কেয়ামতের সময় কতগুলো শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে?

কুরআন/হাদিসের (তথাকথিত) স্ববিরোধিতা সংক্রান্ত



স্ববিরোধিতার অভিযোগঃ কেয়ামতের সময় কতগুলো শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে? – দু'টোয় (Quran 79:7) নাকি একটায় (Quran 69:13) ?

 

জবাবঃ সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো নিচে উল্লেখ করা হল।

 

 ( 13 )   فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ

( 14 )   وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً

( 15 )   فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ

অর্থঃ  “ যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার। এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে।

সেদিন সংঘটিত হবে মহাপ্রলয়।“ [1]

 

( 6 )   يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ

( 7 )   تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ

( 8 )   قُلُوبٌ يَوْمَئِذٍ وَاجِفَةٌ

( 9 )   أَبْصَارُهَا خَاشِعَةٌ

অর্থঃ "সেদিন প্রথম শিঙ্গাধ্বনি প্রকম্পিত করবে। ওকে অনুসরণ করবে পরবর্তী শিঙ্গাধ্বনি।

কত হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে। তাদের দৃষ্টি ভীতি বিহ্ববলতায় অবনমিত হবে। “ [2]

 

সুরা হাককাহ ৬৯:১৩-১৫তে الصُّورِ বা শিঙ্গার কথা উল্লেখ আছে।

রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে জিজ্ঞেস করা হল যে الصُّور কী। জবাবে তিনি বললেন, শিং আকারের কোন বস্তুকে বলা হয় যাতে ফুৎকার দেয়া হবে। [3]

 

সুরা হাককাহ ৬৯:১৩তে উল্লেখিত نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ এর অর্থ - হঠাৎ একযোগে এই শিঙ্গার আওয়াজ শুরু হবে এবং সবার মৃত্যু পর্যন্ত একটানা এই আওয়াজ অব্যাহত থাকবে। কুরআন ও হাদিসের দ্বারা কিয়ামতের শিঙ্গার ২টি ফুৎকার প্রমাণিত আছে। ১ম ফুৎকার সম্পর্কে কুরআনে আছে,   وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ۖ  অর্থাৎ “শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সে ছাড়া।” {সুরা যুমার ৩৯:৬৮ দ্রষ্টব্য} আর ২য় ফুৎকারের মাধ্যমে সকল মৃত জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এ সম্পর্কে কুরআনে আছেঃ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ অর্থাৎ, “অতঃপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দণ্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে।” {সুরা যুমার ৩৯:৬৮ দ্রষ্টব্য} [4]

 

অর্থাৎ আল কুরআনে কিয়ামতের সময়ে মোট ২টি শিঙ্গাধ্বনির কথা বলা আছে। একটির মাধ্যমে মহাপ্রলয়ের সূচনা হবে, আর অন্যটির মাধ্যমে সকল মৃতরা পুনরুত্থিত হবে। সুরা হাককাহ ৬৯:১৩-১৫তে শুধুমাত্র ১ম শিঙ্গাধ্বনিটির কথা আলোচনা করা হয়েছে এবং সুরা নাযিআত ৭৯:৬-৯তে উভয় শিঙ্গাধ্বনির কথাই আলোচনা করে হয়েছে। ব্যাপারটি আরো সহজে বুঝবার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেই। ফুটবল খেলায় রেফারী শুরুতে বাঁশি বাজালে খেলা শুরু হয় এবং পুনরায় বাঁশি বাজালে খেলা বন্ধ হয়। কোন একটি সংবাদপত্রে রেফারীর ১ম বার বাঁশি বাজানোর ঘটনা উল্লেখ করা হল। অন্য একটি সংবাদপত্রে রেফারীর উভয় বার বাঁশি বাজাবার ঘটনাই উল্লেখ করা হল। এখন কেউ কি বলতে পারবে যে সংবাদপত্র দু’টিতে পরস্পরবিরোধী সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে? মোটেও না। 

 

কাজেই কুরআনে কিয়ামতের শিঙ্গাধ্বনি সংক্রান্ত তথ্যসমূহে কোন প্রকারের বৈপরিত্য নেই।

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]  আল কুরআন, হাককাহ ৬৯:১৩-১৫

[2]  আল কুরআন, নাযিআত ৭৯:৬-৯

[3]  তিরমিযি ২৪৩০, আবু দাউদ ৪৭৪২

[4]  তাফসির মাআরিফুল কুরআন, ৮ম খণ্ড{মুফতি মুহাম্মদ শফি(র)}, সুরা হাককাহর ১৩ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৫৭-৫৫৮