পৃথিবী কি সত্যিই মাছের পিঠের উপরে অবস্থান করে?

বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব



 

নাস্তিক প্রশ্নঃ  

কুরআন (68:1), হাদিস এবং বিভিন্ন তাফসির অনুযায়ী পৃথিবী  বৃহৎ এক মাছের উপর অবস্থিত। এ ব্যাপারে তাফসির পাওয়া যায় ইবন আব্বাস থেকে যিনি মুসলিমদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ মুফাসসির এবং যিনি নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর সমসাময়িক। পৃথিবী সংক্রান্ত এমন ইসলামী তথ্য কি অবৈজ্ঞানিক নয়?

 

উত্তরঃ

আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে মানুষের কৌতুহল সেই প্রাচীনকাল থেকেই। আল কুরআন এবং হাদিসেও আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। ইসলামের শত্রুরা এ সকল তথ্য থেকে নানা বৈজ্ঞানিক ভুল বের করে ইসলামকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করছে। আলোচ্য অভিযোগও এহেন প্রয়াসের একটি উদাহরণ।

 

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ

অর্থঃ নুন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে [1]

 

আলোচ্য আয়াতে পৃথিবী বা এ সংক্রান্ত কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। তবে আয়াতের তাফসিরে এ সংক্রান্ত কিছু বিবরণ পাওয়া যায় যা থেকে ইসলামবিরোধীরা বৃহৎ মাছের উপর পৃথিবী অবস্থানের তথ্য উল্লেখ করে বলতে চায় যে, ইসলামী বিশ্বাসের মাঝে নাকি অবৈজ্ঞানিক ও হাস্যকর বিষয়াদী রয়েছে (নাউযুবিল্লাহ)। এভাবে তারা ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। আমরা এখন আলোচ্য বিবরণগুলো পর্যালোচনা করবো।

 

এ সংক্রান্ত বিবরণগুলোকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

 

১। রাসুল(ﷺ) থেকে বর্ণিত (মারফু)

২। সাহাবীদের থেকে বর্ণিত (মাওকুফ)

 

১। রাসুল() থেকে বর্ণিত (মারফু) :

 

এ সংক্রান্ত মারফু বিবরণ হলঃ

 

الارض على الماء، والماء على صخرة ،والصخرة على ظهرحوت يلتقي حرقاه بالعرش، و الحوت على كاهل الملك قدماه (فى) الهواء

অর্থঃ পৃথিবী হচ্ছে পানির উপর, পানি একটি পাথরের উপর আর পাথর হচ্ছে এমন একটি মাছের পিঠের উপর যার দুই চোয়াল আরশের সাথে মিলিত হয়েছে এবং মাছটি এক ফেরেশতার কাঁধের উপর যার দুই পা বাতাসে। [2]

 

এই হাদিসের ব্যাপারে বিস্তারিত তাহকিক করেছেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী(র.)। তিনি তাঁর সিলসিলাহ আদ-দ্বঈফাহ  গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,

 

হাদিসটি জাল। এটি হায়সামী (৮/১৩১) ইবনু উমার(রা.)-এর হাদিস হতে মারফু হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি বাযযার তাঁর শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনে শাবীব হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুর্বল।

 

আমি (আলবানী) বলছি: হাদিসটি  “আল-মীযান” ও “লিসানুল মীযান" গ্রন্থ সহ অন্য কোনো গ্রন্থেও দেখছি না। বাহ্যিকতা প্রমাণ করছে যে, এটি পূর্বেরটির ন্যায় ইস্রাঈলী বর্ণনা। অতঃপর আমি দেখতে পেলাম হাদিসটি ইবনু আদী (১/১৭৫) মুহাম্মাদ ইবনু হার সূত্রে সাঈদ ইবনু সিনান হতে, তিনি আবুয যাহেরিয়া হতে ...বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি সা'ঈদ ইবনু সিনান হিমসী কর্তৃক বর্ণিত। বিশেষ করে আবুয যাহেরিয়া হতে তার বর্ণিত হাদিস নিরাপদ নয়।

 

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি নিতান্তই দুর্বল বরং জুযজানী তার সম্পর্কে বলেনঃ আমার ভয় হচ্ছে যে, তার হাদিসগুলো জাল। যাহাবী “আল-মীযান" গ্রন্থে তার হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। এটি সেগুলোর একটি। আমি অন্য একটি সূত্র পেয়েছি যেটি ইবনু মান্দা “আত-তাওহীদ” গ্রন্থে (২/২৭) আব্দুল্লাহ ইবনু সুলায়মান আত-তাবীল হতে, তিনি দাররাজ হতে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ দাররাজ বহু মুনকারের অধিকারী। তার কিছু মুনকার পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনু সুলায়মানের মুখস্থ বিদ্যায় ক্রটি ছিল। তিনি অথবা তার শাইখ ভুল করেছেন। যেখানে মওকুফ হবে সেখানে মারফু হিসাবে চালিয়ে দিয়েছেন।

 

ইবনু মান্দা ইবনু আব্বাস (রা.) হতে মওকুফ হিসাবে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এ সনদটি সহীহ। মওকুফ হওয়াটাই প্রমাণ করছে যে, এটি ইস্রাঈলী বর্ণনা।  এছাড়া আমার নিকট বাযযার কর্তৃক বর্ণিত সনদের বাস্তবতা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বাযযার বলেনঃ এ হাদিসটির সমস্যা হচ্ছে সাঈদ ইবনু সিনান। তিনি হচ্ছেন মিথ্যার দোষে দোষী ব্যক্তি। বর্ণনাকারী হিসাবে হায়সামী যে আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনে শাবীবকে উল্লেখ করেছেন, প্রকৃত পক্ষে এরূপ বর্ণনাকারী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু শাবীব। যার মুতাবা'য়াত ইবনু আদীর নিকট পাওয়া যাচ্ছে। [3]

 

 

এ ছাড়া একই ধরণের একটি বর্ণনা আছে যেখানে বলা হয়েছেঃ পৃথিবী একটি পাথরের উপরে, পাথরটি একটি ষাঁড়ের শিং এর উপরে যার নড়াচড়ার দরুন ভূমিকম্প হয়...। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওযিয়্যাহ(র.), ইমাম আবু হায়্যান(র.) প্রমুখ হাদিস বিশারদগণ এই বর্ণনাকে অবাস্তব ও জাল বলে অভিহীত করেছেন। [3.5]

 

 

উপরে এ সংক্রান্ত হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের ব্যাপারে তাহকিক আলোচনা করা হয়েছে। আমরা দেখলাম, এ সংক্রান্ত যে বর্ণনা আছে তা মাওযু বা জাল শ্রেণীর। পৃথিবী ও বৃহৎ মাছ সংক্রান্ত রাসুল(ﷺ) থেকে (মারফু) কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিস নেই। অর্থাৎ রাসুল(ﷺ) থেকে এমন বক্তব্য প্রমাণিত নয়।

 

তবে উপরের আলোচনায় শায়খ আলবানী(র) এ সংক্রান্ত একটি বর্ণনার কথা বলেছেন যা মাওকুফ হিসেবে সাহাবী ইবন আব্বাস(রা.) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। আমরা এ ব্যাপারে সামনে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইন শা আল্লাহ।

 

সাহাবীদের থেকে বর্ণিত (মাওকুফ) :

 

) “তাফসির ইবন আব্বাস” এর বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতাঃ

 

ইসলামবিরোধীরা এ প্রসঙ্গে তাফসির ইবন আব্বাস থেকে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করে। শুরুতেই আমরা এই তাফসিরের সনদের নির্ভরতার ব্যাপারে আলোচনা করবো। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা.) এর নামে প্রচলিত একটি তাফসির রয়েছে, যার পুরো নাম “তানওয়িরুল মিকবাস মিন তাফসির ইবন আব্বাস (تنوير المقباس من تفسير بن عباس)। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে এটিকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। এই তাফসিরটির লেখক হচ্ছেন আবু তাহের মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-ফায়রুযাবাদী (أبو طاهر محمد بن يعقوب الفيروزآبادى) (মৃত্যু ১৪১৪ খ্রি./৮১৭ হি.)। তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা.) থেকে সংগ্রহকৃত তাফসিরসমূহ একত্র করে এটি লিখেছেন। এই তাফসিরটির প্রারম্ভেই লেখক যে সনদের মাধ্যমে ইবন আব্বাস(রা.) থেকে তাফসিরগুলো উল্লেখ করেছেন সেটি নিম্নরূপঃ

 

أخبرنَا عبد الله الثِّقَة بن الْمَأْمُون الْهَرَوِيّ قَالَ أخبرنَا أبي قَالَ أخبرنَا أَبُو عبد الله قَالَ أخبرنَا ابو عبيد الله مَحْمُود بن مُحَمَّد الرَّازِيّ قَالَ أخبرنَا عمار بن عبد الْمجِيد الْهَرَوِيّ قَالَ أخبرنَا عَليّ بن إِسْحَق السَّمرقَنْدِي عَن مُحَمَّد بن مَرْوَان عَن الْكَلْبِيّ عَن ابي صَالح عَن ابْن عَبَّاس

আবদুল্লাহ, বিশ্বাসযোগ্য বর্ণনাকারী, আল-মামুন আল-হারওয়ায়ী এর পুত্র আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন > পিতা > আবু আব্দুল্লাহ > আবু উবায়দুল্লাহ মাহমুদ ইবন মারওয়ান আল-রাযী > আম্মার ইবন আব্দ আল-মাজীদ আল-হারওয়ায়ী > আলী ইবন ইসহাক আল-সামরকান্দী > মুহাম্মাদ ইবন মারওয়ান > আল-কালবী > আবু সালিহ যিনি বর্ণনা করেছেন যে ইবন আব্বাস বলেছেন...” [4]

 

এই সনদে আছেন মুহাম্মাদ ইবন মারওয়ান আস সুদ্দী আস সগীর (محمد بن مروان السدي الصغير)। এই রাবী সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ যা উল্লেখ করেছেন—

 

قال عبد السلام (1) بن عاصم عن جرير بن عبد الحميد: كذاب.

ইবন আসিম বলেন, মিথ্যুক (মুহাম্মাদ ইবন মারওয়ান আস সুদ্দী আস সগীর) [5]

 

وَقَال عَباس الدُّورِيُّ (2) ، والغلابي (3) ، عَنْ يحيى بْن مَعِين: ليس ثقة.

আব্বাস আদদুরী ও আল-গালাবী ইয়াহিয়া বিন মাঈন হতে বলেছেন, তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) নন। [6]

 

وَقَال مُحَمَّد بْن عَبد اللَّهِ بن نمير (4) : ليس بشيءٍ.

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনু নুমায়র বলেন, তিনি কিছুই না। [7]

 

وَقَال يعقوب بْن سفيان الفارسي (5) : ضعيف، غير يقة.

ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফারসী বলেন, যঈফ (দুর্বল) [8]

 

وَقَال صَالِح (6) بْن مُحَمَّد الْبَغْدَادِيّ الحافظ: كان ضعيفا، وكان يضع الحديث (7) أيضا.

সালেহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-বাগদাদী আল-হাফিজ বলেনঃ তিনি যঈফ হাদিসের ক্ষেত্রে যঈফ [9]

 

وَقَال أَبُو حاتم (8) : ذاهب الحديث، متروك الحديث، لا يكتب حديثه البتة

আবু হাতিম বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য, তার হাদিস না লিখতে বলতেন। [10]

 

وقَال البُخارِيُّ (9) : لا يكتب حديثه البتة (10) .

ইমাম বুখারী তার হাদিস না লিখতে বলতেন। [11]     

 

প্রচলিত তাফসির ইবন আব্বাসের একটি ইংরেজি অনুবাদও রয়েছে। জর্ডান থেকে প্রকাশিত এই ইংরেজি অনুবাদের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছেঃ

 

এই তাফসিরের ব্যাখ্যা যে ইবন আব্বাস(রা.) এর নয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যে সব রাবী (বর্ণনাকারী)র মাধ্যমে এটি হস্তগত হয়েছে তা মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান পর্যন্ত পৌঁছেছে, তার থেকে ইবনে আব্বাস পর্যন্ত সনদ হলোঃ মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান> আল-কালবী > আবূ সালীহ যেটিকে হাদিস বিশারদগণ মিথ্যুকদের সনদ (সিলসিলাতুল কাযীব) বলেছেন। কারন এই রাবীদের সনদ স্পষ্টত সন্দেহপূর্ণ ও অনির্ভযোগ্য। এমনকি কারো জন্য – “এটা যে ইবন আব্বাস রা: এর তাফসির নয়” – তা প্রমাণ করার জন্য হাদিস বিশারদদের সনদ যাচাইয়ের পদ্ধতিগুলো ব্যবহারেরও দরকার নেই। এই তাফসিরের বর্ণনাগুলোর মধ্যে বহু বিশৃঙ্খলতা/অসংলগ্নতা রয়েছে যাতে কারোই সন্দেহ থাকতে পারে না যে যিনি এটা লিখেছেন তিনি ইবন আব্বাস(রা.) এর বহু শতাব্দী পরে বাস করেছেন।[12]

আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তাফসিরটি ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতে ভরপুর যার উৎস ইহুদিদের কিতাব এবং লোককাহিনী। [13]

 

ড. বিলাল ফিলিপস তাঁর ‘উসুল আত তাফসির’ এ লিখেছেনঃ

 

“ ইবন আব্বাস(রা.) পর্যন্ত এর সনদের রাবীদের নির্ভরযোগ্যতার উপরই এ তাফসিরটির গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু তা নির্ভর করে। সনদের রাবী মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ থেকে কায়েস ইবনে মুসলিম আল-কুফী পর্যন্ত সহীহ গণ্য করা হয় (উচ্চপর্যায়ের সহীহ) এবং সনদের ইবনে ইসহাক হাসান। এরপরের ইসমাইল ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুদ্দী আল-কাবীর এবং আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইয রাবী হিসেবে সন্দেহপূর্ণ (দুর্বল)। এরপরের রাবীগণ হলেন আদ-দাহহাক ইবনে মাযাহিম আল-হিলালী, আতিয়াহ আল-আওফী, মুকাতিল ইবনে সুলায়মান আল-আযদী, এবং মুহাম্মাদ ইবনে আস-সায়ি’ব আল-কালাবী – তারা সকলেই জাল করার দোষে দোষী, সকলেই অগ্রহনযোগ্য। এই তথাকথিত ‘তাফসির ইবন আব্বাস’-এ সাহাবী ইবন আব্বাস(রা.) থেকে যত বর্ণনা এসেছে তার প্রায় সকল সনদে ‘মুহাম্মাদ ইবনে আস-সায়ি’দ আল-কালাবী রয়েছে। সুতরাং, এই তাফসিরের অধিকাংশ অংশই নির্ভরশীল নয়, যদিও সাধারণদের নিকট এই তাফসীর জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কিন্তু মুসলিম আলিমগণ এটা সম্পূর্ণরূপে বর্জণ করেছেন।[14]

 

এ ছাড়া প্রসিদ্ধ ফতোয়ার ওয়েবসাইট Islamweb -এও তাফসির ইবন আব্বাস এর অগ্রহণযোগ্যতার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। [15]

 

আমরা তাফসির ইবন আব্বাস এর বিস্তারিত তাহকিক [16] পর্যালোচনা করলাম। আমরা দেখলাম যে এটি অত্যন্ত দুর্বল এক সনদ থেকে লিখিত তাফসির যেটি থেকে প্রদর্শিত তথ্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই তাফসিরটি থেকেই ইসলামবিরোধীরা “মাছের উপর পৃথিবী রয়েছে” এমন বর্ণনা উল্লেখ করে।

 

খ) অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা এবং এর পর্যালোচনাঃ

 

তবে অন্যান্য কিছু সূত্র থেকে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা) থেকে এ সংক্রান্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন, তাফসির ইবন কাসিরে উল্লেখ আছে,

 

ইবন জারীর(র.)....... ইব্‌ন আব্বাস(রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস(রা.) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা সর্বপ্রথম কলম তৈয়ার করিয়া বলিলেন, লিখ। কলম বলিল, কী লিখিব? আল্লাহ্ বলিলেন, তাকদীর লিপিবদ্ধ কর। ফলে সেই দিন হইতে কিয়ামত পর্যন্ত যাহা সংঘটিত হইবার ছিল কলম লিখিতে আরম্ভ করিল। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা نون তথা মৎস সৃষ্টি করেন। তাহার পর পানির ফেনা হইতে আকাশ সৃষ্টি করেন ও মৎসের পিঠের উপর পৃথিবীকে বিছাইয়া দেন। ফলে মৎস নড়াচড়া করিতে আরম্ভ করে। সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীও নড়িয়া উঠে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা পর্বতমালা দ্বারা পৃথিবী স্থির করেন। অন্য এক সূত্রে আছে যে, ইবন আব্বাস (রা.) এই কথা বলিয়া [ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ] আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। [17]

 

ইমাম হাকিম(র.) এই বিবরণটি উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন, এটি দুই শায়খের [ইমাম বুখারী(র.) ও ইমাম মুসলিম(র.)] এর শর্ত অনুযায়ী সহীহ। ইমাম যাহাবী(র.) থেকেও অনুরূপ অভিমত পাওয়া যায়। [18] আমরা একটু আগে শায়খ আলবানী(র.) থেকেও অনুরূপ অভিমতের কথা আলোচনা করেছি। কাজেই এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সাহাবী ইবন আব্বাস(রা) থেকে এই বিবরণটি একটি সহীহ বা বিশুদ্ধ বিবরণ। অর্থাৎ ইবন আব্বাস(রা.) থেকে যে এরূপ বক্তব্য রয়েছেন তা প্রমাণিত।

 

এ ছাড়া সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ(রা.) এবং কিছু সাহাবী থেকেও এই বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে তাফসির ইবন কাসিরে। [19]

 

কাজেই আমরা বলতে পারি যে, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) থেকে প্রমাণিত না হলেও আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা.) এবং আরো কিছু সাহাবী থেকে এমন অভিমত পাওয়া যাচ্ছে যে, পৃথিবী একটি বৃহৎ মছের পিঠের উপরে অবস্থিত।

কিন্তু এর অর্থ কি এই, যে এটিই কুরআনের বা হাদিসের বক্তব্য? কিংবা এটিই ইসলামী আকিদা (বিশ্বাস)?

 

ইমাম ইবন কাসির(র.) স্বীয় তাফসিরে এই সকল বিবরণই উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি নিজেই তাঁর অন্য একটি কিতাব ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’তে এই বিবরণের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইবন আব্বাস(রা.), ইবন মাসউদ(রা.) এবং আরো কয়েকজন সাহাবী থেকে আলোচ্য বিবরণটি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন--

 

“বলাবাহুল্য যে, এ হাদিসে অনেকগুলো দুর্বলতা রয়েছে এবং এর বেশির ভাগই ইস্রাঈলী বিবরণসমূহ থেকে নেয়া। কারণ, কা'ব আল আহবার উমার(রা.)-এর আমলে যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তিনি তাঁর সামনে আহলে কিতাবদের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন আর উমার(রা.) তাঁর মনোরঞ্জনের নিমিত্তে এবং তাঁর অনেক বক্তব্য ইসলামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় মুগ্ধ হয়ে মনোযোগের সঙ্গে তা শুনে যেতেন। এ কারণে এবং বনী ইস্রাঈলদের থেকে বর্ণনা করার অনুমতি থাকার ফলে অনেকে কা'ব আল-আহবার(র.)-এর বক্তব্য বিবৃত করা বৈধ মনে করেন। কিন্তু তিনি যা বর্ণনা করতেন তার অধিকাংশই প্রচুর ভুল-ভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ। [20]

 

কাজেই আমরা দেখলাম যে আলোচ্য বক্তব্যের উৎস হচ্ছেন কা’ব আল আহবার(র.)। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের একজন বড় মাপের ইহুদি পণ্ডিত। উমার(রা.) এর খিলাফতকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি উমার(রা.) নিকট মজলিসে ইহুদি ধর্মীয় গ্রন্থাদী থেকে বিভিন্ন কাহিনী বর্ণনা করতেন। সেই কাহিনীগুলোই পরবর্তীতে বিভিন্ন সাহাবী ও তাবিঈ উল্লেখ করেছেন।

 

ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতনির্ভর তাফসির ইবন আব্বাসে সেই বৃহৎ মাছের নাম উল্লেখ করা হয়েছেঃ ‘লিওয়াশ’ বা ‘লুতিয়’। [21] এই নামগুলো এসেছে হিব্রু לווייתן (লেভিয়াথান) থেকে। হিব্রু ভাষায় ‘লেভিয়াথান’ শব্দের মানে হলোঃ বৃহৎ মৎস, দানবীয় সামুদ্রিক জীব বা তিমি মাছ। [22] তাফসির ইবন আব্বাসে সেই বৃহৎ মৎসের সাথেবাহমুত’ নামক একটি ষাঁড়ের কাহিনীও রয়েছে। [23] ইহুদি ধর্মীয় গ্রন্থাবলীতে এই সবগুলো নামেরই উল্লেখ  রয়েছে, যে ব্যাপারে আমরা একটু পরে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইন শা আল্লাহ।

 

কা’ব আল আহবার(র.) থেকে কী বর্ণিত হয়েছে? :

 

কা’ব আল আহবার(র.) এ প্রসঙ্গে সাহাবীদের নিকট যেসব তথ্য বর্ণনা করতেন, এর কিছু কিছু বিবরণও আমরা ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে পেয়ে যাই। যেমনঃ

 

“ইবলিস শয়তান সেই বৃহৎ মাছ (বা তিমি মাছ) এর কাছে গেল, যেটির পিঠের উপরে পৃথিবী অবস্থিত। সে তাকে কুমন্ত্রণা দিয়ে বললো, “ও লেভিয়াথান, তুমি কি জানো তোমার পিঠের উপর কী আছে?” লেভিয়াথান হলো বৃহৎ মাছটির নাম। “তুমি কি জানো, (তোমার পিঠের উপরের) মানবজাতি, গাছপালা ও পাহাড়-পর্বতের ব্যাপারে? তুমি যদি তোমার পিঠটায় একটু ঝাঁকুনি দাও, ওদেরকে একদম ঝেড়ে ফেলতে পারবে!” সব শুনে লেভিয়াথান চিন্তা করলো যে পিঠে একটু ঝাঁকুনি দেবে। কিন্তু আল্লাহ তখন একটা বিশেষ জন্তুকে প্রেরণ করলেন যেটি লেভিয়াথানের নাকের ফুটো দিয়ে ঢুকে গেল আর একদম মাথার মগজের কাছে পৌঁছে গেলো। মাছটা তখন এ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে মিনতি করতে লাগলো। আল্লাহ তখন জন্তুটাকে বেরিয়ে যাবার অনুমতি দিলেন।” [24]

 

তাফসির কুরতুবীর ব্যাখ্যাকারকগণ যেমন ড. আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুহসিন আত তুর্কী এবং মুহাম্মাদ রিদওয়ান ইরকসুসী এই বর্ণনার ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন, এটি একটি ইস্রাঈলী রেওয়ায়েত যার কোনো ভিত্তি নেই। [25]

 

বর্ণনার উৎস ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত তথ্যঃ

 

কা’ব আল আহবার(র.) এর বর্ণনার উৎস ছিলো ইহুদিদের বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থাবলী। ৭ম শতাব্দীর আরবের ইহুদিদের নিকট যেসব ধর্মীয় পুস্তকাদী ছিল এর সবগুলোর সন্ধান আমাদের পক্ষে হয়তো জানা সম্ভব নয়। সময়ের সাথে সাথে তাদের ধর্মগ্রন্থের ভেতরে বহু রকমের পরিবর্তন দেখা যায়। আবার তাদের অনেক কিতাব সময়ের সাথে সাথে হারিয়েও গিয়েছে।[26] কিন্তু বর্তমান সময়েও ইহুদিদের নিকট যেসব ধর্মীয় পুস্তকাদী রয়েছে, সেগুলোর ভেতরেও এই তথ্য পাওয়া যায় যে, পৃথিবী এক প্রকারের দানবীয় সামুদ্রিক জীবের উপরে অবস্থিত। লেভিয়াথানের নানা কাহিনী এখনো তাদের ধর্মগ্রন্থের বহু জায়গায় দেখা যায়।

 

ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে ‘লেভিয়াথান’ এর বিভিন্ন রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও হিব্রু ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘তিমি’ (Whale), [27] বাইবেলে বিভিন্ন স্থানে একে কখনো সামুদ্রিক দানব, কখনো বৃহৎ সর্প, কখনো বৃহৎ মৎস বা তিমি মাছ আবার কখনো ড্রাগন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এর দ্বারা পাতালের বা সমুদ্রের বৃহৎ এক প্রাণীর কথা বোঝানো হয়। বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old Testament) অংশটি ইহুদি ও খ্রিষ্টান উভয় সম্প্রদায়ের নিকটই ঈশ্বরের বাণী হিসেবে বিবেচিত। এই অংশের ইয়োবের পুস্তক (Book of Job) এর ৪১ নং অধ্যায়ের পুরোটিই দানবীয় সামুদ্রিক প্রাণী লেভিয়াথানের উপরে।

 

1 “ইয়োব, তুমি কি দানবাকৃতি সামুদ্রিক প্রাণী লিবিয়াথন (Leviathan)-কে মাছ ধরার বঁড়শি দিয়ে ধরতে পারো? একটা দড়ি দিয়ে ওর জিভকে কি বাঁধতে পারো? 2 তুমি কি ওর নাকে দড়ি দিতে পারো অথবা ওর চোয়ালে বঁড়শি বিঁধিয়ে দিয়ে পারো? 3 লিবিয়াথন কি তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তোমার কাছে আকুতি জানাবে? সে কি ভদ্র ভাষায় তোমার সঙ্গে কথা বলবে?

… … …

25 যখন লিবিয়াথন জেগে ওঠে, দেবতারাও তখন ভয় পান| লিবিয়াথন যখন তার লেজ ঝাপটা দেয়, তখন তাঁরা সন্ত্রস্ত হন| 26 তরবারি, বল্লম বা বর্শা যা দিয়েই লিবিয়াথনকে আঘাত করা হোক না কেন তা প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে| ওই সব অস্ত্র তাকে একদম আঘাত করতে পারে না| 27 লোহাকে লিবিয়াথন খড়কুটোর মত গুঁড়িয়ে দিতে পারে| পচা কাঠের মত সে কাঁসাকে ভেঙে দেয়| 28 তীরের ভয়ে লিবিয়াথন পালিয়ে যায় না| ওর গা থেকে পাথর খড়কুটোর মতো ছিটকে চলে আসে| 29 যদি মুগুর দিয়ে লিবিয়াথনকে আঘাত করা হয়, তা যেন খড়ের টুকরোর মতো তার গায়ে লাগে| লোকে যখন তার দিকে বল্লম ছোঁড়ে তখন সে হাসে| 30 লিবিয়াথনের পেটের চামড়া ধারালো খোলামকুচির মতো| সে কাদার ওপর দাগ করে দিয়ে যায়, য়েমন তক্তা দিয়ে ফসল মাড়াই করলে দাগ পড়ে- তেমন দাগ| 31 ফুটন্ত জলের মতো লিবিয়াথন জলকে নাড়া দেয়| সে জলের ওপর ফুটন্ত তেলের বুদবুদের মতো বুদবুদ সৃষ্টি করে| 32 যখন লিবিয়াথন সাঁতার দেয় তখন সে তার পেছনে একটি চকচকে পথরেখা রেখে যায়| সে জলকে ঝাঁকিয়ে দিয়ে যায় এবং জলকে ফেনায়িত করে| [28]

‘বাহমুত’ নামক ষাঁড়ের কথা এর আগের অধ্যায় অর্থাৎ ইয়োবের পুস্তক (Book of Job) এর ৪০ নং অধ্যায়ে রয়েছে।

 

ইহুদিদের মিদরাস Pirkei DeRabbi Eliezer এ উল্লেখ আছে,

“On the fifth day He brought forth from the water the Leviathan, the flying serpent, and its dwelling is in the lowest waters; and between its fins rests the middle bar of the earth.” [29]

অর্থাৎ, পঞ্চম দিনে তিনি [ঈশ্বর] পানি থেকে বের করলেন উডুক্কু সর্প লেভিয়াথানকে। পানির তলদেশে এটি বাস করে আর এর পাখনাগুলোর মাঝে [অর্থাৎ পিঠের উপরে] পৃথিবীর মাঝের স্তম্ভটি দাঁড়িয়ে আছে।

ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী পৃথিবী কিছু স্তম্ভ বা থামের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। [30] ইহুদি মিদরাসে উল্লেখ আছে যে পৃথিবীর মাঝের স্তম্ভটি সামুদ্রিক দানবীয় জীব লেভিয়াথানের পিঠের উপরে অবস্থিত।

 

উমার(রা.) এর খিলাফতকালে ইহুদিদের মাঝে প্রচলিত এই কাহিনীগুলো থেকেই কিছু জিনিস সাহাবীদের নিকট বর্ণনা করেছিলেন কা’ব আল আহবার(র.)। আর তা থেকেই বিভিন্ন তাফসিরে সাহাবী ও তাবিঈরা “পৃথিবী মাছের উপরে” শীর্ষক বর্ণনাগুলো করেছেন।

 

সাহাবী-তাবিঈদের মাঝে কি একমাত্র ঐ তাফসিরই প্রচলিত ছিল? :

 

ইসলামবিরোধীরা হয়তো দাবি করতে পারে যে, ইস্রাঈলী বর্ণনা হলেও ঐ বর্ণনার আলোকে তো সাহাবী-তাবিঈরা তাফসির করেছেন। ইসলামের প্রাচীন উৎস থেকে যেহেতু ঐ তাফসির পাওয়া যাচ্ছে, নিশ্চয়ই সেটাই এ ব্যাপারে প্রচলিত ইসলামী বিশ্বাস ছিলো। তা ছাড়া সুরা আম্বিয়ার ৮৭ নং আয়াতে ইউনুস(আ.)কে ذَا النُّونِ (যান নুন) অর্থাৎ “মাছওয়ালা” বলে ডাকা হয়েছে। এখানে نون (নুন) দ্বারা বৃহৎ মাছকে বোঝানো হয়েছে। কাজেই সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতেও নিশ্চয়ই নুন এর অর্থ “বৃহৎ মৎস” হতে হবে এবং “পৃথিবী মাছের উপরে” – এটাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য তাফসির হবে!  

 

এর জবাবে আমরা বলবোঃ সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতে সুরা আম্বিয়ার ৮৭ নং আয়াতের মতো نون (নুন) শব্দটি নেই। সেখানে আছে শুধুমাত্র একটি অক্ষর ن (নুন)। উচ্চারণ এক রকম হলেও উভয় জিনিস মোটেও এক নয়। আয়াতে ن (নুন) হচ্ছে “হরফে মুকাত্তা’আত”। কুরআনের ২৯টি সুরা এভাবে বিচ্ছিন্ন কিছু অক্ষর দ্বারা শুরু হয়েছে। এগুলো সাধারণ কোনো শব্দ নয়। [31] অন্য শব্দের সাথে এগুলোকে মিলিয়ে অর্থ করা অবান্তর।  

 

সাহাবী-তাবিঈদের মধ্যে সুরা ক্বলমের ১ম আয়াতের ব্যাপারে সেটিই [পৃথিবী মাছের উপরে] একমাত্র প্রচলিত তাফসির ছিলো না। বরং সেটি ছিলো ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতের আলোকে  একটি তাফসির। বরং আলোচ্য আয়াতের ব্যাপারে সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে আরো তাফসির প্রচলিত ছিলো যেগুলো ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতের তথ্যের চেয়ে ভিন্ন। ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতের আলোকে তাফসিরে  (নুন) ن এর অর্থ করা হয়েছে ‘মৎস’ এবং এরপরে মাছের পিঠের উপর পৃথিবী থাকার কাহিনী উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে রাসুল(ﷺ), সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে আরো তাফসির পাওয়া যায় যাতে ن এর ভিন্ন অর্থ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনেকগুলো সমজাতীয় বর্ণনা পাওয়া যায় যাতে দেখা যায় ن এর অর্থ ‘মৎস’ করা হয়নি বরং ভিন্ন অর্থ করা হয়েছে। এমনকি খোদ আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা.) থেকেও এমন তাফসির পাওয়া যায়! তাফসিরগুলো নিচে উল্লেখ করছি—

 

“জারীর (র)....... কুররা(র.) হইতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্() বলিয়াছেন নুন হইল নূরের একটি পলক এবং কলম হইল নূর দিয়া তৈরি, কিয়ামত পর্যন্ত যাহা সংঘটিত হইবে তাহা লিখিতে থাকিবে। এই হাদিসটি মুরসাল গরীব। ইবন জুরাইজ(র.) বলেন, আমাকে বলা হইয়াছে যে, কলমটি নূরের তৈরি যাহার দৈর্ঘ্য এক শত বৎসরের পথের সমান।  কেহ কেহ বলেনঃ ن অর্থ দোয়াত আর قلم অর্থ কলম। ইবন জারীর (র.)....... হাসান ও কাতাদা(র.) হইতে বর্ণনা করেন যে, হাসান ও কাতাদা (র.) বলেনঃ ن অর্থ দোয়াত।

ইবন আবু হাতিম(র.)....... আবু হুরায়রা(রা.) হইতে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা(রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্()-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, আল্লাহ্ তা'আলা نون অর্থাৎ দোয়াত সৃষ্টি করিয়াছেন।

ইবন জারীর(র.) ইবন আব্বাস(রা.) হইতে বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস(রা.) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা নুন অর্থাৎ দোয়াত সৃষ্টি করিয়াছেন এবং কলম সৃষ্টি করিয়া বলিলেন, লিখঃ কলম বলিল, কি লিখিব? আল্লাহ্ বলিলেন, কিয়ামত পর্যন্ত যাহা সংঘটিত হইবে সব লিখ। ...”  [32]

 

এমনকি দুর্বল সনদে বর্ণিত তাফসির ইবন আব্বাসেও ‘নুন’ এর অর্থের ব্যাপারে অন্য অভিমতগুলো উল্লেখ আছে! [33]       কিন্তু ইসলামবিরোধীরা বরাবরই সেগুলো এড়িয়ে গিয়ে যে অর্থটি দেখালে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সহজ হবে, সেটিকেই দেখাতে পছন্দ করে।

 

কাজেই কেউ যদি দাবি করে থাকে প্রাচীন মুফাসসিরগণের মধ্যে সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় একমাত্র প্রচলিত এবং অবিসংবাদিত অভিমত ছিলো “পৃথিবী বৃহৎ মৎসের উপরে” – তাহলে তার কথা মোটেও সত্য নয়।

 

মুসলিম আলেমগণ কেন অনির্ভরযোগ্য ইস্রাঈলী রেওয়ায়েত নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন? :

 

ইসলামের সমালোচকদের থেকে আরো একটা প্রশ্ন আসতে পারে – ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতের তথ্যগুলো যদি অনির্ভরযোগ্য হয়, তাহলে প্রাচীনকাল থেকেই মুসলিম আলেমগণ এগুলোকে নিজ গ্রন্থে কেন উল্লেখ করতেন? তা ছাড়া খোদ সাহাবীরা-তাবিঈরাও বা কেন এসব জিনিস বর্ণনা করতেন?

 

এর উত্তরে আমরা বলবো— ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে মিশে যাবার আশঙ্কায় নিষেধ থাকলেও পরবর্তীকালে নবী(ﷺ) বনী ইস্রাঈল থেকে বিভিন্ন জিনিস বর্ণনার সাধারণ অনুমতি প্রদান করেন।

 

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ'স(রা.) হতে বর্ণিত, নবী () বলেছেন, আমার পক্ষ থেকে জনগণকে (আল্লাহর বিধান) পৌঁছে দাও, যদিও একটি আয়াত হয়। বনী ইস্রাঈল থেকে (ঘটনা) বর্ণনা করো, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা (বা জাল হাদিস) আরোপ করলো, সে যেন নিজ আশ্রয় জাহান্নামে বানিয়ে নিলো।  [34]

 

এ কারণে সাহাবীগণ বিভিন্ন ইস্রাঈলী রেওয়ায়েত বর্ণনা করতেন। তবে এগুলোকে মোটেও আল্লাহ বা রাসুল(ﷺ) এর বক্তব্য হিসেবে কিংবা ইসলামী আকিদার (বিশ্বাস) অংশ হিসেবে বর্ণনা করতেন না। রাসুল(ﷺ) এর নামে মিথ্যা জিনিস বর্ণনার পরিনতি তো জাহান্নাম। ইমাম ইবন কাসির(র.) তাঁর তাফসির এবং তারিখ গ্রন্থে প্রচুর ইস্রাঈলী রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। মাঝে মাঝে সেগুলো থেকে কিছু তথ্য উদ্ধৃত করে ইসলামের সমালোচকরা ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। অথচ খোদ ইবন কাসির(র.) ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতের ব্যাপারে বলে গিয়েছেন—

 

“... সে সব ইস্রাঈলী বিবরণ, শরিয়ত যার সত্যাসত্য সম্পর্কে নিরব। যাতে রয়েছে সংক্ষিপ্ত তথ্যের বিশদ ব্যাখ্যা কিংবা শরিয়তে বর্ণিত অস্পষ্ট তথ্যকে নির্দিষ্টকরণ, যাতে আমাদের বিশেষ কোনো ফায়দা নেই। কেবল শোভাবর্ধনের উদ্দেশ্যে আমরা তা উল্লেখ করব—প্রয়োজনের তাগিদে বা তার উপর নির্ভর করার উদ্দেশ্যে নয়। নির্ভর তো করবো শুধু আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল()-এর সহীহ কিংবা হাসান সনদে বর্ণিত সুন্নাহর উপর। আর কোনো বর্ণনার দুর্বলতা থাকলে তাও আমরা উল্লেখ করব।” [35]

 

 

মোদ্দা কথা হলো, বিভিন্ন তারিখ ও তাফসির গ্রন্থকারগণ এই কাহিনীগুলো উল্লেখ করেছেন বটে, কিন্তু এগুলো থেকে কখনো ইসলামী আকিদা (বিশ্বাস) নেননি বা এগুলোকে নির্ভরযোগ্য সোর্স হিসেবেও উল্লেখ করেননি। বরং এগুলোকে “শোভাবর্ধন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসলামে এগুলো মোটেও অপরিহার্য কোনো তথ্য নয়। ইসলামী আকিদার উৎস হলো শুধুমাত্র আল কুরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিস। কাজেই কেউ যদি ইস্রাঈলী সূত্র থেকে আগত বর্ণনা উল্লেখ করে দাবি করতে চায় যে সেগুলো “ইসলামী বিশ্বাস”, তাহলে তার দাবি নিতান্তই ভ্রান্ত এবং ভিত্তিহীন।

 

আলোচনার সারাংশ হিসেবে আমরা বলতে পারি—

 

১। “পৃথিবী একটি বৃহৎ মাছের পিঠের উপরে অবস্থিত” – এই মর্মে কুরআনের কোনো আয়াত বা বিশুদ্ধ হাদিস নেই।

২। এই মর্মে কিছু বিবরণ সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে পাওয়া যায়। তবে সেগুলোর উৎস হলো বিভিন্ন ইস্রাঈলী রেওয়ায়েত যা ইহুদি থেকে ধর্মান্তরিত তাবিঈ কা’ব আল আহবার(র.) বর্ণনা করতেন।

৩। ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে এখনও ঐসকল বিবরণ দেখা যায়।

৪। প্রাচীন মুফাসসিরদের থেকে সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়। বৃহৎ মৎস সংক্রান্ত অভিমতটিই একমাত্র অভিমত নয়।

৫। ইস্রাঈলী রেওয়ায়েত বর্ণনা করা জায়েজ। সে হিসেবেই আলেমগণ এ সংক্রান্ত তথ্য বর্ণনা করেছেন। তবে এগুলো ইসলামী আকিদার উৎস নয়। মুসলিম আলেমগণের কেউই নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ হিসেবে সেগুলোকে উল্লেখ করেননি। বরং ‘শোভাবর্ধন’ হিসেবে ওগুলোকে উল্লেখ করেছেন। ইসলামী বিশ্বাসের উৎস শুধুমাত্র আল কুরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিস।

 

        নিঃসন্দেহে আল কুরআন বা বিশুদ্ধ হাদিসের মাঝে এমন কোনো তথ্যই নেই যা ভুল। বরং এগুলো তো ওহী, যা বিজ্ঞান কিংবা মানুষের অর্জিত যে কোনো জ্ঞানেরই ঊর্ধ্বে। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝবার তাওফিক দান করুন।

 

“আল্লাহই উর্ধ্বদেশে আকাশমন্ডলী সুউচ্চ করেছেন স্তম্ভ ব্যতিত, তোমরা এটা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে উঠলেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়মাধীন করলেন; প্রত্যেকে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে, তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পারো[36]

 

“আর তিনিই (আল্লাহ) সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।” [37]

 

"নিশ্চয়ই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে। যারা দণ্ডায়মান, উপবেশন ও এলায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা-গবেষনা করে এবং বলেঃ হে আমাদের প্রভু, আপনি এসব বৃথা সৃষ্টি করেননি; আপনিই পবিত্রতম! অতএব আমাদেরকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করুন!" [38]

 

আরো পড়ুনঃ

 

"কুরআন কি সূর্য পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যাবার কথা বলে? কুরআন কি পৃথিবীকে সমতল বলে?"

 

"সূর্য ঘোরে নাকি পৃথিবী ঘোরে? সূর্য কি আরশের নিচে সিজদা করে?"

 

"কুরআন কি পৃথিবীকে সমতল বলছে?"

 

 

তথ্যসূত্রঃ

[1]  আল কুরআন, ক্বলম ৬৮ : ১

[2] হায়সামী ৮/১৩১

[3] সিলসিলাহ আদ-দ্বঈফাহ (“য‘ঈফ ও জাল হাদীছ সিরিজ” শিরোনামে বাংলায় অনূদিত) - নাসিরুদ্দিন আলবানী; ১ম খণ্ড (তাওহীদ পাবলিকেশন্স); পৃষ্ঠা ২৮৫-২৮৬

[3.5]প্রচলিত জাল হাদিস – তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনা মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, পৃষ্ঠা ১৬৩

■ “পৃথিবী মাছের উপরে / ষাঁড়ের উপরে” -এ জাতীয় বর্ণনাগুলো জাল হওয়া সংক্রান্ত আলোচনার জন্য আরো দেখুনঃ হাদীসের নামে জালিয়াতি – ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পৃষ্ঠা ২২০

[4] দেখুন, তাফসির ইবন আব্বাস, ১ম খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ) পৃষ্ঠা ১০ (ভূমিকা অংশ)

[5] الحرح والتعديل: 8 / الترجمة 364

[6] نفسه.(3) تاريخ الخطيب: 3 / 292

[7] نفسه

[8] المعرفة والتاريخ: 3 / 186

[9] تاريخ الخطيب: 3 / 392 – 393.(7) قوله: “الحديث “ليست في نسخة ابن المهندس

[10] الجرح والتعديل: 8 / الترجمة 364                                                                                         

[11] ضعفاؤه الصغير، الترجمة 340.(10) بقية كلامه: “سكتوا عنه

[12] Guezzou, Mokrane 2007. Tanwir al-Miqbas min Tafsir Ibn Abbas. Royal Aal al-Bayt Institute. Amman, Jordan. Page-05

[13] Guezzou, Mokrane 2007. Tanwir al-Miqbas min Tafsir Ibn Abbas. Royal Aal al-Bayt Institute. Amman, Jordan. Page-06

[14] Usool At-Tafseer, Bilal Philips, Page 39. See Mabaahith fee ‘Uloom al-Qur’an, pp.360-362 and at-Tafseer wa al-Mufassiroon, pp.81-83.

[15] “Tanweer Al-Miqbaas min Tafseer Ibn 'Abbaas” (Islamweb)

https://www.islamweb.net/en/fatwa/195943/

[16] তাফসির ইবন আব্বাসের তাহকিকের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ সত্যান্বেষী টিম

 https://shottanneshi.wordpress.com/2015/08/21/tafsir-ibn-abbas/

[17]ইবন আবি শায়বা ১৪/১০১; ইবন আবি হাতিম ৮/২১০; জামিউল বায়ান (তাবারানী) ২৩/১৪০; আল মুসতাদরাক (হাকিম) ২/৫৪০

তাফসির ইবন কাসির, খণ্ড ১১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ২১৬

[18] “False reports about the earth being placed on the back of a bull” (IslamQA – Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)

https://islamqa.info/en/114861/

[19] তাফসির ইবন কাসির, খণ্ড ১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা বাকারাহর ২৯ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৩৬৯

[20] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - ইবন কাসির(র.), খণ্ড ১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ৬৯

[21] তাফসির ইবন আব্বাস, খণ্ড ৩ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৩৪

[22] ■ Meaning of Leviathan (Do It In Hebrew)

http://tiny.cc/t0iucz

■” Leviathan dictionary definition _ leviathan defined”

https://www.yourdictionary.com/leviathan

[23] তাফসির ইবন আব্বাস, খণ্ড ৩ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৩৪

[24]মা’আলিমুত তানযিল ৮/১৮৬, তাফসির কুরতুবী ২৯/৪৪২, হিলইয়াতুল আওলিয়া (আবু নু’আইম) ৮/৬       

■ “False reports about the earth being placed on the back of a bull” (IslamQA – Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)

https://islamqa.info/en/114861/

[25]তাফসির কুরতুবী তাহকিক ১/৩৮৫

■ “False reports about the earth being placed on the back of a bull” (IslamQA – Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)

https://islamqa.info/en/114861/

[26] ■ খোদ ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বাইবেলের ভেতরেই এই তথ্য উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য এসেছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, কিতাবুল মোকাদ্দস, ইঞ্জিল শরীফ ও ঈসায়ী ধর্ম –ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬

https://islamhouse.com/bn/books/438807/

■ “Lost Jewish texts - Wikipedia”

https://en.wikipedia.org/wiki/Category:Lost_Jewish_texts

[27] ■ “Leviathan _ Definition of Leviathan by Merriam-Webster”

https://www.merriam-webster.com/dictionary/leviathan

■ “Leviathan _ Definition of Leviathan at Dictionary.com”

https://www.dictionary.com/browse/leviathan

[28] বাইবেল, ইয়োব (Job) ৪১ নং অধ্যায় [বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির অনুবাদ]

[29]  Pirkei DeRabbi Eliezer 9:7

https://www.sefaria.org/Pirkei_DeRabbi_Eliezer.9.7?lang=bi

[30]  who [God] shakes the earth out of its place, and its pillars tremble;

তিনি [ঈশ্বর] দুনিয়াকে তার জায়গা থেকে নাড়া দেন, তার থামগুলোকে কাঁপিয়ে তোলেন।

[বাইবেল, ইয়োব (Job) ৯ : ৬ ]

আরো দেখুনঃ বাইবেল, সামসঙ্গীত (গীত সংহিতা/জবুর শরীফ/Psalms) ৭৫ : ৩

[31] “হরফে মুকাত্তা’আত” এর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেখুন, কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর)’—ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, ১ম খণ্ড, সুরা বাকারাহর ১ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ১৯-২০

[32] তাফসির ইবন কাসির, খণ্ড ১১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ২১৭-২১৮

[33] তাফসির ইবন আব্বাস, খণ্ড ৩ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা ক্বলমের ১ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৩৪-৫৩৫

[34] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৩৪৬১

[35] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - ইবন কাসির(র.), খণ্ড ১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ৪৭

[36] আল কুরআন, রা’দ ১৩ : ২

[37] আল কুরআন, আম্বিয়া ২১ : ৩৩

[38] আল কুরআন, আলি ইমরান ৩ : ১৯০-১৯১