলিয়ে রাখে, বর্তমান যুগে তা যেমন অবাস্তব না, ভবিষ্যতেও অবাস্তব হবার কথা না।

 

উপসংহারঃ

কিয়ামতের পূর্বে শেষ যুগের বৃহৎ যুদ্ধ কিভাবে হবে এর বিস্তারিত ও সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর নিকটেই আছে। শেষ যুগের যুদ্ধ আধুনিক অস্ত্রের দ্বারা হবে বা ঘোড়ার পিঠে চড়ে তলোয়ার দিয়ে হবে – এর কোনোটিই আমরা নিশ্চিতভাবে দাবি করছি না। এর যে কোনোটি হবার সম্ভাবনা রয়েছে যা ইতিপূর্বেই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি সকল ব্যাখ্যা ছেড়ে দিয়ে হাদিসগুলোকে এর আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করি এবং হাদিসে যা উল্লেখ নেই সে ব্যাপারে নিরব থাকি – তাহলেও আলোচ্য হাদিসসমূহ থেকে বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটেও অবাস্তব কিছুই পরিলক্ষিত হয় না। ইসলামবিরোধীরা হাদিসের বিরুদ্ধে অবাস্তব তথ্যের যে অভিযোগ আনে, তা আদৌ সঠিক নয়।

 

 

তথ্যসূত্রঃ


[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং : ২১৮৯০, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৪০০

https://shamela.ws/book/84/5318

[2] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭০১৭

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=19340

[3] মুসলিম ৩৪-(২৮৯৭), সহীহুল জামি' ৭৪৩৩, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮৪৮৬, মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪২১ https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=85399

[4] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ইবন কাসির, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৬১

https://shamela.ws/book/23708/1829

[5] ইস্রাঈলিয়্যাহ বা ইস্রাঈলী বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা প্রসঙ্গে ইমাম ইবন কাসির(র.) উল্লেখ করেছেনঃ “... সে সব ইস্রাঈলী বিবরণ, শরিয়ত যার সত্যাসত্য সম্পর্কে নিরব। যাতে রয়েছে সংক্ষিপ্ত তথ্যের বিশদ ব্যাখ্যা কিংবা শরিয়তে বর্ণিত অস্পষ্ট তথ্যকে নির্দিষ্টকরণ, যাতে আমাদের বিশেষ কোনো ফায়দা নেই। কেবল শোভাবর্ধনের উদ্দেশ্যে আমরা তা উল্লেখ করব—প্রয়োজনের তাগিদে বা তার উপর নির্ভর করার উদ্দেশ্যে নয়। নির্ভর তো করবো শুধু আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল()-এর সহীহ কিংবা হাসান সনদে বর্ণিত সুন্নাহর উপর। আর কোনো বর্ণনার দুর্বলতা থাকলে তাও আমরা উল্লেখ করব।

[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - ইবন কাসির(র.), খণ্ড ১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ৪৭]

[6] ফিকহু আশরাতিস সা’আহ - মুহাম্মাদ ইসমাইল মুকাদ্দাম, পৃষ্ঠা ২৯০

https://shamela.ws/book/14248/290  

[7] Ask Imam Fatawas

https://askimam.org/public/question_detail/9087

অথবা https://archive.is/wip/iB7kq (আর্কাইভকৃত)

[8] "Will Modern Day Weapons Be Used with Weapons of Antiquity Before the End of Days?" SeekersGuidance

https://seekersguidance.org/answers/hadith/will-modern-day-weapons-be-used-with-weapons-of-antiquity-before-the-end-of-days/

অথবা https://archive.is/wip/48NPW (আর্কাইভকৃত)

[9] আল কিয়ামাতুস সুগরা – উমার সুলাইমান আল আশকার, পৃষ্ঠা ২৭৫

https://shamela.ws/book/9834/259

[10] দেখুনঃ "Will civilisation collapse at the end of time and will battles be fought with swords and spears?" - islamqa (Shaykh Muhammad Saalih Al-Munajjid)

https://islamqa.info/en/162744/

অথবা https://web.archive.org/web/20260111202420/https://islamqa.info/en/answers/162744 (আর্কাইভকৃত)

[11] "After Losing 15,000 Vehicles, Some Russian Troops In Ukraine Are Riding Horses" (Forbes) https://www.forbes.com/sites/davidaxe/2025/02/04/after-losing-15000-vehicles-some-russian-troops-in-ukraine-are-riding-horses/

অথবা https://archive.is/qBKlp (আর্কাইভকৃত)

"Russia forced to use donkeys to bring ammunition to Putin’s troops in Ukraine as military vehicles run short" (Independent)

https://www.independent.co.uk/news/world/europe/donkeys-russia-army-ukraine-ammo-b2695926.html

অথবা https://archive.is/cdYNZ (আর্কাইভকৃত)

[12] Russia trains soldiers to fight on horseback (The Telegraph)

https://www.telegraph.co.uk/world-news/2025/10/01/russia-trains-soldiers-to-fight-on-horseback/

অথবা https://archive.is/G5lQ9 (আর্কাইভকৃত)

[13] "Russian Forces Are Now Assaulting Ukrainian Positions On Horseback" (Forbes)

https://www.forbes.com/sites/davidkirichenko/2025/12/22/russian-forces-are-now-assaulting-ukrainian-positions-on-horseback/

অথবা https://archive.is/BKEmv (আর্কাইভকৃত)

[14] দেখুনঃ

“Russian soldiers switch to HORSEBACK after equipment wiped out in 'meat assaults', Ukraine claims” (YouTube)

https://youtu.be/WN_gKca5DGw

“Ukrainian UAVs disrupted Russian horseback attack in Oleskiivka; horses escaped, Russians didn't” (YouTube)
https://youtu.be/PJtWMhNT5BU

[15] First to go_ Green Berets remember earliest mission in Afghanistan _ Article _ The United States Army

https://www.army.mil/article/181582/first_to_go_green_berets_remember_earliest_mission_in_afghanistan

অথবা https://archive.is/wip/K5BPp (আর্কাইভকৃত)

"How the ‘Horse Soldiers’ helped liberate Afghanistan from the Taliban 18 years ago" (Military Times)

https://www.militarytimes.com/news/your-military/2019/10/18/how-the-horse-soldiers-helped-liberate-afghanistan-from-the-taliban-18-years-ago/

অথবা https://archive.is/wip/OENJt (আর্কাইভকৃত)

Monument honors U.S. ‘horse soldiers’ who invaded Afghanistan _ CNN

https://edition.cnn.com/2011/10/06/us/afghanistan-horse-soldiers-memorial

অথবা https://archive.is/wip/e135a (আর্কাইভকৃত)

[16] Horsemen safeguard remote borders - Chinadaily.com.cn

https://www.chinadaily.com.cn/a/202512/16/WS6940b4d9a310d6866eb2ed47.html

অথবা https://archive.is/wip/5U4Ab (আর্কাইভকৃত)

Chinese soldiers rely on horses for border patrols (Defence Blog)

https://defence-blog.com/chinese-soldiers-rely-on-horses-for-border-patrols/

অথবা https://archive.is/yxUdZ (আর্কাইভকৃত)

[17] Military Digest_ 61st Cavalry rides into the sunset _ India News - The Indian Express

https://indianexpress.com/article/india/military-digest-61-cavalry-indian-army-ins-jalashwa-operation-samudra-setu-6421839/

অথবা https://archive.is/wip/i0Hn7 (আর্কাইভকৃত)

Republic Day 2024_ The Story Of 61 Cavalry - World's Only Active Horsed Regiment _ India News - Times Now

https://www.timesnownews.com/india/republic-day-2024-the-story-of-61-cavalry-worlds-only-active-horsed-regiment-article-107165009

অথবা https://archive.is/wip/fhgdk (আর্কাইভকৃত)

[18] Some U.S. Troops Choose Historic Tomahawk - ABC News

https://abcnews.go.com/US/story?id=90038&page=1

অথবা https://archive.is/KHtn (আর্কাইভকৃত)

Modern Special Operators are Using Hatchets in Combat — Here’s Why _ Coffee or Die

https://www.coffeeordie.com/article/hatchet-special-operators

অথবা https://archive.is/wip/TPZLZ (আর্কাইভকৃত)

KA-BAR U.S. Army Fighting Knife _ U.S. Patriot

https://www.uspatriottactical.com/ka-bar-u-s-army-fighting-knife

অথবা https://archive.is/wip/HLgvE (আর্কাইভকৃত)

 

সোশ্যাল লিঙ্ক ও অ্যাপ

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ পোস্টসমূহ