হাসান ও হুসাইন (রা.) এবং রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে জড়িয়ে ইসলামের শত্রুদের নোংরা অভিযোগ ও এর জবাব

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কিত অভিযোগের জবাব



 

লিখেছেনঃ মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান

 

রাসুলুল্লাহ ()কি সত্যিই হাসান ও হুসাইনের (রা.) লিঙ্গে চুমু দিয়েছিলেন? (নাউযুবিল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ)

 

কিছু হাদিস গ্রন্থ থেকে এ জাতীয় বর্ণনা করে ইসলামের শত্রুরা আল্লাহর নবী(ﷺ) এর উপর নোংরা অভিযোগ আনতে চায়। আল্লাহ তা'আলা দ্বীন ইসলামকে হেফাজত করবেন। এটা আল্লাহর ওয়াদা। তাই আজ পর্যন্ত কুরআন-সুন্নাহকে কেউ বিকৃত করতে পারেনি, আর আল্লাহ যত দিন চায় পারবেও না, ইন শা আল্লাহ। তবে এই দ্বীনকে বিকৃত করা ও তার মধ্যে নানা জিনিস সংযুক্ত করার অপচেষ্টা বার বার ইসলামের শত্রুরা করে এসেছে ও করে যাবে। তাদের এই কথাগুলো ওলামাগন বস্তুনিষ্ঠভাবে খন্ডন করেছেন। এমন নয় যে মুহাদ্দিসগণ এই হাদিসকে খ্রিষ্টান বা নাস্তিকদের থেকে নিয়েছে তাই এখন জাল বলছেন। বরং তাঁরাই এই বর্ণনাকারীর হাদিস এনেছেন আর তাঁরাই এই বর্ণনার মান যাচাই করেছন। খ্রিষ্টান ও নাস্তিকরা মুহাদ্দিসদের কিতাব থেকে হাদিস তো নিয়েছে, কিন্তু হাদিস বিষয় তাদের ইনসাফ ও গবেষণালব্ধ মন্তব্যগুলো নেয়নি। মুহাদ্দিসদের নিজেদের কিতাবে এই বর্ণনা ও এর ইনসাফভিত্তিক আলোচনা তাদের সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য।

 

রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর মহান চরিত্রের প্রতি খ্রিষ্টান ও নাস্তিকদের প্রসিদ্ধ একটি অপপ্রচার হল - রাসুলুল্লাহ(ﷺ) নাকি হুসাইন ও হাসানের(রা.) লিঙ্গে চুমু দিয়েছিলেন! (নাউযুবিল্লাহ)  তাই আসুন দেখি কথাগুলো দলিলের আলোকে কতটুকু বাস্তব ও কতটুকু সহীহ। নাকি এটি যঈফ (দুর্বল) বর্ণনা।

 

১ম দলিল:

ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻔﺴﻮﻱ ﺛﻨﺎ ﺧﺎﻟﺪ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺍﻟﻌﺮﻧﻲ ﺛﻨﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻗﺎﺑﻮﺱ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻇﺒﻴﺎﻥ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﺭﺃﻳﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺮﺝ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﻓﺨﺪﻱ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻭﻗﺒﻞ ﺯُﺑَﻴْﺒَﺘَﻪ ‏

অর্থ: আমাদেরকে হাসান বিন আলী আল ফাসইউ বলেছেন------- কবুস বিন আবী যবীয়ান (এই নামটা ভালো করে মনে রাখি) থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনে আব্বাস(রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী(ﷺ)কে দেখেছি, তিনি হুসাইনের(রা.) উরুর মাঝখান ফাঁকা করলেন ও তার লিঙ্গ চুম্বন করলেন।

(মু'জামুল কাবীর- ৩/৪৫, ২৬৫৮ নং হাদিস)

 

নোট:

হাদিসের ব্যাপারে ইমামদের কিছু পরিভাষা আছে। সেগুলো ছাড়া শাব্দিক অর্থ দিয়ে কোন দিনও হাদিসের মান বোঝা যায় না। এখানে শাব্দিক ও পারিভাষিক তরজমার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া চেষ্টা করেছি। তবে পরিভাষার অনুবাদ পরিপূর্ণ শাব্দিক তরজমা দিয়ে করা সম্ভব না।

 

হাদিসের মান:

এই হাদিসের বর্ণনায় একজন রাবী আছে তার নাম "কবুস বিন আবী যবীয়ান" তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসিনদের মন্তব্য হল:

 

* ইবনে সা'দ বলেন, তার মধ্যে দুর্বলতা আছে। তার দ্বারা দলিল দেওয়া যাবে না। (তবাকাতুল কুবরা-৮/৪৫৯)

* নাসায়ী তার ব্যাপারে বলেন, সে (হাদিস বর্ণনায়) শক্তিশালী না। (দূয়াফা ওয়া মাতরুকীন-২২২)

* ইবনে হিব্বান তার ব্যাপারে বলেন, সে খুবই খারাপ স্মরণ শক্তিওয়ালা। তার পিতা থেকে সে এককভাবে এমন রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছে যার কোন আসল বা মূল নেই। কখনো আবার মুরসালকে মারফু এবং কখনো মাওকুফকে মুসনাদ বানিয় ফেলে। ইয়াহিয়া ইবনে মায়ীন তার ব্যাপারে কঠোরতা করেছেন।(মাজরুহীন-২/২১৯)

* ইবনে আবীদ দুনিয়াহ বলেন, এই রকম আরেকটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। তারপর সেটিকে ও এটিকে দুর্বল বলেছেন।(ইয়াল-১/৩৭৬)

আর দুর্বলের কারণ মুরসাল বলে উল্লেখ করেছেন। শর্ত পাওয়া না গেলে মুরসাল হাদিস দুর্বল হয়ে যায়। (মুকাদ্দাম মুসলিম-৮ পৃষ্ঠা)

 

২য় দলিল:

ﺃﻧﺒﺄ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺍﻟﻘﺎﺿﻲ ﻭﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﻤﺮﻭ ﻗﺎﻻ ﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻳﻌﻘﻮﺏ ﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﺍﻥ ﺣﺪﺛﻨﻲ ﺃﺑﻲ ﺣﺪﺛﻨﻲ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻟﻴﻠﻰ ﻋﻦ ﻋﻴﺴﻰ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻟﻴﻠﻰ ﻗﺎﻝ : ﻛﻨﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺠﺎﺀ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻓﺄﻗﺒﻞ ﻳﺘﻤﺮﻍ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﺮﻓﻊ ﻋﻦ ﻗﻤﻴﺼﻪ ﻭﻗﺒﻞ ﺯﺑﻴﺒﺘﻪ ‏

অর্থ : আমাদেরকে আবু বকর আল কাযী ও আবু সাইদ বিন আবী আমর খবর দিয়েছেন------- ইবনে আবী লাইলা(এই নামটা ভালো করে মনে রাখি) তিনি ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবী লাইলা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা নবী(ﷺ) এর কাছে ছিলাম। এর মধ্যে [শিশু] হাসান(রা.) এলো এবং তার দিকে (মাটিতে) গড়াগড়ি করে আসলো। তিনি তাঁর কাপড় (ধুলাবালি কারণে) খুলে দিলেন এবং তাঁর লিঙ্গ চুমু দিলেন।

(সুনানে কুবরা-১/২১৫)

 

হাদিসের মান:

*এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করার পর ইমাম বাইহাকী নিজেই যয়ীফ বলেছেন (সুনানে কুবরা-১/২১৫)

*নাসিরুদ্দিন আলবানী(র.)বলেন, এই হাদিসে ইবনে আবী লাইলা নামে একজন বর্ণনাকারী আছে যায় পূর্ণ নাম মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবী লাইলা। তিনি স্মৃতিশক্তি খারাপ হওয়ার কারণে দুর্বল। (ইরওয়াউল গলীল-৬/২১৩)

 

*ইমাম যাহাবী বলেন ---

-আবু যুরআ' বলেন, সে (ইবনে আবী লাইলা) তেমন শক্তিশালী নয়।

-আহমাদ বলেন, সে হাদিসের মধ্যে গোলোযোগ সৃষ্টিকারী

- শু'বা বলেছেন, আমি তার থেকে অধিক খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যক্তি দেখিনি।

-ইয়াহিয়া আল কাত্তান বলেন, (ইবনে আবী লাইলা) খুবই খারাপ স্মৃতিশক্তিওয়ালা

-ইয়াহিয়া ইবনে মায়ীন বলেন, সে দুর্বল

-নাসায়ী বলেন, সে দুর্বল

-দারাকুতনী বলেন, খুবই খারাপ স্মৃতিওয়ালা এবং অধিক ভ্রমপ্রবন

- হাকিম বলেন, সাধারণত তার হাদিসগুলো মাকলুব বা উলটপালট।(মিযানুল ই'তিদাল-৬/২২২)

 

৩য় দলিল:

ﻭﺃﺧﺒﺮﻧﺎﻩ ﻋﺎﻟﻴﺎ ﺃﺑﻮ ﻣﺤﻤﺪ ﺇﺳﻤﺎﻋﻴﻞ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ﺍﻟﻘﺎﺭﺉ ﺃﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺣﻔﺺ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻣﺴﺮﻭﺭ ﻧﺎ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ﺃﺑﻮ ﺃﺣﻤﺪ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺍﻟﺤﺎﻓﻆ ﺃﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻳﻮﺳﻒ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﺍﻟﺼﻔﺎﺭ ﺑﺎﻟﻤﺼﻴﺼﺔ ﻧﺎ ﺍﻟﻴﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﻧﺎ ﺍﻟﺤﺎﺭﺙ ﺑﻦ ﻋﻄﻴﺔ ﻋﻦ ﺷﻌﺒﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﻋﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﻗﺎﻝ : ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻔﺮﺝ ﺑﻴﻦ ﺭﺟﻠﻲ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻭﻳﻘﺒﻞ ﺫﻛﺮﻩ ‏

অর্থ: আমাদেরকে তাআলী সনদে আবু মুহাম্মদ ইসমাঈল বিন আবী কাসেম আল কারী খবর দিয়েছেন--- ইয়ামান বিন সায়ীদ (এই নামটা ভালো করে মনে রাখি) বলেন, আমাদেরকে হারিস বিন আতীয়া খবর দিয়েছেন, তিনি শু’বা থেকে, তিনি হাকিম থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে দেখেছি, তিনি হাসানের(রা.) দুই পা ফাঁকা করলেন এবং তার লিঙ্গে চুমু দিলেন।

(তারিখে মদীনাতুল দামেশক-১৩/২২২)

 

হাদিসের মান:

খুবই দুর্বল

 

*ইয়ামান ইবনে সায়ীদকে দারাকুতনী দুর্বলদের সাথে উল্লেখ করেন। (দুয়াফা ওয়া মাতরুকীন-২০৬)

*ইবনে হাজার হাদিসটি দুর্বল হওয়ার প্রতি ইশারা করেন। (তুহফাতুল মুহতাজ-৭/১৯৬)

 

৪র্থ দলিল:

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻋَﺪِﻱٍّ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﻮْﻥٍ، ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﻴْﺮِ ﺑْﻦِ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛُﻨْﺖُ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﺑْﻦِ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﻓَﻠَﻘِﻴَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺃَﺭِﻧِﻲ ﺃُﻗَﺒِّﻞْ ﻣِﻨْﻚَ ﺣَﻴْﺚُ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳُﻘَﺒِّﻞُ . ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺑِﻘَﻤِﻴﺼِﻪِ ، ﻗَﺎﻝَ : ” ﻓَﻘَﺒَّﻞَ ﺳُﺮَّﺗَﻪُ

অর্থ: আমাদেরকে মুহাম্মদ বিন আবী আদী বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে আওন থেকে, তিনি উমাইর বিন ইসহাক (এই নামটি ভালো করে মনে রাখি) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হাসান বিন আলীর(রা.) সাথে ছিলাম। অতপর আমাদের সাথে আবু হুরায়রার(রা.) সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন। আমাকে দেখাও আমি চুমু দেবো যেখানে আমি রাসুলুল্লাহকে(ﷺ) চুমু দিতে দেখেছি। তিনি বললেন, তার কাপড় খুললেন, নাভির (নিচে) চুমু দিলেন।

(আহমাদ-১২/৪২৭)

 

হাদিসের মান:

খুবই দুর্বল

 

*উমাইর ইবনে ইসহাকের দুর্বল বর্ণনাকারী হওয়া কারণ শায়খ শুয়াইব আরনাউত তাঁর বিস্তারিত তাহকিকে (মুসনাদে আহমাদ-১২/৪২৭ -৪২৮ )উল্লেখ করেছেন।

সাথে এ-ও বলেছেন, ইবনে হিব্বানের তাহকিকে (সহীহ ইবনে হিব্বান-৫৫৯৩ ও ৬৯৬৫ হাদিস) একে হাসান ও সহীহ বলেছিলাম। তবে এখনে সে (ভুল হওয়া বিষয়টি) সংশোধনকৃত হল।

 

৫ম দলিল:

ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻳﻌﻘﻮﺏ ﺛﻨﺎ ﺍﻟﺨﻀﺮ ﺑﻦ ﺃﺑﺎﻥ ﺍﻟﻬﺎﺷﻤﻲ ﺛﻨﺎ ﺃﺯﻫﺮ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﺍﻟﺴﻤﺎﻥ ﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻋﻮﻥ ﻋﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺃﻧﻪ ﻟﻘﻲ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﻓﻘﺎﻝ : ‏[ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺒّﻞ ﺑﻄﻨﻚ، ﻓﺎﻛﺸﻒ ﺍﻟﻤﻮﺿﻊَ ﺍﻟﺬﻱ ﻗﺒّﻞ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺣﺘﻰ ﺃﻗﺒﻠﻪ، ﻭﻛﺸﻒ ﻟﻪ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻓﻘﺒّﻠﻪ ‏

অর্থ : আমাদেরকে আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুম বলেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে খিজির বিন আবান আল হাশেমী (এই নামটি ভালো করে মনে রাখি) বলেছেন--------মুহাম্মদ তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হাসান বিন আলী্র(রা.) সাথে সাক্ষাত করে বলে, আমি রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে তোমার পেটে চুম্বন করতে দেখেছি। সুতরাং রাসুল(ﷺ) যে স্থান চুম্বন করেছিল সে স্থান আমার জন্য খুলে দাও যাতে আমি সেখান চুমু দিতে পারি। হাসান(রা.) তা খুলে দিলেন আর তিনি সেখানে চুমু দিলেন।

( মুস্তাদরকে হাকিম-৩/২০০)

 

হাদিসের মান:

খুবই দুর্বল।

 

*ইমাম যাহাবী বলেন: খিজির ইবনে আবান আল হাশেমীর ব্যাপারে হাকিম ও অন্যান্যরা দুর্বল বলেছে--ইমাম দারাকুতনীও (দুর্বল হওয়ার)মন্তব্য করেছেন। (মিযানুল ই'তিদাল-২/৪৪৩)

*শায়েখ মুকবিল ইবনে হাদী আল ওয়াদীও এই হাদিসের আলোচনায় খিজির ইবনে আবান আল হাশেমীকে দুর্বল বলেছেন।

 

গ্রহনযোগ্য একটা হাদিসও আমরা এই পর্যন্ত পেলাম না। এই হাদিসগুলো যে সকল গ্রন্থে আছে তাই আমি ধারাবাহিক ভাবে আনছি।

 

৬ষ্ঠ দলিল:

ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﻫﻴﻢ ﻭﺃﺑﻮ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﻗﺎﻻ ﻧﺎ ﻭﺃﺑﻮ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﺑﻦ ﺯﺭﻳﻖ ﺃﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﺨﻄﻴﺐ ﺃﺧﺒﺮﻧﻲ ﺍﻷﺯﻫﺮﻱ ﺃﻧﺎ ﺍﻟﻤﻌﺎﻓﻰ ﺑﻦ ﺯﻛﺮﻳﺎ ﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻣﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻷﺯﻫﺮ ﻧﺎ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻟﻄﻮﺳﻲ ﻧﺎ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﻋﺎﻣﺮ ﻋﻦ ﻗﺎﺑﻮﺱ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻇﺒﻴﺎﻥ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺟﺪﻩ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻭﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺮﺓ ﺃﺧﺮﻯ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﻗﺎﻝ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻫﻮ ﻳﻔﺤﺞ ﺑﻴﻦ ﻓﺨﺬﻱ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻭﻳﻘﺒﻞ ﺯﺑﻴﺒﺘﻪ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻟﻌﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﺗﻠﻚ ‏ ‏

অর্থ: আমাদেরকে আবুল কাসেম আলী বিন ইবরাহীম ও আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ খবর দিয়েছেন---আমাদেরকে মুহাম্মদ বিন মাযয়াদ বিন আবী আযহার (নামটা ভালো করে মনে রাখি) খবর দিয়েছেন ও বলেছেন, আমাদেরকে সাইদ বিন আমের, তিনি কাবুস বিন আবী যবয়ান (নামটা ভালো করে মনে রাখি) থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি জাবের বিন আব্দুল্লাহ আবার অন্যবার এভাবে বর্ণনা করেছে যে, তার পিতা থেকে, তিনি জাবের থেকে। তিনি (জাবের) বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে দেখেছি তিনি হুসাইনের(রা.) উরুদ্বয় ফাঁকা করলেন ও চুমু খেয়ে বললেন, তোমার কতলকারীর উপর আল্লাহর লা'নত।

(তারিখে মদীনাতুল দামেষ্ক-১৫/২২৪)

 

হাদিসের মান:

মাওযূ বা জাল।

 

*ইবনে আসাকির এই হাদিস বর্ণনা করার পর বলেন, খতীবে বাগদাদী এই হাদিসের সনদ (সূত্র) ও মাতান (বর্ণিত বাক্য)কে জাল বলেছেন।

এই হাদিসের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী ও আরেকজন চরম দুর্বল বর্ণনাকারী আছে। ---

 

#কবুস ইবনে আবী যবয়ান। - তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি।

#মুহাম্মদ বিন মাযয়াদ বিন আবী আযহার। - তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য হল:

 

*খতীবে বাগদাদ বলেন, ইবনে আবী আযহার জাল হাদিস রচনা করেন। এই হাদিসটিকে জাল করেছে।

* দারাকুতনী বলেন, সে তার বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। তার থেকে অনেক মুনকার হাদিস লিপিবদ্ধ হয়েছে।

*মারযাবানী বলেন, হাদিসবিদগণ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। আমি বলি সে মিথ্যাবাদী, নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী যা স্পষ্ট। (লিসানুল মিযান-৭/৫০১)

 

সারকথা:

এই বিষয়ে যত হাদিস পাওয়া যায় হয় তা জাল বা চরম দুর্বল। সহীহ কোনো হাদিস নেই। আর এই পর্যায়ের জাল ও দুর্বল হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করা হাদিসের নীতির পরিপন্থী। এই হাদিসগুলো জাল ও যয়ীফের কারণ বিশ্লেষণ ও ইনসাফপূর্ণ আলোচনা জানতে আরো দেখুন:

 

১। ইমাম ইবনুল জাওজী –মা ওজুয়াত -২/২০৭

২। ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী- আল লালীয়ুল মাসনুয়া -১/৩৯১

৩। আল্লামা শাওকানী- ফাওয়ায়েদুল মাজমুয়া-৩৩৬

৪। আল্লামা কাত্তানী- তানযীহুল শারীয়াহ-৪০৮

৫। ইরওয়াউল গলীল-৬/২১৩

 

শেষ একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর:

এখন প্রশ্ন হতে পারে, এই হাদিস যদি জাল বা এত দুর্বল হয় তবে কেন মুসলিম মুহাদ্দিসগণ তাঁদের কিতাবে জায়গা দিলেন?!

 

উত্তর :

এসকল মুহাদ্দিসগন তাঁদের কিতাবে শুধু সহীহ হাদিস আনার শর্ত করেনি, বরং রাসুলের(ﷺ) নামে কোনো কথা কেউ বর্ণনা করলে তাঁরা তা উল্লেখ করেছেন। চাই সহীহ হোক বা জাল। তবে তাঁরা এই বর্ণনাকৃত হাদিস ও বর্ণনাকারী অবস্থা উম্মতের সামনে ইনসাফের সাথে পেশ করে তাদেরকে সর্তক করেছেন। যাতে কোনো মিথ্যাবাদী নতুন কোন কৌশল বা সনদ বানিয়ে তা সঠিক প্রমান করতে না পারে।

 

অতএব রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর নামে আনিত এই নোংরা অভিযোগ অপ্রমাণিত এবং মিথ্যা। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল(ﷺ) ছিলেন উত্তম চরিত্রের ও মার্জিত রুচির ধারক ও বাহক।