নবী ইয়া’কুব(আ.) এর ‘ইস্রাঈল’ নাম প্রসঙ্গ

খ্রিষ্টান মিশনারীদের জবাব/বাইবেল ও খ্রিষ্টবাদ সংক্রান্ত



 

প্রশ্নঃ বাইবেলে Jacob [ইয়া’কুব(আ.)] এর সাথে God এর মল্লযুদ্ধের একটি ঘটনা আছে যার ফলে তাঁর নাম হয় Israel। মুসলিমরা বাইবেলের এই ঘটনা নিয়ে খুব আপত্তি করে। অথচ কুরআনেও prophet Jacob এর Israel নামটির উল্লেখ আছে। এর মানে কি এই নয় যে কুরআন Jacob এবং God এর মল্লযুদ্ধের কাহিনীর সাথে একমত?

 

উত্তরঃ আল কুরআনে নবী ইয়া’কুব(আ.) এর একটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘ইস্রাঈল’। [1] কুরআনে বহু জায়গায় তাঁর বংশধরদেরকে ‘বনী ইস্রাঈল’ বলা হয়েছে। বনী ইস্রাঈল বংশ থেকে মুসা(আ.), দাউদ(আ.), ঈসা(আ.)সহ বহু নবী-রাসুল এসেছেন।  

 

বাইবেলেও ইয়া’কুব(আ.) [Jacob] এর এই ‘ইস্রাঈল’ (Israel) নামটি উল্লেখ আছে। তবে তাঁর এই নামকরণ হবার ব্যাপারে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর কাহিনী আছে। সেই কাহিনীতে দেখা যায় যে ঈশ্বর একজন পুরুষের বেশে তাঁর কাছে আসেন। তিনি ঈশ্বরের সাথে সাথে সারা রাত মল্লযুদ্ধ করেন এবং শেষ-মেষ ঈশ্বরকে পরাজিত করেন!

 বাইবেলের আদিপুস্তক (Genesis) থেকে কাহিনীটি উল্লেখ করছি –

 

অবশেষে যাকোব [ইয়া’কুব(আ.)] নদী পার হবার জন্য রইল| কিন্তু সে একা পার হবার আগে একজন পুরুষ এসে তার সঙ্গে মল্লয়ুদ্ধ করল| সূর্য ওঠার আগে পর্য্ন্ত সেই পুরুষটি তার সঙ্গে য়ুদ্ধ করলেন|  পুরুষটি যখন দেখলেন তিনি যাকোবকে পরাজিত করতে পারছেন না তখন যাকোবের পায়ে আঘাত করলেন; তাতে যাকোরে পায়ের হাড় সরে গেল|  তারপর সেই পুরুষটি যাকোবকে বললেন, “আমায় যেতে দাও, সূর্য উঠছে|” কিন্তু যাকোব বলল, “আপনি আমাকে আশীর্বাদ না করলে আমি আপনাকে যেতে দেব না|” সেই পুরুষটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কী?” যাকোব উত্তর দিল, “আমার নাম যাকোব|” 

তখন সেই পুরুষটি বললেন, “তোমার নাম যাকোবের পরিবর্তে ইস্রায়েল হবে| আমি তোমার এই নাম রাখলাম কারণ তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে ও মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করেছ কিন্তু পরাজিত হও নি| 
 তখন যাকোব তাকে জিজ্ঞেস করল, “দয়া করে বলুন আপনার নাম কি?” কিন্তু সেই পুরুষটি বললেন, “কী জন্য আমার নাম জিজ্ঞেস করছ?” সেই সময়ই পুরুষটি যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন| 
 তাই যাকোব সেই জায়গার নাম পনূয়েল রাখল| যাকোব বলল, “এই স্থানেই আমি ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখলাম কিন্তু তাও প্রাণে বাঁচলাম|” [2]

 

তাই বাইবেলের এই ঘটনা অনুযায়ী খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস হচ্ছেঃ ‘ইস্রাঈল’ বা ‘ইসরায়েল’ শব্দটির মানে হচ্ছেঃ যিনি ঈশ্বরের সাথে লড়াই করেন {who wrestles with God}। [3] খ্রিষ্টানরা বলেঃ যাকোব [ইয়া’কুব(আ.)] ঈশ্বরের সাথে মারামারি করে তাঁকে হারিয়ে দিয়েছেন (!!!) এবং এই কারণে তাঁর নাম ‘ইস্রাঈল’। খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এই কথা উল্লেখ আছে। [4]

 

ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত গর্হিত ঘটনা। যিনি সর্বশক্তিমান স্রষ্টা, তাঁর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, তিনি সর্বশক্তিমান। ঈশ্বর একজন মানুষের সাথে সারা রাত মারামারি করে হারবেন – এমন ঘটনা ইসলাম সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।

 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ইয়া’কুব(আ.) এর ‘ইস্রাঈল’ নামটির অর্থ আসলে কী? প্রকৃতপক্ষে কেনই বা এই নামে তাঁকে ডাকা হল?

 

ইয়া’কুব(আ.) হিব্রুভাষী বনী ইস্রাঈল জাতির পিতা। হিব্রু ভাষায় ‘ইস্রাঈল’ কথাটির উচ্চারণ অনেকটা এরূপঃ-- য়িস্রাএল (ישראל)। এই নামটি ৩টি অংশে গঠিত; ‘য়ি’ (י), ‘স্রা’ (שרא) এবং ‘এল’(אל)। হিব্রু ভাষায় ‘য়ি’ (י) একটি পূর্বপদ বা prefix, যা দ্বারা পুরুষবাচক শব্দ বোঝায়। ‘স্রা’ (שרא) শব্দটি এসেছে সেমিটিক ধাতু ‘স্রাঈ’ (שרי) থেকে, যার মানে হচ্ছে সংগ্রাম করা (to strive / to struggle)। এটি আরবি জিহাদ (جهاد) শব্দের কাছাকাছি একটি শব্দ। আর ‘এল’ (אל) শব্দটি দ্বারা ইলাহ বা আল্লাহকে বোঝায়।

কাজেই আক্ষরিকভাবে ‘ইস্রাঈল’ নামটির দ্বারা হিব্রুতে আল্লাহর সংগ্রামের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে বোঝাচ্ছে। আমরা নামটি বিশ্লেষণ করে সংগ্রাম ও আল্লাহর উল্লেখ পেলাম। সরাসরি মোটেও এটা বলা নেই যে, আল্লাহর সাথে বা আল্লাহর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে। ‘আল্লাহ’ ও ‘সংগ্রাম’ এই কথাগুলো পাশাপাশি থাকার অর্থ এই নয় যে এর দ্বারা আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করা বোঝাবে। সাধারণ যুক্তি-বুদ্ধিতেও এটি বোধগম্য যে, কোনো ব্যক্তি স্বয়ং স্রষ্টার সাথে লড়াই করছে – এটি একটি অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক কথা। এর দ্বারা এই অর্থ নেয়া যায় যে – যিনি আল্লাহর সংগ্রাম করেন।

 

বাইবেলের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যাপারে একটি রীতি হচ্ছে, কোনো একটি বংশ বা জাতির পিতার মধ্যে ঐ বংশের গুণাবলী রক্ষিত থাকে। বাইবেলে বহু জায়গায় এমন উদাহরণ আছে। [5] বাইবেলে বহু জায়গায় ইয়া’কুব(আ.) এর বংশের আল্লাহর পথে সংগ্রাম বা জিহাদের উল্লেখ আছে। [6] আল কুরআনও এ ব্যাপারে একমত যে বনী ইস্রাঈলের মানুষেরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম বা জিহাদ করেছে। [7] আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী একটি জাতির পিতা হিসাবে ‘ইস্রাঈল’ নামটি সম্পূর্ণ মানানসই। নিশ্চয়ই নবী ইয়া’কুব(আ.) ছিলেন আল্লাহর অনুগত একজন বান্দা এবং তাঁর বংশধরেরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছে। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা.) থেকে বর্ণিত আছে,

 

إسرائيل كقولك عبدالله وقوله تعالى "اذكروا نعمتي التي أنعمت عليكم"

অর্থঃ ‘ইস্রাঈল’ কথাটি তোমাদের ‘আব্দুল্লাহ’ (আল্লাহর বান্দা) কথাটির অনুরূপ এবং আল্লাহর এই কথার (বাকারাহ ২ : ৪০) অনুরূপঃ “তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি” [8]

আমরা মুসলিমরা কখনোই বিশ্বাস করি না যে ‘ইস্রাঈল’ দ্বারা আল্লাহর সাথে যুদ্ধকারী বা এ জাতীয় কিছুকে বোঝায়।

 

খ্রিষ্টানরা এরপরেও হয়তো আপত্তি করে বলতে পারে যে, মুসলিমদের এই কথা বাইবেলের তথ্যের সাথে মেলে না এবং বাইবেলে স্পষ্ট বলা আছে যাকোব ঈশ্বরের সাথে লড়েছেন। কিন্তু খ্রিষ্টানদের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, যাকোব বা ইয়া’কুব(আ.) আসলে কার সাথে লড়াই করেছেন, এই ঘটনা নিয়ে তাদের গ্রন্থ বাইবেলে স্ববিরোধী তথ্য আছে। ঈশ্বরের সাথে যাকোবের লড়াইয়ের ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়। উপরে ঈশ্বরের সাথে যাকোবের লড়াইয়ের ঘটনাটি বাইবেলের আদিপুস্তক থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার ঐ একই ঘটনার ভিন্ন আরেকটি বিবরণ বাইবেলের হোশেয় (Hosea) পুস্তক থেকে উল্লেখ করছি।

 

 সে [যাকোব] ঈশ্বরের দূতের সঙ্গে লড়াই করেছিল এবং জিতেছিল| সে কেঁদে অনুগ্রহ চেয়েছিল| বৈথেলে এই ঘটনা ঘটে| সেখানে, সে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিল|”

He struggled with the angel and overcame him; he wept and begged for his favor. He found him at Bethel and talked with him there (NIV) [9]

 

আমরা দেখলাম যে, একই ঘটনার বিবরণে আদিপুস্তকের ৩২ নং অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে – যাকোব ঈশ্বরের সাথে রাতভর লড়াই করে জয়ী হয়েছেন, ফলে তাঁর নাম দেয়া হয়েছে ‘ইস্রাঈল’। কিন্তু হোশেয় (Hosea) পুস্তকে ঐ ঘটনায় বলা হচ্ছে যে যাকোব একজন ঈশ্বরের স্বর্গদুত (ফেরেশতা / angel) এর সাথে লড়েছেন। এটি একটি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা। যে ঘটনা নিয়ে বাইবেলের মধ্যেই ২ রকম তথ্য আছে, তা থেকে কোনোভাবেই ইয়া’কুব(আ.) এর নামকরণের তথ্যের প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কেউ কেউ এভাবেও ব্যাখ্যা করতে পারে যে, আদিপুস্তকে যাকোবের লড়াইয়ের ঐ ঘটনায় ‘ঈশ্বর’ বলতে মূলত ঈশ্বরের দুত বা angelকে বোঝাচ্ছে। কোনো কোনো খ্রিষ্টান এভাবেই ব্যাখ্যা করেন এবং ঐ ঘটনায়  যাকোবের সাথে লড়াইকারী হিসাবে ঈশ্বর না বরং ঈশ্বরের স্বর্গদুতের কথা উল্লেখ করেন। [10] এই ব্যাখ্যা যদি সত্য হয়, তাহলে “যাকোব ঈশ্বরের সাথে লড়াই করেছেন ও জিতেছেন” – এই কথাটি ভুল প্রমাণিত হয়।

 

এখানে কোন ব্যাখ্যাটি সঠিক তা খ্রিষ্টানরাই ঠিক করুক। কিন্তু তাদের বাইবেল থেকেও সন্দেহাতীতভাবে এই তথ্য প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে ইয়া’কুব(আ.) বা prophet Jacob মহান স্রষ্টা আল্লাহর সাথে লড়াই করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ ও তাঁর নবী-রাসুলগণ পবিত্র।

 

“তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র ও মহান তোমার প্রতিপালক, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। শান্তি বর্ষিত হোক রাসুলগণের প্রতি। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” [11]

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]. ■ “তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইস্রাঈল যেগুলো নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন, সেগুলো ব্যতিত সমস্ত আহার্য বস্তু ইস্রাঈল বংশীয়দের জন্য হালাল ছিল। ...

(আল কুরআন, আলি ইমরান ৩ : ৯৩)

■ আবু দাউদ তয়ালিসী(র.) ইব্ন আব্বাসের (রা.) বরাতে বর্ণনা করেছেন, ইহুদিদের একটি দল রাসুল (ﷺ) এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমরা কি জানো যে, ইয়া’কুবের(আ.) অপর নাম ছিল ইস্রাঈল?

তারা বললঃ আল্লাহ সাক্ষী! (তয়ালিসী ৩৫৬) অবশ্যই আমরা জানি।

রাসুল(ﷺ)  বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। [তাফসির ইবন কাসির, সুরা বাকারাহর ৪০ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য]

[2]. বাইবেল, আদিপুস্তক (Genesis / পয়দায়েশ) ৩২ : ২৪-৩০

[3]. “Israel Definition and Meaning - Bible Dictionary.html”

https://www.biblestudytools.com/dictionary/israel/

[4]. “Why is Jacob called Jacob and Israel alternately in the book of Genesis” (Got Questions)

https://www.gotquestions.org/Jacob-Israel.html

[5]. এমন একটি উদাহরণঃ

 

ইসহাকের স্ত্রীর সন্তানাদি হচ্ছিল না| তাই তিনি প্রভুর কাছে তার স্ত্রীর জন্যে প্রার্থনা করলেন এবং প্রভু তার প্রার্থনা শুনলে রিবিকা গর্ভবতী হলেন| গর্ভবতী অবস্থায় রিবিকা যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন কারণ তাঁর গর্ভে দুটি শিশু একে অপরকে জোরে ঠেলাঠেলি করছিল| গর্ভস্থ শিশুর জন্যে রিবিকা অনেক কষ্ট পেতে থাকেন| তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে জানতে চাইলেন, “আমার কেন এমন হচ্ছে?” প্রভু উত্তরে বললেন, “তোমার গর্ভের মধ্যে দুটি জাতি আছে| তুমি দুই মহান বংশের শাসকদের জন্ম দেবে| তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটবে| এক পুত্রের অপেক্ষা অন্য পুত্র শক্তিশালী হবে| ছোট পুত্রের সেবা করবে বড় পুত্র| যথাসময়ে রিবিকা দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন| ” 

[বাইবেল, আদিপুস্তক (Genesis / পয়দায়েশ)  ২৫ : ২১-২৪]

[6]. ■ “ প্রভু মোশিকে [মুসা(আ.)] বললেন, “আমি ইস্রায়েলের লোকদের মিদিয়নীয়দের পরাজিত করে প্রতিশোধ নিতে সাহায্য করবো| তারপরে মোশি তুমি মারা যাবে|” সুতরাং মোশি লোকদের বললেন, “তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে সৈন্য হবার জন্য কযেকজনকে বেছে নাও| মিদিয়নীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রভু ঐ সমস্ত লোকদের ব্যবহার করবেন| ইস্রায়েলের প্রত্যেকটি পরিবারগোষ্ঠী থেকে ১০০০ লোক বেছে নাও|  সেখানে ইস্রায়েলের পরিবারগোষ্ঠী থেকে মোট ১২,০০০ সৈন্য থাকবে|” মোশি সেই ১২,০০০ সৈন্যকে যুদ্ধে পাঠালেন| তিনি তাদের সঙ্গে যাজক ইলিয়াসরের পুত্র পীনহসকে পাঠালেন| পীনহস তার সঙ্গে পবিত্র দ্রব্যসামগ্রী, শিঙা ও ভেরী নিলেন|  প্রভুর আদেশমতোই ইস্রায়েলের লোকরা মিদিয়নীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করে সমস্ত মিদিয়নীয় লোকদের হত্যা করল|”

[বাইবেল, গণনাপুস্তক (Numbers) ৩১ : ১-৭]

■ “ ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাসের জন্যই যিরীহোর প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ল৷ লোকেরা প্রাচীরের চারপাশে সাতদিন ধরে ঘুরলো আর তার পরেই সেই প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ল৷বিশ্বাসে বেশ্য়া রাহব, ইস্রায়েলীয় গুপ্তচরদের সাদরে গ্রহণ করে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করায় নগর ধ্বংস হবার সময় ঈশ্বরের অবাধ্য লোকদের সঙ্গে সে বিনষ্ট হল না তোমাদের কাছে কি আমি আরো দৃষ্টান্ত তুলে ধরব? আমার যথেষ্ট সময় নেই য়ে আমি তোমাদের কাছে গিদিযোন, বারক, শিম্শোন, যিপ্তহ, দাযূদ, শমূয়েল ও ভাববাদীদের সব কথা বলি; ওঁদের প্রচণ্ড বিশ্বাস ছিল৷ তাঁরা বিশ্বাসের দ্বারা রাজ্যসকল জয় করেছিলেন৷ তাঁরা যা ন্যায় তাই করলেন এবং ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিগুলি পেলেন৷ তাঁরা সিংহদের মুখ বন্ধ করেছিলেন৷  কেউ কেউ আগুনের তেজ নিস্প্রভ করলেন, তরবারির আঘাতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন৷ এঁদের বিশ্বাস ছিল তাই এঁরা এসব করতে পেরেছিলেন৷ বিশ্বাসের বলেই দুর্বল লোকেরা বলশালী লোকে রূপান্তরিত হয়েছিলেন; তাঁরা যুদ্ধের সময় মহাবিক্রমী হয়ে শত্রু সৈন্যদের পরাস্ত করেছিলেন৷ 

[বাইবেল, হিব্রুদের কাছে পত্র (Hebrews) ১১ : ৩০-৩৪]

[7]. “আর যখন তারা জালূত ও তার সৈন্যবাহিনীর মুখোমুখি হল, তখন তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা স্থির রাখুন এবং আমাদেরকে কাফের জাতির বিরুদ্ধে সাহায্য করুন’। অতঃপর তারা আল্লাহর হুকুমে তাদেরকে পরাজিত করল এবং দাঊদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাঊদকে রাজত্ব ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং তাকে যা ইচ্ছা শিক্ষা দিলেন। আর আল্লাহ যদি মানুষের কতককে কতকের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে অবশ্যই যমীন ফাসাদপূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ বিশ্ববাসীর উপর অনুগ্রহশীল।

(আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৫০-২৫১; সম্পূর্ণ ঘটনা জানার জন্য ২৪৬ নং আয়াত থেকে দেখুন)

[8]. তাবারী ১/৫৫৩, তাফসির ইবন কাসির, সুরা বাকারাহর ৪০ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য

[9]. বাইবেল, হোশেয় (Hosea) ১২ : ৪

[10]. “Spiritual Sense of 'Jacob or Israel (the man)' - New Christian Bible Study”

https://newchristianbiblestudy.org/concept/jacob

[11]. আল কুরআন, আস সফফাত ৩৭ : ১৮০-১৮২